সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও অসলোয় এক লক্ষ সমর্থকের ভালোবাসায় ভাসল নরওয়ে ফুটবল দল, আবেগাপ্লুত অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, কিন্তু মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরল নরওয়ে ফুটবল দল
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও নরওয়ে ফুটবল দল দেশে ফিরে পেল এক অবিস্মরণীয় সম্মান। রাজধানী অসলোর রাস্তায় প্রায় এক লক্ষ সমর্থক জড়ো হয়ে মার্টিন ওডেগার্ডদের বীরের মর্যাদায় বরণ করে নেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ায় গোটা দেশ গর্বিত। সেই কারণেই নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
বিমানবন্দর থেকেই শুরু রাজকীয় অভ্যর্থনা

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দলের বিমান অসলো বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই শুরু হয় বিশেষ সংবর্ধনা। ঐতিহ্য অনুযায়ী জলধারার বিশেষ সম্ভাষণের মাধ্যমে ফুটবলারদের স্বাগত জানানো হয়। এরপর ছাদখোলা বিশেষ বাসে করে শহরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নরওয়ে ফুটবল দল।
রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হন শুধুমাত্র একবার প্রিয় খেলোয়াড়দের চোখের সামনে দেখার জন্য।
রাজপ্রাসাদে রাজপরিবারের উষ্ণ অভ্যর্থনা
শোভাযাত্রার প্রথম গন্তব্য ছিল নরওয়ের রাজপ্রাসাদ। সেখানে ফুটবলারদের স্বাগত জানান রাজা হ্যারাল্ড। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও তাঁর সতীর্থদের উপস্থিতিতে রাজপ্রাসাদ চত্বর এবং আশপাশের এলাকা উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স হাকন। তিনি নিজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে শামিল হন। রাজপরিবারের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণ নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে দেশের মানুষের আবেগ আরও স্পষ্ট করে তোলে।
হালান্ড অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি
তবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি নরওয়ের তারকা ফুটবলার এরলিং হালান্ড। তাঁর সঙ্গে ছিলেন না সান্ডার বের্গেও।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁদের নির্ধারিত বিমান দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হওয়ায় পরবর্তী সংযোগকারী বিমান ধরতে তাঁরা আগেই অন্য একটি উড়োজাহাজে যাত্রা করেন। ফলে রাজপ্রাসাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সমর্থকদের ভিড়ে থমকে গেল বিজয়যাত্রা

রাজপ্রাসাদ থেকে সিটি হল চত্বর পর্যন্ত শোভাযাত্রার দূরত্ব খুব বেশি না হলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে বারবার থেমে যেতে হয় বাসটিকে। পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়।
এর পাশাপাশি আরেকটি সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়। ছাদখোলা বাসটির উচ্চতা বেশি হওয়ায় রাস্তার ওপর ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের নিচ দিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবলারদের বসে পড়তে বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় বিজয়যাত্রা।
এই ঘটনায় অনেকেরই মনে পড়ে যায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই বিতর্ক, যেখানে নরওয়ের কোচ অভিযোগ করেছিলেন গোল হওয়ার আগে বল উপরের তারে স্পর্শ করেছিল।
আবেগে ভেসে গেলেন অধিনায়ক ওডেগার্ড
সমর্থকদের ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তিনি বলেন, এমন সংবর্ধনার কথা দলের কেউ কল্পনাও করেননি।
তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, দেশে ফিরে মানুষ যেভাবে তাঁদের বরণ করে নিয়েছে, তা সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই ভালোবাসাই ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ওডেগার্ডের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও দেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে পেরেছে নরওয়ে ফুটবল দল।
নতুন স্বপ্নের পথে নরওয়ে
১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে নরওয়ে যে লড়াই দেখিয়েছে, তা দেশটির ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররা আগামী বছরগুলিতে আরও বড় সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছেন।
ট্রফি না জিতেও মানুষের ভালোবাসা, রাজপরিবারের সম্মান এবং এক লক্ষ সমর্থকের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, সাফল্যের মূল্য শুধু শিরোপায় নয়, লড়াইয়ের মানসিকতাতেও। সেই কারণেই নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আবেগ ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
No Comment! Be the first one.