জিপিএসের নির্দেশে বিপজ্জনক পথে, বাইক-সহ খাদে পড়ে রাতভর আটকে যুবক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা অচেনা রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছতে মোবাইলের জিপিএস নেভিগেশনের উপর ভরসা করেছিলেন এক বাইকচালক। কিন্তু অন্ধকারে সেই নির্দেশ অনুসরণ করে এগোতে গিয়ে বিপজ্জনক রাস্তায় বাইক-সহ খাদে পড়ে গেলেন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় নির্জন খনি এলাকায় রাতভর আটকে থাকার পর শনিবার সকালে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁকসার বাসিন্দা প্রসূন পেশায় কেবল অপারেটর। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজের প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। রাস্তা অপরিচিত হওয়ায় মোবাইলে জিপিএস নেভিগেশন চালু করে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিলেন। পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের পুরনো ভাটমুড়া এলাকায় ইসিএলের অধিগৃহীত কোলিয়ারি চত্বরে সম্প্রতি ধসের কারণে রাস্তার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। রাতে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিপজ্জনক অংশটি বুঝতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক-সহ খাদে পড়ে যান প্রসূন। দুর্ঘটনায় মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান তিনি। জখম অবস্থাতেই কোনও রকমে পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে আঘাত ও আতঙ্কের কারণে নিজের সঠিক অবস্থান জানাতে পারছিলেন না। তাঁর কথাবার্তাও অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই প্রসূনের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু নির্দিষ্ট অবস্থান জানা না থাকায় তাঁকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য এবং ইসিএল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। খনি এলাকার খাদ থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় প্রসূনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার কাছে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড ও সতর্কতামূলক বোর্ড না থাকায় অচেনা যাত্রীদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বদল রবিউলের, মমতার বার্তার পর ফের ভোটের লড়াইয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক রেজিনগর উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়। শনিবার সকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তাঁর দাবি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে ভোটের ময়দানে থাকার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রবিউল। শনিবার সকালে রবিউল জানিয়েছিলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে কর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেফতারের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ঘোষণার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে যোগাযোগ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। এরপরই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। সিদ্ধান্ত বদলের পর বেলডাঙা থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন রবিউল। তাঁর দাবি, দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন। প্রচার নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, পাশে অল্প সংখ্যক কর্মী থাকলেও তাঁদের নিয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাবেন। এর আগে নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। সেই আবহে রেজিনগরেও রবিউলের প্রথমে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে রেজিনগরে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবিও বদলে গেল। এখন রবিউল প্রচারে কতটা সক্রিয় হন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত বদলের পর রেজিনগরের ভোটের প্রচার কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
তৃণমূলের নাম-প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে, কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ মমতার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের বিরোধের মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশে আপাতত কোনও পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ব্যবস্থা অনুযায়ী, মমতা শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীকে উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মমতা। তাঁর শিবিরের বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত তাদের দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে এগুলি মমতার রাজনৈতিক অভিযোগ; কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করা হয়েছে। এই আবহে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছনোয় রাজনৈতিক নজর এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ৭টি স্থানে অভিযান ইডি-র
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৮ সেপ্টেম্বর: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক (জেএসসিবি) সম্পর্কিত অর্থ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার অভিযান চালালো| ইডি-র রাঁচি আঞ্চলিক কার্যালয় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মোট সাতটি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। জানা গেছে, ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সরাইকেলা শাখায় সংঘটিত বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান। তদন্তে দেখা গেছে যে ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার ডালমিয়া জেএসসিবি-র তৎকালীন ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যাঙ্কের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতারণা করেন। ইডি-র এই অভিযান ব্যবসায়ী সঞ্জয় ডালমিয়া এবং তৎকালীন ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থানগুলোর ওপর কেন্দ্র করে চালানো হচ্ছে। তল্লাশি চলাকালীন সংস্থাটি আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ লেনদেন এবং সম্পত্তি অধিগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে। এই মামলায় জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত করতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ঘোষণার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, : পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে আরও একটি বড় নাটকীয় মোড় সামনে এসেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, একটি পুরোনো খুন সংক্রান্ত মামলায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে তাঁর প্রার্থিতাপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। এই বড় রাজনৈতিক ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী একটি পুরোনো হত্যা মামলার অভিযুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, শনিবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে বিরোধী প্রার্থীর এই গ্রেফতারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস এবং রাজ্য শাসকদলের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, “হঠাৎ করেই এই ঘটনা সামনে চলে এল। এইভাবে বিজেপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই দেশে বিরোধী রাজনীতির কি আর কোনও স্থান থাকবে না?” কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, নির্বাচনের আগেই বিরোধীদের ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই গ্রেফতারের পর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
যশবন্ত সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ সুবোধকান্ত সহায়ের
বিহার-ঝাড়খণ্ডের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আলোচনা সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি/হাজারিবাগ: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধকান্ত সহায় শুক্রবার হাজারিবাগ যাওয়ার পথে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী তথা ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিরোধী প্রার্থী যশবন্ত সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হাজারিবাগে যশবন্ত সিনহার বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। দুই প্রবীণ নেতার আলোচনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উঠে আসে। পাশাপাশি নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পুরনো ঘটনা ও স্মৃতিও ভাগ করে নেন তাঁরা। সুবোধকান্ত সহায় ও যশবন্ত সিনহা দু’জনেই অতীতে ঝাড়খণ্ড থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সুবোধকান্ত সহায় রাঁচি এবং যশবন্ত সিনহা হাজারিবাগ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় কংগ্রেস নেতা সুনীল কুমার সহায়-সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তীব্র পেটের ব্যথায় হাসপাতালে মীরা ভট্টাচার্য, চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য হাসপাতালে ভর্তি। তীব্র পেটের ব্যথার কারণে বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট তাঁকে কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ৭৬ বছর বয়সি মীরা ভট্টাচার্য গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে মাঝেমধ্যেই তীব্র পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। সমস্যা বাড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌতিক পাণ্ডার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন এবং পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য হাসপাতালের তরফে একটি বহুবিভাগীয় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসক শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্ট চিকিৎসক সেমন্তী চক্রবর্তী। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর একাধিক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে পেটের ব্যথার সঠিক কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে মীরা ভট্টাচার্য ‘ক্লিনিক্যালি স্টেবল’। চিকিৎসকদের বিশেষ দল তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তবে আরও কিছু পরীক্ষার রিপোর্টের উপর পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। তাঁকে কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
কার্ড না থাকলেও মিলবে ৫ লক্ষের ক্যাশলেস চিকিৎসা, হাসপাতালেই করা যাবে আবেদন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথী এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা—হাসপাতালে গেলে রোগী কোন প্রকল্পের অধীনে ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি আপাতত স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবাও চালু থাকছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে রোগীর রেজিস্ট্রেশনের সময় স্বাস্থ্যসাথী টিএমএস পোর্টালে আধার নম্বর যাচাই করা হবে। রোগীর আয়ুষ্মান কার্ড আগে থেকেই তৈরি থাকলে তাঁর চিকিৎসা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার অধীনে হবে। আধার নম্বর পিএম-জেএওয়াই ডেটাবেসে পাওয়া গেলে স্ক্রিনে গ্রিন সিগন্যাল দেখাবে। এরপর হাসপাতালকে ‘প্রসিড টু পিএম-জেএওয়াই টিএমএস’ বিকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। তবে আয়ুষ্মান কার্ড থাকা সত্ত্বেও পিএম-জেএওয়াই পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে চিকিৎসা আটকে থাকবে না। হাসপাতালকে সমস্যার বিস্তারিত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট জমা দিতে হবে। এরপর স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে রোগীর চিকিৎসা চালানো যাবে। এনএফএসএ ডেটাবেসে নাম থাকা এবং ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হওয়ার পরেও আয়ুষ্মান কার্ড অনুমোদিত না হলে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা হবে। ই-কেওয়াইসি বাকি থাকলে আগে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে ভিভিএস রেজিস্ট্রেশনের নিয়মও প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে, কোনও রোগীর স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান কার্ড না থাকলেও যোগ্য হলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা মিলবে। প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হবে।
মেয়ের পাশে বিষধর সাপ, ছোবল খেয়েও সাপ হাতে হাসপাতালে পৌঁছলেন বাবা
সকাল সকাল ডেস্ক নদিয়া: ঘুমন্ত মেয়ের একেবারে পাশে বিষধর সাপ দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন বাবা। সাপটিকে সরাতে গিয়ে হাতে ছোবল খেলেও দমে যাননি ৪৮ বছরের সঞ্জীব ওরাং। শেষ পর্যন্ত সাপটিকে প্লাস্টিকে ভরে সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল সঞ্জীবের মেয়ে। কিছুক্ষণ পরে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, খাটের উপর মেয়ের গা ঘেঁষে একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। মেয়েকে নিরাপদে সরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই সাপটি ধরতে এগিয়ে যান সঞ্জীব। হাতে প্লাস্টিক জড়িয়ে সাপটিকে ধরার সময় সেটি তাঁর হাতে ছোবল দেয়। এরপরও তিনি সাপটিকে ছেড়ে দেননি। কোনওরকমে সেটিকে প্লাস্টিকের মধ্যে ভরে ফেলেন। তারপর সাপটি সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে সঞ্জীব চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। স্থানীয়দের দাবি, সঞ্জীবের স্ত্রী নেই এবং মেয়েই তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। মেয়েকে বিপদের মুখে দেখে তাই নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তিনি ঝুঁকি নেন। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। সাপ ঘরে ঢুকলে খালি হাতে ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
যাদবপুরে সংঘর্ষে উদ্বিগ্ন স্বপন দাশগুপ্ত, পড়ুয়াদের স্বাধীনতা ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ এবং ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শান্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলির উসকানি থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। গত বুধবার মধ্যরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসএফআই এবং এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীক ভাঙার ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ছাত্র রাজনীতি বা আন্দোলন যাদবপুরে নতুন নয়। তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বারবার নেতিবাচক কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসা কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। স্বপনের বক্তব্য, বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি এই প্রতীক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শ্রী অরবিন্দের ন্যাশনাল এডুকেশন আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতীকের ক্ষতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য ক্যাম্পাসে বাইরের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর উপর জোর দিয়েছেন স্বপন। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। সব রাজনৈতিক দলেরই এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন, যা ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এদিকে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পরে অভিযোগ দায়ের হওয়া, মধ্যরাতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির মতো পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে।