বাংলায় শাহকে ও অসমে নাড্ডাকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব বিজেপির
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তার পরেই মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষকের নাম ঘোষণা করা হল। ওই পদের দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত শাহ। ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তাদের বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করেছে। পাশাপাশি, অসমে জগৎ প্রকাশ নাড্ডাকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বিজেপির সংসদীয় বোর্ড পশ্চিমবঙ্গে দলের বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। অরুণ সিং আরও জানান, বিজেপির সংসদীয় বোর্ড অসমে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের জন্য দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করেছে। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনিকে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে।
মমতার বাড়ির সামনে থেকে উঠল গার্ডরেল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : রাজ্যে ভোটপর্ব মিটেছে। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। নিজের গড় ভবানীপুর থেকে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালীঘাটে পরিবর্তনর হাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সুরক্ষার জন্য রাখা গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হল। সেই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে আর বাধা নেই। বাইক, গাড়ি অনায়াসে যাতায়াত করছে। তবে মমতার বাড়ির ঠিক সামনে এখনও পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার বদলের পর বিধি মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ধাপে ধাপে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সেই নিয়ম মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল খোলার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনি এখন ন্যূনতম নিরাপত্তা পাবেন। অর্থাৎ জনাকয়েক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবে তাঁর বাড়ির সামনে।
নবান্নে কড়া নিরাপত্তা, ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে তৎপর কমিশন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা – ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর মিলছে। ভোটের ট্রেন্ডে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন-সহ বিভিন্ন সরকারি ভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবনের সামনেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। নবান্নে যাতায়াতকারী প্রত্যেকের উপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অফিসে ঢোকা-বেরোনোর সময় কর্মীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক নথি বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যাতে সরানো না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, অতীতের দুর্নীতির তথ্য নষ্ট হওয়া রুখতেই এই কড়াকড়ি। এদিকে ভোটের ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে। এই ফলাফলের ইঙ্গিত সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। গেরুয়া আবির খেলা, মিষ্টি বিতরণ ও বিজয় মিছিলের ছবি সামনে এসেছে নানা এলাকা থেকে। তবে উৎসবের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ ও হিংসার অভিযোগ উঠেছে। আসানসোলে গণনাকেন্দ্রের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। একই ধরনের উত্তেজনার খবর মিলেছে নোয়াপাড়া ও বীজপুর থেকেও, যেখানে বুথের ভেতরেই প্রার্থীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ও কমিশন একযোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর, যাতে কোনওভাবেই অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
গণনা কেন্দ্রের নিয়মাবলী নিয়ে মালদায় সর্বদলীয় বৈঠক, কড়া নজরদারির বার্তা প্রশাসনের
সকাল সকাল ডেস্ক মালদা :-নির্বাচন পরবর্তী গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নিয়মাবলী নিয়ে শনিবার মালদায় সর্বদলীয় বৈঠক করল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। জেলা প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, পুলিশ সুপার অনুপম সিং-সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন।বৈঠকে মালদার দুটি গণনা কেন্দ্র—মালদা কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজ—সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশিকা তুলে ধরা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা কলেজে পাঁচটি এবং পলিটেকনিক কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা এলাকার ভোটগণনা হবে। সকাল সাতটার মধ্যে নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশের সময় নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বৈঠকে জায়েন্ট স্ক্রিনে ড্রোনে তোলা গণনা কেন্দ্রের ছবি দেখিয়ে প্রবেশ ও বাহিরের রূপরেখাও ব্যাখ্যা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্কিং, শৌচালয়-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর কোনও রকম অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। গোটা জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি চালাবে পুলিশ ও প্রশাসন।
নীতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী
সকাল সকাল ডেস্ক পাটনা : বিহারে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শনিবার রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জাতীয় সভাপতি তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাটনার ৭ নম্বর সার্কুলার রোডে নীতীশ কুমারের নতুন বাসভবনে এই বৈঠকটি হয়, যাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। যদিও এই সাক্ষাৎকে আনুষ্ঠানিক বলা হচ্ছে, তবে রাজনৈতিক মহলে একে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসলে বিহারে সম্রাট চৌধুরী নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৫ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়নি। বর্তমানে সবকটি দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী এবং দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই রয়েছে। এর মধ্যেই সরকার দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠক করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী শীঘ্রই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে দিল্লি যেতে পারেন, যেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সবুজ সংকেত মিলতে পারে। এই ঘটনার রেশ ধরেই শুক্রবার জেডিইউ-এর কার্যনির্বাহী জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় ঝা দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং শরিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় কিছুটা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজস্থানে চলন্ত গাড়িতে আগুন, ঝলসে মৃত্যু ৫ পুণ্যার্থীর
সকাল সকাল ডেস্ক আলোয়ার : দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত গাড়িতে আগুন লেগে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ পুণ্যার্থীর। বুধবার রাতে রাজস্থানের আলোয়ার জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুণ্যার্থীরা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, আলোয়ার জেলার মৌজপুরে চলন্ত গাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকলের কয়েকটি গাড়ি দ্রুত সেখানে পৌঁছেছিল। মিনিট পনেরোর চেষ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গাড়ির পাঁচ আরোহীকে বাঁচানো যায়নি। গাড়িতেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে তাঁরা মারা যায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন মহিলা, এক শিশু ও এক জন পুরুষ। তাঁরা মধ্যপ্রদেশের শেওপুরের বাসিন্দা। নিহতদের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন মধ্যপ্রদেশের শেওপুরের বাসিন্দা সন্তোষ, তার স্ত্রী শশী, মা পার্বতী এবং দুই মেয়ে রাঘানি ও সাক্ষী। ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কৈলাশ জিন্দাল বলেন, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু এটি একটি কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) চালিত গাড়ি ছিল, তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আরোহীরা বেরোনোর কোনও সুযোগ পাননি।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল ৪ মে, স্ট্রংরুমে নিরাপত্তার নজিরবিহীন কড়াকড়ি কমিশনের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : রাজ্যে দুই দফার বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন সকলের নজর আগামী ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণার দিকে। ভোটগ্রহণ শেষ হতেই ইভিএমগুলি পৌঁছে গিয়েছে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে। গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তা তত জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন। এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আগের তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে। এবার ৮৭টি কেন্দ্রে ২৯৪টি আসনের ভোট গণনা করা হবে। গণনাকেন্দ্র কমলেও নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থাকলেও, বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। স্ট্রংরুমগুলির সুরক্ষায় ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমে রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার ইভিএম রাখা হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি-র মাধ্যমে কড়া নজরদারির পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। বহিরাগতদের প্রবেশ ও জমায়েত রুখতে স্ট্রংরুমের বাইরে রাজ্য পুলিশ এবং ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে ১০ কোম্পানি এবং যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের আশপাশের এলাকায় নাকা চেকিং চলছে। কোনো রকম ফাঁকফোকর না রেখে গণনার দিন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্যকে।
দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও বেঙ্গল সাফারিতে নতুন অতিথির আগমনের প্রস্তুতি, উত্তরবঙ্গে খুশির হাওয়া
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : পর্যটন মরসুমের মাঝেই পাহাড় ও তরাই অঞ্চল থেকে এক বড় সুখবর সামনে এসেছে। পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক এবং বেঙ্গল সাফারিতে বেশ কিছু বিরল বন্যপ্রাণী শীঘ্রই জন্ম নিতে চলেছে, যা নিয়ে বন্যপ্রাণ প্রেমীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা দিয়েছে। দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে সিলভার ফিজেন্ট এবং অত্যন্ত বিরল প্রজাতির মিশমি টাকিন অন্তঃসত্ত্বা। বিশেষত, মিশমি টাকিনের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সফল প্রজননকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দিশায় এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় ৭টি মিশমি টাকিন এবং ২৩টি সিলভার ফিজেন্ট রয়েছে। এই প্রাণীদের জন্য বিশেষ ডায়েট চার্ট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানা প্রশাসন অন্তঃসত্ত্বা প্রাণীদের জন্য অত্যন্ত শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তাদের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো প্রকার সমস্যা এড়াতে পশুচিকিৎসকরা প্রতিদিন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতেও ভালো খবর পাওয়া গেছে। এখানকার একটি স্ত্রী হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার বা কালো ভাল্লুক অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সাফারির অধিকর্তার মতে, ভাল্লুকের গর্ভাবস্থা সাধারণত আট থেকে নয় মাস হয়, তবে জন্ম না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি এই প্রজনন সফল হয় তবে এটি কেবল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেই বড় সাফল্য হবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেও এক নতুন গতি প্রদান করবে।
বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী–সহ একাধিক নেতার উষ্ণ অভ্যর্থনা
সকাল সকাল ডেস্ক বারাণসী : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার দুদিনের সফরে নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে পৌঁছেছেন। বাবলপুরের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ানের বিশেষ বিমানে প্রধানমন্ত্রী নামতেই সেখানে আগে থেকে উপস্থিত উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুষ্পস্তবক দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং ব্রজেশ পাঠকও। বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী বরেকার উদ্দেশে রওনা হন। বরেকার অস্থায়ী হেলিপ্যাডেও রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে বিজেপি-র জাতীয় সম্পাদক নিতিন নবীন, রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী সহ অন্য মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে ৫৪–তম সফরে আসা প্রধানমন্ত্রী মোদী বরেকা ইন্টার কলেজ ময়দানে আয়োজিত বিশাল মঞ্চ থেকে মহিলা সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে গ্যালারি পর্যন্ত সর্বত্র শুধুমাত্র মহিলাদের উপস্থিতি থাকবে। নারী সম্মান, নিরাপত্তা, স্বনির্ভরতা এবং সমান সুযোগের মতো বিষয় নিয়ে মোদী তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিজেপির কাশী অঞ্চলের সভাপতি দিলীপ প্যাটেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী বারাণসীর জন্য ৬৩৩২ কোটি টাকার ১৬৩টি প্রকল্পের উপহার দেবেন। এর মধ্যে ১০৫৪.৬৯ কোটি টাকার ৫০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫২৭৭.৩৯ কোটি টাকার ১১৩টি প্রকল্পের শিলন্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, ‘বানাস’ (আমূল)-এর সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের লক্ষাধিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ১০৫ কোটি টাকার বোনাস ট্রান্সফার করবেন তিনি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন— বেনারস-পুণে (হাড়পসর) এবং অযোধ্যা-মুম্বই (লোকমান্য তিলক টার্মিনাস)-এর সবুজ পতাকা দেখিয়ে সূচনা করবেন। রাতে বারাণসীতে বিশ্রামের পর পরের দিন তিনি বাবা বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেবেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে খাদে পড়ল বাস; মৃত ২১, আহত ২০-র বেশি
সকাল সকাল ডেস্ক উধমপুর : জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি বাস। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায় বাসটি। দুর্ঘটনায় ২১ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর জেলার রামনগর মহকুমায় এই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। সকাল ১০টা নাগাদ রামনগর এলাকার কাগোর্ট গ্রামের কাছে পাহাড়ি রাস্তায় বাঁক নেওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উধমপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) প্রেম সিং চিব বলেন, “আমাদের উধমপুর জেলার জন্য এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদ। বাসটি রামনগর থেকে উধমপুর যাচ্ছিল। এতে ছাত্র, কর্মচারী এবং অন্যান্যরা ছিলেন। এখনও পর্যন্ত আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন রামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং আমি এইমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের (সিএমও) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। একইভাবে, উধমপুরের জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলে (জিএমসি) ১৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে যদি কারও বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে তাকে অবিলম্বে স্থানান্তর করা হবে। এছাড়াও, বিভাগীয় প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন, যদি হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হয়, তবে তা অবিলম্বে পাঠানো হবে, যাতে আমরা আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করতে এবং তাদের জীবন বাঁচাতে পারি।” উধমপুর-রেয়াসি রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) শিব কুমার শর্মা বলেন, “আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করব। এই মুহূর্তে চিকিৎসা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, যাতে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাদের জীবন বাঁচানো যায়। চালক সম্ভবত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই বাসটি নিচে নেমে একটি অটোর সঙ্গে ধাক্কা খায়। অটোটিতে যাত্রীও ছিলেন। ঈশ্বরের কৃপায়, তারা বেঁচে গেছেন। মোট প্রায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।”