ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের পাল্টা জবাব, মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসাচ্ছে কানাডা
সকাল সকাল ডেস্ক অটোয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা করল কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আমেরিকার স্টিল, ইলেকট্রনিকস, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি-সহ একাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক বসাবে অটোয়া। শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কানাডার নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দুই বাণিজ্যিক অংশীদারের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ-র ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মার্কিন নতুন শুল্কের আওতায় কানাডার ওয়াইন, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং হকির সরঞ্জাম-সহ একাধিক ক্ষেত্র পড়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। ‘হামলার শিকার হয়েছি’, বললেন কার্নি অটোয়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করতেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন যে পরিমাণ নতুন শুল্ক আরোপ করেছে, তার সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে তাঁর সরকার। দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন, কোনও দেশ আক্রান্ত হলে তাকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে কানাডাই মার্কিন পদক্ষেপের শিকার হয়েছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে মার্কিন বাজারের ওপর দেশটির নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। তারপরও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পথেই হাঁটছে অটোয়া। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কথাও বলেছেন কার্নি। কোন কোন মার্কিন পণ্যে শুল্ক? কানাডা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার যেসব পণ্যকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেগুলির ক্ষেত্রেও পাল্টা পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন কার্নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কোন মার্কিন পণ্যে কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে কেন ভেস্তে গেল চুক্তি? শুক্রবার পর্যন্ত কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। তবে কার্নির দাবি, মার্কিন প্রশাসন শেষ মুহূর্তে কয়েকটি নতুন শর্ত সামনে আনায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের কয়েকটি দাবি অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক এবং অন্যায্য ছিল। সেগুলি মেনে নিলে কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষমতাও সীমিত হতে পারত। কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের শর্ত মেনে কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে তাঁর সরকার রাজি নয়। গাড়ি শিল্প নিয়ে বড় মতবিরোধ দুই দেশের আলোচনায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাঝারি ও ভারী গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্কনীতি। হালকা গাড়ির জন্য প্রস্তাবিত সুবিধাজনক শুল্ক ব্যবস্থা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছিল কানাডা। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় ওয়াশিংটন। কার্নির দাবি, মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিলে কানাডায় তৈরি ফোর্ড এফ-৩৫০, এফ-৪৫০ ও এফ-৫৫০ এবং জেনারেল মোটরসের সিলভেরাডোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল সুবিধা থেকে বাদ পড়ত। এর ফলে কানাডার গাড়ি ও উৎপাদন শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রস্তাব কানাডার সংস্কৃতি, ভাষা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারত বলে দাবি করেছেন কার্নি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য সহায়তা প্যাকেজ মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এমন কানাডীয় শিল্পগুলির জন্য আগামী সপ্তাহে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন কার্নি। এই সহায়তা কয়েক বছর ধরে চালানো হতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন মার্কিন শুল্ক বিশেষ করে কানাডার নরম কাঠ, ওয়াইন এবং কিছু উৎপাদন শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়সন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, আপাতত কানাডার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে ওয়াশিংটনও পরবর্তী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কার্নির পাশে অন্টারিও মার্কিন শুল্কনীতির কড়া সমালোচক অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও কার্নির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবিত চুক্তিটি অন্টারিওর পাশাপাশি কানাডার গাড়ি, স্টিল এবং উৎপাদন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত। প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রেও মার্কিন শুল্ককে কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ওপর অন্যায্য আঘাত বলে অভিহিত করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের শুল্ক সংঘাত এখন আরও তীব্র হওয়ার পথে। কানাডার পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হলে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য বিরোধ কতটা গভীর হয়।
চীনে চাকরির বাজারে চাপ, তরুণদের বেকারত্ব বেড়ে ১৭.৯ শতাংশ
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং: চীনের চাকরির বাজারে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। জুলাই মাসে দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপুল সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক একই সময়ে কর্মসংস্থানের বাজারে প্রবেশ করায় চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বহু ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রির পরিবর্তে মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার জুনে ছিল ১৪.৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা এক ধাক্কায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১৭.৯ শতাংশ হয়েছে। এর আগে টানা তিন মাস তরুণদের বেকারত্বের হার কমেছিল। গত বছরের জুলাইয়ে এই হার ছিল ১৭.৮ শতাংশ। এরপর আগস্টে তা বেড়ে ১৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে বেকারত্বের হিসাব শুরু হওয়ার পর সেটিই ছিল সর্বোচ্চ হার। রেকর্ড সংখ্যক স্নাতক চাকরির বাজারে চীনের অর্থনৈতিক গতি শ্লথ হওয়ার পাশাপাশি নতুন স্নাতকদের বিপুল সংখ্যাও কর্মসংস্থানের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। চলতি গ্রীষ্মে আনুমানিক ১ কোটি ২৭ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক চাকরির বাজারে প্রবেশ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। কোনও কোনও সংস্থা কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ স্থগিত রেখেছে। ফলে সীমিত সংখ্যক পদের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। চাকরির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রির চাহিদা চাকরির বাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডও ক্রমশ বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন পদের ক্ষেত্রেও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করছেন, যেখানে আগে স্নাতক ডিগ্রিই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হত। এর ফলে শুধুমাত্র স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে চাকরি খুঁজতে নামা তরুণদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ২২ বছর বয়সী ক্লেয়ার ওয়াং জিলিন জিয়ানঝু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রোডাক্ট ডিজাইনে স্নাতক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে মাস্টার্স করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওয়াংয়ের বক্তব্য, দেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের শর্ত পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই মাস্টার্স ডিগ্রিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু চীনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা তরুণরাই নন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফেরা চাকরিপ্রার্থীরাও একই ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক থেকে ই-কমার্স ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করা ২৪ বছর বয়সী ভিকি ঝাওয়ের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তাঁর মতে, চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মানদণ্ড আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন পদের জন্যও চীনের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করছেন। উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরির দিকে ঝোঁক বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক তরুণ এখন আরও উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ মাস্টার্স বা অন্য উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে নিজেদের যোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে তাঁদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। চীনে সরকারি চাকরিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান হিসেবে দেখা হয়। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে তরুণদের একটি অংশ সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন স্নাতকদের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে নতুন স্নাতকদের জন্য আরও পদ তৈরি এবং তাঁদের নিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও জুলাইয়ের বেকারত্বের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এখনও চীনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে রেকর্ড সংখ্যক নতুন স্নাতক, অন্যদিকে নিয়োগে সংস্থাগুলির সতর্কতা এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষাগত যোগ্যতার চাহিদা—সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর বিপুল প্রচার ব্যর্থ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জয় আয়শা ওয়াহাবের
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যালিফোর্নিয়া: ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিপুল নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যেও ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আয়শা ওয়াহাব। প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের ছেড়ে দেওয়া আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যাচ্ছেন আয়শা। সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে সোয়ালওয়েলের মেয়াদের অবশিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করবেন আয়শা। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত ওই মেয়াদ চলবে। একই সঙ্গে প্রথম আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি। জয়ের পর আয়শা বলেন, যে এলাকা তাঁকে বড় করে তুলেছে, সেখানকার মানুষের অধিকারের জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চালানো প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে আয়শার দাবি, নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে এই এলাকার ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ফস্টার কেয়ার থেকে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত তাঁর যাত্রা যে কোনও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন আয়শা। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে সরব প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত আয়শা। গাজা যুদ্ধ নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভায় গাজার মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের এপ্রিলে এক নির্বাচনী বিতর্কে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত হত্যা’ বলে মনে করেন কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি সম্মতি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ ওই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে গাজায় ধ্বংসের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নজর ছিল ইসরায়েলপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলির ভূমিকার দিকে। প্রাথমিক নির্বাচনে আয়শা ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে হার্নান্দেজের ভোট ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। মূল লড়াই এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ব্যবধান কমতে থাকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকে হার্নান্দেজের সমর্থনে ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ প্রায় ২৫ লাখ ডলার ব্যয় করে। সংগঠনটি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি আইপ্যাকের অর্থায়ন পাওয়া ‘বোল্ড আমেরিকা’ও প্রায় ১৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ হার্নান্দেজের পক্ষে এই দুই সংগঠনের ব্যয়ই প্রায় ৪৪ লাখ ডলার। তার পরেও আয়শার জয় মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলির নির্বাচনী প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের পরিবর্তনের সময় এই ফল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখানেই আয়শা ও হার্নান্দেজের লড়াই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে ফের মুখোমুখি হওয়ার কথা তাঁদের। আয়শার জয়ের পর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ, কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: টানা তিন দিনের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন মার্কিন শুল্কের পাল্টা হিসেবে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর জন্য শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হওয়ায় নতুন শুল্ক কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তের জবাবে তাঁর দেশও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের প্রভাব থেকে দেশের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সহায়তা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কার্নির বক্তব্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছনোর লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তবে কানাডার স্বার্থ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সেই অগ্রগতি যথেষ্ট ছিল না। অন্যদিকে, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য কানাডাকেই দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। তাঁর অভিযোগ, সপ্তাহের শুরুতে যে সমস্ত শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি অটোয়া। উল্টে নতুন দাবি তোলার পাশাপাশি আগে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি থেকেও কানাডা সরে এসেছে বলে অভিযোগ তাঁর। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্পযন্ত্র এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী। কানাডার মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ এর ফলে প্রভাবিত হতে পারে। এর আগে ইস্পাত, কাঠ এবং মোটরগাড়ির উপর আরোপিত মার্কিন শুল্কও বহাল রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল অটোয়াও। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। শুক্রবারও ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোর বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে শুরু হল শুল্কের লড়াই। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল বহু কানাডীয় ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কয়েক ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে জেলে ইমরান, পাকিস্তানে নতুন বিতর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের কারাগারে পাঠানো হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৭৩ বছরের ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চোখের সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক জটিলতার কারণে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। পিটিআইয়ের দাবি, পরবর্তী শুনানি অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে রেখে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা থাকার পরেই তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর প্রথমে স্বস্তি প্রকাশ করেছিল পিটিআই। দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়, হাসপাতালে পৌঁছনো তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি শুধুমাত্র একটি ধাপ। তাদের মূল লক্ষ্য দেশের ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ এবং একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান। ২০২২ সালে আস্থাভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকেই একের পর এক মামলায় জড়িয়েছেন পিটিআই প্রধান। তাঁর দল ও সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান ইমরান। মঙ্গলবার আদিয়ালা কারাগারে স্ত্রী বুশরা বিবি এবং বোন নুরিন নিয়াজির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। প্রায় ন’মাস পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বোনের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট এবং বুশরা বিবির সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট কথা বলেন ইমরান। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২২ সালে আস্থাভোটে ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৫ সালে আল-কাদির ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ইমরান এবং তাঁর স্ত্রীকে সাজা দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালে গোপন সরকারি নথি সংক্রান্ত মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ কারাবাসের পরেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরানের প্রভাব কমেনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও যথেষ্ট। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও নানা বাধার মধ্যেও ইমরান-সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইমরানকে ফের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তাঁকে ফের কবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কতটা নিশ্চিত করা হবে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।
সিঙ্কফিল্ড কাপে যুগ্ম শীর্ষে প্রজ্ঞানন্দ, টানা দ্বিতীয়বার জিসিটি ফাইনালে ভারতীয় তারকা
সকাল সকাল ডেস্ক দাবার বিশ্বমঞ্চে দুরন্ত ছন্দ অব্যাহত রাখলেন ভারতের আর প্রজ্ঞানন্দ। সিঙ্কফিল্ড কাপের নয় রাউন্ড শেষে যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করলেন ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার নবম তথা শেষ রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের গ্র্যান্ডমাস্টার অনিশ গিরির মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। সেই ম্যাচ ড্র হয়। ফলে নয় রাউন্ড শেষে প্রজ্ঞানন্দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫.৫ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে আমেরিকার ওয়েসলি সো-ও যুগ্মভাবে শীর্ষে শেষ করেন। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য এরপর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম দুটি র্যাপিড প্লে-অফ ম্যাচ ড্র হওয়ার পর লড়াই পৌঁছে যায় আরমাগেডনে। সেখানে শেষ হাসি হাসেন ওয়েসলি সো। প্রজ্ঞানন্দকে পিছনে ফেলে সিঙ্কফিল্ড কাপের খেতাব জিতে নেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাঁর ঝুলিতে যায় ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কারমূল্য। টাইব্রেকারে খেতাব হাতছাড়া হলেও গোটা প্রতিযোগিতায় প্রজ্ঞানন্দের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। এই ফলের সুবাদে টানা দ্বিতীয়বার গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় তারকা। চলতি মরসুমে একের পর এক বড় মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। নরওয়ে চেস এবং সেন্ট লুইস র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজে সাফল্যের পর সিঙ্কফিল্ড কাপেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। এই প্রতিযোগিতায় জাভোখির সিন্দারভ এবং ফরাসি গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাক্সিম ভ্যাচিয়ের-ল্যাগরেভের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর একমাত্র পরাজয় এসেছে জার্মানির ভিনসেন্ট কেইমারের বিরুদ্ধে। ক্লাসিক্যাল থেকে র্যাপিড—বিভিন্ন ধরনের দাবায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব দাবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রজ্ঞানন্দের পাশাপাশি গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ফাবিয়ানো কারুয়ানা, ওয়েসলি সো এবং ভিনসেন্ট কেইমার। অন্যদিকে জাভোখির সিন্দারভের সামনে শেষ রাউন্ডে বড় সুযোগ ছিল। জিসিটি ফাইনালে পৌঁছতে সিঙ্কফিল্ড কাপে প্রথম দু’জনের মধ্যে থাকা প্রয়োজন ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ওয়েসলি সো-র বিরুদ্ধে জয় না পাওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। আগামী শনিবার থেকে মরসুমের সেরা চার দাবাড়ুকে নিয়ে শুরু হবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনাল। এবার প্রজ্ঞানন্দের সামনে আরও বড় লক্ষ্য। গতবারের ফলকে ছাপিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সামগ্রিক গ্র্যান্ড চেস ট্যুর খেতাব জয়ের সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। সিঙ্কফিল্ড কাপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর তাই ভারতীয় দাবাপ্রেমীদের নজর এখন জিসিটি ফাইনালে। চৌষট্টি খোপের লড়াইয়ে প্রজ্ঞানন্দ নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।
১৮ বছরের অচেনা মার্কিন তরুণের কাছে হার লক্ষ্য সেনের, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এগোলেন সিন্ধু-আয়ুষ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বড় অঘটন। মাত্র ১৮ বছরের মার্কিন তরুণ গ্যারেট ট্যানের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিলেন ভারতের লক্ষ্য সেন। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে তিন গেমের লড়াইয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা লক্ষ্যকে হারিয়ে চমকে দেন তুলনামূলক অপরিচিত মার্কিন শাটলার। লক্ষ্যের হতাশার দিনে অবশ্য ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দিয়েছেন পিভি সিন্ধু ও আয়ুষ শেট্টি। বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের বড় মঞ্চে এখনও কার্যত নবাগত গ্যারেট। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট টুর্নামেন্ট খেলেই অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট অনুশীলন শিবির বা স্থায়ী কোচ ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন। উন্নত মানের স্পারিংয়ের জন্য তাইওয়ানে দাদু-দিদার কাছে গিয়ে অনুশীলনও করেন। সেই তরুণই এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে হারিয়ে দিলেন লক্ষ্যকে। তিন গেমের লড়াইয়ে ২১-১৯, ১৯-২১, ২১-১৭ ব্যবধানে জয় পান গ্যারেট। ম্যাচে লক্ষ্যের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বারবার চোখে পড়েছে। মার্কিন শাটলারের আগ্রাসী আক্রমণের সামনে একাধিকবার শর্ট লিফট খেলে নিজেই চাপে পড়ে যান ভারতীয় তারকা। প্রথম গেম হারলেও দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে ফিরেছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু নির্ণায়ক গেমের শুরুতেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। একসময় স্কোর ছিল ৪-১২। সেখান থেকে ১০-১৩ পর্যন্ত ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি। লক্ষ্যের পারফরম্যান্সে হতাশ তাঁর কোচ বিমল কুমার। তাঁর মতে, এমন পারফরম্যান্সের কোনও অজুহাত হতে পারে না। ম্যাচ শেষে লক্ষ্যও স্বীকার করেন, প্রায় গোটা ম্যাচেই পিছিয়ে থাকায় তাঁর উপর চাপ বেড়েছিল। পাশাপাশি গ্যারেটের আক্রমণাত্মক খেলারও প্রশংসা করেন তিনি। লক্ষ্যের ব্যাকলাইনের দুর্বলতাকে পরিকল্পনা করেই কাজে লাগিয়েছেন গ্যারেট। মার্কিন শাটলারের কোচ পলা লিন জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে লক্ষ্যর এই দুর্বলতা তাঁদের নজরে পড়েছিল এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, লক্ষ্য বিদায় নিলেও মহিলাদের সিঙ্গলসে সহজ জয় পেয়েছেন পিভি সিন্ধু। কানাডার ওয়েন ইউ ঝাংকে ২১-১৬, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছেছেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় তারকা। তবে এবার সিন্ধুর সামনে কঠিন পরীক্ষা। তাঁর প্রতিপক্ষ চিনের ওয়াং ঝি ই, যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন। দু’জনের মুখোমুখি লড়াইয়ে চিনা শাটলার ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে চিনা প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সিন্ধুর অতীত রেকর্ড যথেষ্ট উজ্জ্বল। ম্যাচের আগে নিজের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলার উপরই জোর দিচ্ছেন সিন্ধু। মহিলাদের সিঙ্গলসে অবশ্য বিদায় নিয়েছেন ভারতের উন্নতি হুডা। মিশেল লি-র বিরুদ্ধে তিন গেমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১১-২১, ২১-৯, ২৩-২১ ব্যবধানে হারেন তিনি। ফলে এই বিভাগে ভারতের প্রধান ভরসা এখন সিন্ধু। পুরুষদের সিঙ্গলসে দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখেছেন আয়ুষ শেট্টি। প্রথম রাউন্ডে চিনের শীর্ষবাছাই শি ইউকিকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিলেন তিনি। এবার শ্রীলঙ্কার দুমিন্দু আবেবিক্রমকে মাত্র ২৬ মিনিটে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তরুণ। পরের রাউন্ডে আয়ুষের সামনে ইন্দোনেশিয়ার একাদশ বাছাই আলভি ফারহান। দুই শাটলারের মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল বর্তমানে ২-২। শেষবার চায়না ওপেন সুপার ১০০০ প্রতিযোগিতায় আলভিকে হারিয়েছিলেন আয়ুষ। ফলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী কঠিন পরীক্ষায় নামবেন তিনি। একদিকে লক্ষ্য সেনের অপ্রত্যাশিত বিদায়, অন্যদিকে সিন্ধু ও আয়ুষের দাপুটে জয়—বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় শিবিরের জন্য বুধবারের দিনটি তাই মিশ্র অভিজ্ঞতার হয়ে রইল।
২৪ বছর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের স্মৃতি, ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানে উড়িয়ে ভারতের অভিনব উদযাপন
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: দীর্ঘ ২৪ বছর পর ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে ফিরে এল ২০০২ সালের স্মৃতি। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত শার্ট ওড়ানোর উদযাপনের আদলে এবার উচ্ছ্বাসে মাতল ভারতের মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দল। বুধবার সাত ম্যাচের টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর ব্যালকনিতে ব্লেজার খুলে তেরঙ্গা হাতে উদযাপন করেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সাত ম্যাচের সিরিজ অবশ্য ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে শেষ ম্যাচে ভারতের দাপুটে জয় এবং তার পরের উদযাপন আলাদা মাত্রা যোগ করেছে গোটা সফরে। ম্যাচ জয়ের পরই লর্ডসের ব্যালকনিতে ছুটে যান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কেউ গায়ের ব্লেজার খুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, কেউ হাতে তুলে নেন জাতীয় পতাকা। ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনালের পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উদযাপনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে সেই দৃশ্য। ডিফারেন্টলি এবেলড ক্রিকেট কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই উদযাপনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। দ্রুত তা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়ে নেয়। মাঠের লড়াইয়েও ভারতের আধিপত্য ছিল একতরফা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান তোলে ভারত। চলতি সিরিজে এটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ স্কোর। ৪৪ বলে ৬৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অর্জুন গাওরে। তবে ইনিংসের শেষ দিকে কার্যত ঝড় তোলেন অধিনায়ক মজিদ মাগ্রে। মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন তিনি। সাই আকাশও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের সামনে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় আয়োজকরা। ফলে ১১৮ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। বল হাতে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক হিলাল আহমেদ ওয়ানি। মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। জয়েশ পারমার ১৪ রান খরচ করে তুলে নেন ৩ উইকেট। সাত ম্যাচের সিরিজে অবশ্য লড়াই ছিল জমজমাট। প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর পরপর দুটি ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৮ রানে জিতে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। কিন্তু চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচ টানা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে লর্ডসে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করে ভারত। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ক্যালাম ফ্লিনও শেষ ম্যাচে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, লর্ডসে ভারত তাঁদের তুলনায় অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে। তবে সামগ্রিকভাবে সিরিজ জিততে পেরে তাঁরা খুশি। ভবিষ্যতে লর্ডসের মাঠে জয় পাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি। মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেটে শারীরিক, শ্রবণ বা শিখনগত প্রতিবন্ধকতা থাকা ক্রিকেটাররা একই দলের হয়ে মাঠে নামেন। ভিন্ন সক্ষমতার খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয় এই বিশেষ ফর্ম্যাট। সিরিজের ট্রফি ইংল্যান্ডের হাতে উঠলেও সফরের শেষ ছবিটা তাই ভারতের। ১১৮ রানের বিশাল জয়, লর্ডসের ব্যালকনিতে তেরঙ্গা এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ২০০২ সালের ঐতিহাসিক উদযাপনের স্মৃতি—সব মিলিয়ে ভারতীয় মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।
বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল মেসির, আকাশের দিকে আঙুল তুলে নীরব উদ্যাপন
সকাল সকাল ডেস্ক শোক কাটিয়ে ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরছেন লিওনেল মেসি। বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার এমএলএসে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ইন্টার মায়ামির ২-২ ড্র ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। গত ৮ অগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘ সময় ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে আর্জেন্টিনায় ফিরে গিয়েছিলেন মেসি। পরে দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি। অবশেষে ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে সুবারু পার্কে গোলের খরা কাটালেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মেসি। ২১ মিনিটে তাঁর তৈরি করা আক্রমণ থেকেই মায়ামি গোলের সুযোগ পায়। মেসির মাপা বল লুইস সুয়ারেজের কাছে পৌঁছয়। সেখান থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ড্যানিয়েল পিন্টার। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই আসে মেসির গোল। বক্সের ভিতর প্রায় ১২ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন তিনি। সেই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। তবে গোলের পর মেসির উদ্যাপন ছিল সংযত। সতীর্থদের সঙ্গে সামান্য আলিঙ্গনের পর আকাশের দিকে আঙুল তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। বাবার মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া এই গোলের পর তাঁর নীরব উদ্যাপন স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে। চলতি এমএলএস মরসুমে এটি মেসির ১৩তম গোল। ১৭ ম্যাচে এই গোলসংখ্যার পাশাপাশি তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৯টি অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। শীর্ষে থাকা এফসি ডালাসের পেটার মুসার থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে মেসি। যদিও মেসির গোলেও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফিলাডেলফিয়া। ইন্ডিয়ানা ভ্যাসিলেভের দুরন্ত ভলিতে ব্যবধান কমে। এরপর ১৮ বছরের ডিফেন্ডার নিল পিয়েরের হেডে সমতা ফেরায় ফিলাডেলফিয়া। মিলান ইলোস্কির পা থেকে আরও একটি গোল এসেছিল ফিলাডেলফিয়ার। তবে ভিডিয়ো সহকারী রেফারির সাহায্যে সেটি বাতিল করা হয়। আক্রমণ তৈরির সময় অফসাইডের কারণে গোলটি বৈধতা পায়নি। এই ড্রয়ের ফলে ইন্টার মায়ামির টানা তিন ম্যাচের হারের ধারা থামলেও জয়হীন যাত্রা অব্যাহত রইল। আগের ম্যাচগুলিতে লিগস কাপে মেক্সিকান ক্লাব লিওনের কাছে হার এবং ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাদের। ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টিও নষ্ট করেছিলেন মেসি। ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের থেকে এখনও সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে মায়ামি। ফলে মেসি ব্যক্তিগতভাবে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও দলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনাও ছড়ায়। বলের বাইরে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্টপেজ টাইমে ইন্টার মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার ১৬ বছরের ক্যাভান সালিভানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। জয় না এলেও মায়ামির জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি মেসির গোলে ফেরা। ব্যক্তিগত শোকের পর মাঠে ফিরে তাঁর এই গোল নতুন করে নজর কাড়ল ফুটবলবিশ্বের।
ইন্দোনিয়েশিয়ায় ফের ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পন, বিপর্যয়ের আবহ ফ্লোরেস অঞ্চলে
সকাল সকাল ডেস্ক জাকার্তা : গত শনিবারে হওয়া ভয়াবহ ৭.৭ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্পের আতঙ্কের আমেজ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে পুনরায় কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল। জার্মানির ‘জিএফজেড রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ -এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে সোমবারের এই কম্পনের ঔতীব্রতা ছিল ৫.৯। সোমবারে পুনরায় হওয়া এই কম্পনে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর না পাওয়া গেলেও শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। ওই কম্পনের পর দ্রুত সুনামি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৩-তে। ফ্লোরেস প্রদেশের মানগাড়াই, ইস্ট মানগাড়াই এবং নাগাকে ও অঞ্চল তিনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার প্রধান আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, ভূকম্পের ধাক্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৯০০টি ঘরবাড়ি একবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ইস্ট নুসা টেঙ্গারা অঞ্চলে আরও ৪৫০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমগ্র অঞ্চলে প্রায় ৫,০০০-এরও বেশি মানুষ আপাতত গৃহহীন অবস্থায় ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবারের মূল কম্পনের পর থেকে এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে অন্তত ৯৯৫টি আফটার শক (পরবর্তী মৃদু কম্পন) নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৬টি কম্পন স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পেরেছেন। ভূমিকম্পের ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সড়ক পরিবহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ে’ জায়গায় জায়গায় ধসে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।