পুরুলিয়া বিমানবন্দরের জন্য ₹২ হাজার কোটি বরাদ্দ, দ্রুত কাজ শুরুর দাবি সাংসদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে পুরুলিয়ার বহুদিনের বিমানবন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পরই পুরুলিয়ার ছড়রায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ₹২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত। যুদ্ধ শেষে ধীরে ধীরে সেটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে সেখানে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর তৈরির দাবি উঠলেও বিভিন্ন সময়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনার মধ্যেই প্রকল্প সীমাবদ্ধ ছিল। বামফ্রন্ট ও পরবর্তী তৃণমূল সরকার উভয় আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এবার বাজেটে বরাদ্দের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখনও কয়েকটি প্রযুক্তিগত ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ওএলএস (অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস) সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে একটি রেললাইন এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে থাকা রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি উপলব্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে। প্রকল্প অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১১০০ মিটার দীর্ঘ ওয়ান-বি শ্রেণির রানওয়ে নির্মাণ করা হবে। পরে সেটিকে ১৭০০ মিটার দীর্ঘ টু-সি শ্রেণির রানওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত হবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন, দমকল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ জলাধারসহ আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো রানওয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই নতুন করেই আধুনিক মানের রানওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিম দেবে রাজ্য, জল্পনায় ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল চালুর সিদ্ধান্ত ঘিরে ডিম থাকবে কি না, সেই বিতর্কের অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিড-ডে মিলের পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের জন্য ২৯৬ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু হবে। তবে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলে আলাদা করে ডিম বিতরণ করা হবে, যাতে পড়ুয়াদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। এর আগে রাজ্য বাজেটে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা হতেই শিক্ষামহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেকের আশঙ্কা ছিল, নিরামিষভোজী সংস্থা দায়িত্ব পাওয়ায় স্কুলের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ পড়তে পারে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। আদালত বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামাও তলব করেছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছিল স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেছিলেন, নিরামিষ খাবারেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ডিম খাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ডিম বাদ পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। তবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই জল্পনার কার্যত অবসান ঘটেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, মিড-ডে মিলের মূল খাবার ইসকনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। তাই আলাদা ব্যবস্থায় নিয়মিত ডিম দেওয়া হবে। ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিচালনার সিদ্ধান্তও কার্যকর হবে।
বিশ্ব ওআরএস দিবসে শিয়ালদহ স্টেশনে সচেতনতা শিবির, যাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওআরএস বিতরণ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বিশ্ব ওআরএস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্ব রেলের উদ্যোগে বুধবার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হল বিশেষ জনসচেতনতা কর্মসূচি। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওষ্করের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং ডিহাইড্রেশন মোকাবিলায় ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস)-এর গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বি. আর. সিং হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে শিয়ালদহের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সম্পাদক ড. মিহির সরকার, অধ্যাপক ড. দিব্যেন্দু রায় চৌধুরী, শিয়ালদহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এসিএমএস ড. সঞ্জীব চৌধুরী-সহ একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়রিয়া হলে দ্রুত ওআরএস খাওয়ানো, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্ষাকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে বলে প্রতিটি পরিবারের কাছে ওআরএস প্যাকেট মজুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিয়ালদহ স্টেশনের শত শত যাত্রীর হাতে বিনামূল্যে ওআরএস প্যাকেট এবং সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা যাত্রীদের ওআরএস তৈরির সঠিক পদ্ধতি, ব্যবহারের নিয়ম এবং ডিহাইড্রেশনের বিপজ্জনক লক্ষণ সম্পর্কে হাতে-কলমে বোঝান। পাশাপাশি, গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সচেতন করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে স্টেশনের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডেও স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হয়। স্বাস্থ্যকর্মী, রেল আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রেল স্টেশনে এই ধরনের জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রতিদিনের বিপুল সংখ্যক যাত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে পূর্ব রেল ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
‘খালি হাতে আসব, তা হয় নাকি!’ ভবানী ভবনে পুলিশের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার ভবানী ভবনে পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের বেতন, ভাতা, নিয়োগ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত ক্ষোভ দূর করতে তিনি একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, এটা হয় নাকি? পরে আরও দেব, ভালভাবে কাজ করুন।” সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণে উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরদার করার কথা জানান তিনি। আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদ দ্রুত পূরণের পথও এখন পরিষ্কার হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৪ হাজার কনস্টেবলকে দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পুলিশকর্মীদের আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই তা দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ–র ব্যবধান কমাতে আগামী অক্টোবর মাস থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে, যা পুজোর মাস থেকেই কার্যকর হবে। রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) আদলে গঠন করা হবে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাবিহীন যানবাহন পর্যায়ক্রমে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হবে। এছাড়া গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ–এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।কর্মীদের বদলি নীতিতেও আনা হচ্ছে মানবিক পরিবর্তন। মহিলা কনস্টেবলদের নিজ জেলায় এবং মহিলা আধিকারিকদের পার্শ্ববর্তী জেলায় পোস্টিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় নিজ জেলা থেকে বাইরে কর্মরত পুলিশকর্মীদেরও পর্যায়ক্রমে স্বজেলায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসা, ক্রীড়া সুবিধা এবং কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণে একটি অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করা হবে। একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও ফের চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত, হাইকোর্টের নির্দেশের মাঝেই অভিষেককে ঘিরে নতুন অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন নিয়ে নতুন মোড়। কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। একই সময়ে তাঁর জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বিধানসভা ভোটের আগে অভিষেকের ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেই শুনানিতে তাঁর আইনজীবীরা চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চান। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিদেশে চিকিৎসার আবেদন বিবেচনার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে চিকিৎসা করাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানাবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা রাজ্যে বা দেশে সম্ভব কি না। সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই বিদেশে চিকিৎসার আবেদন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরই মধ্যে অভিষেকের জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সমাজসংস্কারক ও হুইসেল-ব্লোয়ার বলে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আদালতে পেশ করা মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর থাকলেও তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ সালের ৩১৮, ৩৩৬, ৩৩৮ এবং ৩৪০ ধারায় এফআইআর দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মেডিক্যাল নৈতিকতা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে এবং সার্টিফিকেটের সত্যতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ এবং অন্যদিকে মেডিকেল কাউন্সিলে জমা পড়া অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার আবেদনকে নতুন করে জটিলতার মুখে ফেলেছে। এখন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের রিপোর্ট এবং অভিযোগের তদন্ত— এই দুই দিকের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পথে বাংলা, ধৃতদের মুক্তির সিদ্ধান্ত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও অসম সরকারের পদক্ষেপের পর এবার বাংলাতেও প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল এবং ধৃতদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। নিট আন্দোলন ঘিরে একাধিক রাজ্যে পুলিশি ধরপাকড়ের ঘটনায় সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কড়া বার্তা দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের দেওয়া আশ্বাসের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় সংগঠনটি। সিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অযথা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নেতা অভিজিৎ দীপক জানান, গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবারের মধ্যে ধৃতদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার আন্দোলনকারীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পরে অসম সরকারও বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নিট আন্দোলন সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়। কলকাতায় গত শুক্রবার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ চলাকালীন ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত হন। এই ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মিছিলে বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতী ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে পুলিশ এমন অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সাংবাদিক নিগ্রহ ও ভাঙচুর সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলি যথারীতি চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের অযথা হেফাজতে না রেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলায় তিন নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পুরুলিয়ায় দু’টি, ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের আশা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি গড়ে উঠবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এবং সেগুলি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার সাঁওতালডিহি এলাকায় তৈরি হবে। তৃতীয় কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে পশ্চিমবঙ্গ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিপিডিসিএল), যা হবে বীরভূমের বক্রেশ্বরে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পিপিপি মডেলের দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। ইতিমধ্যেই আগ্রহী সংস্থাগুলির কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে, বক্রেশ্বরে ডব্লিউবিপিডিসিএলের প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৮০০ মেগাওয়াট। রাজ্য সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো অনেক সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি পৌঁছে যায়। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং ডব্লিউবিপিডিসিএল মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য এনটিপিসি, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) এবং অনেক সময় খোলা বাজার থেকেও বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সেই নির্ভরতা কমিয়ে রাজ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই তিনটি বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
নিট আন্দোলনে ভাঙচুর মামলায় আরও ২ গ্রেফতার, মোট ধৃত ১৬; ধর্মতলায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় পুলিশের তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। সোমবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ধৃতদের একজনকে গার্ডেনরিচ এবং অন্যজনকে পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এদিন ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের খালি পায়ে ঘটনাস্থলে ঘুরিয়ে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ যাচাই করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভাঙচুর, হামলা এবং অশান্তির সময় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা নির্ধারণ করতেই এই পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পার্ক সার্কাসের কড়েয়া এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াকার আজম এবং গার্ডেনরিচ সংলগ্ন নাদিয়াল এলাকার ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, গত শুক্রবারের বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি ও ভাঙচুরে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে মহম্মদ আফরোজও ছিলেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন, আফরোজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর সঙ্গে আরও চারজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র নন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সদস্যও নন। নিট আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলেও প্রশাসনের দাবি। বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, যাঁদের পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় সম্প্রতি কার্যকর হওয়া গুন্ডাদমন আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে দুষ্কৃতীরা দীর্ঘদিন তার প্রভাব মনে রাখে। উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এসএফআই-সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন কলকাতায় মিছিলের ডাক দেয়। পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও পৃথক কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মধ্যেই ভাঙচুর, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, জুতো ও বোতল নিক্ষেপ এবং পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
সিকিম টানেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে ২১ লক্ষ টাকা সহায়তা, চাকরির ঘোষণা; পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক আর্থিক ও পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান, মানবিক দায়িত্ব থেকেই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিকিমের দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের জন্য কেন্দ্র, রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মোট ২১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা, সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ঠিকাদার সংস্থা ‘প্যাটেল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তরফে যৌথভাবে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাতজনকে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে এবং শারীরিক যোগ্যতার নির্দিষ্ট মান পূরণ করতে না পারা চারজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি কোনও গাফিলতির ঘটনা নয়, বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ঘটনার পর থেকেই সিকিম সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। দ্রুত বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, উত্তরবঙ্গের আইজি এবং স্থানীয় বিধায়ককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভারতীয় সেনা, সিকিম প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। এদিন তিনি রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সরকার শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে ভিনরাজ্যে না গিয়ে বাংলাতেই ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, নতুন শিল্প স্থাপন, কারখানায় কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরির সুযোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবিন্যস্ত শ্রমিকদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজ, দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আরও জোরদার করার কথাও জানান। স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে বলে জানান তিনি। রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’ চালুর কথাও ঘোষণা করেন। উত্তরবঙ্গের শিল্পোন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহে আম ও লিচু, উত্তরবঙ্গে মাখানা, আনারস, ভুট্টা ও তুলাইপাঞ্জি চালকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘আমূল’-এর আইসক্রিম কারখানার জন্য জমি বরাদ্দ এবং বন্ধ চা বাগান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ৩৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথাও জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের একাধিক বন্ধ চা বাগান ফের চালু হবে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরেই রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
নীল-সাদা অতীত! এবার দৃশ্যমান গেরুয়া রঙে লেখা ‘নবান্ন’
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ২৭ জুলাই : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস পর প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে শুরু হয়েছে দৃশ্যমান পরিবর্তনের কাজ। এতদিন ভবনের গায়ে নীল-সাদা রঙে লেখা থাকা ‘নবান্ন’ নামটি এবার গেরুয়া রঙে রাঙানো হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকেই ভবনের সামনে কর্মীদের পুরনো রঙ মুছে নতুন রঙ করার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তার মধ্যেই ধাপে ধাপে রং করার কাজ চলছে। নবান্ন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের দফতর এই ভবনেই অবস্থিত। ফলে ভবনের বাহ্যিক পরিচয়ে এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এই রঙ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি নতুন সরকারের প্রতীকী বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই পরিবর্তনের তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সোমবার ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া বহু সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনের কাজ প্রত্যক্ষ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি বন্দি করেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ গেরুয়া রঙে ‘নবান্ন’ নামটি ভবনের গায়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। এই পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ভবনে আরও কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।