আলভারেজ বিতর্কের মাঝেই সেভিয়াকে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষে আতলেতিকো
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ: মাঠের বাইরে হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা। কিন্তু তার কোনও প্রভাব পড়ল না মাঠের পারফরম্যান্সে। শনিবার অ্যাওয়ে ম্যাচে সেভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল আতলেতিকো মাদ্রিদ। তিন ম্যাচে দিয়েগো সিমিওনের দলের সংগ্রহ সাত পয়েন্ট। আর্জেন্তিনার স্ট্রাইকার আলভারেজের বার্সেলোনা অথবা আর্সেনালে যোগ দেওয়ার জল্পনা চলছে। যদিও তাঁকে ছাড়তে নারাজ আতলেতিকো। ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ২-২ ড্রয়ের সময় সমর্থকদের একাংশের দুয়োর মুখেও পড়েছিলেন তিনি। সেভিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে ম্যাচ-ডে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। আলভারেজ প্রসঙ্গে সিমিওনে জানিয়েছেন, আর্জেন্তাইন স্ট্রাইকার বর্তমানে ব্যক্তিগত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং ক্লাব তাঁর পাশে রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে তিনি আবার দলকে সাহায্য করবেন বলেই আশা আতলেতিকো কোচের। আলভারেজের অনুপস্থিতিতে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া ফরোয়ার্ডরাই সেভিয়ার বিরুদ্ধে পার্থক্য গড়ে দেন। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটে লি কাং-ইনের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে নিচু শটে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্স বায়েলা। ২৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেমোলা লুকমান। সেভিয়ার গোলরক্ষক ওডিসিস ভ্লাচোডিমোসকে পরাস্ত করে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এর সাত মিনিট পরেই ফের গোল। মার্কোস লোরেন্তের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় এবং আতলেতিকোর তৃতীয় গোল করেন বায়েলা। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সিমিওনের দল। দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। মিগুয়েল সিয়েরার ভলিতে একটি গোল শোধ হলেও ম্যাচে ফেরার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো। জোড়া গোলের পর বায়েলা জানান, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। সেই ছন্দ এবার ক্লাব ফুটবলেও ধরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে বড় অঘটন ঘটিয়েছে লেভান্তে। রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। এই হারের ফলে চলতি লিগে প্রথমবার পরাজয়ের মুখ দেখল ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। ম্যাচটি জিতলে টানা তিন জয়ের সুবাদে শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল বেতিসের। লেভান্তের হয়ে আদ্রিয়ান দে লা ফুয়েন্তে গোলের খাতা খোলেন। বেতিসের হয়ে মার্ক বারত্রা সমতা ফেরালেও প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে অসাধারণ চিপে গোল করেন এনজো বারদেলি। পরে রদ্রিগো রিকেলমে বেতিসকে ফের সমতায় ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে রজার ব্রুগুয়ের জোড়া গোল এবং জন আন্দের ওলাশাগাস্তির হেডে বড় জয় নিশ্চিত করে লেভান্তে। দিনের অন্য ম্যাচে এস্পানিওলকে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। চলতি মরসুমে এটিই তাদের প্রথম জয়।
মেসির চার গোলের ঝড়, মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল মায়ামি
সকাল সকাল ডেস্ক মায়ামি: বয়স যে তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা, আরও একবার প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারে আর্জেন্তাইন মহাতারকার চার গোলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ভর করে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করল ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচের জয়হীন খরা কাটাল তারা। চার গোল করে চলতি মরসুমের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে গেলেন মেসি। এমএলএসে এই প্রথম কোনও ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। পেশাদার কেরিয়ারে নবমবার এক ম্যাচে অন্তত চারটি গোল করার নজির গড়লেন তিনি। এই চার গোলের সুবাদে চলতি মরসুমে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮। গোলদাতাদের তালিকায় ডালাসের পিটার মুসাকে পিছনে ফেলেছেন মেসি। মুসার সংগ্রহ ১৬ গোল। ম্যাচের ২০ মিনিটে ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। তেলাস্কো সেগোভিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করেন তিনি। তবে ৩৭ মিনিটে ফাবিয়ান হারবার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্ট্রিয়েল। সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মেসি। বিরতির আগেই বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে মায়ামিকে ফের এগিয়ে দেন তিনি। কাছের পোস্ট ঘেঁষে তাঁর শট জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত একপেশে হয়ে যায় ম্যাচ। ৫২ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গোল করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। ৮০ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে মায়ামির হয়ে গোল করেন লুই সুয়ারেজ। তার তিন মিনিট পরেই নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন মেসি। এরপর ৮৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন আলেকজান্ডার শ। তবে তখনও মেসি-ঝড় শেষ হয়নি। সংযোজিত সময়ের ৯৬ মিনিটে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রি-কিকে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন আর্জেন্তাইন তারকা। তাঁর শটের সামনে কার্যত দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মন্ট্রিয়েলের গোলরক্ষককে। শেষ পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি। এই জয়ের ফলে ২২ ম্যাচে ৪২ পয়েন্টে পৌঁছেছে ইন্টার মায়ামি। তাদের জয়-ড্র-হারের রেকর্ড ১২-৬-৪। অন্যদিকে মন্ট্রিয়েলের টানা চার ম্যাচের অপরাজিত থাকার দৌড়ও শেষ হয়েছে। ম্যাচে মায়ামির ডাগআউটে ছিলেন না প্রধান কোচ গিলারমো হোয়োস। লিগের ‘লেট কিকঅফ’ সংক্রান্ত নিয়ম একাধিকবার ভাঙার কারণে নির্বাসিত থাকায় স্কাইবক্স থেকে ম্যাচ দেখেন তিনি। তাঁর পরিবর্তে ডাগআউটে দায়িত্ব সামলান সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজ। এরই মধ্যে মায়ামির কোচিং বিভাগেও পরিবর্তন আসতে চলেছে। আর্জেন্তিনার কিলি গঞ্জালেজকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে কোচিং নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে এই রাত পুরোপুরি মেসির। চার গোল করে শুধু দলের জয়হীন দৌড়ই থামালেন না, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও নিজেকে নিয়ে গেলেন সবার উপরে।
টেনিস হল অফ ফেমে ফেডেরার, মঞ্চে বারবার চোখে জল কিংবদন্তির
সকাল সকাল ডেস্ক নিউপোর্ট: টেনিস কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও সম্মানের পর এবার আরও এক বিশেষ স্বীকৃতি রজার ফেডেরারের মুকুটে। রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হলেন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সুইস কিংবদন্তি। একই সঙ্গে এই সম্মান পেয়েছেন প্রাক্তন খেলোয়াড় ও প্রখ্যাত ক্রীড়া সম্প্রচারক মেরি কারিলো। প্রথা মেনে শুক্রবার রাতের নৈশভোজে ফেডেরার ও কারিলোর গায়ে তুলে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেমের লোগো বসানো বিশেষ নীল ব্লেজার। শনিবার ঐতিহাসিক হর্সশু কোর্টে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জন ম্যাকেনরো, স্ট্যান স্মিথ, লিন্ডসে ভন-সহ ক্রীড়াজগতের বহু পরিচিত মুখ। অনুষ্ঠানের আগেও ফেডেরারের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ঝলক দেখা যায়। এক অনুরাগী তাঁর চার বছরের মেয়ের টেনিস কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করলে ফেডেরার মজা করে জানান, চার বছর বয়সে শুরু করা একটু দেরি হয়ে গেল, কারণ তিনি নিজে তিন বছর বয়সেই টেনিস শুরু করেছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রথমে সম্মানিত করা হয় মেরি কারিলোকে। কিংবদন্তি বিলি জিন কিং তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেন। ১৯৭৭ সালে ফরাসি ওপেনে জন ম্যাকেনরোর সঙ্গে মিক্সড ডাবলস খেতাব জিতেছিলেন কারিলো। পরে হাঁটুর চোটের কারণে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে ক্রীড়া সম্প্রচারের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ফেডেরারের কেরিয়ারের বিভিন্ন অজানা মুহূর্ত তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী মিরকা। একসময় নিজেও পেশাদার টেনিস খেলতেন মিরকা। তিনি জানান, তাঁদের পরিচয়ের সময় ফেডেরারের ঝুলিতে কোনও বড় ট্রফি ছিল না। ম্যাচের আগে অনেক সময় তিনিই ফেডেরারকে কোর্টে ওয়ার্ম-আপ করাতেন। অ্যান্ডি রডিকের বিরুদ্ধে ফেডেরারের একটি জয়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। স্ত্রীর মুখে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ফেডেরার। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাঁকে। ফেডেরার জানান, খ্যাতি অর্জন কখনও তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল না। নিজের পছন্দের কাজটি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে করে যাওয়াই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসেলে বল-বয় হিসেবে টেনিসের সঙ্গে নিজের যাত্রা শুরুর কথাও স্মরণ করেন ফেডেরার। ছেলেবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চক দিয়ে কোর্ট এঁকে গভীর রাত পর্যন্ত খেলার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, নিজেকে কখনও আলাদা করে পেশাদার অ্যাথলিট হিসেবে দেখেননি, বরং সবসময় একজন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেছেন। মিরকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুইস কিংবদন্তি। দীর্ঘ কেরিয়ারে পরিবার তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলে জানান তিনি। টেনিসকে ‘জটিল অথচ সুন্দর খেলা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন ফেডেরার। কোর্টের জ্যামিতি থেকে বলের গতি, ম্যাচের চাপ—সবকিছুই তাঁর কাছে বিশেষ আকর্ষণের ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘটলেও টেনিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফেডেরারের কথায়, খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অধ্যায় শেষ হয়েছে, কিন্তু টেনিস চিরকাল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের জায়গাগুলির একটি হয়ে থাকবে। দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই টেনিস তারকা।
মাত্র ১৫ বছরেই দলীপ ট্রফিতে নেতৃত্ব বৈভবের, সামিদের সামলে গড়লেন নজির
সকাল সকাল ডেস্ক বেঙ্গালুরু : বয়স মাত্র ১৫ বছর। অথচ সেই বয়সেই সিনিয়র দলের নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন বৈভব সূর্যবংশী। দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষাণ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তেই দলের দায়িত্ব নেন সহ-অধিনায়ক বৈভব। মহম্মদ সামি, মুকেশ কুমার, অভিমন্যু ঈশ্বরনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠে দল পরিচালনা করে নজর কাড়লেন তরুণ ব্যাটার। রবিবার বেঙ্গালুরুতে সেন্ট্রাল জোনের প্রথম ইনিংসের ১৯তম ওভারে উইকেটকিপিং করার সময় ডান হাতের কব্জিতে চোট পান ঈশান। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে উঠে যেতে হয়। পরে ড্রেসিংরুমের বাইরে তাঁর হাতে ভারী ব্যান্ডেজ দেখা যায়। ঈশান মাঠ ছাড়ার পর উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন কুমার কুশাগ্র। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বৈভবকে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। ফলে ঈশানের অনুপস্থিতিতে মাঠে দল পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়ে ১৫ বছরের বৈভবের কাঁধে। মাঠে উপস্থিত ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট হয়েও অভিজ্ঞদের পরিচালনা করতে পিছপা হননি তিনি। মহম্মদ সামির মতো অভিজ্ঞ পেসারের বোলিং স্পেল সামলানো থেকে শুরু করে ফিল্ডিং সাজানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং পরিবর্তন— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় বৈভবকে। তাঁর নেতৃত্বে লাঞ্চের আগে সেন্ট্রাল জোনকে চাপে রাখে ইস্ট জোন। ৮১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় প্রতিপক্ষ। বড় মঞ্চে বৈভবের ফিল্ড প্লেসমেন্ট ও বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নজর কাড়ে। দলীপ ট্রফির শুরুতেই বৈভবকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এত কম বয়স এবং সীমিত প্রথম শ্রেণির অভিজ্ঞতা থাকা একজন ক্রিকেটারকে কেন এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ইস্ট জোনের নির্বাচকদের লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতের জন্য তরুণ ক্রিকেটারকে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দেওয়া। ২০২৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় বৈভবের। সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাঁর দশম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং দ্বিতীয় দলীপ ট্রফি ম্যাচ। সেই সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। ঈশানের কব্জির চোট কতটা গুরুতর, তা মেডিক্যাল পরীক্ষার পর স্পষ্ট হবে। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বৈভব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সিনিয়র স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে মাঠে দল পরিচালনা করে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন নজিরের জন্ম দিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
পন্টিংকে টপকে ইতিহাস রুটের, এবার নজরে সচিনের জোড়া রেকর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন : ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে নতুন ইতিহাস গড়লেন জো রুট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে রিকি পন্টিংকে পিছনে ফেলে ঘরের মাঠে সর্বাধিক টেস্ট রানের মালিক হলেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার। এই রেকর্ড নিজের নামে করার পর এবার তাঁর সামনে সচিন তেন্ডুলকরের একাধিক মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯২টি টেস্ট খেলে পন্টিং করেছিলেন ৭,৫৭৮ রান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে সেই রেকর্ড টপকাতে রুটের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান। প্রথম ইনিংসে অবশ্য মাত্র ৪ রান করেই ফিরে যান তিনি। ফলে অপেক্ষা বাড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। ৩৭ বলে ২৪ রান করেন রুট। মহম্মদ আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেও তার আগেই পন্টিংকে টপকে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেন ইংল্যান্ডের তারকা। ঘরের মাঠে ৮৯টি টেস্টে রুটের সংগ্রহ এখন ৭,৫৯১ রান। পন্টিংয়ের ৭,৫৭৮ রান করতে লেগেছিল ৯২টি টেস্ট। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। ভারতের মাটিতে ৯৪টি টেস্ট খেলে তাঁর সংগ্রহ ৭,২১৬ রান। ঘরের মাঠে সর্বাধিক টেস্ট রানের তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছেন মহেলা জয়বর্ধনে এবং জ্যাক কালিসও। ঘরের মাঠে পন্টিংয়ের রেকর্ড ভাঙার পর রুটের সামনে এবার আরও বড় লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক রানের বিশ্বরেকর্ড এখনও সচিন তেন্ডুলকরের দখলে। ২০০টি টেস্টে সচিনের সংগ্রহ ১৫,৯২১ রান। সেই মাইলফলকের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে চলেছেন রুট। তবে রেকর্ড গড়লেও চলতি হোম মরসুমে রুটের ব্যাটে তাঁর পরিচিত ছন্দ এখনও পুরোপুরি দেখা যায়নি। টানা ১০টি ইনিংসে শতরান নেই। চলতি মরসুমে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ৭৭। লর্ডসেও ক্রিজে কিছুটা সময় কাটানোর পর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। তা সত্ত্বেও একের পর এক ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করে চলেছেন ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ঘরের মাঠে আরও একটি নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে রুট। ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ২৬০ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১১,৯২৮ রান। আর ৭২ রান করলেই ঘরের মাঠে ১২ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। সেই নজির গড়তে পারলে বিশ্বের ষষ্ঠ এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করবেন রুট। এই তালিকাতেও শীর্ষে সচিন। ভারতের মাটিতে ২৫৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৩১৩ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৪,১৯২ রান। ফলে পন্টিংকে পিছনে ফেলার পর রুটের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ সচিনের রেকর্ডগুলির দিকে আরও এগিয়ে যাওয়া।
এসএসসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ, আপাতত চাকরি বহাল ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। নতুন করে দায়ের হওয়া অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা তাঁদের পুরনো পদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেলেন কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের ফলে একসঙ্গে চাকরি হারানোর মুখে পড়েন হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের প্যানেল বাতিলের মূল নির্দেশ বহাল রাখে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, সেই ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের সাময়িকভাবে স্বপদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, তাঁরা আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত কাজে বহাল থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। নতুন করে ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন বা অন্তর্বর্তী আবেদন দায়ের করে তাঁদের আর্জি, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চাকরিতে বহাল থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হোক। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির কারণে মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। সেখানে আবেদনকারীদের আইনজীবী চাকরিপ্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী আবেদনের গুরুত্ব আদালতের সামনে তুলে ধরেন। সব দিক বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেহেতু নতুন করে একটি অন্তর্বর্তী আবেদন জমা পড়েছে, তাই সেই আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আপাতত তাঁদের পদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এর ফলে ৩১ অগস্টের সময়সীমা ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল। নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বহাল থাকবে। এখন তাঁদের নজর সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিকে।
‘ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে’, কলকাতায় পথচারীদের নিরাপত্তায় জোর দিলীপ ঘোষের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: শহরের সৌন্দর্যায়ন, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যে নতুন শিল্প-বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কলকাতার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। বেআইনি দখলের কারণে পথচারীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাতে বসবাসকারী এক মহিলাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রসঙ্গেই ফুটপাত দখল নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাত দখল দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ফুটপাতে বসবাসকারী বা ব্যবসা করা মানুষদের স্বার্থের চেয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কায়েমি স্বার্থ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। সেই কারণেই ফুটপাতের বেআইনি দখল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর। কলকাতায় ক্রমশ বাড়তে থাকা যানবাহনের সংখ্যার প্রসঙ্গও তুলেছেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, অথচ সাধারণ মানুষের নিরাপদে হাঁটার জায়গা ক্রমশ কমছে। ফুটপাতের একাংশে ফলের দোকান, পানের দোকান বা অন্য ব্যবসা চললে পথচারীরা কোথা দিয়ে হাঁটবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মন্ত্রী দাবি করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও বুঝতে পারছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেরাই জায়গা খালি করছেন। শহরের ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতেই প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার পার্ক স্ট্রিটের ওই ফুটপাতবাসী মহিলার সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই পরিবার কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ওই পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়নি। পার্ক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্যস্ত ও সংকীর্ণ ফুটপাতে প্রকাশ্যে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেই নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে রান্না বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। ফুটপাত দখল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার বিষয়টিকে শহরের সৌন্দর্যায়ন, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করলেন দিলীপ ঘোষ। ফলে আগামী দিনে কলকাতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।
ঘুম থেকে উঠেই এই ভুলগুলো করছেন? সারাদিন থাকতে পারে ক্লান্তি ও অস্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কয়েকটি অভ্যাস সারাদিনের কাজকর্ম ও মনের অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ অনেকেই দিনের শুরুতেই এমন কিছু কাজ করেন, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না দিয়ে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে সকাল হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও প্রাণবন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ও মনকে নতুন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতেই মোবাইল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিংবা চিনিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। ঘুম ভাঙতেই হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না সারারাত বিশ্রামের পর ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে কারও কারও মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এমন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর প্রথমে কিছুক্ষণ বিছানায় বসে হাত-পা আলতোভাবে নড়াচড়া করতে পারেন। সামান্য স্ট্রেচিংয়ের পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়। চোখ খুলেই মোবাইল নয় ঘুম ভাঙতেই মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস এখন অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু দিনের শুরুতেই বিপুল তথ্য, কাজের বার্তা কিংবা নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হওয়া মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। দিনের প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত নিজের শরীর ও মনের জন্য রাখলে সকাল তুলনামূলক শান্তভাবে শুরু করা সম্ভব। সকালে পানি পান করতে ভুলবেন না ঘুমের সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পানি পান করা হয় না। তাই সকালে উঠে পানি পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। একসঙ্গে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি নয় অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে যাঁদের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা পাকস্থলীর অস্বস্তির প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে পানি পান করা যেতে পারে। এরপর নিজের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী নাশতার সঙ্গে বা পরে চা-কফি নেওয়া ভালো। নাস্তায় অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন মিষ্টি খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা সিরিয়াল দিয়ে সকালের নাশতা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে এবং পরে কমে যেতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষুধা, ক্লান্তি বা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সকালের নাশতায় তাই অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে দিনের শুরুতে কিছুটা হাঁটাচলা বা হালকা শরীরচর্চাও করা যেতে পারে। মনের যত্নও জরুরি সকালের ব্যস্ততায় শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া, কয়েক মিনিট শান্তভাবে বসা, মেডিটেশন করা কিংবা নিজের দিনের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া কাজে আসতে পারে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় বড় পার্থক্য তৈরি করে। ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করা, কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর নাশতার মতো সাধারণ অভ্যাস দিয়ে দিনের শুরুটা আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।
হেলমেট পরলেই কি চুল পড়ে? বাইক চালকদের যা জানা জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা অত্যন্ত জরুরি। দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমাতে হেলমেটের বিকল্প নেই। তবে নিয়মিত হেলমেট ব্যবহারে চুল পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট নিজে সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত আঁটসাঁট হেলমেট, দীর্ঘ সময় মাথায় চাপ এবং চুলে বারবার ঘর্ষণ হলে চুলের গোড়ায় টান পড়তে পারে। প্রতিদিন যাঁরা বাইক চালান বা নিয়মিত বাইকে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে হেলমেট নিত্যদিনের সঙ্গী। নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে চুল ও মাথার ত্বকের যত্নও নেওয়া সম্ভব। ভেজা চুলে হেলমেট পরবেন না গোসলের পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর হেলমেট পরা ভালো। মাথার ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমতে পারে। অতিরিক্ত টাইট হেলমেট এড়িয়ে চলুন হেলমেট এমন মাপের হওয়া প্রয়োজন, যাতে সেটি মাথায় সঠিকভাবে বসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে অস্বাভাবিক চাপ বা অস্বস্তি তৈরি করে এমন হেলমেট ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান ও ঘর্ষণ হলে চুল দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত হেলমেট পরিষ্কার করুন দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে হেলমেটের ভিতরে ঘাম, ধুলা, তেল ও ময়লা জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী হেলমেটের ভিতরের প্যাডিং ও পরিষ্কারযোগ্য অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখতে হবে। হেলমেট খোলার সময় চুলে টান দেবেন না হেলমেট পরা বা খোলার সময় চুল আটকে গেলে জোর করে টেনে বের করা উচিত নয়। ধীরে এবং সাবধানে হেলমেট খুলুন। বারবার চুলের গোড়ায় টান পড়লে দীর্ঘমেয়াদে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যের হেলমেট ব্যবহারে সতর্কতা সম্ভব হলে নিজের হেলমেট ব্যবহার করাই ভালো। বিশেষ করে কারও মাথার ত্বকে সংক্রমণ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা থাকলে হেলমেট ভাগাভাগি করা এড়িয়ে চলা উচিত। ব্যক্তিগত হেলমেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। চুল পড়ার জন্য শুধু হেলমেট দায়ী নয় চুল পড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে। তাই হেলমেট ব্যবহারের পর চুল পড়া বেড়েছে মনে হলেই হেলমেটকে একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করলে, মাথার কোনও নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা বা ফাঁকা হয়ে গেলে কিংবা মাথার ত্বকে অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরা বন্ধ করা কোনও সমাধান নয়। বরং সঠিক মাপের হেলমেট ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চুল ও মাথার ত্বকের নিয়মিত যত্ন—এই কয়েকটি অভ্যাসই হতে পারে নিরাপদ বাইকযাত্রার পাশাপাশি চুল ভালো রাখার সহজ উপায়।
ফ্যাশন বদলালেও অমলিন বেনারসি, প্রজন্ম পেরিয়েও কেন এত জনপ্রিয়?
সকাল সকাল ডেস্ক সময় বদলায়, তার সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশনের ধরন ও পোশাকের নকশা। কখনও সাবেকি সাজ ফিরে আসে নতুন রূপে, কখনও আবার আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যায় চেনা পোশাক। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেও বেনারসি শাড়ির আবেদন যেন একই রকম অটুট। বিয়ের সাজ থেকে উৎসব—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির পছন্দের তালিকায় বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। বেনারসি শুধু একটি পোশাক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্য, স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগ। সময়ের সঙ্গে বেনারসির নকশা এবং পরার ধরনে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্যবাহী বুনন ও কারুকাজ এখনও সমানভাবে আকর্ষণীয়। সাবেকি বুননেই বেনারসির বিশেষত্ব বর্তমানে বাজারে বেনারসি নামে নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। তবে ঐতিহ্যবাহী বেনারসির মূল আকর্ষণ তার সূক্ষ্ম বুনন, সোনালি বা রূপালি জরির কাজ এবং নকশায়। অতিরিক্ত চাকচিক্যের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুকাজই একটি খাঁটি বেনারসিকে অন্য শাড়ির থেকে আলাদা করে দেয়। শাড়ির পাড়ে সাধারণত সোনালি বা রূপালি জরির সূক্ষ্ম কাজ দেখা যায়। শাড়ির শরীরজুড়ে থাকতে পারে ফুল, জালি কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে আঁচল। ভারী জরির কাজের সঙ্গে ফুল, কল্কা ও অন্যান্য নকশা বেনারসির আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে তোলে। বিয়ের সাজে এখনও বিশেষ কদর বাঙালি বিয়ের সঙ্গে বেনারসির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নববধূর সাজে বেনারসি ছিল প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের সঙ্গে বিয়ের পোশাকে নানা নতুন ধারা এলেও সেই ঐতিহ্য এখনও হারিয়ে যায়নি। ফুল ও কল্কা নকশার সাবেকি বেনারসি এখনও অনেকের প্রথম পছন্দ। শুধু বিয়ে নয়, পুজো, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অন্য কোনও বিশেষ উপলক্ষেও বেনারসি বেছে নেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী গয়না ও সাজের সঙ্গে এই শাড়ি সহজেই এনে দেয় আভিজাত্যের ছোঁয়া। মায়ের বেনারসিতে স্মৃতি ও আবেগ বেনারসির জনপ্রিয়তার পিছনে শুধু তার সৌন্দর্য নয়, রয়েছে আবেগও। বহু পরিবারেই মায়ের বিয়ের বেনারসি পরে মেয়েকে নতুন সাজে দেখা যায়। কখনও আবার একটি শাড়ি এক প্রজন্ম থেকে পৌঁছে যায় পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। ফলে পুরনো বেনারসি হয়ে ওঠে শুধুই শাড়ি নয়, পরিবারের স্মৃতি ধরে রাখার মাধ্যম। তার প্রতিটি ভাঁজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরনো দিনের গল্প এবং প্রিয় মানুষের স্মৃতি। টেকসই ফ্যাশনেও গুরুত্বপূর্ণ খাঁটি হাতে বোনা বেনারসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার স্থায়িত্ব। সঠিকভাবে যত্ন নিলে একটি ভালো বেনারসি বহু বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি একই শাড়ি প্রজন্মের পর প্রজন্মও ব্যবহার করা যায়। বারবার নতুন পোশাক কেনার পরিবর্তে পুরনো শাড়িকে সংরক্ষণ ও পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রবণতা টেকসই ফ্যাশনের ধারণার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেন অমলিন বেনারসির আবেদন? ফ্যাশনের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রবণতা আসে। কিছু জনপ্রিয়তা পায়, আবার কিছু সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যায়। কিন্তু বেনারসির আবেদন শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট সময়ের ফ্যাশনের উপর নির্ভরশীল নয়। সূক্ষ্ম বুনন, জরির কারুকাজ, ফুল-কল্কার চিরচেনা নকশার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য, পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগই বেনারসিকে আলাদা করে রেখেছে। তাই প্রজন্ম বদলালেও বাঙালির সাজে বেনারসি আজও চিরন্তন।