‘বদলার রাজনীতি নয়, বাংলায় বদলেছে শাসনব্যবস্থা’, শিলিগুড়ির মঞ্চে প্রথম ১০৫ দিনের খতিয়ান শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক মুখের পরিবর্তন হয়নি, বদল আনা হয়েছে গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থায়— শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকারের লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং সংবিধান মেনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে সময় বাংলায় ‘শাসকের আইন’ চলার অভিযোগ তুলেছিল, সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। সরকারের প্রথম কয়েক দিনের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ মে রবিবার থাকায় পরদিন, ১১ মে সচিবালয়ে গিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন। প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ফাইলে সই করেন তিনি। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে জনগণনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে জনগণনার কাজ আটকে রেখেছিল। মুখ্য সচিবকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা–সহ নতুন আইনি ব্যবস্থাকে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরকারের ১০৫ দিনের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু চারটি মূল নীতির কথাও বলেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমে আপস না করা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানববাদ’-এর আদর্শে জনকল্যাণ এবং কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। শিলিগুড়ির ‘ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনী’র কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইন কলেজের পড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্ম যাতে দেশের নতুন ফৌজদারি আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সহজে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেষে পশ্চিমবঙ্গকে ফের দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে কেন্দ্রের সহযোগিতার জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, নতুন সরকারের পথ ‘বদলা’ নয়— প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা।
নতুন চার মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে সুমিত রায়; জরুরি শুনানিতে সায় নয়
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১২ আগস্ট: একের পর এক মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন চারটি মামলায় গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাগুলির জরুরি শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল। তবে বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই আর্জিতে সায় দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, মামলাগুলিকে তালিকার শীর্ষে এনে এখনই শুনানি করা সম্ভব নয়। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সিআইডি একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। সেই সুরক্ষার ভিত্তিতে ভবানী ভবনে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন। তবে ওই দুটি মামলার বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ায় ফের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীদের। বুধবার সুমিতের আইনজীবী নতুন মামলাগুলিতে রক্ষাকবচের আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য তালিকার একেবারে উপরে তোলার আর্জি জানান। যুক্তি দেওয়া হয়, গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকায় জরুরি ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতি জানান, এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিয়ে মামলাটি শোনা সম্ভব নয়। ফলে আপাতত নতুন চারটি মামলায় তাৎক্ষণিক আইনি সুরাহা পেলেন না সুমিত। তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক হওয়ার কারণেই সুমিতকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই একের পর এক এফআইআর করা হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করেছেন তাঁরা। বিষ্ণুপুর থানা এবং কালীতলা আসুতি থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে অভিষেকের পাশাপাশি সুমিতের নামও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুধু রক্ষাকবচ নয়, নতুন চারটি এফআইআর বাতিলের দাবিতেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে পৃথক আবেদন করেছেন সুমিত। ফলে একদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মামলাগুলির বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এদিকে শালবনির সরকারি জমি বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় বুধবারও সুমিতকে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই মামলায় অবশ্য তাঁর রক্ষাকবচ রয়েছে। ফলে তদন্তে সহযোগিতা করলেও সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু নতুন চারটি মামলায় একই ধরনের সুরক্ষা না থাকায় তাঁর আইনজীবীরা গ্রেফতারির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। হাইকোর্ট জরুরি শুনানিতে সায় না দেওয়ায় আপাতত নতুন মামলাগুলিতে সুমিতের আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন ঝুলেই রইল। পরবর্তী শুনানিতে রক্ষাকবচ এবং এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
বাংলার এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশ, কত আপিলের নিষ্পত্তি জানতে কমিশনের কাছে হিসাব তলব
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির গতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, এখনও পর্যন্ত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট জানান, শুধু আপিল দায়েরের সংখ্যা জানালেই হবে না, সেগুলির মধ্যে কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী গতিতে কাজ চলছে, সেটিও আদালত জানতে চায়। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কেউ সরকারি সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেই বিষয়টি বর্তমান মামলার আওতায় বিবেচনা করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেকেই পিডিএস সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আদালত অবশ্য জানায়, বর্তমান মামলার মূল বিচার্য বিষয় ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আপিলের নিষ্পত্তির সংখ্যা ও গতি। কার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে বা বাদ গিয়েছে, তা এই মামলার মূল বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু আবেদন করেন, মামলাটি ২৫ অগস্টের অনুরূপ মামলাগুলির সঙ্গে একত্রে শুনানি করা হোক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। অধীররঞ্জনের অভিযোগ, কমিশনের খামখেয়ালিপনার কারণে বাংলায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমান গতিতে সমস্ত আপিল নিষ্পত্তিতে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও তাঁর দাবি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ব্লক–ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার নজর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান এবং ২৫ অগস্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।
ক্ষুদিরামের ভিটে ঘিরে মিউজিয়াম-গবেষণাকেন্দ্র, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট : স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮–তম আত্মবলিদান দিবসে বীর বিপ্লবীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের জন্মভিটেতে পৌঁছে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সকালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হলেও, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে দুপুরেই তিনি মোহবনিতে হাজির হন। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম এত বিপুল সমারোহে ১১ আগস্ট শহিদ ক্ষুদিরামের মৃত্যুদিবস পালিত হলো। এদিনের স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মহান শহিদের স্মৃতিরক্ষার উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটেকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম) ও আর্ট গ্যালারি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক লেজার শো-র আয়োজন। ক্ষুদিরাম বসু তথা অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের জন্য সেখানে আধুনিক আবাসন ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মোহবনি উন্নয়ন বোর্ড’-কে ৫ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরো কাজ দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, ‘শুভেন্দুজি, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন আসছে। তাঁর আত্মবলিদান থেকে আমাদের সকলেরই শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। আপনি কি তাঁকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছেন?’ আমি তাঁকে জানাই যে ১১ আগস্ট আমি নিজে কেশপুরে ক্ষুদিরামের বাসভবনে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করব। তিনি আমার এই উদ্যোগকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেন।” আজকের তরুণ সমাজকে বিপ্লবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খেদ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পাঠ্যক্রমে মাত্র চার লাইনে আটকে রাখা হয়েছে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের অবদানকে। এটা হতে দেওয়া যায় না। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সর্বস্তরে তাঁর মহান ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য আমি শিক্ষাদফতরের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি।” অবিভক্ত মেদিনীপুরের বৈপ্লবিক ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে ক্ষুদিরাম বসু— একের পর এক বীর বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে মেদিনীপুরের মাটি। ঘরে ঘরে তাঁদের পুজো করা উচিত। আজ যাঁরা দেশকে অসম্মান করছেন এবং চার পাশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে ক্ষুদিরামের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে গ্রেফতার, জানালো সিআইডি
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১০ আগস্ট : ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে-কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। রাঁচিতে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সিআইডি জানিয়েছে, প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার বিষয়ে সিবিআই-এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জেপিএসসি ও জেএসএসসি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। ‘ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন’-এর (জেপিএসসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান হলেন এল খিয়াংতে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মধ্যেই খিয়াংতের গ্রেফতারিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন খিয়াংতে। প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার সকালে ‘বিধানসভা মার্চ’ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরীক্ষায় তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে পড়ুয়াদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। জাতীয় পতাকা, পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নতুন বিধানসভা ভবনের দিকে এগোতে থাকে। পড়ুয়াদের রুখতে পুরনো বিধানসভার কাছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছিল পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে থাকে। চতুর্থ ব্যারিকেডটিও পার করে পড়ুয়ারা বিধানসভা থেকে মাত্র ১০০ মিটারের দূরত্বে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতে এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভকারীদের থামাতে জলকামানও ব্যবহার করে।
হামিম মণ্ডল মামলায় তদন্তে নতুন মোড়, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ৪ আগস্ট : সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এসটিএফ সূত্রের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখার দায়িত্ব হামিমের ওপর ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই সে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর চিনার পার্কের বাসভবনের আশপাশে গিয়ে রেকি করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে তার গতিবিধির সঙ্গে এই তথ্যের মিল পাওয়া গিয়েছে। প্রথমদিকে সে অভিযোগ অস্বীকার করলেও, জেরার সময় চিনার পার্ক এলাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের কয়েকটি রুটে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই মামলায় হামিম ছাড়াও অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির চক্রের যোগাযোগ ছিল। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুলিশের আরও দাবি, অর্পিতা সরকারকে তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হতো। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ধৃতদের ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে সম্ভাব্য নাশকতার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টুলু মণ্ডল কাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড়, উদ্ধার ডায়েরিতে আধিকারিকদের নাম
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ৪ আগস্ট : বীরভূমের আলোচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি করল জেলা পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এ পর্যন্ত এই মামলায় প্রায় ২২০ কোটি টাকা মূল্যের নগদ অর্থ ও সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া টুলুর ব্যবসার ম্যানেজার সিতেশ প্রামাণিকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে সিতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে আদালত সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিতেশের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। ওই ডায়েরিতে একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পাশাপাশি, নকল ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রসিদ) ছাপানোর একটি মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, এই ভুয়ো ডিসিআর ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর পরিবহন ও পাচার চালানো হতো। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্র পরিচালনায় পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া ডায়েরির তথ্যের ভিত্তিতে সেই সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা পুলিশের দাবি, টুলু মণ্ডল বর্তমানে বিদেশে থাকলেও সেখান থেকেই নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছিল। একই সঙ্গে তদন্তে উঠে এসেছে যে ভুয়ো ডিসিআর চক্র এখনও সক্রিয় থাকতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদবাজার থানার এলাকায় পাথরবোঝাই একটি ডাম্পারের নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে ভূমি ও রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা ভুয়ো ডিসিআর ব্যবহারের বিষয়টি ধরতে পারেন। চালকের দেওয়া ডিসিআর নম্বর সরকারি নথির সঙ্গে মিল না থাকায় দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদবাজার থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই মামলাতেও টুলু মণ্ডলকে অভিযুক্ত করা হতে পারে। এর আগে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের ফলে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। টুলু মণ্ডল ও তাঁর আত্মীয় মিনারের বিভিন্ন ঠিকানা থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং অন্যান্য সম্পত্তির বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছিল। জেলা পুলিশের দাবি, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
হামিমের পর গ্রেফতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা, পাকিস্তান থেকে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর নির্দেশের অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) যোগের অভিযোগে হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পর এবার রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ধরা পড়লেন তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকার। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে টাওয়ার লোকেশন, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ডিজিটাল সূত্রের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় এটি দ্বিতীয় গ্রেফতার। এসটিএফ সূত্রে দাবি, তদন্তে এমন কিছু তথ্য মিলেছে যা থেকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং শাহজাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে অর্পিতার যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও অপহরণ বা হামলার ঘটনা বাস্তবে ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সেই দিকটি খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামিম ও অর্পিতা এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ গ্রহণ করতেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার অর্পিতাকে আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এসটিএফ। এর আগে শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন নিউটাউন এলাকাতেও ভাড়া থাকতেন। এসটিএফের প্রাথমিক অনুমান, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রুট-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানের রেইকি করেছিলেন তিনি। গাড়ির চলাচল, নম্বর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু তিনিই নন, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও জঙ্গিদের নজরে ছিলেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। এসটিএফ জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথিপত্র ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। অর্পিতার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগ, সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ‘হানি ট্র্যাপ’ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।
অনলাইনে জনগণনার ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক নয়, সরকারি প্রকল্প থেকেও নাম কাটা হবে না
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: অনলাইনে জনগণনার স্ব-গণনা (সেলফ এনুমারেশন) ফর্ম পূরণ না করলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বা নাম কেটে দেওয়া হবে—এমন গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয় এবং এর সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের কোনও যোগ নেই। শনিবার বিধাননগরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ব-গণনা প্রক্রিয়ার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে চান, তাঁরা স্বেচ্ছায় তা করতে পারবেন। তবে যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না বা করতে ইচ্ছুক নন, তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না। আগামী ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। যাঁরা অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করবেন, তাঁরা একটি বিশেষ আইডি পাবেন। গণনাকারীরা বাড়িতে গেলে সেই আইডি দেখালেই হবে। অন্যদিকে, যাঁরা অনলাইনে অংশ নেবেন না, তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন সরকারি আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য রাজ্যবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সকলকে স্বেচ্ছায় স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এছাড়াও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জনগণনায় সংগৃহীত সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। তাঁর কথায়, এই তথ্য শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হবে। কোনও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অনলাইনে ফর্ম পূরণ না করলেও জনগণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হবে না এবং সরকারি পরিষেবা বা প্রকল্পের সুবিধাতেও তার কোনও প্রভাব পড়বে না।
রাজ্যের সরকারি স্কুলে ইসকনের মিড-ডে মিল, মেগা কিচেনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১ আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক মেগা কিচেনের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। উদ্বোধনের আগে মুখ্যমন্ত্রী ইসকন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষ যজ্ঞে অংশ নেন। পরে তিনি মেগা কিচেন ঘুরে দেখেন এবং নিজে হাতে মিড-ডে মিল প্রস্তুতির কাজেও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁরা রান্নাঘরের আধুনিক পরিকাঠামো, খাদ্য প্রস্তুতির পদ্ধতি এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে পাঁচটি সরকারি স্কুলের ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে দ্রুত খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবুজ পতাকা দেখিয়ে তিনি ওই গাড়িগুলিকে যাত্রা শুরু করান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে মিড-ডে মিল পরিষেবা আরও সুসংগঠিত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সরকারের কাজ আরও শক্তিশালী হবে। ইসকনের সমস্ত আধিকারিক, প্রচারক এবং সহযোগীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং তাদের পুষ্টির মান উন্নত করার লক্ষ্যেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী মিড-ডে মিল প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শিশুদের আরও উন্নতমানের ও সুষম খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ইসকনের আগমনে রাঁধুনিদের কাজ চলে যাবে—এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও রাঁধুনী মা, দিদি বা বোনের চাকরি যাবে না। তাঁদের রান্না ও খাবার বিতরণের পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে রাঁধুনিরা মাসে ২,০০০ টাকা ভাতা পেতেন। বর্তমান সরকার চলতি অগস্ট মাস থেকে সেই ভাতা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করেছে। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার মাত্র ১১ সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নিয়েছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, রাজ্যবাসী যদি তাঁকে আরও এক বছর সময় দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টির প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে পিএম পোষণ প্রকল্পে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করে দুধ, ফল, পনির ও উন্নতমানের খাদ্য সরবরাহ করছে। সেই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গেও শিক্ষার্থীদের আরও উন্নত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বক্তৃতার শেষে বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে শুধু রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন ঘটেনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের পরিষেবা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।