জাপানকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ভারত
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখার অভিযানে দুরন্ত ছন্দে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক জাপানকে কার্যত একতরফা ম্যাচে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ভারত। শুক্রবার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বল হাতে শ্রী চরণির ঘূর্ণি এবং ব্যাটে শেফালি বর্মার বিধ্বংসী ইনিংসে মাত্র ৫ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় হরমনপ্রীত কৌরের দল। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জাপান। শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি আয়োজকরা। মাই ইয়ানাগিদা ও হারুনা ইওয়াসাকি সতর্ক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান যোগ করেন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের ছবিটা পুরোপুরি বদলে দেন শ্রী চরণি। বাঁ-হাতি স্পিনে জাপানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান চরণি। প্রথম ওভারে ৯ রান খরচ করলেও পরের তিন ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে তুলে নেন চারটি উইকেট। তাঁর স্পিনের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জাপান। আয়ুকা কাটো-স্টাফোর্ড ৪৭ বলে ২৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেফালি বর্মার বলে তিনি ফিরতেই জাপানের লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। চরণি ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। শেফালিও বল হাতে সফল। ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে তাঁর সংগ্রহ ২ উইকেট। চোট কাটিয়ে ফেরা শ্রেয়াঙ্কা পাটিল ৩ ওভারে দেন মাত্র ৭ রান। ভারতীয় বোলারদের দাপটে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জাপান। ৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন শেফালি। প্রথম ওভারেই অহল্যা চান্ডেলকে চারটি বাউন্ডারি মেরে ভারতের স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৭ রান। যদিও দ্বিতীয় ওভারে খাতা না খুলেই ফেরেন গুনালান কমলিনী। তিন নম্বরে নামা ভারতী ফুলমালিও ৭ বলে ৬ রান করে আউট হন। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও ভারতের রান তোলার গতি থামেনি। এক প্রান্তে জাপানি বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যান শেফালি। তাঁকে সঙ্গ দেন রিচা ঘোষ। মাত্র ৫ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিচা। শেফালি অপরাজিত থাকেন মাত্র ১৫ বলে ৪০ রানে। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কা হাঁকিয়েই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবার সামনে বাংলাদেশ। ২০ সেপ্টেম্বর সেই ম্যাচ জিতলেই ফের সোনার পদকের লড়াইয়ে ফাইনালে নামার সুযোগ পাবে ভারত।
সিঙ্কফিল্ড কাপে যুগ্ম শীর্ষে প্রজ্ঞানন্দ, টানা দ্বিতীয়বার জিসিটি ফাইনালে ভারতীয় তারকা
সকাল সকাল ডেস্ক দাবার বিশ্বমঞ্চে দুরন্ত ছন্দ অব্যাহত রাখলেন ভারতের আর প্রজ্ঞানন্দ। সিঙ্কফিল্ড কাপের নয় রাউন্ড শেষে যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করলেন ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার নবম তথা শেষ রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের গ্র্যান্ডমাস্টার অনিশ গিরির মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। সেই ম্যাচ ড্র হয়। ফলে নয় রাউন্ড শেষে প্রজ্ঞানন্দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫.৫ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে আমেরিকার ওয়েসলি সো-ও যুগ্মভাবে শীর্ষে শেষ করেন। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য এরপর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম দুটি র্যাপিড প্লে-অফ ম্যাচ ড্র হওয়ার পর লড়াই পৌঁছে যায় আরমাগেডনে। সেখানে শেষ হাসি হাসেন ওয়েসলি সো। প্রজ্ঞানন্দকে পিছনে ফেলে সিঙ্কফিল্ড কাপের খেতাব জিতে নেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাঁর ঝুলিতে যায় ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কারমূল্য। টাইব্রেকারে খেতাব হাতছাড়া হলেও গোটা প্রতিযোগিতায় প্রজ্ঞানন্দের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। এই ফলের সুবাদে টানা দ্বিতীয়বার গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় তারকা। চলতি মরসুমে একের পর এক বড় মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। নরওয়ে চেস এবং সেন্ট লুইস র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজে সাফল্যের পর সিঙ্কফিল্ড কাপেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। এই প্রতিযোগিতায় জাভোখির সিন্দারভ এবং ফরাসি গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাক্সিম ভ্যাচিয়ের-ল্যাগরেভের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর একমাত্র পরাজয় এসেছে জার্মানির ভিনসেন্ট কেইমারের বিরুদ্ধে। ক্লাসিক্যাল থেকে র্যাপিড—বিভিন্ন ধরনের দাবায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব দাবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রজ্ঞানন্দের পাশাপাশি গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ফাবিয়ানো কারুয়ানা, ওয়েসলি সো এবং ভিনসেন্ট কেইমার। অন্যদিকে জাভোখির সিন্দারভের সামনে শেষ রাউন্ডে বড় সুযোগ ছিল। জিসিটি ফাইনালে পৌঁছতে সিঙ্কফিল্ড কাপে প্রথম দু’জনের মধ্যে থাকা প্রয়োজন ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ওয়েসলি সো-র বিরুদ্ধে জয় না পাওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। আগামী শনিবার থেকে মরসুমের সেরা চার দাবাড়ুকে নিয়ে শুরু হবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনাল। এবার প্রজ্ঞানন্দের সামনে আরও বড় লক্ষ্য। গতবারের ফলকে ছাপিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সামগ্রিক গ্র্যান্ড চেস ট্যুর খেতাব জয়ের সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। সিঙ্কফিল্ড কাপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর তাই ভারতীয় দাবাপ্রেমীদের নজর এখন জিসিটি ফাইনালে। চৌষট্টি খোপের লড়াইয়ে প্রজ্ঞানন্দ নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।
১৮ বছরের অচেনা মার্কিন তরুণের কাছে হার লক্ষ্য সেনের, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এগোলেন সিন্ধু-আয়ুষ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বড় অঘটন। মাত্র ১৮ বছরের মার্কিন তরুণ গ্যারেট ট্যানের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিলেন ভারতের লক্ষ্য সেন। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে তিন গেমের লড়াইয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা লক্ষ্যকে হারিয়ে চমকে দেন তুলনামূলক অপরিচিত মার্কিন শাটলার। লক্ষ্যের হতাশার দিনে অবশ্য ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দিয়েছেন পিভি সিন্ধু ও আয়ুষ শেট্টি। বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের বড় মঞ্চে এখনও কার্যত নবাগত গ্যারেট। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট টুর্নামেন্ট খেলেই অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট অনুশীলন শিবির বা স্থায়ী কোচ ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন। উন্নত মানের স্পারিংয়ের জন্য তাইওয়ানে দাদু-দিদার কাছে গিয়ে অনুশীলনও করেন। সেই তরুণই এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে হারিয়ে দিলেন লক্ষ্যকে। তিন গেমের লড়াইয়ে ২১-১৯, ১৯-২১, ২১-১৭ ব্যবধানে জয় পান গ্যারেট। ম্যাচে লক্ষ্যের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বারবার চোখে পড়েছে। মার্কিন শাটলারের আগ্রাসী আক্রমণের সামনে একাধিকবার শর্ট লিফট খেলে নিজেই চাপে পড়ে যান ভারতীয় তারকা। প্রথম গেম হারলেও দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে ফিরেছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু নির্ণায়ক গেমের শুরুতেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। একসময় স্কোর ছিল ৪-১২। সেখান থেকে ১০-১৩ পর্যন্ত ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি। লক্ষ্যের পারফরম্যান্সে হতাশ তাঁর কোচ বিমল কুমার। তাঁর মতে, এমন পারফরম্যান্সের কোনও অজুহাত হতে পারে না। ম্যাচ শেষে লক্ষ্যও স্বীকার করেন, প্রায় গোটা ম্যাচেই পিছিয়ে থাকায় তাঁর উপর চাপ বেড়েছিল। পাশাপাশি গ্যারেটের আক্রমণাত্মক খেলারও প্রশংসা করেন তিনি। লক্ষ্যের ব্যাকলাইনের দুর্বলতাকে পরিকল্পনা করেই কাজে লাগিয়েছেন গ্যারেট। মার্কিন শাটলারের কোচ পলা লিন জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে লক্ষ্যর এই দুর্বলতা তাঁদের নজরে পড়েছিল এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, লক্ষ্য বিদায় নিলেও মহিলাদের সিঙ্গলসে সহজ জয় পেয়েছেন পিভি সিন্ধু। কানাডার ওয়েন ইউ ঝাংকে ২১-১৬, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছেছেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় তারকা। তবে এবার সিন্ধুর সামনে কঠিন পরীক্ষা। তাঁর প্রতিপক্ষ চিনের ওয়াং ঝি ই, যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন। দু’জনের মুখোমুখি লড়াইয়ে চিনা শাটলার ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে চিনা প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সিন্ধুর অতীত রেকর্ড যথেষ্ট উজ্জ্বল। ম্যাচের আগে নিজের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলার উপরই জোর দিচ্ছেন সিন্ধু। মহিলাদের সিঙ্গলসে অবশ্য বিদায় নিয়েছেন ভারতের উন্নতি হুডা। মিশেল লি-র বিরুদ্ধে তিন গেমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১১-২১, ২১-৯, ২৩-২১ ব্যবধানে হারেন তিনি। ফলে এই বিভাগে ভারতের প্রধান ভরসা এখন সিন্ধু। পুরুষদের সিঙ্গলসে দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখেছেন আয়ুষ শেট্টি। প্রথম রাউন্ডে চিনের শীর্ষবাছাই শি ইউকিকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিলেন তিনি। এবার শ্রীলঙ্কার দুমিন্দু আবেবিক্রমকে মাত্র ২৬ মিনিটে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তরুণ। পরের রাউন্ডে আয়ুষের সামনে ইন্দোনেশিয়ার একাদশ বাছাই আলভি ফারহান। দুই শাটলারের মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল বর্তমানে ২-২। শেষবার চায়না ওপেন সুপার ১০০০ প্রতিযোগিতায় আলভিকে হারিয়েছিলেন আয়ুষ। ফলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী কঠিন পরীক্ষায় নামবেন তিনি। একদিকে লক্ষ্য সেনের অপ্রত্যাশিত বিদায়, অন্যদিকে সিন্ধু ও আয়ুষের দাপুটে জয়—বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় শিবিরের জন্য বুধবারের দিনটি তাই মিশ্র অভিজ্ঞতার হয়ে রইল।
২৪ বছর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের স্মৃতি, ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানে উড়িয়ে ভারতের অভিনব উদযাপন
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: দীর্ঘ ২৪ বছর পর ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে ফিরে এল ২০০২ সালের স্মৃতি। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত শার্ট ওড়ানোর উদযাপনের আদলে এবার উচ্ছ্বাসে মাতল ভারতের মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দল। বুধবার সাত ম্যাচের টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর ব্যালকনিতে ব্লেজার খুলে তেরঙ্গা হাতে উদযাপন করেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সাত ম্যাচের সিরিজ অবশ্য ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে শেষ ম্যাচে ভারতের দাপুটে জয় এবং তার পরের উদযাপন আলাদা মাত্রা যোগ করেছে গোটা সফরে। ম্যাচ জয়ের পরই লর্ডসের ব্যালকনিতে ছুটে যান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কেউ গায়ের ব্লেজার খুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, কেউ হাতে তুলে নেন জাতীয় পতাকা। ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনালের পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উদযাপনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে সেই দৃশ্য। ডিফারেন্টলি এবেলড ক্রিকেট কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই উদযাপনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। দ্রুত তা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়ে নেয়। মাঠের লড়াইয়েও ভারতের আধিপত্য ছিল একতরফা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান তোলে ভারত। চলতি সিরিজে এটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ স্কোর। ৪৪ বলে ৬৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অর্জুন গাওরে। তবে ইনিংসের শেষ দিকে কার্যত ঝড় তোলেন অধিনায়ক মজিদ মাগ্রে। মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন তিনি। সাই আকাশও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের সামনে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় আয়োজকরা। ফলে ১১৮ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। বল হাতে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক হিলাল আহমেদ ওয়ানি। মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। জয়েশ পারমার ১৪ রান খরচ করে তুলে নেন ৩ উইকেট। সাত ম্যাচের সিরিজে অবশ্য লড়াই ছিল জমজমাট। প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর পরপর দুটি ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৮ রানে জিতে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। কিন্তু চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচ টানা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে লর্ডসে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করে ভারত। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ক্যালাম ফ্লিনও শেষ ম্যাচে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, লর্ডসে ভারত তাঁদের তুলনায় অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে। তবে সামগ্রিকভাবে সিরিজ জিততে পেরে তাঁরা খুশি। ভবিষ্যতে লর্ডসের মাঠে জয় পাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি। মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেটে শারীরিক, শ্রবণ বা শিখনগত প্রতিবন্ধকতা থাকা ক্রিকেটাররা একই দলের হয়ে মাঠে নামেন। ভিন্ন সক্ষমতার খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয় এই বিশেষ ফর্ম্যাট। সিরিজের ট্রফি ইংল্যান্ডের হাতে উঠলেও সফরের শেষ ছবিটা তাই ভারতের। ১১৮ রানের বিশাল জয়, লর্ডসের ব্যালকনিতে তেরঙ্গা এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ২০০২ সালের ঐতিহাসিক উদযাপনের স্মৃতি—সব মিলিয়ে ভারতীয় মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।
বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল মেসির, আকাশের দিকে আঙুল তুলে নীরব উদ্যাপন
সকাল সকাল ডেস্ক শোক কাটিয়ে ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরছেন লিওনেল মেসি। বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার এমএলএসে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ইন্টার মায়ামির ২-২ ড্র ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। গত ৮ অগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘ সময় ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে আর্জেন্টিনায় ফিরে গিয়েছিলেন মেসি। পরে দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি। অবশেষে ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে সুবারু পার্কে গোলের খরা কাটালেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মেসি। ২১ মিনিটে তাঁর তৈরি করা আক্রমণ থেকেই মায়ামি গোলের সুযোগ পায়। মেসির মাপা বল লুইস সুয়ারেজের কাছে পৌঁছয়। সেখান থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ড্যানিয়েল পিন্টার। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই আসে মেসির গোল। বক্সের ভিতর প্রায় ১২ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন তিনি। সেই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। তবে গোলের পর মেসির উদ্যাপন ছিল সংযত। সতীর্থদের সঙ্গে সামান্য আলিঙ্গনের পর আকাশের দিকে আঙুল তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। বাবার মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া এই গোলের পর তাঁর নীরব উদ্যাপন স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে। চলতি এমএলএস মরসুমে এটি মেসির ১৩তম গোল। ১৭ ম্যাচে এই গোলসংখ্যার পাশাপাশি তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৯টি অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। শীর্ষে থাকা এফসি ডালাসের পেটার মুসার থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে মেসি। যদিও মেসির গোলেও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফিলাডেলফিয়া। ইন্ডিয়ানা ভ্যাসিলেভের দুরন্ত ভলিতে ব্যবধান কমে। এরপর ১৮ বছরের ডিফেন্ডার নিল পিয়েরের হেডে সমতা ফেরায় ফিলাডেলফিয়া। মিলান ইলোস্কির পা থেকে আরও একটি গোল এসেছিল ফিলাডেলফিয়ার। তবে ভিডিয়ো সহকারী রেফারির সাহায্যে সেটি বাতিল করা হয়। আক্রমণ তৈরির সময় অফসাইডের কারণে গোলটি বৈধতা পায়নি। এই ড্রয়ের ফলে ইন্টার মায়ামির টানা তিন ম্যাচের হারের ধারা থামলেও জয়হীন যাত্রা অব্যাহত রইল। আগের ম্যাচগুলিতে লিগস কাপে মেক্সিকান ক্লাব লিওনের কাছে হার এবং ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাদের। ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টিও নষ্ট করেছিলেন মেসি। ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের থেকে এখনও সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে মায়ামি। ফলে মেসি ব্যক্তিগতভাবে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও দলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনাও ছড়ায়। বলের বাইরে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্টপেজ টাইমে ইন্টার মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার ১৬ বছরের ক্যাভান সালিভানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। জয় না এলেও মায়ামির জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি মেসির গোলে ফেরা। ব্যক্তিগত শোকের পর মাঠে ফিরে তাঁর এই গোল নতুন করে নজর কাড়ল ফুটবলবিশ্বের।
শচীনেরও নেই! দ্রাবিড়ের দখলে এই ৩ রেকর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড় মানেই ধৈর্য, একাগ্রতা এবং অসাধারণ টেকনিক। ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে ‘দ্য ওয়াল’ নামেই বেশি চেনে। প্রতিপক্ষের বোলারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হতাশ করে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসংখ্য নজির গড়েছেন দ্রাবিড়। তার মধ্যে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরকেও পিছনে রেখেছেন তিনি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি বল খেলেছেন দ্রাবিড় টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে দ্রাবিড়ের জুড়ি মেলা ভার। নিজের টেস্ট কেরিয়ারে মোট ৩১,২৫৮টি বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। এই তালিকায় তাঁর পিছনে রয়েছেন শচীন তেন্ডুলকর। মাস্টার ব্লাস্টার খেলেছেন ২৯,৪৩৭টি বল। অর্থাৎ শচীনের তুলনায় প্রায় ১,৮০০ বল বেশি খেলেছেন দ্রাবিড়। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয় কেন তাঁকে ‘দ্য ওয়াল’ বলা হত। তাঁর রক্ষণ ভেদ করা বিশ্বের সেরা বোলারদের কাছেও ছিল কঠিন পরীক্ষা। ক্রিজে কাটিয়েছেন সবচেয়ে বেশি সময় শুধু বলের সংখ্যায় নয়, ব্যাট হাতে ক্রিজে কাটানো সময়ের হিসাবেও দ্রাবিড়ের ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যায়। টেস্ট কেরিয়ারে ব্যাটিং করতে গিয়ে মোট ৪৪,১৫২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়েছেন তিনি। এই ক্ষেত্রেও তাঁর পিছনে শচীন। তেন্ডুলকরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৪১,৩০৪ মিনিট। অর্থাৎ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে ক্লান্ত করে দেওয়াই ছিল দ্রাবিড়ের অন্যতম বড় শক্তি। শতরানের জুটিতেও এগিয়ে ‘দ্য ওয়াল’ দ্রাবিড়ের আর একটি উল্লেখযোগ্য নজির রয়েছে বড় জুটি গড়ার ক্ষেত্রে। টেস্ট ক্রিকেটে সতীর্থদের সঙ্গে ৮৮ বার ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়েছেন তিনি। শচীনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৮৬। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে কোনও এক সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা ছিল দ্রাবিড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই শুধু ব্যক্তিগত রান নয়, পার্টনারশিপের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শচীন-দ্রাবিড় জুটি ভারতকে দিয়েছে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে দু’জনের মধ্যে তুলনা হলেও মাঠে শচীন ও দ্রাবিড় ছিলেন ভারতের অন্যতম সফল ব্যাটিং জুটি। টেস্ট ক্রিকেটে দু’জনে একসঙ্গে ২০টি শতরানের পার্টনারশিপ গড়েছেন। একদিকে শচীনের দুর্দান্ত শট খেলার ক্ষমতা, অন্যদিকে দ্রাবিড়ের ধৈর্য ও শক্তিশালী রক্ষণ—দুই কিংবদন্তির ব্যাটিংয়ের এই মেলবন্ধন দীর্ঘদিন ভারতীয় ব্যাটিংকে ভরসা জুগিয়েছে। সংখ্যাতেও উজ্জ্বল দ্রাবিড়ের কেরিয়ার ভারতের হয়ে ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ১৩,২৮৮ রান করেছেন রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৩৬টি শতরান এবং ৬৩টি অর্ধশতরান। টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ২৭০ রানের। একদিনের ক্রিকেটেও দ্রাবিড়ের সাফল্য কম নয়। ৩৪৪টি একদিনের ম্যাচে ১০,৮৮৯ রান করেছেন তিনি। এই সংস্করণে তাঁর রয়েছে ১২টি শতরান এবং ৮৩টি অর্ধশতরান। অবসরের পরেও ভারতীয় ক্রিকেটের সেবায় খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পরেও ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি। তরুণ ক্রিকেটারদের তৈরি করা থেকে শুরু করে জাতীয় দলের কোচ—বিভিন্ন ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন দ্রাবিড়। তাঁর প্রধান কোচ থাকার সময়েই ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ব্যাটার দ্রাবিড়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় আজও ‘দ্য ওয়াল’। সবচেয়ে বেশি বল মোকাবিলা, দীর্ঘতম সময় ক্রিজে থাকা এবং অসংখ্য শতরানের জুটি—এই পরিসংখ্যানগুলি আরও একবার বুঝিয়ে দেয় কেন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে রাহুল দ্রাবিড়ের জায়গা এতটা বিশেষ।
ইউরোপে ফের পিএসজির জয়জয়কার
সকাল সকাল ডেস্ক ইউরোপের সেরার মুকুট ধরে রাখল প্যারিস সাঁ জারমাঁ। বুধবার সালজবার্গে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে নিল লুইস এনরিকের দল। গত বছর টটেনহ্যাম হটস্পারকে হারিয়ে প্রথমবার এই খেতাব জিতেছিল পিএসজি। এবার আরও এক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবকে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সোমালিয়ার ৩৪ বছর বয়সি রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নির্বাচিত রেফারিদের প্যানেলে থাকা আরতান গত জুনে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না পারার ঘটনায় খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। শুরুতেই কাভারৎস্কেলিয়ার ঝলক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি এবং ইউরোপা লিগ বিজয়ী অ্যাস্টন ভিলার লড়াই শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরা। আর্সেনালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা দলের নয়জন ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন এনরিকে। ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং অধিনায়ক মার্কিনহোস শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা এজরি কোনসা, এমি মার্টিনেজ এবং অলি ওয়াটকিন্সের মতো কয়েকজন তারকাকে বিশ্রাম দেয়। কোচ উনাই এমেরি সুযোগ দেন অভিষেককারী মিডফিল্ডার জোয়াও গোমস এবং ১৭ বছর বয়সি তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান মডজোরকে। ম্যাচের ২০ মিনিটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন খভিচা কাভারৎস্কেলিয়া। বাঁ-দিক থেকে ভিতরে ঢুকে দুরন্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন জর্জিয়ার তারকা। তাঁর গতি এবং দক্ষতার সামনে সমস্যায় পড়ে ভিলার রক্ষণ। অভিষেকেই চমক মডজোরের এক গোলে পিছিয়ে পড়লেও লড়াই থেকে সরে যায়নি অ্যাস্টন ভিলা। প্রথমার্ধের আধ ঘণ্টার মাথায় জন ম্যাকগিনের ক্রস থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মডজো। সেই সুযোগ কাজে না লাগলেও বিরতির ঠিক আগে আর ভুল করেননি তরুণ স্ট্রাইকার। ৪৫ মিনিটে ম্যাকগিনের নিখুঁত পাস থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে গোল করে ভিলাকে ১-১ সমতায় ফেরান মডজো। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নজর কাড়েন মাত্র ১৭ বছর বয়সি এই ফুটবলার। বিরতির পর আক্রমণের শক্তি বাড়াতে উসমান ডেম্বেলেকে মাঠে নামান এনরিকে। অন্যদিকে ম্যাকগিন এবং মডজোর জুটি পিএসজির রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে। ম্যাকগিনের একটি বাঁকানো শট কোনওক্রমে রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভ। ভিএআর নাটকের পর জয়সূচক গোল ম্যাচের ৬১ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় পিএসজি। ডান দিক দিয়ে উঠে এসে বল জালে পাঠান ডেজিরে ডুয়ে। প্রথমে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। শেষ দিকে অ্যাস্টন ভিলা সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। ট্যামি আব্রাহাম একটি ভালো সুযোগও পেয়েছিলেন, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ ১৫ মিনিটে ফ্যাবিয়ান রুইজকে নামিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন এনরিকে। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা সুপার কাপ নিজেদের ঘরে তুলল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। মরসুমের শুরুতেই আরও একটি ট্রফি পিএসজির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল। এবার তাদের সামনে নতুন লক্ষ্য—ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে আরও সাফল্য অর্জন করা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে প্রত্যাবর্তন
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামালেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে প্যাট কামিন্সের দল। মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে কেরিয়ারের সেরা বোলিং করেন হাসান। শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎ ছন্দপতন অস্ট্রেলিয়ার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরুটাও বেশ ভালো করেছিলেন দুই ওপেনার। কোনও উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এরপরই ম্যাচের ছবিটা বদলে দেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনের ঘরের ছেলে জ্যাক ওয়েদারল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম উইকেট তুলে নেন তিনি। অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেট হারান অজি ওপেনার। এরপর হাসানের শিকার হন ট্র্যাভিস হেড। ৫২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। মার্নাস লাবুশেন এবং ক্যামেরন গ্রিনও দলের ইনিংসকে ভরসা দিতে পারেননি। হাসানের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কাজ আরও কঠিন করে তোলে। ঘাসে ঢাকা পিচে স্পিনের পরিবর্তে পেস আক্রমণের উপর বাংলাদেশের ভরসা পুরোপুরি কাজে আসে। হাসানের কেরিয়ার সেরা বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিখুঁত লাইন ও লেংথ বজায় রাখেন হাসান। তাঁর গতি ও সুইং সামলাতে সমস্যায় পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা। মাত্র ৫৩ ওভারের মধ্যেই ১৯৮ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৫৫ রান খরচ করে ৬টি উইকেট তুলে নেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এটি। এর আগে শাহাদাত হোসেন ২৭ রানে ৬ উইকেট এবং ইবাদত হোসেন ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন হাসান। একা লড়লেন স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার একের পর এক ব্যাটার যখন ব্যর্থ, তখন এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ১০৯ বলে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। শেষ পর্যন্ত হাসানের বলেই থামে স্মিথের প্রতিরোধ। কভারের উপর দিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ-এজ করেন তিনি। ক্যাচ ধরে স্মিথের লড়াই শেষ করে বাংলাদেশ। তাঁর বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসও আর বেশি দূর এগোয়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২১৭ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের এমন শুরু দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পর ম্যাচে আপাতত সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ।
কোরিয়া মাস্টার্সে তানভীর অভিযান শেষ, সেমিফাইনালে অস্মিতা; কোয়ার্টারে ভারতীয় পুরুষ ডাবলস
সকাল সকাল ডেস্ক আসান (দক্ষিণ কোরিয়া) : কোরিয়া মাস্টার্স ২০২৬-এ দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালেই থামতে হল ভারতের তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা তানভী শর্মাকে। শুক্রবার আসানে অনুষ্ঠিত মহিলাদের এককের শেষ আটের লড়াইয়ে স্বদেশী রক্ষিতা রামরাজের কাছে ২১-১৮, ১৯-২১, ১৯-২১ গেমে পরাজিত হন ১৭ বছর বয়সি তানভী। গত সপ্তাহে তাইপেই ওপেন জিতে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তানভী। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোরিয়া মাস্টার্সেও তিনি দুর্দান্ত ছন্দে খেলছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম গেম জিতে আরও একটি সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে রক্ষিতা দারুণ প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর রুদ্ধশ্বাস তৃতীয় গেমে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে মুখোমুখি সাক্ষাতে ৪-০ ব্যবধানে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। পরাজিত হলেও তানভীর পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে তিনি দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করছেন। একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছনো তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য বিডব্লিউএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই পারফরম্যান্স ভারতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা। উল্লেখ্য, প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তানভী স্বদেশী শ্রীয়াংশী ভালিশেট্টিকে ২১-১৬, ১৭-২১, ২১-১৩ গেমে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এদিকে সেমিফাইনালে উঠেছেন ভারতেরই অস্মিতা চালিহা। তিনি শীর্ষ বাছাই জাপানের হিনা আকেচিকে ২০-২২, ২১-১৫, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। ফলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবেন দুই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা—অস্মিতা চালিহা ও রক্ষিতা রামরাজ। অন্যদিকে, মহিলাদের দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত বিভাগে ভারতের অভিযান শেষ হয়েছে। মহিলাদের ডাবলসে সোনালী সিং ও রিতিকা থাকের জাপানের সপ্তম বাছাই সুমিরে নাকাদে ও মিউ তাকাহাশির কাছে ২১-১৫, ২১-৯ গেমে পরাজিত হন। মিশ্র দ্বৈতেও ইশান ভাটনাগর ও শ্রুতি মিশ্র দক্ষিণ কোরিয়ার শিন তে-ইয়াং ও কিম ইউ জং জুটির কাছে ২১-১৬, ১৬-২১, ২১-১৩ গেমে হেরে বিদায় নেন। তবে পুরুষদের দ্বৈত বিভাগে ভারতের আশা এখনও অটুট। পৃথ্বী কৃষ্ণমূর্তি রায় ও কৃষ্ণ প্রসাদ গারাগা দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ইয়ং-হিউক ও শিন তে-ইয়াং জুটিকে ২১-১৮, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।
কোরিয়া মাস্টার্সে কোয়ার্টার ফাইনালে তানভি শর্মা, জয়ের ধারা অব্যাহত তরুণ ভারতীয় শাটলারের
সকাল সকাল ডেস্ক আসান : দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে কোরিয়া মাস্টার্স ২০২৬ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার মহিলা এককের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেন ভারতের তরুণ তারকা তানভি শর্মা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি স্বদেশী শ্রীয়াংশী ভালিশেট্টিকে ২১-১৬, ১৭-২১, ২১-১৩ গেমে পরাজিত করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়ে চলেছেন তানভি। গত সপ্তাহে তাইপেই ওপেন সুপার ৩০০ জিতে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর কোরিয়া মাস্টার্সেও একই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছেন তিনি। তিন গেমের লড়াইয়ে দ্বিতীয় গেম হারালেও শেষ গেমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে জয় নিশ্চিত করেন। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের মানসিকতা দেখিয়ে তানভি আবারও প্রমাণ করলেন যে, তিনি ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা। চলতি মাসে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিডব্লিউএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তাঁর এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল। কোয়ার্টার ফাইনালে তানভির প্রতিপক্ষ হবেন ভারতের রক্ষিতা শ্রী রামরাজ এবং জাপানের মানামি সুইজুর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। এখন নজর থাকবে, দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখে তিনি সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেন কি না।