সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা : আট বছরের অপেক্ষার অবসান। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কলকাতা লিগের খেতাব ঘরে তুলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শনিবার বারাসতে মিনি ডার্বিতে ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও মহামেডানকে ৩-২ গোলে হারাল সবুজ-মেরুন। এই জয়ের সুবাদে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। কলকাতা লিগে এটি তাদের ৩১তম খেতাব।
সর্বভারতীয় টুর্নামেন্টে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর চলতি মরশুমে কলকাতা লিগকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিল মোহনবাগান। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয় সিনিয়র দলের একাধিক তারকাকে মাঠে নামানো থেকেই সেই লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছিল। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে আটকে যাওয়ায় খেতাবের লড়াই আরও জমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মহামেডানের বিরুদ্ধে জয়েই নিশ্চিত হল ট্রফি।
খেতাব নিশ্চিত করতে জয়ের প্রয়োজন ছিল মোহনবাগানের। সেই লক্ষ্যেই সাত সিনিয়র ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রাখেন কোচ বাস্তব রায়। রাহুল ভেকে, শুভাশিস বোস, সাহাল আব্দুল সামাদ, কিয়ান নাসিরি, মনবীর সিং, দীপক টাংরি ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে শুরু থেকেই মাঠে নামানো হয়।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে লালরেমসাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে মহামেডান। ফলে ১-১ অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ছবিটা বদলে যায়। ৬০ মিনিটে লালরেমসাঙ্গাকে বক্সের মধ্যে জার্সি ধরে ফেলে দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেন মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষ। একই সঙ্গে পেনাল্টি পায় মহামেডান। স্পটকিক থেকে গোল করে সাদা-কালো শিবিরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মহীতোষ।
একজন কম এবং এক গোলে পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি মোহনবাগান। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান সাহাল। এরপর ৭২ মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত। সাহালের পাস থেকে গোল করেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন।
সংখ্যায় একজন বেশি থাকার সুবিধা পেয়েও শেষদিকে মোহনবাগানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মহামেডান। শেষ বাঁশি পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখে জয় এবং কলকাতা লিগের খেতাব নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন।
অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মোহনবাগানের জয়ের কারণে সেই বড় ব্যবধানের জয়ও খেতাব এনে দিতে পারেনি লাল-হলুদকে। চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে তিন ম্যাচ থেকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে ইস্টবেঙ্গল।
সব মিলিয়ে সাহালের জোড়া গোল এবং সায়নের জয়সূচক গোলে নাটকীয় মিনি ডার্বি জিতে আট বছর পর ফের কলকাতা লিগের সিংহাসনে বসল মোহনবাগান।
No Comment! Be the first one.