সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা – ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর মিলছে। ভোটের ট্রেন্ডে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন-সহ বিভিন্ন সরকারি ভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবনের সামনেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
নবান্নে যাতায়াতকারী প্রত্যেকের উপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অফিসে ঢোকা-বেরোনোর সময় কর্মীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক নথি বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যাতে সরানো না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, অতীতের দুর্নীতির তথ্য নষ্ট হওয়া রুখতেই এই কড়াকড়ি।
এদিকে ভোটের ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে। এই ফলাফলের ইঙ্গিত সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। গেরুয়া আবির খেলা, মিষ্টি বিতরণ ও বিজয় মিছিলের ছবি সামনে এসেছে নানা এলাকা থেকে।
তবে উৎসবের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ ও হিংসার অভিযোগ উঠেছে। আসানসোলে গণনাকেন্দ্রের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। একই ধরনের উত্তেজনার খবর মিলেছে নোয়াপাড়া ও বীজপুর থেকেও, যেখানে বুথের ভেতরেই প্রার্থীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ও কমিশন একযোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর, যাতে কোনওভাবেই অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
No Comment! Be the first one.