বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রতর স্বীকৃতি বহাল, স্পিকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন দেখছে না আদালত। এই রায়ের ফলে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অবস্থান বড় ধাক্কার মুখে পড়ল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পৃথক গোষ্ঠী দাবি করে, তাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁরা বিধানসভায় নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানান। পরে স্পিকার সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল। কিন্তু বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই আবহেই ঋতব্রত শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল’ বলে দাবি করতে শুরু করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়। বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, প্রথম চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার কেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেননি এবং দ্বিতীয় চিঠি আসার পর কেন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং চিঠির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। শুনানিতে সই জালিয়াতি, দলীয় রেজোলিউশন এবং বহিষ্কার সংক্রান্ত নানা যুক্তি উঠে এলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের হলেই তা প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আদালত। রায়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অধিকাংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আস্থা ভোট হলে কার পক্ষে কত সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মেসি সফর বিতর্কে পুলিশের ম্যারাথন জেরা, ‘সত্যের জয় হবেই’ বলেই থানাছাড়া অরূপ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা লিওনেল মেসির সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি থানায় পৌঁছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না, তবে শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। থানা থেকে বেরোনোর পর সরাসরি বাড়ি না ফিরে অরূপ বিশ্বাসকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আলিপুরে গিয়ে তিনি নিজের আইনজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, মামলার বিষয়ে যা বলার তা আদালতেই বলবেন। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ২২ জুন আবারও তদন্তের স্বার্থে পুলিশি তলবে হাজির হবেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে মেসির সম্ভাব্য সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন মন্ত্রী নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেই টিকিটগুলির একটি অংশ বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু টিকিট বিতর্কই নয়, মেসির সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। এর আগে তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও অরূপ বিশ্বাস হাজিরা দেননি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। যদিও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি থানায় পৌঁছন। আগে থেকেই তাঁর হাজিরার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় থানার সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ।
যোগ দিবস উপলক্ষে তিন দিনের মহোৎসব, ‘রান ফর যোগা’ থেকে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রীর যোগাভ্যাস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যে এবার সাড়ম্বরে পালিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বৃহৎ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের সূচনা হবে ১৯ জুন ‘রান ফর যোগা’ ম্যারাথনের মাধ্যমে। কলকাতায় এই দৌড়ের মূল কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে কলকাতা পুরনিগম সংলগ্ন এলাকা। পুরনিগমের সামনে থেকে শুরু হয়ে মহাকরণ পর্যন্ত চলবে ম্যারাথন। পাশাপাশি শহরের আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হবেন এবং সকাল ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথন শুরু হবে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ২০ জুন পালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই উপলক্ষে গঙ্গাবক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ‘বন্দে যোগম’ নামে এক অভিনব যোগাভ্যাস কার্নিভাল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গঙ্গার দুই তীরজুড়ে আধ্যাত্মিক ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেখানে উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে সাধারণ মানুষের প্রবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব কলকাতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হোক। তিনি সকলকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে কটাক্ষ তাপসের, ‘উপভোগ করছি বিরোধীদের অস্থিরতা’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য রাখার জন্য পৃথক সময় বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে গোটা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিরোধী শিবিরের এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, কে কাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নেবেন বা মানবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সরকারের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বরং বিরোধীদের এই অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব তিনি উপভোগ করছেন বলেই মন্তব্য করেন। তাপস রায় আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনও গোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে দাবি করে এবং সেই অনুযায়ী আলাদা ঘর বা বক্তব্য রাখার সময় চায়, তাহলে সেই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনের পরিবর্তে শোভনদেবকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছিল, আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন রাখা হয়েছিল কিছুটা দূরে। যদিও এই দাবি খারিজ করে তাপস রায় বলেন, বিরোধী দলনেতার জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট আসন রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। শুধু বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গেই নয়, এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সুস্পষ্ট শিল্পনীতি ও জমিনীতি ছিল না। ফলে শিল্পপতিদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং অনেক বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।পাশাপাশি, অতীতে অনুষ্ঠিত আটটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প দফতর। কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন ঘোষণা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে— তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তাপস রায়। এই পদক্ষেপের ফলে অতীতের শিল্প সম্মেলনগুলির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পুরুলিয়ায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বিশেষ তৎপরতা: প্রতিটি থানায় অনুষ্ঠিত হলো যোগা ক্যাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাতো, পুরুলিয়া: আগামী ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। তার আগেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক অনন্য উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেল সমগ্র জেলা জুড়ে। জেলার প্রতিটি থানায় আজ বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো যোগা যোগ শিবির।প্রত্যেকদিনের ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে এবং শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার বার্তা দিতেই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেলগুমা পুলিশ লাইনে এবং প্রতিটি থানা প্রাঙ্গণে এদিন সকাল থেকেই ছিল সাজো সাজো রব।বেলগুমা পুলিশ লাইনের যোগা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চ পদার্থের আধিকারিকেরা ও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক । পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় অনুষ্ঠিত শিবিরে সংশ্লিষ্ট থানার আইসি (IC) বা ওসি (OC) সহ পুলিশ আধিকারিকরা নিজে উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাস করেন।আধিকারিকদের পাশাপাশি থানার সমস্ত স্তরের পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং অন্যান্য কর্মীরাও এই শিবিরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিশেষজ্ঞ যোগ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্পগুলি পরিচালিত হয়। শিবিরের শুরুতেই প্রাণায়াম, ধ্যান এবং বিভিন্ন ধরনের সহজ কিন্তু কার্যকরী আসন (যেমন—সূর্য নমস্কার, তাঢ়াসন, কপালভাতি ইত্যাদি) অভ্যাস করানো হয়। বর্তমান যুগের কর্মব্যস্ত জীবনে পুলিশের মতো একটি কঠিন ও ২৪ ঘণ্টার ডিউটি যারা করেন, তাদের ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম কতটা জরুরি—সে বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রশিক্ষকরা।পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এই স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। সুস্থ শরীর ও সতেজ মন নিয়ে পুলিশ কর্মীরা যাতে আরও ভালোভাবে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারেন, এটাই এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য।
আইনের চোখ খোলাই থাকুক
সকাল সকাল ডেস্ক তন্ময় সিংহ ভারতবর্ষের ন্যায় সংহিতায় “লেডি জাস্টিস” এর যে ছবি পূর্বে ছিল, তা মূলত রোমান আইনের দেবীর ধারণা থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং এই দেবীর চোখে কালো কাপড় দেওয়া থাকত যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। অপরাধীর সামাজিক পরিচয় বা আইনের দ্বারস্থ যিনি হয়েছেন তার সামাজিক পরিচয় না দেখে শুধুমাত্র সত্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোন ভেদ না করাই ছিলো, এই দেবীর ছবির মূল ধারণা। ভারতীয় সংবিধানে আইনের চোখে সবাই সমান এটা ভারতীয় আইন প্রস্তুত কারকেরা জনমানসে ধারণা তৈরি করতে পেরে ছিলেন । পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সাহেবের আমলে এই আইনের দেবীর চোখের কালো কাপড় খুলে দেওয়া হয় এবং হাতে তরোয়ালের পরিবর্তে ভারতীয় সংবিধান দেওয়া হয়। নতুন শতাব্দীতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে যে আইন অন্ধ নয় এবং সে সবাইকে সমান চোখে দেখে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে শাসক বিজেপি শিবির থেকে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করার জন্য বার্তা দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং বিজেপির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাতে পরিবর্তনের পরে পশ্চিমবঙ্গে হানাহানি ও হিংসার ঘটনা যথেষ্ট কম হয়েছে। সারা ভারতে পশ্চিমবঙ্গের যে ছবি তৈরি হয়েছিল সিপিএম জমানার শেষের দিক থেকে তৃণমূল জমানা পর্যন্ত, সর্বাধিক রাজনৈতিক হানাহানি ও হিংসার রাজ্য হিসেবে সেই পরিচয় মুছতে বদ্ধপরিকর ছিল শাসক বিজেপি। এক্ষেত্রে তারা প্রায় সর্বত্রই অনেকাংশে সফল। পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর, রাজনৈতিক হানাহানি ও সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর আক্রমণের ঘটনা নজরে এলেও তা কখনোই সারা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়নি। পরবর্তীকালে মন্ত্রিসভা গঠনের সাথে সাথে এবং প্রশাসন সক্রিয়ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার ও গ্রেফতারি ঘটনায় এই আইনের শাসন দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা হচ্ছিল। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিম ও ঢিল ছোড়ার পরবর্তীতে সারা পশ্চিমবঙ্গে শাসকদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিম থেরাপি শুরু হয়েছে যা দেশের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়াও প্রশাসনের তরফ থেকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরিয়ে যে প্যারেড এর রীতি তৈরি হয়েছে তার নিন্দা করেছে মহামান্য হাইকোর্ট। সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জনতা বিভিন্ন পার্টি অফিস ও প্রাক্তন শাসক দলের কর্মীদের বাড়ি ঘেরাও করছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন রকম জিনিস উদ্ধার করছে। শুরু হচ্ছে ডিম থেরাপি। কোন রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার হলে তাকে কোর্টে পেশ করার সময় শুরু হচ্ছে ডিম থেরাপি। আবার বিভিন্ন পঞ্চায়েত গুলিতে প্রধান দেরকে আটকে রেখে শুরু হচ্ছে ডিম থেরাপি। কাউন্সিলর ও বিধায়কদের বাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি শুরু হচ্ছে ডিম থেরাপি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাসক দলের নেতাদের হাতে কর্মীদের লাগাম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। কোন এলাকাতে শিক্ষক দেরিতে এলে তাকে ল্যাম্পপোস্ট বেধে রাখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে ডিম থেরাপি দেয়া হচ্ছে, জুতোর মালা পরানো হচ্ছে ।বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে বেঁধে রাখা হচ্ছে আবার তার সাথে থাকা প্রশাসনের আধিকারিক এবং সাংবাদিকদের ওপরও ছোঁড়া হয়ে যাচ্ছে ডিম। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করতে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ তাদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্যারাড করাচ্ছে রাস্তাতে। হাইকোর্টের নিষেধ সত্ত্বেও চলছে এই অভ্যাস। ভারতীয় সংবিধান এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এই দুই পদ্ধতিকেই আইনি স্বীকৃতি দেয়নি। কোন এক অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে যেন গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলেছে এই প্রয়োগ, সুতার সাথে বাঁধা পুতুলের মতন জোয়ারে গা ভাসিয়েছে জনতার একাংশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের মূল কাঠামো যে আজও অবিকৃত আছে তার জন্য সবচেয়ে বেশি যার গুরুত্ব তা হলো ভারতীয় সংবিধান। সেই ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী সম্মানের সাথে বাঁচার অধিকার তাদের মৌলিক অধিকার। বিচার শুরুর আগে কোন ব্যক্তিকে জনসমক্ষে হেয় বা অপমান এই নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। নতুন সরকারের প্রশাসনের তরফে আরো সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। মানুষকে নীতি শিক্ষা দেওয়ার এই হাতে গরম পন্থা আসলে জনমানসে র মধ্যে উচ্ছৃংখলতা এবং নিজেই বিচার করে শাস্তি প্রদানের একটা মানসিকতা তৈরি করছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষককে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া নাগরিকদের অবশ্য পালনীয় একটি কর্তব্য, কারণ আজকের শিশুরা আগামীর নাগরিক। শিক্ষকদের কোন সমস্যা থাকলে তার প্রতিবিধান আইন মেনে করা হোক। আবার অন্যদিকে দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া বিগত শাসকদলের নেতা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের অপরাধের বিচার করার জন্য অপরাধীকে তার নাগরিক অধিকার সমেত দেশের বিচার ব্যবস্থার সামনে দাঁড় করিয়ে শাস্তি প্রদান করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আশা করব শাসনে বসার সাথে সাথেই যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে হিংসা মুক্ত করার জন্য শাসক শিবির চেষ্টা করেছিল, সেভাবেই সারা পশ্চিমবঙ্গে এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে উচ্ছৃঙ্খলতা কে প্রশ্রয় না দিয়ে। নতুন সরকারের কাছে এটাই আমাদের আশা যেন বাস্তবায়ন হয় সবাইকে সাথে নিয়ে সবারই উন্নতির কর্মসূচি।
নারী শক্তির দশক, বিকশিত ভারতের উত্থান
সকাল সকাল ডেস্ক শ্রীমতী অন্নপূর্ণা দেবী দেশের যে কোনও গ্রাম, শহরতলি, বস্তি কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেলে আজ একটি পরিবর্তিত বাস্তবতা চোখে পড়ে। একসময় রান্নাঘরের চুলার কালো ধোঁয়া যে নববধূর চোখে জল আনত, আজ সেখানে উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাসের নীল শিখা জ্বলছে। যে মা প্রতিদিন বহু দূর থেকে জল বহন করে আনতেন, আজ তাঁর বাড়ির আঙিনাতেই ‘হর ঘর জল’ প্রকল্পের কল থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে যাচ্ছে। খোলা জায়গায় শৌচকর্মের যে বাধ্যবাধকতা একসময় নারীদের মর্যাদাকে আঘাত করত, আজ সেখানে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের শৌচাগার সম্মানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথার উপর রয়েছে পাকা ছাদ, আর সেই বাড়ির মালিকানার নথিতে প্রথমবারের মতো নারীর নাম যুক্ত হয়েছে। হাতে রয়েছে জন-ধন অ্যাকাউন্টের পাসবই, আর মোবাইল ফোনে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা। এ কোনও কল্পিত চিত্র নয়; বরং গত বারো বছরে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দেশের বাস্তব অগ্রগতির প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন’-এর যে ধারণা সামনে এসেছে, তার ফলেই আজ ভারতীয় নারীরা বিকশিত ভারতের নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। এই পরিবর্তনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হলে আমাদের এক দশক পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। একসময় মাতৃমৃত্যুর হার ছিল প্রতি লক্ষ জীবিত জন্মে ২১২। নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে উদ্বেগ ছিল প্রবল। বহু গুরুত্বপূর্ণ আইন বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল। তিন তালাকের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য কোনও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রান্নাঘরের ধোঁয়া নারীদের স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করত, আর জল সংগ্রহের কষ্ট ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা। সেই সময় ভারতীয় নারী একটি নতুন সূচনার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক—জীবনের নিরাপত্তা—ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটেছে। দেশে মাতৃমৃত্যুর হার ২১২ থেকে কমে ৮৮-এ নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, যেখানে বিশ্বব্যাপী মাতৃমৃত্যুর হার কমার হার ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত, সেখানে ভারত এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৩৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার মাধ্যমে কোটি কোটি মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। নারীদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দেশে ১২ কোটিরও বেশি গার্হস্থ্য শৌচাগার নির্মিত হয়েছে, যা নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করেছে। ১০.৫ কোটিরও বেশি পরিবার উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা পেয়েছে। একইসঙ্গে ১৬ কোটিরও বেশি পরিবারে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে গেছে, যেখানে ২০১৪ সালে এই সুবিধা ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ পরিবারের কাছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নির্মিত প্রায় ৪ কোটি বাড়ির মধ্যে ৭৩ শতাংশ বাড়ির মালিকানায় নারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা এক নতুন সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। মর্যাদা থেকে এসেছে মালিকানা, আর মালিকানা থেকে জন্ম নিয়েছে আত্মবিশ্বাস। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এই যাত্রা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা তৈরির পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৫৬ কোটি জন-ধন অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারীদের নামে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ব্যবধান প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারত একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। মুদ্রা যোজনার আওতায় প্রদত্ত ৫২ কোটিরও বেশি জামানত-মুক্ত ঋণের ৬৮ শতাংশ নারীদের কাছে পৌঁছেছে। স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নারী উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হয়েছে। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা–জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে লক্ষ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিশাল আর্থিক সম্পদ গড়ে তুলেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ৩ কোটি নারী ‘লখপতি দিদি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রমাণ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ২০১৭-১৮ সালের ২৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪১.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রামীণ অঞ্চলে এই হার আরও বেশি। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার আওতায় কোটি কোটি কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ সঞ্চয় জমা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গ সমতার সূচক একেরও বেশি হয়েছে, যা দেখায় যে মেয়েরা এখন উচ্চশিক্ষায় ছেলেদের সমান বা তারও বেশি অংশগ্রহণ করছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষায়ও ভারতীয় কন্যাদের অংশগ্রহণ বিশ্বের সর্বোচ্চগুলির মধ্যে অন্যতম। নারীদের এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্থান রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নারীদের ভোটদানের হার পুরুষদের ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩১ কোটিরও বেশি নারী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা বিশ্বে নারীদের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রেক্ষাপটেই বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা নারী শক্তি বন্দন আইন সংসদে ঐতিহাসিকভাবে পাস হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূল স্তরে ১৪.৫ লক্ষেরও বেশি নারী জনপ্রতিনিধি পঞ্চায়েত পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুসলিম নারী বিবাহ অধিকার সংরক্ষণ আইন তিন তালাক প্রথার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত একক সহায়তা কেন্দ্রগুলিতে সংকটাপন্ন নারীরা চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ পাচ্ছেন। নারী সহায়তা হেল্পলাইন ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ নারীকে সহায়তা প্রদান করেছে। মিশন শক্তি, মিশন বাৎসল্য এবং সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ির মতো কর্মসূচিগুলি নারী-নেতৃত্বাধীন ভারতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে এই যাত্রা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। নারী ক্ষমতায়নের পথে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এবং সরকার সেগুলি মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবুও আজ একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের নারী আর কেবল উন্নয়নের সুবিধাভোগী নন। তিনি নীতি প্রণয়নের অংশীদার, উন্নয়নের সহ-নির্মাতা এবং রাষ্ট্রগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতীয় নারীরা আজ এমন এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন, যেখানে তাঁদের শক্তি, সক্ষমতা ও অংশগ্রহণই বিকশিত ভারতের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে : রাজ্যপাল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১৮ জুন : রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ দিয়ে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তিনি বলেন, ‘এ বছর বাজেট অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। নতুন রাজ্য সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তোলাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে।’ রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় রাজ্যপাল আর এন রবির বক্তৃতা দিয়ে শুরু হয় অধিবেশন। এই উপলক্ষে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ হবে। অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। রাজ্যপাল এদিন বলেন, কোনও রকম থ্রেট কালচার বরদাস্ত করা হবে না। এদিনের অধিবেশন সূচনা ভাষণে রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। জনবিন্যাস বদল, তোলাবাজি, অত্যাচার, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বেআইনি উচ্ছেদ, সব ক্ষেত্রে রাজ্যের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা।
খান স্যার মানহানি মামলা : সাংবাদিককে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না দিল্লি হাইকোর্ট, পরবর্তী শুনানি ২ জুলাই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ১৮ জুন : বিহারের কোচিং শিল্পকে ঘিরে চলা একের পর এক বিতর্কের আবহে এবার দিল্লি হাইকোর্টে ওঠা মানহানির মামলাতেও নতুন মোড় এল। টেলিভিশন সাংবাদিক অঞ্জনা ওম কাশ্যপের দায়ের করা ২ কোটি টাকার মানহানির মামলায় আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি মেলেনি। খান স্যার এবং আরও এক কোচিং শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আগামী ২ জুলাই মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। বিচারপতি তেজস কারিয়ার নেতৃত্বাধীন অবকাশকালীন বেঞ্চ বুধবার মামলাটি শুনানির পর জানায়, এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২ জুলাই দিন ধার্য করেছে। এর আগে গত ৮ জুন-ও একই মামলায় সাংবাদিকের অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আবেদন খারিজ করেছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি খান স্যার-সহ মামলায় নাম থাকা অন্যান্য কোচিং শিক্ষকদের আদালতে নিজেদের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতে দায়ের করা আবেদনে সাংবাদিকের অভিযোগ, খান স্যার-সহ কয়েকজন কোচিং শিক্ষক সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। সেখানে তাঁকে ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া সাংবাদিক’, ‘চামচা’, ‘দালাল’-সহ একাধিক অবমাননাকর বিশেষণে আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ এবং ‘ভুয়ো খবরের দোকান’ পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিক আদালতকে জানান, এই প্রচারের জেরে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানিই হয়নি, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি সংবাদ চ্যানেলের ‘স্টার টিচার্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে। ওই অনুষ্ঠানে কয়েকটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তিনি ‘অযোগ্য শিক্ষক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর খান স্যার-সহ একাধিক কোচিং শিক্ষক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। এরপর বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ সাংবাদিকের বক্তব্যের সমর্থনে সরব হন, আবার অনেকে তাঁর সমালোচনায় মুখর হন। ক্রমেই বিতর্ক তীব্র আকার নিলে সাংবাদিক এবং তাঁর সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে খান স্যার-সহ একাধিক কোচিং শিক্ষকের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাংবাদিক ও তাঁর সংবাদমাধ্যম ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে বিতর্কিত ভিডিও ও পোস্টগুলির কারণে তাঁদের পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের কোচিং শিল্পকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সংঘাত এবং পাটনার গুলিকাণ্ডের পর থেকে কোচিং জগত বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। সেই আবহেই খান স্যারকে ঘিরে এই মানহানি মামলাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন আদালতের নজর থাকবে অভিযুক্তদের জবাব এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের উপর। আগামী ২ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কদমা উলিয়ানে শ্রী অরবিন্দ সোসাইটির নতুন মেডিটেশন ও যোগ কেন্দ্রের উদ্বোধন
সকাল সকাল ডেস্ক চিত্রদীপ ভট্টাচার্য, জামশেদপুর জামশেদপুরে শ্রী অরবিন্দ সোসাইটির উদ্যোগে কদমা উলিয়ান এ মেডিটেশন সেন্টার ও যোগাভ্যাস কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে শিশু ও প্রবীণদের জন্য যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং পাঠচক্রের আয়োজন করা হবে। সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বুধবার ও শনিবার ভক্তদের অংশগ্রহণে ধ্যান, প্রার্থনা, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং শ্রী অরবিন্দের আদর্শে আধ্যাত্মিক শিক্ষার সুযোগ থাকবে। বুধবার অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রী অরবিন্দ সোসাইটির চেয়ারম্যান পূরবী ঘোষ এবং ভাইস-চেয়ারম্যান কে. প্রভাকর রাও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ধ্যান, ‘সাবিত্রী’ পাঠ এবং যোগাভ্যাসের আয়োজন করা হয়। শেষে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূরবী ঘোষ, কে. প্রভাকর রাও, সুবীর দাস, চৈতালি সৎপতি, সুব্রত কুণ্ডু, দীপঙ্কর রায়, অমিত রায়, সনৎ পাত্র, মানস সৎপতি, অদিতি রায়, সোমালি আদক, হাসি পাত্র, তাপস চক্রবর্তী, শ্রাবণী কুণ্ডু-সহ অন্যান্য সদস্য ও ভক্তবৃন্দ।