নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পথে বাংলা, ধৃতদের মুক্তির সিদ্ধান্ত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও অসম সরকারের পদক্ষেপের পর এবার বাংলাতেও প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল এবং ধৃতদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। নিট আন্দোলন ঘিরে একাধিক রাজ্যে পুলিশি ধরপাকড়ের ঘটনায় সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কড়া বার্তা দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের দেওয়া আশ্বাসের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় সংগঠনটি। সিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অযথা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নেতা অভিজিৎ দীপক জানান, গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবারের মধ্যে ধৃতদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার আন্দোলনকারীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পরে অসম সরকারও বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নিট আন্দোলন সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়। কলকাতায় গত শুক্রবার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ চলাকালীন ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত হন। এই ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মিছিলে বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতী ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে পুলিশ এমন অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সাংবাদিক নিগ্রহ ও ভাঙচুর সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলি যথারীতি চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের অযথা হেফাজতে না রেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলায় তিন নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পুরুলিয়ায় দু’টি, ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের আশা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি গড়ে উঠবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এবং সেগুলি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার সাঁওতালডিহি এলাকায় তৈরি হবে। তৃতীয় কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে পশ্চিমবঙ্গ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিপিডিসিএল), যা হবে বীরভূমের বক্রেশ্বরে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পিপিপি মডেলের দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। ইতিমধ্যেই আগ্রহী সংস্থাগুলির কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে, বক্রেশ্বরে ডব্লিউবিপিডিসিএলের প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৮০০ মেগাওয়াট। রাজ্য সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো অনেক সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি পৌঁছে যায়। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং ডব্লিউবিপিডিসিএল মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য এনটিপিসি, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) এবং অনেক সময় খোলা বাজার থেকেও বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সেই নির্ভরতা কমিয়ে রাজ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই তিনটি বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
নিট আন্দোলনে ভাঙচুর মামলায় আরও ২ গ্রেফতার, মোট ধৃত ১৬; ধর্মতলায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় পুলিশের তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। সোমবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ধৃতদের একজনকে গার্ডেনরিচ এবং অন্যজনকে পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এদিন ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের খালি পায়ে ঘটনাস্থলে ঘুরিয়ে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ যাচাই করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভাঙচুর, হামলা এবং অশান্তির সময় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা নির্ধারণ করতেই এই পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পার্ক সার্কাসের কড়েয়া এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াকার আজম এবং গার্ডেনরিচ সংলগ্ন নাদিয়াল এলাকার ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, গত শুক্রবারের বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি ও ভাঙচুরে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে মহম্মদ আফরোজও ছিলেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন, আফরোজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর সঙ্গে আরও চারজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র নন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সদস্যও নন। নিট আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলেও প্রশাসনের দাবি। বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, যাঁদের পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় সম্প্রতি কার্যকর হওয়া গুন্ডাদমন আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে দুষ্কৃতীরা দীর্ঘদিন তার প্রভাব মনে রাখে। উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এসএফআই-সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন কলকাতায় মিছিলের ডাক দেয়। পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও পৃথক কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মধ্যেই ভাঙচুর, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, জুতো ও বোতল নিক্ষেপ এবং পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
সিকিম টানেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে ২১ লক্ষ টাকা সহায়তা, চাকরির ঘোষণা; পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক আর্থিক ও পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান, মানবিক দায়িত্ব থেকেই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিকিমের দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের জন্য কেন্দ্র, রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মোট ২১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা, সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ঠিকাদার সংস্থা ‘প্যাটেল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তরফে যৌথভাবে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাতজনকে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে এবং শারীরিক যোগ্যতার নির্দিষ্ট মান পূরণ করতে না পারা চারজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি কোনও গাফিলতির ঘটনা নয়, বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ঘটনার পর থেকেই সিকিম সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। দ্রুত বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, উত্তরবঙ্গের আইজি এবং স্থানীয় বিধায়ককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভারতীয় সেনা, সিকিম প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। এদিন তিনি রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সরকার শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে ভিনরাজ্যে না গিয়ে বাংলাতেই ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, নতুন শিল্প স্থাপন, কারখানায় কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরির সুযোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবিন্যস্ত শ্রমিকদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজ, দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আরও জোরদার করার কথাও জানান। স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে বলে জানান তিনি। রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’ চালুর কথাও ঘোষণা করেন। উত্তরবঙ্গের শিল্পোন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহে আম ও লিচু, উত্তরবঙ্গে মাখানা, আনারস, ভুট্টা ও তুলাইপাঞ্জি চালকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘আমূল’-এর আইসক্রিম কারখানার জন্য জমি বরাদ্দ এবং বন্ধ চা বাগান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ৩৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথাও জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের একাধিক বন্ধ চা বাগান ফের চালু হবে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরেই রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
নীল-সাদা অতীত! এবার দৃশ্যমান গেরুয়া রঙে লেখা ‘নবান্ন’
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ২৭ জুলাই : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস পর প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে শুরু হয়েছে দৃশ্যমান পরিবর্তনের কাজ। এতদিন ভবনের গায়ে নীল-সাদা রঙে লেখা থাকা ‘নবান্ন’ নামটি এবার গেরুয়া রঙে রাঙানো হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকেই ভবনের সামনে কর্মীদের পুরনো রঙ মুছে নতুন রঙ করার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তার মধ্যেই ধাপে ধাপে রং করার কাজ চলছে। নবান্ন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের দফতর এই ভবনেই অবস্থিত। ফলে ভবনের বাহ্যিক পরিচয়ে এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এই রঙ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি নতুন সরকারের প্রতীকী বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই পরিবর্তনের তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সোমবার ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া বহু সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনের কাজ প্রত্যক্ষ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি বন্দি করেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ গেরুয়া রঙে ‘নবান্ন’ নামটি ভবনের গায়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। এই পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ভবনে আরও কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেবঘরে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা, ৩০ জুলাই থেকে বাড়ছে রেল পরিষেবা
সকাল সকাল ডেস্ক ধানবাদ, ২৬ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের দেবঘরে বসবে বিশ্বখ্যাত শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর এই সময় বাবা বৈদ্যনাথ ধামে জলাভিষেক করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল একাধিক ‘শ্রাবণ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রবিবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে রাঁচি-ভাগলপুর শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা। রেল সূত্রে জানা গেছে, রাঁচি ও ভাগলপুরের মধ্যে দুটি জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। একটি ট্রেন বোকারো, গোমো, কোডারমা ও তিলাইয়া হয়ে চলবে, অন্যটি বরকাকানা ও হাজারিবাগ টাউন রুট ব্যবহার করবে। দুটি ট্রেনই সুলতানগঞ্জ হয়ে ভাগলপুর পৌঁছাবে, যাতে বৈদ্যনাথ ধামে যাওয়া পুণ্যার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল ট্রেনে একটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, সাতটি শয়নযান এবং সাতটি সাধারণ শ্রেণির কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে মহারাষ্ট্রের ইতওয়ারি থেকে মধুপুর পর্যন্ত আরও একটি শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই ট্রেন রাঁচি, বোকারো, চন্দ্রপুরা, কাত্রাস এবং ধানবাদ হয়ে যাতায়াত করবে। এতে চারটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, ১০টি শয়নযান এবং চারটি সাধারণ কোচ থাকবে। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল (০৮৬৯০) আগামী ২৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি রবিবার ও বুধবার চলবে। রাঁচি থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে বোকারো, চন্দ্রপুরা ও গোমো হয়ে পরদিন সকালে সুলতানগঞ্জ ও ভাগলপুর পৌঁছাবে। ভাগলপুর-রাঁচি স্পেশাল (০৮৬৮৯) ২৭ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলবে। ভাগলপুর থেকে সকালে ছেড়ে সুলতানগঞ্জ, গোমো, চন্দ্রপুরা ও বোকারো হয়ে রাতে রাঁচিতে পৌঁছাবে। এছাড়া ইতওয়ারি-মধুপুর স্পেশাল (০৮৮৯৫) ১ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি শনিবার চলবে। ফেরার পথে মধুপুর-ইতওয়ারি স্পেশাল (০৮৮৯৬) ২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি রবিবার চলবে। শ্রাবণী মেলার সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে যশিডিহ স্টেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পাঁচ মিনিটের বিশেষ বিরতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, জন শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং বাবা বৈদ্যনাথ এক্সপ্রেসসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি স্টপেজের ফলে শ্রাবণী মেলায় আগত লক্ষাধিক ভক্তের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান ইস্যুতে কড়া বার্তা শমীকের, পাল্টা তোপ কুণালের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দেশবিরোধী স্লোগান এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘ ধ্বনি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এই ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মিছিলে কেউ যদি ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে‘ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘র মতো স্লোগান তোলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে, তবে দেশবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো চলবে না। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এর পিছনে কিছু রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বিস্ফোরিত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, এমন ঘটনায় পুলিশই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সাধারণ মানুষই আইন প্রয়োগ করতে নামে, তবে পুলিশের ভূমিকা কী? ‘আজাদি‘ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। একদিকে বিজেপি দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ধর্মঘট, ভোগান্তির আশঙ্কায় কলকাতা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই বড় ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন কলকাতার সাধারণ মানুষ। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিটু (CITU)। ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে যাতায়াতকারীসহ হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ওলা, উবার-সহ বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। সিটুর দাবি, অ্যাপ ক্যাব চালকদের দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। সেই কারণেই ১১ দফা দাবিকে সামনে রেখে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, এসি লাক্সারি ক্যাবের ভাড়া বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কাজে ব্যক্তিগত বাইক বা গাড়ির ব্যবহার বন্ধ, কলকাতায় সিএনজি-র সংকট দ্রুত দূর করা এবং বাণিজ্যিক গাড়ির দূষণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর ব্যবহারের নিয়ম বাতিল করা। ধর্মঘটের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১১টায় মৌলালির রামলীলা পার্কে অ্যাপ ক্যাব চালকদের জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে চালকেরা মিছিল করে পরিবহণ দফতরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সরকারের কাছে তাঁদের ১১ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সিটু নেতৃত্বের দাবি, এই দাবিগুলি নতুন নয়। আগের সরকারের কাছেও বারবার বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারের কাছেও একই দাবিগুলি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কার্যকর সমাধান না মেলায় আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে শহর ও শহরতলির মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা। দিন-রাত যেকোনও সময়ে সহজে গাড়ি পাওয়ার সুবিধার কারণে এর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। তবে চালকদের অভিযোগ, যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাঁদের আয়, জ্বালানি, কমিশন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যার বোঝা ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণেই নিজেদের দাবি আদায়ে একদিনের এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট সফল হলে সোমবার কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চায়েত আইনে বড় সংশোধন, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের পদত্যাগ বা অনাস্থায় বসতে পারেন প্রশাসক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পঞ্চায়েত স্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণপদত্যাগ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলে বা অনাস্থার জেরে বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলাশাসক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একসঙ্গে পদত্যাগ করলে জেলাশাসক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। প্রশাসক বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রধান, উপ-প্রধান এবং নির্বাচিত বোর্ডকে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। সংশোধিত আইনে প্রধান ও উপ-প্রধানকে অপসারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি প্রধান বা উপ-প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা তাঁদের বিরুদ্ধে বিধিসম্মত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতের কাজ আটকে থাকার সুযোগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক প্রশাসনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন পঞ্চায়েতের চেকে নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী হিসেবে প্রধানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো। সংশোধিত আইনে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব নির্বাহী সহায়ক গ্রাম পঞ্চায়েতের সভার সামনে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া প্রধান বা উপ-প্রধান টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে জেলাশাসক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারবেন। গ্রাম সভার কার্যক্রমেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনার জন্য প্রধানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পঞ্চায়েতের যে কোনও সদস্যকে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে বৈঠক পরিচালনা করা যাবে। সরকারের মতে, এই সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই সংশোধনী নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ধর্মতলা কাণ্ডে আরও গ্রেফতার, অভিযুক্তদের নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, পুলিশের উপর হামলা এবং সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে কলকাতা পুলিশ। রবিবার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ছাত্র নন, বরং তাঁদের একাংশ ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলার বিক্ষোভ চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী পুলিশের দিকে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছুড়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। সেই সময় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হন। পরে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি-সহ মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যেমন খারিজি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তদন্ত, ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা, পশু আইন ও সাউন্ড পলিসি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষুব্ধ কিছু গোষ্ঠী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলা কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা পরিকল্পিত উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে।