পুজোয় মেকআপ থাকবে দীর্ঘক্ষণ, জেনে নিন কৌশল
সকাল সকাল ডেস্ক দুর্গাপুজোর উৎসব শুরু হতেই শহরজুড়ে জমে উঠেছে প্যান্ডেল হপিং। নতুন পোশাক, সাজগোজ আর বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখার আনন্দে মেতে উঠেছেন উৎসবপ্রেমীরা। তবে পুজোর আনন্দের মাঝেই অনেকের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া। দীর্ঘক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে ঘামে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মেকআপ। যত যত্ন নিয়েই সাজুন না কেন, কিছুক্ষণ পরেই মুখের মেকআপ গলে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেককে। তবে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। মেকআপের আগে ত্বকের যত্ন জরুরি: দীর্ঘক্ষণ মেকআপ সুন্দর রাখতে হলে প্রথমেই ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। মেকআপ করার আগে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে টোনারও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক মসৃণ থাকে এবং মেকআপ ভালোভাবে বসতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা ও অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উপকারী। প্রাইমার ব্যবহারে মিলবে সুফল: মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার অন্যতম উপায় হল প্রাইমার ব্যবহার। ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে ত্বকে উপযুক্ত প্রাইমার ব্যবহার করলে লোমকূপের দৃশ্যমানতা সাময়িকভাবে কমে এবং ত্বক মসৃণ দেখায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে ম্যাটিফাইং প্রাইমার। ফলে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতেও মেকআপ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন: মেকআপ শেষ করার পর সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে সাজ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। এটি মেকআপের বিভিন্ন স্তরকে একসঙ্গে সুন্দরভাবে বসাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ঘাম বা আর্দ্রতার মধ্যেও মেকআপ একেবারে নষ্ট হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সেটিং স্প্রে পাওয়া গেলেও ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন ফেস মিস্ট: বাজারচলতি প্রসাধনীর পরিবর্তে অনেকেই ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ফেস মিস্ট তৈরি করতে পছন্দ করেন। অ্যালোভেরা জেল, গ্লিসারিন ও গোলাপ জল ব্যবহার করে এমন একটি মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এর জন্য এক কাপ বিশুদ্ধ জল, এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, চার-পাঁচ ফোঁটা গ্লিসারিন এবং এক থেকে দুই টেবিল চামচ গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ঘরে তৈরি এই মিশ্রণ বাণিজ্যিক মেকআপ সেটিং স্প্রের বিকল্প নয়। এটি ত্বককে সাময়িক সতেজ অনুভূতি দিতে পারে, কিন্তু মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়। সংরক্ষণকারী উপাদান না থাকায় জলভিত্তিক মিশ্রণে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ না করে সদ্য তৈরি মিশ্রণ ব্যবহার করা এবং আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। পুজোর দিনগুলিতে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ সুন্দর রাখতে অতিরিক্ত ভারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলা, হালকা বেস মেকআপ ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে ব্লটিং পেপার দিয়ে মুখের অতিরিক্ত তেল মুছে নেওয়াও কার্যকর হতে পারে। সামান্য যত্ন ও সঠিক প্রসাধনী ব্যবহারে গরমের মধ্যেও সাজ অনেকটাই সতেজ রাখা সম্ভব।
পুজোর ভ্রমণে জরুরি এই ৫ সামগ্রী, ভুললেই বিপদ
সকাল সকাল ডেস্ক দুর্গাপুজো মানেই উৎসবের আনন্দ, নতুন পোশাক, প্যান্ডেল হপিং আর জমজমাট আড্ডা। তবে অনেকেই পুজোর ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কারও পছন্দ পাহাড়ের নির্জন পরিবেশ, আবার কেউ সমুদ্রসৈকত কিংবা নতুন কোনও শহরে কয়েকটা দিন কাটাতে চান। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে আগেভাগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গোছাতে গিয়ে কয়েকটি জরুরি জিনিস নিতে ভুলে গেলে বেড়ানোর আনন্দ মাটি হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস: পাহাড়, সমুদ্র কিংবা শহর—যেখানেই বেড়াতে যান না কেন, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা জরুরি। তাই ব্যাগে অবশ্যই ভালো মানের সানস্ক্রিন রাখুন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি চোখের সুরক্ষায় ইউভি প্রোটেকশনযুক্ত সানগ্লাস এবং মাথা ও মুখ রক্ষায় টুপি সঙ্গে রাখা উচিত। টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার: ভ্রমণের সময় সব জায়গায় পরিষ্কার জল কিংবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। তাই সঙ্গে রাখুন ড্রাই টিস্যু, ওয়েট ওয়াইপস, টয়লেট পেপার এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার। দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরির পর মুখ ও হাত পরিষ্কার করতে এগুলি কাজে আসবে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি। সাবান ও জল না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। জলের বোতল: বেড়াতে গিয়ে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা অসুস্থতার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই সঙ্গে একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতল রাখা উচিত। নিরাপদ পানীয় জল পান করার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা পাহাড়ি পথে ট্রেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম বা শরীরে জল ও লবণের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস ব্যবহার করা যেতে পারে। আরামদায়ক জুতো: ভ্রমণের সময় ফ্যাশনের পাশাপাশি আরামের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য উপযুক্ত, মজবুত ও আরামদায়ক জুতো বেছে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পাহাড়ি পথে হাঁটা কিংবা সারাদিন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নতুন জুতো পরে দীর্ঘ ভ্রমণে বেরোনোর পরিবর্তে আগে থেকে ব্যবহার করা আরামদায়ক জুতো নেওয়াই ভালো। প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী: ভ্রমণের ব্যাগে একটি ছোট ফার্স্ট এইড কিট রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, তুলো, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ওআরএস রাখা যেতে পারে। মাথাব্যথা, জ্বর, বমি কিংবা পেটের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সঙ্গে নেওয়া উচিত। যাঁরা নিয়মিত কোনও ওষুধ খান, তাঁদের পর্যাপ্ত ওষুধ সঙ্গে রাখা বিশেষভাবে জরুরি। পুজোর ছুটিতে নিশ্চিন্তে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে হলে শুধু গন্তব্য নির্বাচন কিংবা হোটেল বুকিং করলেই চলবে না। ব্যাগ গোছানোর সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি তালিকা তৈরি করে নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই ভ্রমণকে আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং আনন্দময় করে তুলতে পারে।
সিটির পাশে দাঁড়ালেন পিএসজি কোচ এনরিকে
সকাল সকাল ডেস্ক আর্থিক অনিয়মের একশোরও বেশি অভিযোগ ঘিরে বিতর্কে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। সম্ভাব্য শাস্তি এবং অতীতে জেতা একাধিক খেতাব হারানোর আশঙ্কা নিয়ে ফুটবল মহলে চলছে জোর আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে ইংলিশ ক্লাবটির পাশে দাঁড়ালেন প্যারিস সাঁ জারমাঁর কোচ লুইস এনরিকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্প্যানিশ কোচ জানিয়ে দিলেন, মাঠে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই ট্রফি জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের আনা আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবের বিরুদ্ধে আয় বাড়িয়ে দেখানো, ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে প্রকাশ না করা এবং আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ খণ্ডন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কাটা, আর্থিক জরিমানা কিংবা অতীতে জেতা খেতাব বাতিলের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকে ইংল্যান্ড ও ইউরোপীয় ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই সময়ে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ, ঘরোয়া কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে ক্লাবটি। বিশেষ করে পেপ গুয়ার্দিওলার কোচিংয়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয় সিটি। ফলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাদের অতীত সাফল্যের উপর কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ম্যানচেস্টার সিটির প্রসঙ্গ ওঠে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকের সামনে। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি যথেষ্ট বিস্ময়কর হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে সম্মান জানানো উচিত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে ম্যানচেস্টার সিটির প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি এনরিকে। তাঁর বক্তব্য, ফুটবলের মান এবং খেলার ধরন বিবেচনা করলে সিটি তাদের জেতা ট্রফিগুলির যোগ্য দাবিদার। দীর্ঘদিন ধরে দলটির আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সিটির খেতাব কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এনরিকে আরও জানান, মাঠে লড়াই করে অর্জন করা সাফল্যের মূল্য দেওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইংলিশ ক্লাবটি বড় ধরনের শাস্তি এড়াতে পারবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট ফুটবল কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে বলে স্বীকার করেন পিএসজি কোচ। ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক্তন কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার সঙ্গে এনরিকের ব্যক্তিগত সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফুটবলার জীবনে বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলেছেন দু’জন। পরবর্তী সময়ে কোচ হিসেবেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও প্যারিস সাঁ জারমাঁর লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। একদিকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের চাপ, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির সামনে ইংলিশ ক্লাবটি। এখন দেখার, মাঠের বাইরের বিতর্ক সামলে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না ম্যানচেস্টার সিটি। তবে প্রতিপক্ষের কোচ লুইস এনরিকের সমর্থন যে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই যায়।
বাকিংহামের সামনে সৌরভের সঙ্গে ক্রিকেটে প্রিন্স উইলিয়াম
সকাল সকাল ডেস্ক ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসের সামনে ক্রিকেটের আসর। ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামলেন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা এবং ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের মতো তারকারা। মঙ্গলবার লন্ডনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি সৌরভের প্রশংসাও করেন প্রিন্স অফ ওয়েলস। লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের বাইরে ‘ক্রিকেট অন দ্য মল’ নামে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘আর্থশট প্রাইজ’ অনুষ্ঠানের প্রচারই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারকে সামনে রেখে ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশেষ প্রচার চালানো হয়। অনুষ্ঠানে সৌরভ, লারা ও অ্যান্ডারসনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতের অজিঙ্ক রাহানে এবং ইংল্যান্ডের জো রুট। ক্রিকেট তারকাদের সঙ্গে খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উপস্থিত দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রিন্স উইলিয়াম। সেই সময় সৌরভের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।’ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যের মুখে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের এমন প্রশংসা বিশেষ নজর কেড়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সম্মান পাওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটেও নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সৌরভ। আইপিএল ২০২৭ মরশুমের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। গত দুই মরশুমে হেমাঙ্গ বাদানির প্রশিক্ষণে দিল্লি প্লে-অফে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ার পর দলের কোচিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে পরামর্শদাতা হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে পুরুষ ও মহিলা দলের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সৌরভ। ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি জানান, দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁর হৃদয়ের অত্যন্ত কাছের একটি দল। দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্ণধার, ম্যানেজমেন্ট, সাপোর্ট স্টাফ ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আগামী মরশুমে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে শক্তিশালী ও ভয়ডরহীন দল গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিকানায় রয়েছে জিএমআর এবং জেএসডব্লিউ গোষ্ঠী। দুই সংস্থার মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনার দায়িত্ব বদল হয়। ২০২৬ সালে জিএমআর গোষ্ঠীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে জেএসডব্লিউ। নতুন ব্যবস্থাপনায় সৌরভকে প্রধান কোচ করার পাশাপাশি প্রাক্তন অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে দলে ফেরানোর কথাও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের সঙ্গে ট্রেডের মাধ্যমে কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে পন্থকে ফিরিয়েছে দিল্লি। সৌরভের নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের চেয়ারম্যান তথা জেএসডব্লিউ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা পার্থ জিন্দাল। তাঁর বক্তব্য, সৌরভ দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লি ক্যাপিটালস পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একদিকে বাকিংহাম প্যালেসের সামনে ব্রিটিশ রাজপুত্রের সঙ্গে ক্রিকেট, অন্যদিকে আইপিএলে প্রধান কোচের নতুন দায়িত্ব—সব মিলিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এবার তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্রথম আইপিএল খেতাব এনে দেওয়া।
চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে জরুরি ৫ দক্ষতা
সকাল সকাল ডেস্ক দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা। ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নামী প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি থাকলেই এখন আর পছন্দের চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন চাহিদার কারণে নিয়োগকর্তারা শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতার উপরেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে কর্মজীবনে উন্নতি, সব ক্ষেত্রেই নিজেকে সময়োপযোগী করে তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করলে চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া সম্ভব। ডিজিটাল দক্ষতা: প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল জ্ঞান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটারের সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু করে কোডিং, ডেটা বিশ্লেষণ, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও এবং সমাজমাধ্যম পরিচালনার মতো দক্ষতার চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। নিজের পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। যোগাযোগ ও ভাষাগত দক্ষতা: কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের অন্যতম শর্ত কার্যকর যোগাযোগ। নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা, সহকর্মীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান, ম্যান্ডারিন কিংবা আরবির মতো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা থাকলে বহুজাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উপস্থাপনা ও দর-কষাকষির দক্ষতাও কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা: শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়, সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার ক্ষমতাও জরুরি। দল পরিচালনা, কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, মতবিরোধ মেটানো এবং সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নেতৃত্বের গুণ থাকলে ভবিষ্যতে উচ্চপদে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। আর্থিক ও ব্যবস্থাপনার জ্ঞান: কর্মক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ, বাজেট তৈরি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকল্প পরিচালনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনা কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে চান, তাঁদের জন্য এই দক্ষতা কার্যকর হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ শেষ করার ক্ষমতাও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। বহুমুখী ও ব্যবহারিক দক্ষতা: বর্তমান চাকরির বাজারে একাধিক বিষয়ে দক্ষ কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ছে। ভিডিও সম্পাদনা, থ্রিডি মডেলিং, ডেটা সায়েন্স কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে শুধু প্রশিক্ষণের শংসাপত্র থাকলেই চলবে না, অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করাও সহজ হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় এই ধরনের দক্ষতা কর্মীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। কর্মজীবনে পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নেতৃত্ব ও যোগাযোগের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে চাকরির নিরাপত্তা ও উন্নতি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপরেও নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একসঙ্গে সব ধরনের দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা না করে নিজের আগ্রহ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। নিয়মিত নতুন কিছু শেখা, বাস্তব প্রকল্পে কাজ করা এবং অর্জিত দক্ষতাকে আরও উন্নত করার মাধ্যমেই প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব।
প্রকৃত বন্ধু চেনার সহজ উপায়
সকাল সকাল ডেস্ক জীবনে বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে পাশে থাকা—বন্ধুত্বের সম্পর্ক মানুষের জীবনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যাঁদের আমরা কাছের বন্ধু বলে মনে করি, তাঁদের সকলেই যে আমাদের ভালো চান, এমনটা নয়। অনেক সময় বন্ধুত্বের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে ঈর্ষা, প্রতিযোগিতা কিংবা নেতিবাচক মনোভাব। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর জোশ এবং কয়েকজন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এমন কিছু আচরণের কথা তুলে ধরেছেন, যা বন্ধুত্বের সম্পর্কে অস্বস্তি বা দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে। কোনও বন্ধু যদি বারবার আপনার সাফল্যকে গুরুত্বহীন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, তবে তা ঈর্ষার লক্ষণ হতে পারে। প্রকৃত বন্ধু সাধারণত অন্যের অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেন। কিন্তু কেউ যদি প্রশংসার পরিবর্তে সব সময় সমালোচনা করেন কিংবা সাফল্যকে ছোট করে দেখান, তাহলে সেই সম্পর্ক নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যোগাযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক বজায় রাখতে যদি একজনকেই বারবার উদ্যোগী হতে হয় এবং অন্যজন কখনও নিজে থেকে খোঁজ না নেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেও যোগাযোগ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আরও একটি লক্ষণ হল আচরণে বৈষম্য। কোনও ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে হাসিখুশি ও আন্তরিকভাবে মিশলেও আপনার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে শীতল কিংবা উদাসীন আচরণ করলে তা সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে আপনার ভালো খবর শুনে আনন্দিত না হয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া কিংবা অন্যদের সামনে আপনার দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করাও সুস্থ বন্ধুত্বের পরিপন্থী। কারও মনে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে তিনি অনেক সময় সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেও খারাপ উদ্দেশ্য খুঁজতে পারেন। এর ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে এবং সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। শুধু সমাজমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ নয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শ্রদ্ধার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন কাউন্সেলররা। কাউন্সেলর ডোনা মরগানের মতে, বন্ধুত্বে পারস্পরিক প্রচেষ্টার অভাব একটি বড় সমস্যা। একজন ব্যক্তি যদি সব সময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, অথচ অন্যজন কোনও উদ্যোগ না নেন, তাহলে ধীরে ধীরে হতাশা ও অবমূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, কাউন্সেলিং ডিরেক্টরির সদস্য আবিগেইল হোলম্যানের মতে, বন্ধুত্বে একতরফা মানসিক নির্ভরতাও সমস্যার কারণ হতে পারে। কেউ যদি প্রতিনিয়ত নিজের সমস্যার কথা বলে যান, অথচ বন্ধুর পরামর্শ বা সহযোগিতাকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে সেই সম্পর্ক উভয়ের কাছেই মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় মতপার্থক্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। রাজনীতি কিংবা সামাজিক নানা বিষয়ে বন্ধুদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার অভাব দেখা দিলে সেই মতবিরোধ সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। তবে একটি বা দুটি আচরণের ভিত্তিতে কোনও বন্ধুকে শত্রুভাবাপন্ন বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, মানসিক চাপ কিংবা যোগাযোগের সমস্যাও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা জরুরি। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস, সম্মান, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। যে সম্পর্ক বারবার মানসিক অস্বস্তি, অপমান কিংবা অবমূল্যায়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেই সম্পর্কের সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ বন্ধুত্বের আসল পরিচয় শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো নয়, বরং একে অপরের ভালো-মন্দে আন্তরিকভাবে পাশে থাকা।
বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েছেন আউসবুর্কের রবিন ফেলহাওয়ার
সকাল সকাল ডেস্ক মিউনিখ : খেলা শুরুর ৮.৪ সেকেন্ডের মাথায় বায়ার্ন মিউনিখের জালে বল পাঠিয়ে বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েছেন আউসবুর্কের রবিন ফেলহাওয়ার। ঘরের মাঠে শনিবার বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলটি করেন ২৮ বছর বয়সি এই জার্মান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন নয়ার। কিক-অফ থেকে সতীর্থের পাস পেয়ে বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। ফেলহাওয়ারকে ছুটে আসতে দেখে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু বল লাগে ফেলহাওয়ারের গায়ে এবং বক্সে ঢুকে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন এই খেলোয়াড়। জার্মানির শীর্ষ লিগে দ্রুততম গোলের আগের রেকর্ড ছিল ৯ সেকেন্ডে, যৌথভাবে কেভিন ফলান্ড ও কারিম বেলার্বির। ২০১৪ সালে বায়ার লেভারকুজেনের হয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়েন বেলার্বি। পরের বছর বায়ার্নের বিপক্ষে হফেনহেইমের হয়ে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন ফলান্ড। আউসবুর্কের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ ড্র করতে পারে বায়ার্ন মিউনিখ।
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক হাসানের
সকাল সকাল ডেস্ক আবু ধাবি : টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনে পরপর তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে দেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার নজির গড়লেন তিনি। ২৬ বছর বয়সি ডানহাতি পেসারের দুরন্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪০ রানে শেষ হয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। ২১ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন হাসান। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করা বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড। রবিবার আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮৩তম ওভারে এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েন হাসান। প্রথমে তাঁর দুরন্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইসমাত আলম। পরের বলেই উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কায়েস আহমেদ। এরপর জিয়া-উর-রহমানের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন নাকচ করেন আম্পায়ার। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বলটি অফ স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে সিদ্ধান্ত বদল করেন আম্পায়ার। সেই সঙ্গে পূর্ণ হয় হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে দু’জন বোলার হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পেশোয়ারে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েন অলোক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজি। দু’জনেই ছিলেন স্পিনার। এবার প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেই তালিকায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। বড় রান তোলার লক্ষ্য থাকলেও বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। বিশেষ করে হাসানের নিখুঁত লাইন-লেংথ ও সুইংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন আফগান ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। এই সাফল্যের সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বিশ্বের বিশিষ্ট পেসারদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন হাসান। ওয়াসিম আক্রম, কোর্টনি ওয়ালশ, গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং জসপ্রীত বুমরাহর মতো তারকারাও অতীতে টেস্টে হ্যাটট্রিকের নজির গড়েছেন। ২০২৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া হাসান এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতার আরও একবার পরিচয় দিলেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন স্পিনারদের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের উত্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হাসানের এই সাফল্য সেই ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করল। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকই আবু ধাবি টেস্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে থাকল।
ভারত সিরিজের জন্য নিউ জিল্যান্ড ওডিআই দল ঘোষণা করেছে
সকাল সকাল ডেস্ক অকল্যান্ড : ভারতের সঙ্গে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য ফিন অ্যালেন, লকি ফার্গুসন এবং টিম সাইফার্টকে স্কোয়াডে ফিরিয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। সফরের শুরুতে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে কাঁধের চোটের কারণে বাদ পড়া রাচিন রবীন্দ্রও ওডিআই দলে ফিরছেন। ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে শুরু হতে যাওয়া এই পাঁচ ম্যাচের সিরিজের জন্য আলাদা দুটি স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউ জিল্যান্ড—প্রথম তিনটি ম্যাচের জন্য একটি এবং শেষ দুটি ম্যাচের জন্য অন্যটি। সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার উভয় স্কোয়াডকেই নেতৃত্ব দেবেন। ১-৩ ওডিআইয়ের জন্য নিউ জিল্যান্ড স্কোয়াড: মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জেকব ডাফি, ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, টম ল্যাথাম (উইকেটরক্ষক), ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, নাথান স্মিথ, উইল ইয়ং, ব্লেয়ার টিকনার। ৪ ও ৫ ওডিআইয়ের জন্য স্কোয়াড: মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জেকব ডাফি, ম্যাট ফিশার, লকি ফার্গুসন, মিচ হে (উইকেটরক্ষক), নিক কেলি, টিম সাইফার্ট (উইকেটরক্ষক), ব্লেয়ার টিকনার, উইল ইয়ং। কোচ ওয়াল্টার বলেছেন, ‘২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ মাত্র এক বছর দূরে থাকায় ওই টুর্নামেন্টের মূল্যবান প্রস্তুতি হিসেবে এই ম্যাচগুলোকে দেখা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ভিলারিয়ালের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখলেন ভিনিসিয়াস
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ : আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্লাব ফুটবলে ফিরেও বিতর্কে জড়ালেন ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রবিবার লা লিগায় ভিলারিয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের চুল টানার অভিযোগে লাল কার্ড দেখলেন তিনি। যদিও দশ জনে নেমে যাওয়ার পরও ১-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মধ্যেও ভিনিসিয়াসের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেই ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে কলকাতায় এসেছিলেন ভিনিসিয়াস। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু দল জিতলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ব্রাজিলীয় তারকা। কলকাতা থেকে সরাসরি মাদ্রিদে ফিরে ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। তবে রিয়ালের জার্সিতে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচও বিতর্কমুক্ত থাকল না। ভিলারিয়ালের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে ফেডেরিকো ভালভের্দের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্ডে। এরপর আক্রমণের গতি বাড়ায় মাদ্রিদের দলটি। ৭২ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে বোঝাপড়ায় বল জালে পাঠান পরিবর্ত হিসেবে নামা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে ভিলারিয়ালের এক ফুটবলারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্য নেন ম্যাচের রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ তৈরির সময় প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার ন্যাথন সালিবার চুল ধরে টেনেছিলেন ভিনিসিয়াস। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর ব্রাজিলীয় তারকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি সময় দশ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়াল মাদ্রিদকে। রেফারির সিদ্ধান্তে প্রথমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়াস। মাঠেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন সতীর্থরা। ঘটনার জেরে ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে যান রিয়াল কোচ হোসে মোরিনহো বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে সমাজমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান ভিনিসিয়াস। এই জয়ের পরও লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আট ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট। সমসংখ্যক ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। শনিবার গেটাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। আট ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তবে ভিনিসিয়াসের লাল কার্ডের ঘটনায় আগামী ম্যাচগুলিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা জারি হলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলীয় তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতে পারে রিয়ালকে।