দমদম বিমানবন্দর-কাণ্ডে অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ, চরমে রাজনৈতিক উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দিল্লি সফর শেষে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই বিক্ষোভ ও হাতাহাতির পরিস্থিতির মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম বিমানবন্দর কাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর শনিবার তিনি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে বিজেপি নেতৃত্বের যোগসাজশ রয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত উস্কানি তৈরি করা হয়েছে। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেখানে হলুদ পোশাক পরা এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির নাম উত্তম দাস বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি করেন, তিনি দমদম এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি নেতা। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই যুবকের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার আরও কিছু প্রমাণও তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতের দিক থেকে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জমায়েত করেন একদল বিজেপি সমর্থক, যাদের হাতে ‘ডিম’ ছিল বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অভিষেককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন এবং দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিমানবন্দর চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে এনএসসিবিআই থানার পুলিশ মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ এবং ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল দাবি করছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত উস্কানি। ঘটনাটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হবে এবং যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পুলিশ ও রাজনৈতিক মহল ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস, চাপে বিশ্বাস ব্রাদার্স
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো আয়োজক নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার সামনে এল জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি দাবি করেছে, তাদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্লাবঘর এবং পুজোর বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে ক্লাবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। শনিবার এলআইসি-র প্রতিনিধিরা সুরুচি সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেন। সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরের অত্যন্ত মূল্যবান ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০ এবং ৫০১ নম্বর চারটি বাণিজ্যিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। এই জমিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণকাজও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ওই জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এলআইসি সূত্রে দাবি, জমি দখল নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধারে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ১৮ জুলাইয়ের সময়সীমাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসও তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস বিশ্বাস পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এখন নজর ১৮ জুলাইয়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা হয় কি না এবং এলআইসি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২০ জুন : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাসভবনে গেল রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সকালে তদন্তকারীদের একটি দল বালিগঞ্জের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে আধিকারিকরা তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তারপর সেখান থেকে রওনা দেন। তদন্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি তিনি দাবি তোলেন, যাঁরা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তিনি বলেন, প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষরের সময় সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলেন, তাই অভিযোগকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল বলে জানানো হয়। তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ সেই চিঠি গ্রহণ করেননি এবং ওই স্বাক্ষরে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অধ্যক্ষের কাছে স্বাক্ষর জালিয়াতির এই লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই ঘটনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন এবং তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়। অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। এরপর শোভনদেব ডিভিশন বেঞ্চে আপিল দায়ের করেন, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকার এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে সঁপেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়াও সিআইডি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যে বহু বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছেন আধিকারিকরা, আবার অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সিআইডি আধিকারিকরা তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ দিতে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দিল্লিতে থাকায় তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য নোটিশ নিতে রাজি হননি। সূত্র মারফত জানা গেছে, সিআইডি দল শনিবার আবারও তাঁর আবাসে যেতে পারে।
লুকোচুরি শেষ, পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা
সকাল সকাল ডেস্কফলতা, ২০ জুন : লুকোচুরি শেষ, এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিও। গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার চক্রান্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই থানা ঘেরাও করা হয়েছিল। থানায় হামলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজিনা বিবি ছিলেন পলাতক, অবশেষে তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, ফলতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির। এই ফলতায় পুনর্নির্বাচনও হয়েছিল। পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ, অযোধ্যা পাহাড়ের রিসোর্টের সামনে চলল বনদপ্তরের বুলডোজার
সকাল সকাল ডেস্ক সংবাদদাতা রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যে কড়া অভিযান চলছে, তার বড়সড় প্রভাব পড়ল এবার অযোধ্যা পাহাড়ে। বনদপ্তরের জায়গা বেআইনিভাবে দখল করে রিসোর্টে ঢোকার রাস্তা তৈরি করার অপরাধে, শনিবার বুলডোজার দিয়ে সেই রাস্তা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগমুন্ডি থানার অযোধ্যা পাহাড় এলাকার ‘গ্রিনভিলা’ নামক একটি রিসোর্টের সামনে। বনদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বনদপ্তরের জমি দখল করে রাস্তাটি বানিয়েছিল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। জেলাজুড়ে চলা অবৈধ দখলদারি রুখতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে এদিন চরম সমস্যায় পড়তে হয় রিসোর্ট মালিকদের। অন্য দিকে, রাস্তা ভেঙে দেওয়ার ফলে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু পর্যটকরাই নন, চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকরা। রিসোর্টটি যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বহু মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়বে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এই ধরণের বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে আগামীদিনেও নজরদারি ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জারি থাকবে।
গৌতম দেবের পর এবার ইস্তফা দিলেন মানিক দে, শিলিগুড়ি পুরনিগমে তীব্র চাঞ্চল্য
সকাল সকাল ডেস্কশিলিগুড়ি, ২০ জুন : রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ডামাডোল অব্যাহত। এই আবহে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সংকট আরও গভীরতর হচ্ছে। শুক্রবার মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর, এবার মেয়র পরিষদ (এমএমআইসি) থেকে ইস্তফা দিলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানিক দে। মানিক দে পুরনিগমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মেয়র গৌতম দেব মেয়র পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকেই তিনি নিজের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা শুনে সেখানে উপস্থিত সদস্যরা স্তম্ভিত হয়ে যান। এরপর শুক্রবারই গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। শনিবার মেয়রের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংগঠনের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন এবং প্রশাসনিক স্তরের একাধিক সমস্যার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার গৌতম দেবের ইস্তফার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানিক দে-ও পদ ছাড়ায় পুরনিগমের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেল। রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, আগামী দিনে কি আরও পদত্যাগ দেখা যাবে? যদি এইভাবে কাউন্সিলররা একে একে পদ ছাড়তে থাকেন, তবে বর্তমান বোর্ডের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
গত বছরের শহিদ দিবস কর্মসূচি নিয়ে মমতা ও অভিষেককে হাইকোর্টের নোটিশ
কলকাতা : গত বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস কর্মসূচি চলাকালীন কলকাতার প্রধান সড়কগুলি অবরুদ্ধ করে সভা আয়োজনের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ জারি করেছে। এই মামলাটি মূলত আদালতের অবমাননার সঙ্গে যুক্ত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ জুলাই।
সপ্তাহান্তে ভিজবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ
কলকাতা : গত কয়েক দিন ধরে তীব্র অস্বস্তিকর ও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হচ্ছিলেন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। তবে সপ্তাহান্তে মিলতে চলেছে বড় স্বস্তি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনি ও রবিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ঝড়-বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির জেরে আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রতর স্বীকৃতি বহাল, স্পিকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন দেখছে না আদালত। এই রায়ের ফলে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অবস্থান বড় ধাক্কার মুখে পড়ল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পৃথক গোষ্ঠী দাবি করে, তাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁরা বিধানসভায় নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানান। পরে স্পিকার সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল। কিন্তু বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই আবহেই ঋতব্রত শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল’ বলে দাবি করতে শুরু করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়। বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, প্রথম চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার কেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেননি এবং দ্বিতীয় চিঠি আসার পর কেন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং চিঠির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। শুনানিতে সই জালিয়াতি, দলীয় রেজোলিউশন এবং বহিষ্কার সংক্রান্ত নানা যুক্তি উঠে এলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের হলেই তা প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আদালত। রায়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অধিকাংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আস্থা ভোট হলে কার পক্ষে কত সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মেসি সফর বিতর্কে পুলিশের ম্যারাথন জেরা, ‘সত্যের জয় হবেই’ বলেই থানাছাড়া অরূপ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা লিওনেল মেসির সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি থানায় পৌঁছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না, তবে শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। থানা থেকে বেরোনোর পর সরাসরি বাড়ি না ফিরে অরূপ বিশ্বাসকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আলিপুরে গিয়ে তিনি নিজের আইনজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, মামলার বিষয়ে যা বলার তা আদালতেই বলবেন। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ২২ জুন আবারও তদন্তের স্বার্থে পুলিশি তলবে হাজির হবেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে মেসির সম্ভাব্য সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন মন্ত্রী নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেই টিকিটগুলির একটি অংশ বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু টিকিট বিতর্কই নয়, মেসির সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। এর আগে তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও অরূপ বিশ্বাস হাজিরা দেননি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। যদিও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি থানায় পৌঁছন। আগে থেকেই তাঁর হাজিরার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় থানার সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ।