সফল উৎক্ষেপণে আরও শক্তিশালী ভারতের প্রতিরক্ষা, ডিআরডিও-র অগ্নি-৪ পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে সমন্বিত পরীক্ষণ কেন্দ্র (আইটিআর) থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৪। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করে সর্বোচ্চ নির্ধারিত পাল্লা অতিক্রম করে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিরও প্রমাণ বহন করছে। ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নি-৪ একটি অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের পেলোড বহন করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি সড়কভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায়, ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নেভিগেশন ও গাইডেন্স প্রযুক্তির কারণে অগ্নি-৪ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উচ্চমানের নির্দেশন প্রযুক্তি এটিকে কঠিন পরিস্থিতিতেও কার্যকর করে তুলেছে। এর ফলে ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ডিআরডিও জানিয়েছে, অগ্নি-৪-কে পূর্বে অগ্নি-২ প্রাইম নামেও পরিচিত করা হতো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক নেভিগেশন ও নির্দেশন ব্যবস্থা দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতাকে আরও উন্নত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নি-৪ পরীক্ষার এই সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন নীতিরও বড় প্রমাণ। দেশীয় গবেষণা, নকশা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক মানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশে ভারতের সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফল উৎক্ষেপণ দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে এবং ভবিষ্যতে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশের পথকে আরও প্রশস্ত করবে। অগ্নি-৪-এর সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্বনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরানোয় ক্ষমা চাইল মেটা, অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে দুঃখপ্রকাশ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করল মেটা। বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে মেটার প্রতিনিধি দল এই ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট সরিয়ে দেওয়া একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট নিয়ে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য আমি মেটার পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছি।” বুধবার অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে জোয়েল কাপলান এবং মেটার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কিত ভিডিও অপসারণের ঘটনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বার্তায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেন্দ্র সরকার মেটার কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিনিধি দলকে তলব করে। ঘটনার পর মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওটি সরানো হয়নি। বুধবারের বৈঠকে সেই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করে মেটা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৬ দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ২৭৪ পলাতক অপরাধী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনা কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম জাতীয় অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে প্রত্যর্পণ বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও কার্যকরভাবে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, পলাতক অপরাধীদের শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে একটি সমন্বিত, গোয়েন্দা-নির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ফলে এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর ছিল। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত পলাতকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য পৃথক কোনও আইনও ছিল না। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ভারত গড়ে বছরে মাত্র চারজন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। একই সময়ে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত ১১০টি আবেদন বিভিন্ন দেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, বর্তমান সরকার পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও মন্ত্রক জানিয়েছে।
এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে সংসদের কৌশল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সংসদের চলতি অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সংসদীয় দলের সাপ্তাহিক বৈঠক ‘মঙ্গল মিলন’ অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলবার। সংসদ ভবনের গ্রন্থাগার ভবনের জিএমসি বালযোগী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ এনডিএ-র বিভিন্ন শরিক দলের সাংসদরা অংশ নেন। চলতি সংসদ অধিবেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সরকারের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মসূচি এবং জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিনের বৈঠকে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সারিতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসতে দেখা যায়, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বা কী কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এনডিএ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সংসদের চলমান ইস্যু, আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং জোটের সাংগঠনিক সমন্বয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নীতীশ কুমারের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ নীতীশ কুমার মঙ্গলবার সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে জেডিইউ-র কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং (লাল্লন সিং) উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং নীতীশ কুমার, উভয়েই সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে সাক্ষাতের বিষয়টি জানিয়েছেন। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিজের সমাজমাধ্যম বার্তায় নীতীশ কুমার জানান, তিনি সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও একইভাবে এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে উল্লেখ করেছে এবং বৈঠকের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। তবে বৈঠকে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, বিহারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা চলার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও উভয় পক্ষই এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই বর্ণনা করেছে।
কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে, ২০৩০-এ আহমেদাবাদে শতবর্ষের আসর
সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো : গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল। এর মধ্য দিয়েই ২০৩০ সালে গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। রবিবার রাতে গ্লাসগোর দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ভারতের প্রতিনিধি নীরজ চোপড়া, ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার সভাপতি পি টি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মশালও ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। ভারতের পরিবেশনা তিনটি পৃথক পর্বে সাজানো হয়। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের উপস্থিতিতে শতাধিক নৃত্যশিল্পী ভারতের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা করেন। একইসঙ্গে আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়, যেখানে আগামী গেমসের আয়োজক শহরের ঐতিহ্য, আধুনিক পরিকাঠামো ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐক্যের অনন্য নিদর্শন দেখা যায়। সেতারশিল্পী ঋষভ শর্মা এবং স্কটিশ সংগীতশিল্পী রস আইনসলির যুগলবন্দি দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন তাঁর দুই ছেলে সিদ্ধার্থ ও শিবমকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে পরিবেশন করেন বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন গুজরাটের জনপ্রিয় গায়িকা ভূমি ত্রিবেদীও। সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিউক অব এডিনবরার প্রিন্স এডওয়ার্ড। তিনি ক্রীড়াবিদ, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কমনওয়েলথ গেমস ঐক্য, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক অনন্য প্রতীক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষ উদযাপনের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। গ্লাসগোর সফল আয়োজনের পর এবার নজর আহমেদাবাদের দিকে। শতবর্ষের ঐতিহাসিক আসরকে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই আনুষ্ঠানিক পতাকা ও মশাল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে।
কেরলমে বৃষ্টি দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা
সকাল সকাল ডেস্ক তিরুবনন্তপুরম : টানা ভারী বৃষ্টিতে কেরলমে দুর্যোগজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজ্যের চারটি জেলায় এখনও লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণে কোট্টায়াম, আলাপ্পুঝা, ইদুক্কি-সহ একাধিক জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিজনিত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। কেরলমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মালাপ্পুরম জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে চালিয়ার নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও সংলগ্ন জলাশয়ে প্রবেশ না করার জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন উদ্ধারকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৫,৭৯২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ২০৯টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে ২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা নষ্ট হয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে মুঝিয়ার, কাল্লারকুট্টি, ইরাত্তায়ার, লোয়ার পেরিয়ার এবং পোরিঙ্গালকুথু বাঁধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জলাধারগুলির পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর না হলে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে না: রাহুল
সকাল সকাল ডেস্ক, চেন্নাই : তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করতে হলে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার মহাবলীপুরমে তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরের অতিথিশালায় আয়োজিত তামিলনাড়ু কংগ্রেসের জেলা সভাপতিদের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলা সভাপতি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠন সম্প্রসারণ, বুথস্তরে দলকে আরও শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক কৌশল এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধী বলেন, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকার অন্যতম কারণ দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে কাজ করার প্রবণতা সংগঠনের সামগ্রিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস তখনই শক্তিশালী হবে, যখন নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। জেলা সভাপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের এলাকায় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও দৃঢ় যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস কার্যকর হলে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাঁর মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্যগুলির অধিকার এবং মানুষের সাংবিধানিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্যগুলিকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বর্তমান পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের অবস্থান তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থকে দুর্বল করতে পারে। রাহুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশ্নেও কংগ্রেস আগামী দিনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
হিন্দু রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্রের পক্ষে নয় নেপাল সরকার, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, কাঠমান্ডু : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সরকার দেশে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয়। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু রাষ্ট্রের প্রশ্নটি রাজতন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পথে এগোনো দেশের স্বার্থে উপযুক্ত হবে না। শুক্রবার মধেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ফেডারেল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকে উপস্থিত জনতা সমাজবাদী পার্টির মহাসচিব রামকুমার শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনও পরিকল্পনা করছে না। তাঁর মতে, তরাই-মধেশ অঞ্চলে হিন্দু রাষ্ট্রের দাবির প্রেক্ষাপট যেমন একরকম, পাহাড়ি অঞ্চলে তার ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য ভিন্ন। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে, যা ফেডারেল কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। সেই কারণেই সরকার এ ধরনের কোনও পদক্ষেপের পক্ষে নয়। জাতীয় মুক্তি পার্টি নেপালের সভাপতি রাজেন্দ্র মহতো জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর দল ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সরকারের যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলিও দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অসাধু শক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অপচেষ্টা রুখতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তরাই-মধেশ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যদিকে, মধেশকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা বৈঠকে সুনসরি জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে হওয়া সমঝোতা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে একাধিক চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার যেন সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে এবং বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও সারের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানানো হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, রান্নার গ্যাস এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস আমদানির উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন রবি মরসুমে কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, দেশের কোনও কৃষক যেন সারের অভাবে সমস্যায় না পড়েন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা, পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের নাগরিক কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সৌরশক্তি-সহ নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি নির্দেশ দেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।