তীব্র পেটের ব্যথায় হাসপাতালে মীরা ভট্টাচার্য, চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য হাসপাতালে ভর্তি। তীব্র পেটের ব্যথার কারণে বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট তাঁকে কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ৭৬ বছর বয়সি মীরা ভট্টাচার্য গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে মাঝেমধ্যেই তীব্র পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। সমস্যা বাড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌতিক পাণ্ডার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন এবং পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য হাসপাতালের তরফে একটি বহুবিভাগীয় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসক শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্ট চিকিৎসক সেমন্তী চক্রবর্তী। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর একাধিক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে পেটের ব্যথার সঠিক কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে মীরা ভট্টাচার্য ‘ক্লিনিক্যালি স্টেবল’। চিকিৎসকদের বিশেষ দল তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তবে আরও কিছু পরীক্ষার রিপোর্টের উপর পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। তাঁকে কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
কার্ড না থাকলেও মিলবে ৫ লক্ষের ক্যাশলেস চিকিৎসা, হাসপাতালেই করা যাবে আবেদন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথী এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা—হাসপাতালে গেলে রোগী কোন প্রকল্পের অধীনে ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি আপাতত স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবাও চালু থাকছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে রোগীর রেজিস্ট্রেশনের সময় স্বাস্থ্যসাথী টিএমএস পোর্টালে আধার নম্বর যাচাই করা হবে। রোগীর আয়ুষ্মান কার্ড আগে থেকেই তৈরি থাকলে তাঁর চিকিৎসা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার অধীনে হবে। আধার নম্বর পিএম-জেএওয়াই ডেটাবেসে পাওয়া গেলে স্ক্রিনে গ্রিন সিগন্যাল দেখাবে। এরপর হাসপাতালকে ‘প্রসিড টু পিএম-জেএওয়াই টিএমএস’ বিকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। তবে আয়ুষ্মান কার্ড থাকা সত্ত্বেও পিএম-জেএওয়াই পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে চিকিৎসা আটকে থাকবে না। হাসপাতালকে সমস্যার বিস্তারিত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট জমা দিতে হবে। এরপর স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে রোগীর চিকিৎসা চালানো যাবে। এনএফএসএ ডেটাবেসে নাম থাকা এবং ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হওয়ার পরেও আয়ুষ্মান কার্ড অনুমোদিত না হলে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা হবে। ই-কেওয়াইসি বাকি থাকলে আগে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে ভিভিএস রেজিস্ট্রেশনের নিয়মও প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে, কোনও রোগীর স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান কার্ড না থাকলেও যোগ্য হলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা মিলবে। প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হবে।
মেয়ের পাশে বিষধর সাপ, ছোবল খেয়েও সাপ হাতে হাসপাতালে পৌঁছলেন বাবা
সকাল সকাল ডেস্ক নদিয়া: ঘুমন্ত মেয়ের একেবারে পাশে বিষধর সাপ দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন বাবা। সাপটিকে সরাতে গিয়ে হাতে ছোবল খেলেও দমে যাননি ৪৮ বছরের সঞ্জীব ওরাং। শেষ পর্যন্ত সাপটিকে প্লাস্টিকে ভরে সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল সঞ্জীবের মেয়ে। কিছুক্ষণ পরে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, খাটের উপর মেয়ের গা ঘেঁষে একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। মেয়েকে নিরাপদে সরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই সাপটি ধরতে এগিয়ে যান সঞ্জীব। হাতে প্লাস্টিক জড়িয়ে সাপটিকে ধরার সময় সেটি তাঁর হাতে ছোবল দেয়। এরপরও তিনি সাপটিকে ছেড়ে দেননি। কোনওরকমে সেটিকে প্লাস্টিকের মধ্যে ভরে ফেলেন। তারপর সাপটি সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে সঞ্জীব চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। স্থানীয়দের দাবি, সঞ্জীবের স্ত্রী নেই এবং মেয়েই তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। মেয়েকে বিপদের মুখে দেখে তাই নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তিনি ঝুঁকি নেন। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। সাপ ঘরে ঢুকলে খালি হাতে ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
যাদবপুরে সংঘর্ষে উদ্বিগ্ন স্বপন দাশগুপ্ত, পড়ুয়াদের স্বাধীনতা ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ এবং ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শান্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলির উসকানি থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। গত বুধবার মধ্যরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসএফআই এবং এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীক ভাঙার ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ছাত্র রাজনীতি বা আন্দোলন যাদবপুরে নতুন নয়। তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বারবার নেতিবাচক কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসা কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। স্বপনের বক্তব্য, বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি এই প্রতীক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শ্রী অরবিন্দের ন্যাশনাল এডুকেশন আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতীকের ক্ষতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য ক্যাম্পাসে বাইরের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর উপর জোর দিয়েছেন স্বপন। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। সব রাজনৈতিক দলেরই এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন, যা ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এদিকে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পরে অভিযোগ দায়ের হওয়া, মধ্যরাতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির মতো পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে।
‘বদলার রাজনীতি নয়, বাংলায় বদলেছে শাসনব্যবস্থা’, শিলিগুড়ির মঞ্চে প্রথম ১০৫ দিনের খতিয়ান শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক মুখের পরিবর্তন হয়নি, বদল আনা হয়েছে গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থায়— শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকারের লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং সংবিধান মেনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে সময় বাংলায় ‘শাসকের আইন’ চলার অভিযোগ তুলেছিল, সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। সরকারের প্রথম কয়েক দিনের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ মে রবিবার থাকায় পরদিন, ১১ মে সচিবালয়ে গিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন। প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ফাইলে সই করেন তিনি। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে জনগণনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে জনগণনার কাজ আটকে রেখেছিল। মুখ্য সচিবকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা–সহ নতুন আইনি ব্যবস্থাকে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরকারের ১০৫ দিনের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু চারটি মূল নীতির কথাও বলেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমে আপস না করা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানববাদ’-এর আদর্শে জনকল্যাণ এবং কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। শিলিগুড়ির ‘ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনী’র কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইন কলেজের পড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্ম যাতে দেশের নতুন ফৌজদারি আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সহজে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেষে পশ্চিমবঙ্গকে ফের দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে কেন্দ্রের সহযোগিতার জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, নতুন সরকারের পথ ‘বদলা’ নয়— প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা।
নেতাজি প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজের ক্ষমা চাওয়াকে ইতিবাচক বললেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর অনন্ত মহারাজের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ সাংসদ হিসেবে অনন্ত মহারাজ নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজিকে নিয়ে করা ওই মন্তব্য কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে পরবর্তীতে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়া এবং মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে এবং যাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর কোনও অযাচিত উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এদিকে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোটা ঘটনার তদন্ত আইন মেনেই এগিয়ে চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন চার মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে সুমিত রায়; জরুরি শুনানিতে সায় নয়
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১২ আগস্ট: একের পর এক মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন চারটি মামলায় গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাগুলির জরুরি শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল। তবে বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই আর্জিতে সায় দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, মামলাগুলিকে তালিকার শীর্ষে এনে এখনই শুনানি করা সম্ভব নয়। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সিআইডি একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। সেই সুরক্ষার ভিত্তিতে ভবানী ভবনে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন। তবে ওই দুটি মামলার বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ায় ফের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীদের। বুধবার সুমিতের আইনজীবী নতুন মামলাগুলিতে রক্ষাকবচের আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য তালিকার একেবারে উপরে তোলার আর্জি জানান। যুক্তি দেওয়া হয়, গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকায় জরুরি ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতি জানান, এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিয়ে মামলাটি শোনা সম্ভব নয়। ফলে আপাতত নতুন চারটি মামলায় তাৎক্ষণিক আইনি সুরাহা পেলেন না সুমিত। তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক হওয়ার কারণেই সুমিতকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই একের পর এক এফআইআর করা হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করেছেন তাঁরা। বিষ্ণুপুর থানা এবং কালীতলা আসুতি থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে অভিষেকের পাশাপাশি সুমিতের নামও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুধু রক্ষাকবচ নয়, নতুন চারটি এফআইআর বাতিলের দাবিতেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে পৃথক আবেদন করেছেন সুমিত। ফলে একদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মামলাগুলির বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এদিকে শালবনির সরকারি জমি বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় বুধবারও সুমিতকে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই মামলায় অবশ্য তাঁর রক্ষাকবচ রয়েছে। ফলে তদন্তে সহযোগিতা করলেও সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু নতুন চারটি মামলায় একই ধরনের সুরক্ষা না থাকায় তাঁর আইনজীবীরা গ্রেফতারির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। হাইকোর্ট জরুরি শুনানিতে সায় না দেওয়ায় আপাতত নতুন মামলাগুলিতে সুমিতের আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন ঝুলেই রইল। পরবর্তী শুনানিতে রক্ষাকবচ এবং এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড এবার ২০৯, সর্বসম্মতিতে বিল পাস বিধানসভায়
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১২ আগস্ট : কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার লক্ষ্যে আনা ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিলটি পেশ করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদিত হয়। সংশোধনীর মাধ্যমে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০’-র ৫ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিল নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আপাতত শুধুমাত্র ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা এবং ভোটার সংখ্যার বিন্যাস পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে শীঘ্রই দু’টি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকবে। রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনার পর পরিসীমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করা হবে। বিলের উদ্দেশ্য ও যুক্তিতে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতির পরিবর্তিত ধরন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং কলকাতা পুরসভা সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী কার্যকর হওয়ার দিন গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে রাজ্য সরকার। আলোচনায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জাভেদ আহমেদ খান, ফিরহাদ হাকিম, রীতেশ তিওয়ারি, শঙ্কর সিকদার, সর্বরী মুখোপাধ্যায় ও সজল ঘোষ-সহ একাধিক সদস্য অংশ নেন। এ দিন বিধানসভায় অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অসমে বহু বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করেন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে তাঁরা মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা জানান তিনি। প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান বিধায়কদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ চালু করার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দুই শর্ত মেনে কেন্দ্র চালু করলে সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে তা পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলার এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশ, কত আপিলের নিষ্পত্তি জানতে কমিশনের কাছে হিসাব তলব
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির গতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, এখনও পর্যন্ত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট জানান, শুধু আপিল দায়েরের সংখ্যা জানালেই হবে না, সেগুলির মধ্যে কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী গতিতে কাজ চলছে, সেটিও আদালত জানতে চায়। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কেউ সরকারি সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেই বিষয়টি বর্তমান মামলার আওতায় বিবেচনা করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেকেই পিডিএস সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আদালত অবশ্য জানায়, বর্তমান মামলার মূল বিচার্য বিষয় ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আপিলের নিষ্পত্তির সংখ্যা ও গতি। কার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে বা বাদ গিয়েছে, তা এই মামলার মূল বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু আবেদন করেন, মামলাটি ২৫ অগস্টের অনুরূপ মামলাগুলির সঙ্গে একত্রে শুনানি করা হোক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। অধীররঞ্জনের অভিযোগ, কমিশনের খামখেয়ালিপনার কারণে বাংলায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমান গতিতে সমস্ত আপিল নিষ্পত্তিতে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও তাঁর দাবি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ব্লক–ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার নজর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান এবং ২৫ অগস্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।
ক্ষুদিরামের ভিটে ঘিরে মিউজিয়াম-গবেষণাকেন্দ্র, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট : স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮–তম আত্মবলিদান দিবসে বীর বিপ্লবীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের জন্মভিটেতে পৌঁছে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সকালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হলেও, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে দুপুরেই তিনি মোহবনিতে হাজির হন। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম এত বিপুল সমারোহে ১১ আগস্ট শহিদ ক্ষুদিরামের মৃত্যুদিবস পালিত হলো। এদিনের স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মহান শহিদের স্মৃতিরক্ষার উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটেকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম) ও আর্ট গ্যালারি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক লেজার শো-র আয়োজন। ক্ষুদিরাম বসু তথা অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের জন্য সেখানে আধুনিক আবাসন ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মোহবনি উন্নয়ন বোর্ড’-কে ৫ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরো কাজ দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, ‘শুভেন্দুজি, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন আসছে। তাঁর আত্মবলিদান থেকে আমাদের সকলেরই শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। আপনি কি তাঁকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছেন?’ আমি তাঁকে জানাই যে ১১ আগস্ট আমি নিজে কেশপুরে ক্ষুদিরামের বাসভবনে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করব। তিনি আমার এই উদ্যোগকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেন।” আজকের তরুণ সমাজকে বিপ্লবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খেদ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পাঠ্যক্রমে মাত্র চার লাইনে আটকে রাখা হয়েছে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের অবদানকে। এটা হতে দেওয়া যায় না। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সর্বস্তরে তাঁর মহান ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য আমি শিক্ষাদফতরের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি।” অবিভক্ত মেদিনীপুরের বৈপ্লবিক ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে ক্ষুদিরাম বসু— একের পর এক বীর বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে মেদিনীপুরের মাটি। ঘরে ঘরে তাঁদের পুজো করা উচিত। আজ যাঁরা দেশকে অসম্মান করছেন এবং চার পাশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে ক্ষুদিরামের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”