সকাল সকাল ডেস্ক
গ্লাসগো : গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল। এর মধ্য দিয়েই ২০৩০ সালে গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল।
রবিবার রাতে গ্লাসগোর দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ভারতের প্রতিনিধি নীরজ চোপড়া, ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার সভাপতি পি টি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মশালও ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। ভারতের পরিবেশনা তিনটি পৃথক পর্বে সাজানো হয়। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের উপস্থিতিতে শতাধিক নৃত্যশিল্পী ভারতের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা করেন। একইসঙ্গে আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়, যেখানে আগামী গেমসের আয়োজক শহরের ঐতিহ্য, আধুনিক পরিকাঠামো ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐক্যের অনন্য নিদর্শন দেখা যায়। সেতারশিল্পী ঋষভ শর্মা এবং স্কটিশ সংগীতশিল্পী রস আইনসলির যুগলবন্দি দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন তাঁর দুই ছেলে সিদ্ধার্থ ও শিবমকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে পরিবেশন করেন বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন গুজরাটের জনপ্রিয় গায়িকা ভূমি ত্রিবেদীও।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিউক অব এডিনবরার প্রিন্স এডওয়ার্ড। তিনি ক্রীড়াবিদ, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কমনওয়েলথ গেমস ঐক্য, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক অনন্য প্রতীক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষ উদযাপনের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
গ্লাসগোর সফল আয়োজনের পর এবার নজর আহমেদাবাদের দিকে। শতবর্ষের ঐতিহাসিক আসরকে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই আনুষ্ঠানিক পতাকা ও মশাল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে।
No Comment! Be the first one.