৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটির রাজ্য বাজেট পেশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়
কলকাতা: সোমবার রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোয় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মূল স্তম্ভ। রাজ্যের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের। রাজ্য সরকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছোতে ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।
সিভিক, গ্রিন পুলিশ ও হোমগার্ডদের পারিশ্রমিক বাড়ল ২ হাজার, প্যারা-টিচারদের ৫ হাজার টাকা : ঘোষণা রাজ্য বাজেটে
কলকাতা : রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে বিভিন্ন স্তরের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মচারীদের জন্য বড়সড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করা হলো। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড এবং প্যারা-টিচারদের মাসিক পারিশ্রমিক একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
অভিষেকের পাশে থেকেও তৃণমূলে কোণঠাসা কল্যাণ? আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নতুন জল্পনা
কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন। তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে। মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়, শোভনদেবকে জেরার পর উদ্ধার তৃণমূলের ‘রেজোলিউশন বুক’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রেজোলিউশন বুক’-এর একটি কপি উদ্ধার করেছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান মেলে। শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যও নথিবদ্ধ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তাঁদের হাতে আসে। এখন ওই নথিতে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, মামলার সত্যতা নির্ধারণে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই রেজোলিউশনের একটি কপি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা থাকে এবং অন্য একটি কপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংরক্ষণে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ওই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা। তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রেজোলিউশন বুকের হদিস মেলেনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। এরপর তদন্তের দিশা বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদনের জন্য যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, ওই নথিতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁদের অনেকেই সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদে ইস্তফা মোশারফের, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল। এবার দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার সকালে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। ইটাহারের জয়হাট চেকপোস্ট এলাকায় নিজের বাড়িতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কারণই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরিবারের পাশে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সেই জল্পনার আংশিক অবসান ঘটান। তবে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর আরও একটি মন্তব্য। মোশারফ স্বীকার করেন যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছেন। এছাড়াও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মোশারফ বলেন, অতীতে উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার উন্নয়নই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি সব ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা চান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোশারফ হোসেনের এই অবস্থান উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মহুয়ার ‘৪০ কোটি’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী সাংসদরা, মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে করা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলত্যাগী সাংসদদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়–সহ এনসিপিআই–তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কাকলির দাবি, মহুয়ার ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সাংসদরা একমত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।” বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা নাকি মাথাপিছু ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ ছিল, “আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন, বাকি ৩৬ মাসে এক কোটি টাকা করে পাবেন।” এই মন্তব্যকেই মানহানিকর বলে দাবি করছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের মতে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েছে। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরপর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনডিএ–সমর্থিত এনসিপিআই–তে যোগ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র দলবদল না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা বজায় রেখেছেন।
পূর্ব রেলে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন। মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন। পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সরকারি বাসের ধাক্কা; মৃত ২, আহত অন্তত ২৯
জলপাইগুড়ি:- জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির উল্লা ডাবরী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সরকারি বাস ধাক্কা মারায় রবিবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে এক শিশু-সহ তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি সরকারি বাস ময়নাগুড়ির দোমনী ও উল্লা ডাবরীর মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছলে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
ঝড়-বৃষ্টির দাপটে মধ্য কলকাতায় বিপত্তি, গাছ ভেঙে যানজট
কলকাতা : সকাল গড়াতেই কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি । এই দুর্যোগের মধ্যেই চাঁদনি চকের অদূরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের উপর আচমকা উপড়ে পড়ে একটি বড় গাছ। মুহূর্তের মধ্যেই ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজনৈতিক বার্তা, শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে মোদী–শাহ, তোপ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়। সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা। সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।