অভিষেকের পাশে থেকেও তৃণমূলে কোণঠাসা কল্যাণ? আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নতুন জল্পনা
কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন। তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে। মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
রেলের নতুন কড়া আইন : টিকিট ছাড়া যাত্রা থেকে ধূমপান, বাড়ল জরিমানা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ দিল্লী রেলযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় রেল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক সংশোধিত জরিমানা ও নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করলেও টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। স্টেশন বা ট্রেনে অনুমোদনহীন হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন আচরণের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের জন্য ৫০০ টাকা এবং রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যেখানে ন্যূনতম জরিমানা ১০ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রকের মতে, এই সংশোধিত আইন যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রেন ও স্টেশনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করে তুলবে।
অস্ট্রেলিয়ায় শুরু বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যানবেরা : বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে একটি অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম বৃহৎ পরিসরের এমন উদ্যোগ, যা বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মোরেটন বে অঞ্চলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের সূচনা হয়। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কম্পিউটার ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপাদান বিজ্ঞান এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জনসংখ্যার বিচারে তুলনামূলকভাবে ছোট দেশ হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ গবেষক, উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের পরিবেশের কারণে দেশটিকে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি সংস্থা সাইকোয়ান্টামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম একটি কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে অঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গবেষণার উপযোগী পরিবেশ থাকায় এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্পোন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। বর্তমানে যেসব জটিল গণনামূলক সমস্যা প্রচলিত সুপারকম্পিউটার দিয়েও সমাধান করা কঠিন, ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার সেগুলির অনেকগুলিই তুলনামূলকভাবে কম সময়ে সম্পন্ন করতে পারবে। প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানমন্ত্রী টিম আয়ারস। তিনি এই উদ্যোগকে দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে। টিম আয়ারস বলেন, এই প্রকল্প শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প সফল হলে তা শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
২৬ জুন পর্যন্ত বৃষ্টি-বজ্রপাতের পূর্বাভাস, গরম ও অস্বস্তিতে নাজেহাল ঝাড়খণ্ড
রাঁচি : ঝাড়খণ্ডজুড়ে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। রাজধানী রাঁচি-সহ অধিকাংশ জেলায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল মানুষ।
আগামী দিনে আমাদের সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
ময়ূরভঞ্জ: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার পাহাড়পুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। পাহাড়পুর গ্রাম পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাঁওতালি জহের ও হো জহের (পবিত্র উপাসনা স্থল), দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পাহাড়পুর স্কুলে প্রার্থনা ও পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন। ওড়িশা সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিকাশ রা ধারা, ওড়িশা সারা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ময়ূরভঞ্জ জেলারই রাইরংপুরে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।
পরিমল নাথওয়ানির জয়ে উচ্ছ্বসিত ঝাড়খণ্ড বিজেপি
রাঁচি: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির জয়ের পর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে ঝাড়খণ্ড বিজেপি। দলের নেতারা আগেই তাঁর জয়ের দাবি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
গ্যারেজ মালিক হত্যা মামলার রহস্যভেদ, গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত
খুঁটি। রানিয়ায় গ্যারেজ পরিচালনাকারী তোড়া ডিগরি গ্রামের বাসিন্দা রাধেশ্যাম সাহুর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ঋষভ গর্গ।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দুর্গাপুরে ঝাঁটা হাতে রাস্তায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
সকাল সকাল ডেস্ক দুর্গাপুর, ১৬ জুন : রাজ্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্বয়ং ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তাঁর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এদিন সকালের এই বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক এবং সাফাই কর্মীরা। ‘নির্মল বন্ধু’ ও ‘নির্মল সাথী’দের নিয়ে মন্ত্রী বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করেন এবং স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দোকান ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন। শহরবাসীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, জনবহুল এলাকা, রাস্তা বা বাসস্ট্যান্ডে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা কিংবা পানের পিক ফেলার প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই জরিমানার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করা হচ্ছে যাতে তাঁরা শহর পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করেন। মন্ত্রী আরও জানান, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি হেল্পলাইন নম্বরের উদ্বোধন করবেন। শহরবাসী ওই নম্বরে ফোন করে আবর্জনা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং সরকারি উদ্যোগে দ্রুত তার সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান ও মন্ত্রীর সরাসরি মাঠে নামার ঘটনা শহরবাসীকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে খাদে পড়ল বাস; মৃত ২১, আহত ২০-র বেশি
সকাল সকাল ডেস্ক উধমপুর : জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি বাস। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায় বাসটি। দুর্ঘটনায় ২১ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর জেলার রামনগর মহকুমায় এই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। সকাল ১০টা নাগাদ রামনগর এলাকার কাগোর্ট গ্রামের কাছে পাহাড়ি রাস্তায় বাঁক নেওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উধমপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) প্রেম সিং চিব বলেন, “আমাদের উধমপুর জেলার জন্য এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদ। বাসটি রামনগর থেকে উধমপুর যাচ্ছিল। এতে ছাত্র, কর্মচারী এবং অন্যান্যরা ছিলেন। এখনও পর্যন্ত আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন রামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং আমি এইমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের (সিএমও) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। একইভাবে, উধমপুরের জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলে (জিএমসি) ১৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে যদি কারও বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে তাকে অবিলম্বে স্থানান্তর করা হবে। এছাড়াও, বিভাগীয় প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন, যদি হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হয়, তবে তা অবিলম্বে পাঠানো হবে, যাতে আমরা আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করতে এবং তাদের জীবন বাঁচাতে পারি।” উধমপুর-রেয়াসি রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) শিব কুমার শর্মা বলেন, “আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করব। এই মুহূর্তে চিকিৎসা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, যাতে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাদের জীবন বাঁচানো যায়। চালক সম্ভবত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই বাসটি নিচে নেমে একটি অটোর সঙ্গে ধাক্কা খায়। অটোটিতে যাত্রীও ছিলেন। ঈশ্বরের কৃপায়, তারা বেঁচে গেছেন। মোট প্রায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।”
জনগণ জবাব দেবে, রায়দিঘিতে বিজেপি কর্মীর “হত্যা” প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ভোটের আগেই রহস্যজনক মৃত্যু এক বিজেপি কর্মীর। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৬ নম্বর বুথের মেনা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম কিশোর মাঝি। মেনা এলাকারই বাসিন্দা তিনি। ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। বিজেপির অভিযোগ, এটি খুনের ঘটনা, এর নেপথ্যে তৃণমূলের হাত রয়েছে। তাঁর “হত্যা” প্রসঙ্গে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল বলেন, এর জবাব ২৯ তারিখে পাবেন। ওরা (তৃণমূল) বলেছিল ‘খেলা হবে’ এবং ২ মে তা করেও দেখিয়েছিল; কিন্তু এবার খেলাটা খেলবে সাধারণ মানুষই। ৪ তারিখে জনগণই এর জবাব দেবে। আমি দেখতে চাই, ওরা তখন কোথায় পালাবে আর কোথায় লুকোবে। বিজেপি কর্মীদের মধ্যে যারা যারা নিহত হয়েছেন— ৪ তারিখে তার জবাব দিতেই হবে।