কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব, দায়িত্ব নিয়েই বার্তা কার্তিক মহারাজের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরের নাম পরিবর্তন বা নতুন নামকরণের প্রস্তাব পর্যালোচনার কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার গঠিত বিশেষ কমিটি। সোমবার কলকাতা পুরসভায় নিজের দফতরে প্রথমবার বসেন ‘রোড রি-নেমিং কমিটি’র চেয়ারম্যান স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামেও পরিচিত। দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা পড়েছে বলে জানান তিনি। রাজ্য সরকারের গঠিত ১০ সদস্যের এই কমিটি বিভিন্ন নামকরণ ও পুনর্নামকরণের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিচিতি বিবেচনা করেই সুপারিশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কার্তিক মহারাজের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাংলা সরণি, লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট সংক্রান্ত নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই কমিটির কাছে এসেছে। পাশাপাশি নিহত আইপিএস অফিসার বিনোদ মেহতার স্মরণে একটি রাস্তার নামকরণের আবেদনও জমা পড়েছে। তবে এই প্রস্তাবগুলির কোনওটিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিটির পর্যালোচনার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলি যাচাই করে কমিটি রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। এর আগেও কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পার্ক সার্কাসের সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার প্রস্তাব এবং রামপুরহাটের ‘নেতাজি সুভাষ রোড’-এর নাম বদলে ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাস্তা বা জনপরিসরের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিহাস, স্থানীয় আবেগ এবং প্রশাসনিক দিকগুলি যাতে আগে থেকেই বিস্তারিতভাবে যাচাই করা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন নজর, কমিটির পর্যালোচনার পর কোন কোন নাম পরিবর্তনের সুপারিশ সরকারের কাছে পৌঁছয়।
বিনিয়োগ টানতে মুম্বই সফরে শুভেন্দু, নজরে আম্বানি বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে মুম্বই সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যে ডেটা সেন্টার ও সেমিকন্ডাক্টর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন প্রকল্প গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা। শিল্পের জন্য জমি, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এই শিল্প-যোগাযোগের মধ্যেই আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গেও রাজ্যের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠীর তরফেও পশ্চিমবঙ্গে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে মুম্বইয়ের বৈঠকে ‘বনতারা’-র পূর্ব ভারতীয় শাখা পশ্চিমবঙ্গে তৈরির নির্দিষ্ট প্রস্তাব উঠবে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে আপাতত নজর রয়েছে আম্বানি-শুভেন্দু বৈঠকে কী কী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং তার পর কোনও নতুন প্রকল্পের ঘোষণা সামনে আসে কি না, সেদিকে।
নিউটাউনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যচাষের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সোমবার নিউটাউনে কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ মন্ত্রকের মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। এই বরাদ্দের পাশাপাশি বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ছয়টি অমৃত সরোবর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সোমবার নিউটাউনে আয়োজিত মৎস্যচাষের সার্বিক উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্যের মৎস্যক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মূলত রাজ্যে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি মৎস্যচাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং মৎস্য উৎপাদনের সঙ্গে বাজারের আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন—মৎস্যক্ষেত্রের সামগ্রিক বিকাশের জন্য একাধিক বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের বিভিন্ন দিক এবং রাজ্যের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানান। কেন্দ্রীয় সহায়তার মাধ্যমে রাজ্যের মৎস্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জিপিএসের নির্দেশে বিপজ্জনক পথে, বাইক-সহ খাদে পড়ে রাতভর আটকে যুবক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা অচেনা রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছতে মোবাইলের জিপিএস নেভিগেশনের উপর ভরসা করেছিলেন এক বাইকচালক। কিন্তু অন্ধকারে সেই নির্দেশ অনুসরণ করে এগোতে গিয়ে বিপজ্জনক রাস্তায় বাইক-সহ খাদে পড়ে গেলেন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় নির্জন খনি এলাকায় রাতভর আটকে থাকার পর শনিবার সকালে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁকসার বাসিন্দা প্রসূন পেশায় কেবল অপারেটর। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজের প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। রাস্তা অপরিচিত হওয়ায় মোবাইলে জিপিএস নেভিগেশন চালু করে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিলেন। পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের পুরনো ভাটমুড়া এলাকায় ইসিএলের অধিগৃহীত কোলিয়ারি চত্বরে সম্প্রতি ধসের কারণে রাস্তার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। রাতে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিপজ্জনক অংশটি বুঝতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক-সহ খাদে পড়ে যান প্রসূন। দুর্ঘটনায় মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান তিনি। জখম অবস্থাতেই কোনও রকমে পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে আঘাত ও আতঙ্কের কারণে নিজের সঠিক অবস্থান জানাতে পারছিলেন না। তাঁর কথাবার্তাও অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই প্রসূনের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু নির্দিষ্ট অবস্থান জানা না থাকায় তাঁকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য এবং ইসিএল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। খনি এলাকার খাদ থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় প্রসূনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার কাছে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড ও সতর্কতামূলক বোর্ড না থাকায় অচেনা যাত্রীদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বদল রবিউলের, মমতার বার্তার পর ফের ভোটের লড়াইয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক রেজিনগর উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়। শনিবার সকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তাঁর দাবি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে ভোটের ময়দানে থাকার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রবিউল। শনিবার সকালে রবিউল জানিয়েছিলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে কর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেফতারের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ঘোষণার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে যোগাযোগ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। এরপরই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। সিদ্ধান্ত বদলের পর বেলডাঙা থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন রবিউল। তাঁর দাবি, দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন। প্রচার নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, পাশে অল্প সংখ্যক কর্মী থাকলেও তাঁদের নিয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাবেন। এর আগে নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। সেই আবহে রেজিনগরেও রবিউলের প্রথমে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে রেজিনগরে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবিও বদলে গেল। এখন রবিউল প্রচারে কতটা সক্রিয় হন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত বদলের পর রেজিনগরের ভোটের প্রচার কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
তৃণমূলের নাম-প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে, কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ মমতার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের বিরোধের মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশে আপাতত কোনও পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ব্যবস্থা অনুযায়ী, মমতা শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীকে উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মমতা। তাঁর শিবিরের বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত তাদের দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে এগুলি মমতার রাজনৈতিক অভিযোগ; কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করা হয়েছে। এই আবহে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছনোয় রাজনৈতিক নজর এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ঘোষণার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, : পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে আরও একটি বড় নাটকীয় মোড় সামনে এসেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, একটি পুরোনো খুন সংক্রান্ত মামলায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে তাঁর প্রার্থিতাপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। এই বড় রাজনৈতিক ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী একটি পুরোনো হত্যা মামলার অভিযুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, শনিবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে বিরোধী প্রার্থীর এই গ্রেফতারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস এবং রাজ্য শাসকদলের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, “হঠাৎ করেই এই ঘটনা সামনে চলে এল। এইভাবে বিজেপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই দেশে বিরোধী রাজনীতির কি আর কোনও স্থান থাকবে না?” কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, নির্বাচনের আগেই বিরোধীদের ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই গ্রেফতারের পর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এসএসসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ, আপাতত চাকরি বহাল ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। নতুন করে দায়ের হওয়া অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা তাঁদের পুরনো পদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেলেন কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের ফলে একসঙ্গে চাকরি হারানোর মুখে পড়েন হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের প্যানেল বাতিলের মূল নির্দেশ বহাল রাখে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, সেই ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের সাময়িকভাবে স্বপদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, তাঁরা আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত কাজে বহাল থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। নতুন করে ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন বা অন্তর্বর্তী আবেদন দায়ের করে তাঁদের আর্জি, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চাকরিতে বহাল থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হোক। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির কারণে মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। সেখানে আবেদনকারীদের আইনজীবী চাকরিপ্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী আবেদনের গুরুত্ব আদালতের সামনে তুলে ধরেন। সব দিক বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেহেতু নতুন করে একটি অন্তর্বর্তী আবেদন জমা পড়েছে, তাই সেই আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আপাতত তাঁদের পদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এর ফলে ৩১ অগস্টের সময়সীমা ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল। নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বহাল থাকবে। এখন তাঁদের নজর সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিকে।
‘ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে’, কলকাতায় পথচারীদের নিরাপত্তায় জোর দিলীপ ঘোষের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: শহরের সৌন্দর্যায়ন, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যে নতুন শিল্প-বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কলকাতার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। বেআইনি দখলের কারণে পথচারীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাতে বসবাসকারী এক মহিলাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রসঙ্গেই ফুটপাত দখল নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাত দখল দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ফুটপাতে বসবাসকারী বা ব্যবসা করা মানুষদের স্বার্থের চেয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কায়েমি স্বার্থ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। সেই কারণেই ফুটপাতের বেআইনি দখল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর। কলকাতায় ক্রমশ বাড়তে থাকা যানবাহনের সংখ্যার প্রসঙ্গও তুলেছেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, অথচ সাধারণ মানুষের নিরাপদে হাঁটার জায়গা ক্রমশ কমছে। ফুটপাতের একাংশে ফলের দোকান, পানের দোকান বা অন্য ব্যবসা চললে পথচারীরা কোথা দিয়ে হাঁটবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মন্ত্রী দাবি করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও বুঝতে পারছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেরাই জায়গা খালি করছেন। শহরের ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতেই প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার পার্ক স্ট্রিটের ওই ফুটপাতবাসী মহিলার সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই পরিবার কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ওই পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়নি। পার্ক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্যস্ত ও সংকীর্ণ ফুটপাতে প্রকাশ্যে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেই নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে রান্না বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। ফুটপাত দখল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার বিষয়টিকে শহরের সৌন্দর্যায়ন, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করলেন দিলীপ ঘোষ। ফলে আগামী দিনে কলকাতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।
হাওড়ার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চারতলায় আটকে বহু বাসিন্দা; উদ্ধার ৮ জন
সকাল সকাল ডেস্ক হাওড়া : হাওড়ার আন্দুল মৌড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভবনের চারতলা থেকে আচমকা আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশ ও দমকল বিভাগে খবর দেন। আগুন লাগার সময় বহুতলের ভেতরে একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সমান তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দমকলকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে বহুতলের বিভিন্ন তলায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চারতলায় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা আবাসন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। ভবনের অন্য কোনও অংশে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তলা ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎই চারতলা থেকে আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই তলায় তাঁর এক পরিচিত মহিলা থাকেন বলে জানান তিনি। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বহুতলের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই তারাপীঠ এবং কলকাতার দুটি পৃথক গেস্ট হাউসে আগুন লেগে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।