এশিয়ান গেমসে টেবল টেনিসে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ক্রিকেটের পর এবার টেবল টেনিসের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। এশিয়ান গেমসের টেবল টেনিসের দলগত বিভাগের গ্রুপ বিন্যাসে একই গ্রুপে জায়গা পেয়েছে দুই দেশ। পুরুষ ও মহিলা—উভয় দলগত বিভাগেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থাকায় এই লড়াই ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের নানা ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের ক্রিকেটারদের করমর্দন না করার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছিল। তবে অন্যান্য খেলায় দুই দেশের খেলোয়াড়রা মুখোমুখি হলেও সব ক্ষেত্রে একই ছবি দেখা যায়নি। ফলে এশিয়ান গেমসে টেবল টেনিস ম্যাচের আগে সেই প্রসঙ্গও উঠে আসছে। প্রকাশিত গ্রুপ বিন্যাস অনুযায়ী, পুরুষদের দলগত বিভাগে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ইরান। মহিলা দলগত বিভাগেও ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। ফলে গ্রুপ পর্বেই দুই দেশের প্যাডলারদের লড়াই দেখা যাবে। তবে মাঠের বাইরের আলোচনা নিয়ে বিশেষ ভাবতে চাইছে না ভারতীয় শিবির। দলের কোচ সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁদের যাবতীয় মনোযোগ টেবল টেনিসেই। তাঁর কথায়, “করমর্দন করা হবে কি হবে না, সেসব নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা করছি না। আমাদের মাথায় শুধুই টেবল টেনিস। প্রতিপক্ষ যে দেশই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য জয় ছিনিয়ে নেওয়া। তবে করমর্দন করা হবে না বা করব না, এই ছবি টেবল টেনিসে বোধহয় সম্ভব হবে না। এই নিয়ে ভাবছি না, এটুকু বলতে পারি।” এবারের এশিয়ান গেমসে অন্তত তিনটি পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামছে ভারতীয় টেবল টেনিস দল। দলগত বিভাগে পদকের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কোচ সৌরভ। ব্যক্তিগত বিভাগে অবশ্য অনেক কিছুই ড্রয়ের উপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তিনি। ভারতীয় প্যাডলারদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে চিন, চিনা তাইপেই, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দল। বিশেষ করে পদকের লড়াইয়ে পৌঁছতে এশিয়ার এই শক্তিধর দেশগুলোর খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হতে পারে ভারতকে। সৌরভ বলেন, “পদক পেতে যে কোনও চ্যালেঞ্জ সামলানোর জন্য তৈরি থাকতে হয়। ভারতীয় প্যাডলাররা এখন নিয়মিত যে কোনও দেশকে টক্কর দিচ্ছে। চিনের প্যাডলাররাও আমাদের সমঝে চলে। তাই এটুকু বলতে পারি, আমরা তৈরি।” এদিকে জাপানের নাগোয়ায় পৌঁছে ইতিমধ্যেই অনুশীলন শুরু করেছে ভারতীয় টেবল টেনিস দল। তবে দলের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। প্যাডলারদের শহর থেকে দূরে একটি ক্রুজে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত স্কাই সিটি হলে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে অভিযোগ। মাঠের বাইরের যাবতীয় আলোচনা সরিয়ে এখন ভারতীয় শিবিরের লক্ষ্য ভালো পারফরম্যান্স এবং পদক। তার মধ্যেই গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এবারের টেবল টেনিস প্রতিযোগিতায় বাড়তি আগ্রহ যোগ করেছে।
১০ জনেও মহামেডানকে হারিয়ে আট বছর পর কলকাতা লিগ মোহনবাগানের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : আট বছরের অপেক্ষার অবসান। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কলকাতা লিগের খেতাব ঘরে তুলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শনিবার বারাসতে মিনি ডার্বিতে ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও মহামেডানকে ৩-২ গোলে হারাল সবুজ-মেরুন। এই জয়ের সুবাদে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। কলকাতা লিগে এটি তাদের ৩১তম খেতাব। সর্বভারতীয় টুর্নামেন্টে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর চলতি মরশুমে কলকাতা লিগকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিল মোহনবাগান। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয় সিনিয়র দলের একাধিক তারকাকে মাঠে নামানো থেকেই সেই লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছিল। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে আটকে যাওয়ায় খেতাবের লড়াই আরও জমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মহামেডানের বিরুদ্ধে জয়েই নিশ্চিত হল ট্রফি। খেতাব নিশ্চিত করতে জয়ের প্রয়োজন ছিল মোহনবাগানের। সেই লক্ষ্যেই সাত সিনিয়র ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রাখেন কোচ বাস্তব রায়। রাহুল ভেকে, শুভাশিস বোস, সাহাল আব্দুল সামাদ, কিয়ান নাসিরি, মনবীর সিং, দীপক টাংরি ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে শুরু থেকেই মাঠে নামানো হয়। ম্যাচের ২৬ মিনিটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে লালরেমসাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে মহামেডান। ফলে ১-১ অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ছবিটা বদলে যায়। ৬০ মিনিটে লালরেমসাঙ্গাকে বক্সের মধ্যে জার্সি ধরে ফেলে দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেন মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষ। একই সঙ্গে পেনাল্টি পায় মহামেডান। স্পটকিক থেকে গোল করে সাদা-কালো শিবিরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মহীতোষ। একজন কম এবং এক গোলে পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি মোহনবাগান। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান সাহাল। এরপর ৭২ মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত। সাহালের পাস থেকে গোল করেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। সংখ্যায় একজন বেশি থাকার সুবিধা পেয়েও শেষদিকে মোহনবাগানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মহামেডান। শেষ বাঁশি পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখে জয় এবং কলকাতা লিগের খেতাব নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন। অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মোহনবাগানের জয়ের কারণে সেই বড় ব্যবধানের জয়ও খেতাব এনে দিতে পারেনি লাল-হলুদকে। চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে তিন ম্যাচ থেকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে ইস্টবেঙ্গল। সব মিলিয়ে সাহালের জোড়া গোল এবং সায়নের জয়সূচক গোলে নাটকীয় মিনি ডার্বি জিতে আট বছর পর ফের কলকাতা লিগের সিংহাসনে বসল মোহনবাগান।
ইউনিয়ন বার্লিনকে বিধ্বস্ত করল বায়ার্ন, বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন কেইন
সকাল সকাল ডেস্ক মিউনিখ : শুক্রবার বায়ার্ন মিউনিখ ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে হ্যারি কেইন বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোল করা খেলোয়াড় হয়েছেন । কেইন মাত্র ৯৮টি ঘরোয়া ম্যাচে তাঁর ১০০তম ও ১০১তম গোল করে ১৯৭৭ সালে কোলনের ডিটার মুলারের গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ডটি ৩১ ম্যাচের ব্যবধানে ভেঙে দেন। জার্মানিতে থাকাকালীন কেইন নিয়মিতভাবে গোল করার রেকর্ড ভেঙেছেন এবং বর্তমানে বাভারিয়ান ক্লাবটির হয়ে ১৫৬ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ১৫৬। “বুন্দেসলিগায় ১০১টি গোল করতে পেরে আমি খুব গর্বিত,” কেইন স্কাই জার্মানিকে বলেছেন। এখানে অল্প কিছুদিন থাকার মধ্যেই আমি এর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। যখন আমি মাইকেল ওলিসে, লুইস দিয়াজ এবং জামাল মুসিয়ালা-এর মতো খেলোয়াড়দের সাথে খেলি, তখন আমি সুযোগ পাবই। “ম্যাচের চেয়ে বেশি গোল থাকা নিঃসন্দেহে একটি দারুণ পরিসংখ্যান,” তিনি আরও যোগ করেন। এই মরসুমের শেষে কেইনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, কিন্তু ইংলিশ অধিনায়ক ক্লাবে থাকার ইচ্ছার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, “আমি এখানে অত্যন্ত খুশি।” “আলোচনা চলছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও তা চলতে থাকবে। আমি যেভাবে খেলছি এবং যেভাবে ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি, তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।” ২০২৮ সালে মিউনিখ? হতেও পারে। তবে সেটা একটা বিশেষ মুহূর্ত হবে। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্ন বর্তমানে বুন্দেসলিগার শীর্ষে রয়েছে, তবে সপ্তাহান্তে ফ্রাইবুর্গ এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ড জিতলে তারা বায়ার্নকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাবার পথেই আর্যবীর, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক সেহওয়াগ-পুত্রের
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় ক্রিকেটে ‘সেহওয়াগ’ নামটির সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বীরেন্দ্র সেহওয়াগের বিধ্বংসী ব্যাটিং একসময় বিশ্বের তাবড় বোলারদের ঘুম কেড়েছিল। এবার সেই পরিবারের নতুন প্রজন্মও ধীরে ধীরে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করার পথে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অভিষেক হল বীরেন্দ্র সেহওয়াগের ছেলে আর্যবীর সেহওয়াগের। শুক্রবার রাজকোটে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন আর্যবীর। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমিয়ে ২০ ওভারের করা হয়। অভিষেকেই ওপেন করার দায়িত্ব পান সেহওয়াগ-পুত্র। ২৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করেন তিনি। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও প্রথম ম্যাচে দলকে কার্যকর শুরু এনে দেন তরুণ ওপেনার। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পাওয়ার আগেই অবশ্য বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নজর কেড়েছেন আর্যবীর। ২০২৪ সালের কুচবিহার ট্রফিতে দিল্লির হয়ে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন ২৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র তিন রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। ৩০৯ বলের সেই ইনিংসে ছিল ৫১টি চার এবং তিনটি ছক্কা। সেই ইনিংসই বড় রান করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল। এরপর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দরজা খুলে যায় আর্যবীরের সামনে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচটি তাঁর কাছে আরও বিশেষ হয়ে ওঠে বাবা বীরেন্দ্র সেহওয়াগ মাঠে উপস্থিত থাকায়। প্রথম ম্যাচেই অধিনায়ক লক্ষ্ম্য রাজেশ রাইচন্দানির সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন আর্যবীর। দুই ওপেনার প্রথম উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন। এরপর ২৬ বলে ২৮ রান করে ফিরে যান আর্যবীর। তাঁর ইনিংসে ছক্কা না থাকলেও পাঁচটি চার ছিল। পরবর্তী সময়ে যশবর্ধন চৌহানের ৫৪ রানের ইনিংস এবং অন্বয় দ্রাবিড়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে ভারত। ছয় নম্বরে নেমে মাত্র ১৮ বলে ৩৮ রান করেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয়। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১১.১১। ফলে একই ম্যাচের ভারতীয় স্কোরকার্ডে জায়গা করে নিলেন দেশের দুই প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারের ছেলে—বীরেন্দ্র সেহওয়াগের ছেলে আর্যবীর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয়। তবে দু’জনের ভূমিকা এবং ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল আলাদা। আর্যবীর ওপেনিংয়ে দলকে শুরু এনে দেন, অন্যদিকে অন্বয় শেষের দিকে দ্রুত রান তোলেন। স্বাভাবিকভাবেই আর্যবীরের নামের সঙ্গে বাবার তুলনা শুরু হয়েছে। বাবার মতো তিনিও ওপেনার এবং ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করেন। তবে কেরিয়ারের একেবারে শুরুর পর্যায়ে থাকা আর্যবীরের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা। ‘সেহওয়াগ’ পদবি তাঁকে বাড়তি পরিচিতি দিলেও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাঁর ক্রিকেটীয় পথ নির্ধারণ করবে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সাত রানে জয় পেয়েছে ভারত। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাজকোটেই দ্বিতীয় ম্যাচ হওয়ার কথা। অভিষেকে ২৮ রানের পর এবার সেই ম্যাচে আর্যবীরের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
হার্দিকের প্রত্যাবর্তনে তাড়াহুড়ো নয়, ম্যাচ ফিটনেস চান গম্ভীর
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চান না জাতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, জাতীয় দলে ফেরার আগে হার্দিককে নিজের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। পুরোপুরি ফিট হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ নেওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছলেই তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হবে। ততদিন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে নিয়ে এগোতে কোনও সমস্যা দেখছেন না ভারতীয় কোচ। আগামী অক্টোবরে ভারত ‘এ’-র হয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-র বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা হার্দিকের। গত আইপিএলের পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাঁকে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দিকের কয়েকটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর আগে তাঁর ফিটনেস কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা দেখে নিতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প মনে করছেন গম্ভীর। প্রথমে এশিয়ান গেমসের টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়েছিল নীতীশকে। পরে তাঁকে সেই দল থেকে সরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও বল হাতে নজর কেড়েছেন নীতীশ। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। গম্ভীর বলেন, “গেমসের টি-টোয়েন্টি দল থেকে নীতীশকে সরিয়ে দেওয়ায় ভালোই হয়েছে। ও এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলতে পারবে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তাই পেসার অলরাউন্ডারের যত বেশি বিকল্প আমাদের হাতে থাকবে, ততই ভালো।” হার্দিক ফিরে এলে নীতীশের সুযোগ কমে যাবে, এমনটাও মনে করছেন না ভারতীয় কোচ। পরিস্থিতি অনুযায়ী দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকেই একসঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গম্ভীরের কথায়, “হার্দিক ফিরে এলে আরও ভালো হবে। এমনও হতে পারে, আমরা নীতীশ ও হার্দিক দু’জনকেই খেলালাম।” তবে হার্দিককে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারতীয় শিবির। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ম্যাচের বাইরে থাকার পর সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে ফেরানো ঠিক হবে না বলেই মনে করছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, হার্দিক এই মুহূর্তে ওয়ানডে ক্রিকেটে পুরো ১০ ওভার বোলিং করার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। গম্ভীর বলেন, “হার্দিকের উপর আমরা এখনই চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। প্রথমত, আইপিএলের পর ও খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। এই মুহূর্তে ১০ ওভার বল করার জায়গাতেও নেই হার্দিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওর প্রত্যাবর্তন নিয়ে আমরা তাড়াহুড়ো করতে চাই না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ নেওয়া সহজ নয়।” ফলে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-র বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’-র ম্যাচগুলো হার্দিকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সেখানে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং করে নিজের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় দলের দরজা দ্রুত খুলে যেতে পারে। গম্ভীরও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ভারত ‘এ’-র হয়ে খেলতে গিয়ে কোনও সমস্যা না হলে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সেটআপে চলে আসবে হার্দিক।” এদিকে আগামী দেড় মাস ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যস্ত সূচি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ভারতীয় দল একই সময়ে খেলবে। পাশাপাশি ভারত ‘এ’-র দলগুলোর ম্যাচ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাও রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় এই ঠাসা সূচিকে আদর্শ পরিস্থিতি বলতে নারাজ গম্ভীর। একদিকে ভারতের প্রথম সারির টি-টোয়েন্টি দল এশিয়ান গেমসে খেলবে। তার আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধেও ম্যাচ রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলতে হবে ভারতকে। ফলে সেখানে তুলনামূলকভাবে নতুন মুখদের নিয়ে দল গড়তে হয়েছে নির্বাচকদের। তবে এটিকে তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, একাধিক দল একসঙ্গে খেলায় আকিব নবি, নমন ধীরদের মতো ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিকল্প ক্রিকেটারের সংখ্যাও বাড়বে। আর হার্দিকের ক্ষেত্রে আপাতত একটাই বার্তা—জাতীয় দলে ফেরার দরজা খোলা রয়েছে, কিন্তু তার আগে ভারত ‘এ’-র জার্সিতে নিজের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে।
দুই গোলে এগিয়েও ব্রাইটনের কাছে হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের
সকাল সকাল ডেস্ক ম্যানচেস্টার : দুঃসময় যেন কাটছেই না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। প্রিমিয়ার লিগ ডার্বিতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ক্যারাবাও কাপে জয়ের সরণিতে ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রাইটনের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও ৩-২ ব্যবধানে হারল ‘রেড ডেভিলস’। সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকেও বিদায় নিল তারা। এই হার ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকের উপর চাপ আরও বাড়াল। অথচ ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ইউনাইটেড। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই দু’গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৮ মিনিটে গোল করে সিনিয়র দলের প্রথম একাদশে অভিষেক স্মরণীয় করে রাখেন ইউনাইটেড অ্যাকাডেমির ১৯ বছরের শিয়া ল্যাসি। বক্সের মধ্যে ব্রাইটনের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তরুণ ফুটবলার। মাত্র দু’মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যাসন মাউন্ট। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে মার্কাস রাশফোর্ডের নেওয়া শট ব্রাইটন গোলরক্ষক আটকে দিলেও ফিরতি বল জালে পাঠান মাউন্ট। ১০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ায় বড় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সমর্থকরা। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩০ মিনিটের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেয় ব্রাইটন। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে ব্যবধান কমান শারালাম্পোস কস্টৌলাস। জাউয়েন হাদজামের লম্বা পাস ধরে ইউনাইটেডের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাইটন। ৬৫ মিনিটে পাস্কাল গ্রস গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান। বক্সের মধ্যে সুযোগ পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান জার্মান মিডফিল্ডার। সমতায় ফেরার মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই আসে ব্রাইটনের জয়সূচক গোল। ৭০ মিনিটে দ্রুত প্রতি-আক্রমণ থেকে কস্টৌলাসের কাটব্যাক কাজে লাগিয়ে গোল করেন ম্যাক্সিম ডি কুয়েপার। মুহূর্তের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইউনাইটেড পিছিয়ে পড়ে ২-৩ গোলে। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি রেড ডেভিলস। ফলে ঘরের মাঠেই ক্যারাবাও কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। একই সঙ্গে ফিরে আসে পুরনো এক অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। ১৯৭৬ সালের পর এই প্রথম ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও কোনও ম্যাচ হারল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। টানা ব্যর্থতার পর এবার প্রিমিয়ার লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা ইউনাইটেডের। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে মাইকেল ক্যারিকের দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভারতের দলে আকিব নবি ও নমন ধির
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই : শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতের টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পেয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও এবার তাঁর সামনে খুলল একদিনের ক্রিকেটের দরজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আসন্ন সিরিজের জন্য প্রথমবার ভারতের ওয়ান ডে স্কোয়াডে ডাক পেলেন আকিব। তাঁর সঙ্গে প্রথমবার জাতীয় ওয়ান ডে দলে জায়গা পেয়েছেন পঞ্জাবের নমন ধিরও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিনটি ওয়ান ডে এবং পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে ভারত। সিরিজ শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। ওয়ান ডে দলের নেতৃত্বে থাকছেন শুভমন গিল। একই সময়ে জাপানে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়স আইয়ার। ফলে গিলের ডেপুটি হিসেবে কেএল রাহুলকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের কথা মাথায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে জসপ্রীত বুমরাকে। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পথে থাকলেও হার্দিক পান্ডিয়াকে এখনই জাতীয় দলে ফেরানোর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাঁকে। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে ওয়ান ডে দলে সিম বোলিং অলরাউন্ডারের বিকল্প বাড়াতে নীতীশ রেড্ডিকে রাখা হয়েছে। সেই কারণে তাঁকে এশিয়ান গেমসের দল থেকে সরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজারও। অক্ষর প্যাটেল এশিয়ান গেমসে ব্যস্ত থাকবেন এবং তরুণ হর্ষ দুবে চোটের কবলে থাকায় ফের ওয়ান ডে পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছেন জাদেজা। নতুন মুখ নমন ধিরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে নির্বাচকদের। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বিজয় হাজারে ট্রফিতে পঞ্জাবের হয়ে ১৪ ম্যাচে চারটি অর্ধশতরান-সহ ৩৫৭ রান করেছেন তিনি। পার্টটাইম অফস্পিনে নিয়েছেন সাতটি উইকেট। অন্যদিকে লাল বলের ক্রিকেটে নজর কাড়ার পর এবার সাদা বলের জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন আকিব নবি। জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে ৩৬টি লিস্ট-এ ম্যাচে ৫.২০ ইকনমি রেটে তাঁর সংগ্রহ ৫৬ উইকেট। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দুই নতুন মুখের অভিষেকের সুযোগ আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। ভারতের ওয়ান ডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), ধ্রুব জুরেল, নীতীশ রেড্ডি, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, গুরনুর ব্রার, মহম্মদ সিরাজ, আকিব নবি, যশস্বী জয়সওয়াল ও নমন ধির। ভারতের টি–২০ দল: শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষান (উইকেটরক্ষক), সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), শিবম দুবে, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবি বিষ্ণোই, নীতীশ রেড্ডি, অর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব ও ময়াঙ্ক যাদব।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট ৩,৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ফুটবল জ্বরে কাঁপতে চলেছে কলকাতা। ফুটবলের মক্কায় প্রথমবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। তার তিন দিন পর একই শহরে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ‘ব্লু টাইগার্স’। দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটের। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের সামনে থেকে দেখতে অবশ্য দর্শকদের বেশ ভালো অঙ্কের টাকা খরচ করতে হবে। ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ৩,৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, মাঠের দুই প্রান্তে গোলপোস্টের পিছনের গ্যালারিতে মোট ১৪ হাজার টিকিট রয়েছে। এই টিকিটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংশে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ৬ হাজার টাকা মূল্যের এই টিকিটে প্রায় ১০ শতাংশ ছাড় মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে ৫,৪০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যাবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার সুবিধা মূলত ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য। আইএফএ-র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট টিকিট বণ্টন করা হবে। তিন প্রধান—ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি প্রাক্তন ফুটবলার এবং আইএফএ অনুমোদিত ফুটবল কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট ছাড়ে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন, টিকিট নিয়ে যাতে ফুটবলমহলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি তিন প্রধান এবং আইএফএ-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। টিকিট বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএফএ-কে। ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট বিক্রিতে ভালো সাড়া মিলেছে বলেও জানিয়েছেন কল্যাণ চৌবে। যদিও এখনও পর্যন্ত ঠিক কতগুলি টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দিতে পারেননি। একই সঙ্গে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচের টিকিট কবে থেকে পাওয়া যাবে, সেই বিষয়েও এখনও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এদিকে চলতি মাসের শেষেই কলকাতায় পৌঁছনোর কথা ব্রাজিল দলের। প্রায় ৯০ সদস্যের দল নিয়ে শহরে আসার কথা তাদের। বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ আয়োজনে তাই কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ফেডারেশন। ম্যাচের পরিকাঠামো নিয়েও প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে অক্টোবরের শুরুতে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের দুই ম্যাচ ঘিরে কলকাতায় এখন থেকেই ফুটবল উৎসবের আবহ।
এশিয়াডে ভারতের পতাকাবাহক মনু ভাকের ও তাজিন্দরপাল সিং তুর
সকাল সকাল ডেস্ক আইচি-নাগোয়া : গত এশিয়ান গেমসে ১০৭টি পদক জিতে সর্বকালীন সেরা ফল করেছিল ভারত। সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হাজির ভারতীয় দল। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমস। তার আগেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবাহক হিসেবে মনু ভাকের ও তাজিন্দরপাল সিং তুরের নাম সামনে এল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় পতাকা বহন করবেন অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী শুটার মনু ভাকের এবং পরপর দুই এশিয়ান গেমসে শটপুটে সোনাজয়ী তাজিন্দরপাল সিং তুর। শুক্রবার দুই তারকার নাম নিশ্চিত করা হয়। ভারতের ‘শেফ দ্য মিশন’ সহদেব যাদব মনুর নাম নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে তাজিন্দরের নাম জানায় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। প্যারিস অলিম্পিক্সে ইতিহাস গড়েছিলেন মনু। মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং মিক্সড টিম ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে একই অলিম্পিক্সে দুটি পদকজয়ী প্রথম স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় অ্যাথলিট হয়েছিলেন তিনি। এবার এশিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা বহনের সম্মান তাঁর মুকুটে যোগ করল নতুন পালক। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসে তাজিন্দরপাল সিং তুরের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়াডে পুরুষদের শটপুটে সোনা জেতার পর হ্যাংঝৌতেও খেতাব ধরে রেখেছিলেন তিনি। ফলে জাপানের মাটিতে টানা তৃতীয় সোনার লক্ষ্যে নামবেন ভারতের এই তারকা শটপুটার। এবারের এশিয়ান গেমসে ভারতের দলে রয়েছেন ৪৯২ জন অ্যাথলিট। এত বড় দলের মধ্যে থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকাবাহক নির্বাচিত হওয়া মনু ও তাজিন্দরের কাছে বিশেষ সম্মানের। এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই কয়েকটি খেলায় ভারতের অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে। খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে দুরন্ত শুরু করেছে মহিলা ক্রিকেট দল। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। মহিলাদের টেকবলেও ঐতিহাসিক পদকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছেন কুইমসি জোয়াকিম ডি’সুজা। গতবারের ১০৭ পদকের রেকর্ড সামনে রেখে এবার আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য ভারতের। শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনু ও তাজিন্দরের হাতে তেরঙ্গা দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আইচি-নাগোয়ায় ভারতের নতুন এশিয়াড অভিযান।
৩০ বলে সেঞ্চুরি, ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন অভিষেক শর্মা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে শতরান করে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-২০ সেঞ্চুরির নজির গড়লেন বাঁ-হাতি ওপেনার। ভেঙে দিলেন রোহিত শর্মার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন রোহিত। সেই রেকর্ড পাঁচ বল কম খেলেই টপকে গেলেন অভিষেক। শতরানে পৌঁছনোর সময় তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১০টি ছক্কা। তখন মাত্র ৮.৩ ওভারে ভারতের স্কোর বিনা উইকেটে ১৩২ রান। টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে থাকেন অভিষেক। ফজলহক ফারুকি, আজমতুল্লাহ ওমরজাই থেকে রশিদ খান—কাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। পাওয়ার-প্লেতেই মাত্র ২২ বলে ৭৬ রান তুলে ফেলেন অভিষেক। ফারুকির এক ওভার থেকে আসে ২৩ রান। রশিদের বিরুদ্ধেও একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। অন্য প্রান্ত থেকে সঞ্জু স্যামসনও পরে আক্রমণে যোগ দেওয়ায় আফগান বোলারদের ওপর চাপ আরও বাড়ে। নবম ওভারে মুজিব উর রহমানকে আক্রমণ করে মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। সেঞ্চুরির পর হাঁটু মুড়ে ধ্যানের ভঙ্গিতে তাঁর উদ্যাপন নজর কাড়ে। ফুটবল তারকা এরলিং হাল্যান্ডের পরিচিত উদ্যাপনের সঙ্গে যার মিল রয়েছে। অবশ্য শতরানের পর ইনিংস খুব বেশি দীর্ঘ করতে পারেননি তিনি। দশম ওভারে রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসের সুবাদে একাধিক নজির গড়েছেন অভিষেক। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৩৭ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ৪০ বলের কমে একাধিক শতরানের বিরল কীর্তিও তাঁর নামের পাশে যুক্ত হল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু সিরিজের শুরু থেকেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ৩২ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত ৩৯ রান করেন। আর শেষ ম্যাচে এল রেকর্ড গড়া শতরান। দিল্লির এই ইনিংসে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে স্পিনারদের বিরুদ্ধে অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিং। রশিদ, মুজিবদের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। মাত্র ৩০ বলে শতরান করে ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম নতুন করে লিখে দিলেন অভিষেক শর্মা।