হামিমের পর গ্রেফতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা, পাকিস্তান থেকে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর নির্দেশের অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) যোগের অভিযোগে হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পর এবার রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ধরা পড়লেন তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকার। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে টাওয়ার লোকেশন, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ডিজিটাল সূত্রের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় এটি দ্বিতীয় গ্রেফতার। এসটিএফ সূত্রে দাবি, তদন্তে এমন কিছু তথ্য মিলেছে যা থেকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং শাহজাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে অর্পিতার যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও অপহরণ বা হামলার ঘটনা বাস্তবে ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সেই দিকটি খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামিম ও অর্পিতা এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ গ্রহণ করতেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার অর্পিতাকে আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এসটিএফ। এর আগে শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন নিউটাউন এলাকাতেও ভাড়া থাকতেন। এসটিএফের প্রাথমিক অনুমান, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রুট-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানের রেইকি করেছিলেন তিনি। গাড়ির চলাচল, নম্বর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু তিনিই নন, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও জঙ্গিদের নজরে ছিলেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। এসটিএফ জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথিপত্র ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। অর্পিতার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগ, সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ‘হানি ট্র্যাপ’ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।
অনলাইনে জনগণনার ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক নয়, সরকারি প্রকল্প থেকেও নাম কাটা হবে না
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: অনলাইনে জনগণনার স্ব-গণনা (সেলফ এনুমারেশন) ফর্ম পূরণ না করলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বা নাম কেটে দেওয়া হবে—এমন গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয় এবং এর সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের কোনও যোগ নেই। শনিবার বিধাননগরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ব-গণনা প্রক্রিয়ার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে চান, তাঁরা স্বেচ্ছায় তা করতে পারবেন। তবে যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না বা করতে ইচ্ছুক নন, তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না। আগামী ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। যাঁরা অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করবেন, তাঁরা একটি বিশেষ আইডি পাবেন। গণনাকারীরা বাড়িতে গেলে সেই আইডি দেখালেই হবে। অন্যদিকে, যাঁরা অনলাইনে অংশ নেবেন না, তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন সরকারি আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য রাজ্যবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সকলকে স্বেচ্ছায় স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এছাড়াও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জনগণনায় সংগৃহীত সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। তাঁর কথায়, এই তথ্য শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হবে। কোনও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অনলাইনে ফর্ম পূরণ না করলেও জনগণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হবে না এবং সরকারি পরিষেবা বা প্রকল্পের সুবিধাতেও তার কোনও প্রভাব পড়বে না।
রাজ্যের সরকারি স্কুলে ইসকনের মিড-ডে মিল, মেগা কিচেনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১ আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক মেগা কিচেনের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। উদ্বোধনের আগে মুখ্যমন্ত্রী ইসকন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষ যজ্ঞে অংশ নেন। পরে তিনি মেগা কিচেন ঘুরে দেখেন এবং নিজে হাতে মিড-ডে মিল প্রস্তুতির কাজেও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁরা রান্নাঘরের আধুনিক পরিকাঠামো, খাদ্য প্রস্তুতির পদ্ধতি এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে পাঁচটি সরকারি স্কুলের ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে দ্রুত খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবুজ পতাকা দেখিয়ে তিনি ওই গাড়িগুলিকে যাত্রা শুরু করান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে মিড-ডে মিল পরিষেবা আরও সুসংগঠিত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সরকারের কাজ আরও শক্তিশালী হবে। ইসকনের সমস্ত আধিকারিক, প্রচারক এবং সহযোগীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং তাদের পুষ্টির মান উন্নত করার লক্ষ্যেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী মিড-ডে মিল প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শিশুদের আরও উন্নতমানের ও সুষম খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ইসকনের আগমনে রাঁধুনিদের কাজ চলে যাবে—এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও রাঁধুনী মা, দিদি বা বোনের চাকরি যাবে না। তাঁদের রান্না ও খাবার বিতরণের পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে রাঁধুনিরা মাসে ২,০০০ টাকা ভাতা পেতেন। বর্তমান সরকার চলতি অগস্ট মাস থেকে সেই ভাতা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করেছে। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার মাত্র ১১ সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নিয়েছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, রাজ্যবাসী যদি তাঁকে আরও এক বছর সময় দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টির প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে পিএম পোষণ প্রকল্পে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করে দুধ, ফল, পনির ও উন্নতমানের খাদ্য সরবরাহ করছে। সেই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গেও শিক্ষার্থীদের আরও উন্নত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বক্তৃতার শেষে বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে শুধু রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন ঘটেনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের পরিষেবা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।
সিঙ্গুরে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার প্রস্তাব, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে কেন্দ্রের ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের আওতায় একটি কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে তিনি সিঙ্গুরকে প্রথম পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি হলদিয়া, রঘুনাথপুর ও দুর্গাপুরকেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ২৮ জুলাই পাঠানো চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩,০৩০ কোটি টাকার ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে তিনটি ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র ১,০০০ কোটি টাকা অনুদান দেবে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রায় ২,০০০ একর জমির ব্যবস্থা করতে হবে। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক বিনিয়োগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বেসরকারি পুঁজি পশ্চিমবঙ্গে আসবে। এর ফলে রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণ, লজিস্টিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়বে। একই সঙ্গে বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও অটোমোবাইল শিল্পও উপকৃত হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে দ্রুত একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, এই ঐতিহাসিক শিল্পাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ এলে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা যাবে। চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এখন রাজ্য সরকার এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিল্পমহলের।
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করলেন বড়কাগাঁওয়ের বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গিরিডিহের সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী। বৈঠকে বিধায়ক জানান, বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ একর জমি আগেই চিহ্নিত করা হলেও সেটি এখনও সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের এখনও অস্থায়ী ভবনে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। রোশনলাল চৌধুরী আরও বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দ্রুত জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের উদ্যোগ এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। বৈঠকের পর বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হলে পাত্রাতু, রামগড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
জিটিএ নয়, পাহাড়ের উন্নয়নে স্থায়ী সমাধানের দাবি গুরুংদের, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। বুধবারের এই বৈঠকের পর গুরুং স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র জিটিএ (GTA) দিয়ে পাহাড়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই পাহাড়ের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি স্থায়ী বিকল্প কাঠামো প্রয়োজন বলে তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বৈঠকের পর গুরুং আরও জানান, আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে বিমল গুরুংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর নেতৃত্ব ও প্রচারের জোরেই পাহাড়ের তিনটি আসনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য জয় পায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চা–বাগানের সমস্যা, শিক্ষক নিয়োগ, পাহাড়ের পরিবহন ব্যবস্থা, জিটিএ–র কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুংয়ের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ–তে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারি নথি খুলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে। এছাড়া গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র, রাজ্য ও পাহাড়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ভবিষ্যতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন গুরুং। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সোমবার পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং পাহাড় সফরে গিয়ে পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোর্চা নেতৃত্ব। সেখানে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘদিন পর পাহাড়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত পঞ্চায়েতগুলিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রতিটি পঞ্চায়েতে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের সাক্ষাতের পর থেকেই পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। এবার কলকাতায় এই বৈঠক এবং দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণকে ঘিরে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বীরভূমে বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২৯ জুলাই : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বীরভূম জেলায় বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের বড় মাপের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং বেআইনিভাবে সম্পত্তি অর্জনকারীদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম পুলিশ মোহাম্মদ বাজার থানা এলাকার অবৈধ বালি মাফিয়া টুল্লু মণ্ডল ওরফে মোহাম্মদ নজিবুদ্দিনের আস্তানায় অভিযান চালায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৫.৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নোট গণনার কাজ এখনও চলছে। এছাড়া ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের রাজ্য পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি), বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং অভিযানে শামিল সমস্ত পুলিশকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা অত্যন্ত দ্রুত, পেশাদার ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান ভবিষ্যতেও জারি থাকবে এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’-ই সরকারের মূল নীতি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট শব্দে জানিয়ে দেন, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করে এবং পূর্বতন শাসক দলের আশ্রয়ে বেআইনি সম্পত্তি গড়ে তোলা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জনগণের সম্পদে কেবল জনগণেরই অধিকার রয়েছে এবং তা লুণ্ঠনকারীদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। রাজ্যে মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযান লাগাতার চলবে বলেও জানান তিনি।
পুরুলিয়া বিমানবন্দরের জন্য ₹২ হাজার কোটি বরাদ্দ, দ্রুত কাজ শুরুর দাবি সাংসদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে পুরুলিয়ার বহুদিনের বিমানবন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পরই পুরুলিয়ার ছড়রায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ₹২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত। যুদ্ধ শেষে ধীরে ধীরে সেটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে সেখানে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর তৈরির দাবি উঠলেও বিভিন্ন সময়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনার মধ্যেই প্রকল্প সীমাবদ্ধ ছিল। বামফ্রন্ট ও পরবর্তী তৃণমূল সরকার উভয় আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এবার বাজেটে বরাদ্দের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখনও কয়েকটি প্রযুক্তিগত ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ওএলএস (অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস) সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে একটি রেললাইন এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে থাকা রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি উপলব্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে। প্রকল্প অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১১০০ মিটার দীর্ঘ ওয়ান-বি শ্রেণির রানওয়ে নির্মাণ করা হবে। পরে সেটিকে ১৭০০ মিটার দীর্ঘ টু-সি শ্রেণির রানওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত হবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন, দমকল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ জলাধারসহ আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো রানওয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই নতুন করেই আধুনিক মানের রানওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিম দেবে রাজ্য, জল্পনায় ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল চালুর সিদ্ধান্ত ঘিরে ডিম থাকবে কি না, সেই বিতর্কের অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিড-ডে মিলের পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের জন্য ২৯৬ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু হবে। তবে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলে আলাদা করে ডিম বিতরণ করা হবে, যাতে পড়ুয়াদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। এর আগে রাজ্য বাজেটে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা হতেই শিক্ষামহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেকের আশঙ্কা ছিল, নিরামিষভোজী সংস্থা দায়িত্ব পাওয়ায় স্কুলের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ পড়তে পারে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। আদালত বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামাও তলব করেছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছিল স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেছিলেন, নিরামিষ খাবারেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ডিম খাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ডিম বাদ পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। তবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই জল্পনার কার্যত অবসান ঘটেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, মিড-ডে মিলের মূল খাবার ইসকনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। তাই আলাদা ব্যবস্থায় নিয়মিত ডিম দেওয়া হবে। ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিচালনার সিদ্ধান্তও কার্যকর হবে।