কান্তকবি রজনীকান্ত সেনঃ বাংলার কাব্য ও সঙ্গীত জগতে একটি অবিস্মরণীয় নাম
সকাল সকাল ডেস্ক তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে,তব পূণ্যকিরণ দিয়ে যাক, মোর মোহ কালিমা ঘুচায়ে।উপরিউক্ত গানটির বর্ণে বর্ণে ঈশ্বর প্রেমের ভাবনা পরিস্ফুট। কবি ঈশ্বরের কাছে তাঁর মনের গোপনে নিভৃত ভবনে লুকিয়ে থাকা গভীর আকুতি গানের মাধ্যমে ব্যক্ত করার অনবদ্য প্রয়াস করেছেন। তিনি তাঁর করযুগল বদ্ধ করে ঈশ্বরের কাছে যে আকুতি নিবেদন করেছেন তিনি নিজের মঙ্গলার্থে করেন নি। কারণ তিনি চেয়েছেন যে, সকল মানুষের মনের কালিমা যেন মঙ্গলময়ের কৃপায় ধূয়ে মুছে শেষ হয়ে যায়। তাঁর প্রার্থনা মন্ত্র এটাই প্রমাণ করে যে, কৃপাময়ের কৃপায় মানবমনের সমস্ত কালিমা নিমিষে শেষ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেছেন যে, তাঁর পূণ্য কিরণের স্পর্শে মনের মলিনতা, কল্মষতা অচিরেই দূর হয়ে যায়। তাঁরই আলোয় আলোকিত মন মানুষকে আধ্যাত্মিকতার পথ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করে। কারণ ঈশ্বরের প্রকাশিকা শক্তির তুলনায় সমস্ত উজ্জ্বল বস্তুই নিষ্প্রভ। তাঁর এই অতুলনীয় প্রকাশিকা শক্তির মহিমা বর্ণন করতে গিয়ে কঠোপনিষদ গ্রন্থে বলা হয়েছে:–” ন তত্র সূর্যো ভাতি ন চন্দ্রতারকাঃনেমা বিদ্যুতো ভান্তি কুতোহয়মগ্নিঃ।তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বংতস্য ভাসা সর্বমিদং বিভাতি।।”অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের সমস্ত প্রকাশিকা শক্তি পরমপিতা পরমেশ্বরের মধ্যেই নিহিত। সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ-তারা, নক্ষত্রমণ্ডল সবই তাঁরই আলোকে আলোকিত।যাই বা হোক রজনীকান্ত সেন বাংলার সাহিত্য জগতে একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভা সম্পন্ন ব্যষ্টি ছিলেন, একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অতএব তাঁর মূল্যবান কৃতিত্ব ও অবদানের কথা ইতিহাসের পাতায় চিরতরে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েই থাকবে।দেশপ্রেমের গভীর ভাবনায় আপ্লুত রজনীকান্ত সেন পরাধীনতাকে মানব জীবনের চরম অভিশাপ বলেই মনে করতেন। তাই তিনি স্বাধীনতার সুখ কবিতায় একটি বাবুই পাখি ও চড়ুই পাখির কথোপকথনের মাধ্যমে অতি সহজ ভাবে স্বাধীনতার মহত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি একটি স্তবকে লিখেছেন:–” বাবুই হাসিয়া কয়, সন্দেহ কী তায়?কষ্ট পাই, তবু থাকি, নিজের বাসায়।পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,নিজ হাতে গড়া মোর, কাঁচা ঘর খাসা।।”অর্থাৎ অপরের নির্মিত রাজপ্রাসাদের তুলনায় স্বনির্মিত পর্ণকুটীর শতগুণ শ্রেয়। কারণ ঐ কুঁড়ে ঘরে স্বাধীনতা আছে, স্বতন্ত্রতা আছে, আর সেই সঙ্গে স্বাভিমানের মতো মস্ত বড় আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত আছে। কারণ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষের মনে সব সময় হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়, যা মানুষের মন থেকে মানবীয় মূল্যবোধ কেড়ে নেয়। সুতরাং মনে রাখা দরকার — স্বাধীনতা হীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। কারণ পরাধীনতার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরমুখী প্রাণীনতা জাগ্রত হয় না। আর ঈশ্বরমুখী প্রাণীনতা ছাড়া কেউ বলতে পারে না —“আমরাই জয় করিব ভূবন,রণমুখী নয়, হরিমুখী করি মন।”বিশ্বজয় করতে হলে প্রথমে মানুষের মন জয় করতে হবে। কারণ তরবারির জয় দুদিনের যা তরবারিতে মরচে ধরার আগেই শেষ হয়ে যায়।মানবজীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য স্বাধীনতা একান্তই প্রয়োজন। কিন্তু স্বাধীনতা শব্দের অপপ্রয়োগ মানুষের অগ্রগতিকে অবরুদ্ধ করে। কারণ স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা সমার্থক নয়। অতএব স্বাধীনতা মানে যদিচ্ছা পথ চলা নয় — স্বাধীনতা মানে অনুশাসন মেনে প্রগতির পথে, বিকাশের পথে, স্বাবলম্বিতার পথে তেজস্বিতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। অনুশাসনহীনতা মানুষকে প্রগতির পথে নয় অধোগতির পথেই নিয়ে যায়। সুতরাং সামঞ্জস্য পূর্ণ সমাজ নির্মাণ কল্পে অনুশাসনকে মোটেই অবহেলা করা চলে না। অনুশাসন সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী শ্রী আনন্দমূর্তিজী তাঁর রচিত ” নমঃ শিবায় শান্তায়” গ্রন্থে বলেছেন:–“হিতার্থে শাসনমিতি অনুশাসনম্” — অর্থাৎ স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে নিয়মানুবর্তিতার যে শাসন, উচ্ছৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার যে শাসন, দুশ্চরিত্রতার বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্থৈর্যের যে শাসন, অধোগামিতার বিরুদ্ধে উৎগামিতার যে শাসন — এই ধরণের সর্বপ্রকার নিম্নগ ও বহু বিশ্লেষণাত্মক গতির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বগ ও সংশ্লেষণাত্মিকা গতির যে শাসন তাই অনুশাসন।”উপরিউক্ত বক্তব্যটিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, সুসংবদ্ধ ও সুসামঞ্জস্য পূর্ণ সমাজ নির্মাণ কল্পে অনুশাসনকে মোটেই অবহেলা করা চলে না, চলবে না। কারণ অনুশাসন হচ্ছে — অগ্রগতির দ্যোতক, সামাজিক উন্নয়নের অগ্রদূত। যাই বা হোক ধান ভানতে গিয়ে অনেকটাই শিবের গীত গাওয়া হলো। অবশ্য এই শিবের গীত মোটেই অপ্রয়োজনীয় নয়, কারণ ন্যায় নীতির শাসন ব্যতিরেকে সমাজের অগ্রগতি রুদ্ধ হয়। সুতরাং সময় পেলেই যৎকিঞ্চিৎ আধ্যাত্মিক আলোচনা একান্তই কাম্য। হ্যাঁ, আবার ফিরে আসি আজকের আলোচ্য বিষয়ে ।রবীন্দ্র যুগের সমসাময়িক কবি হিসেবে রজনীকান্ত সেনের নাম অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। কারণ তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য দেশপ্রেমিক ও খ্যাতনামা সুকবি ও সুগায়ক। তবে অতিশয় দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ১৯১০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে ইহলোকের সমস্ত মায়া পরিত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করেন — এটা অবশ্যই অভাবনীয় শোকবার্তা যা প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে ব্যাকুল করে দেয়। কিন্তু প্রকৃতির বাঁধা ধরা নিয়ম হচ্ছে – যে আসে সে যায়।সুতরাং তিনি অবশ্যই প্রকৃতির নিয়ম মেনেই বাংলার সাহিত্য প্রেমী জনগণকে অনাথ করে এক অদৃশ্য জগৎপানে চলে গেছেন। যে পাঁচজন কবির নাম এই প্রবন্ধে উল্লিখিত হয়েছে, তাঁদের কেউই ভৌতিক শরীর নিয়ে বেঁচে নেই কিন্তু পাঠক বর্গের হৃদয়ে তাঁরা আজো চির স্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন। তাই আলোচনা শেষ করার আগে তাঁদের সবাইকে জানাই শতকোটি প্রণাম ও আন্তরিক শ্রদ্ধা।অয়মস্তু।
বাচিক মঞ্জরী’র কবিতা ও শ্রুতি নাটকে মুখর ‘বর্ষা মঙ্গল’ অনুষ্ঠান
সকাল সকাল ডেস্ক চিত্রদীপ ভট্টাচার্য জামশেদপুর: শহরের অন্যতম বাচিক শিল্পীদের সংগঠন ‘বাচিক মঞ্জরী’-র উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হল বর্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বর্ষা মঙ্গল’। কবিতা আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক এবং বর্ষার আবহে সাজানো মনোজ্ঞ পরিবেশনায় দর্শকদের মন জয় করে নেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিশুদের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। এরপর স্বপ্না চ্যাটার্জি ও বিটপী দাশগুপ্ত পরিবেশন করেন ‘আষাঢ়’ কবিতা। সুস্মিতা গাঙ্গুলীর আবৃত্তি ‘বানভাসি’ মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করেন। অমিত রায় ও মুনমুন রায় পরিবেশন করেন একটি শ্রুতি নাটক, যা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মিঠু মণ্ডল আবৃত্তি করেন ‘আজ যেন খুব মেঘ করেছে’, পূরবী ঘোষ শোনান ‘বর্ষার দিনে’ এবং কেকা সরকার, সুমিতা ঘোষ তাঁদের আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। চন্দ্রা দেব, সরস্বতী দাস ও অনুমিত্রা রায় যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘বৃষ্টি নামল যখন’। শ্রাবণী মিত্র ও ইতি সেনগুপ্ত তাঁদের আবৃত্তি দিয়ে বর্ষার আবেগকে আরও গভীর করে তোলেন। অরূপ ঘোষ, সোনালী মিত্র ও দোলন ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘শ্রাবণের ধারার মতো’। মৌসুমী ঘোষ হাজরা আবৃত্তি করেন আঞ্চলিক কবিতা ‘আশা’। এরপর মিঠু মণ্ডল, রিংকু নন্দী, চম্পা ধর ও রুমা মুখার্জির পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে। মলয় আচার্য আবৃত্তি করেন ‘কোলাজ’ ও ‘বৃষ্টি যখন নামে’। শ্রাবণী চৌধুরী, চৈতালি পানি ও আন্না গাঙ্গুলী পরিবেশন করেন ‘নব বর্ষা’। কমলা মুখার্জী, দেবশ্রী সেনগুপ্ত, মনীষা ঘোষ, সোমা ব্যানার্জি ও রূপা লাহিড়ী যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘কবিতা কোলাজ’। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষক ও আবৃত্তিকার সব্যসাচী চন্দ্র তাঁর স্বকীয় ভঙ্গিতে কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেদন এবং বাংলা কবিতার আবেগময় পরিবেশনায় ‘বর্ষা মঙ্গল’ হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
কুমিরমুড়ি গ্রামের ছেলে থেকে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা, রবি রাজ মুর্মুর সাফল্যের গল্প
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৪ জুলাই: ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার জাদুগোড়ার কুমিরমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ মুর্মু আজ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক। ছোট্ট গ্রাম থেকে বড় স্বপ্ন দেখার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন। ২০০৮ সালে জ্যোতি ফেলোশিপ-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে রবির পথচলা শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ পান। পরে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ভিডিও প্রোডাকশনে বিশেষজ্ঞ হন। সেই সময় টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘সমুদায় কে সাথ (এসকেএস)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা সিনেমার মাধ্যমে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের গল্প বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে। এসকেএস-এর অধীনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য কমিউনিটি বিভাগে পুরস্কার পান রবি। এই স্বীকৃতি তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তিনি শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং এসকেএস-এর মেন্টর হিসেবেও কাজ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। টাটা স্টিল রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বর্তমানে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, এ ইন্টার্নশিপের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ নথিবদ্ধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, মানুষের গল্পই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে সামনে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রবি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তথ্যচিত্র, গবেষণাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, প্রচারচিত্র এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করেন। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, জিও হটস্টার এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-র বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও ট্রেলার এডিটর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৬ সালে তাঁর আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র ‘অঙ্গেন’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এই সম্মান শুধু রবির সাফল্যই নয়, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গল্প বলার ঐতিহ্যকেও জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেয়। রবির লক্ষ্য এখন আদিবাসী সমাজের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ঝাড়খণ্ডের মৌলিক গল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা। তাঁর সাফল্যের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রয়াণদিবসে শ্রদ্ধা, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা
সকাল সকাল ডেস্ক বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তমকুমারের ৪৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মহানায়কের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এবং আগামী জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর একটি ফাইবারের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রয়াণবার্ষিকীর পর মহানায়কের বাড়িতেও গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী তাপস রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সেলের কনভেনর রুদ্রনীল ঘোষ, বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং মহানায়কের পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। সেই উপলক্ষে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে মহানায়ক উত্তমকুমারের নামে কলকাতায় একটি আধুনিক ফিল্ম সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন উত্তম মঞ্চের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া নন্দন বা রবীন্দ্র সদনে একটি প্রস্তুতি সভা আয়োজন করে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, মহানায়কের পরিবারের মতামত ও সম্মতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। তাঁর জন্মশতবর্ষকে ঘিরে সরকারের এই উদ্যোগ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন সংস্কৃতিমহল।
ধর্মতলায় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ; লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক নিট-ইউজি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার পর আচমকাই বিক্ষোভকারীদের একাংশ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন। কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। এদিনের মিছিলে বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থকরাও অংশ নেন। পৃথক মিছিলের অনুমতি না পাওয়ায় তারা মূল কর্মসূচিতেই যোগ দেয়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পথে মিছিল এগোনোর সময় বহু ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারী এতে সামিল হন। কারও হাতে ছিল প্রতিবাদী পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান, আবার কেউ মুখোশ পরে মিছিলে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন শুধু রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে কলকাতার রাজপথেও প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, প্রশাসন শুরু থেকেই সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সংঘর্ষের পর ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিজেপি-র বিক্ষোভ, এটি কি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে?
সকাল সকাল ডেস্ক ডঃ ময়ঙ্ক চতুর্বেদী দেশে যখন ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে এলো, তখন স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এটি সেই তরুণদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন ছিল, যারা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, আর্থিক সংস্থান এবং মানসিক শক্তি এই পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছিলেন। এমন সময়ে ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এমনিতেও যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের কথা বলার, সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছে, কিন্তু দিল্লিতে গত কয়েক দিনে যা ঘটেছে, তা দেখার পর এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, এই আন্দোলন কি এখনও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়েই হচ্ছে? যন্তর-মন্তরে চলমান বিক্ষোভের অনেক দৃশ্য, সেখানে ওঠা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান, আলাদা আলাদা রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংগঠনের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এবং শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয়গুলোর প্রাধান্য এই আন্দোলনের গতিপথ এবং উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে যন্তর-মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ নিয়ে অনেক ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং জনসমক্ষে আলোচনা সামনে আসছে। এগুলোর মধ্যে কিছু স্থানে এমন স্লোগান শোনার দাবি করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে নিট, পরীক্ষা সংস্কার বা শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক দেখা যায় না। যদি বাস্তবে কোনো বিক্ষোভে “আরএসএস মুর্দাবাদ”, “ব্রাহ্মণ মুর্দাবাদ”, “আমরা হিন্দু নই”, অথবা কোনো দেবী-দেবতার প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের মতো স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এটি পরিষ্কারভাবে দেখায় যে আন্দোলনের নামে বাস্তবে যন্তর-মন্তরেও হিন্দু বিরোধ এবং সনাতন ধর্মকে টার্গেট করা হচ্ছে। কিছু স্লোগান তো অত্যন্ত আপত্তিকর, যা এখানে লেখার জন্য সাহসের প্রয়োজন, কিন্তু আপনাদের সকলকে সত্য সম্পর্কে অবগত করাও জরুরি, তাই আপনারা নিজেই পড়ুন এবং বিচার করুন যে আসলে এই আন্দোলন কারা চালাচ্ছে! এই কথিত স্লোগানগুলো হলো; সীতার স্বামী কী করে নেবে। ভগবানও মোদীর মতো …, যখন খুশি আবহাওয়া বদলে দেয়। নাম থাকবে আল্লাহর। প্রেমানন্দ মহারাজ নেই। আমরা হিন্দু নই, আমাদের হিন্দু বোলো না। ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে। এখন বিচার করুন যে এই স্লোগানগুলো শুনে বা পড়ে কোন দেশপ্রেমিকের ক্ষোভ আসবে না? সত্য এটাই যে, এমন স্লোগান শুধু আন্দোলনের ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরেই নয়, বরং এগুলো সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিদ্বেষও তৈরি করে। একইভাবে, যদি মঞ্চে মহিলাদের সংরক্ষণ, কৃষকদের আন্দোলন অথবা অন্য রাজনৈতিক বিষয়গুলো প্রধান হয়ে ওঠে, তবে এ থেকে এই বার্তা যাওয়া স্বাভাবিক যে ছাত্র আন্দোলন এখন অনেক আলাদা আলাদা এজেন্ডার একটি সাধারণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ নিজে থেকে নেতিবাচক নয়, কিন্তু যখন মূল প্রশ্ন পেছনে পড়ে যায়, তখন আন্দোলনের কার্যকারিতা কমতে থাকে। তখন এর আর কোনো মানে থাকে না। এরপর বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কিছু স্থানে অব্যবস্থার খবর ও ভিডিও উদ্বেগ বাড়ায়। অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সংস্থান এবং সহযোগিতার। জনসমক্ষে আলোচনায় এটিও সামনে এসেছে যে কিছু বিক্ষোভকারীকে বিদেশ থেকে খাবার অথবা অন্য ধরনের সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে চলা এই বিক্ষোভে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কাতার, নেপালের মতো দেশগুলোর সদয়ভাব জেগে উঠেছে। ভিডিও সামনে আসছে যে এই দেশগুলো থেকে অপরিচিত ব্যক্তিরা যন্তর-মন্তরে বসে থাকা বিক্ষোভকারীদের জন্য ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থেকে দামী খাবার পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে নেপালের যুবকরা ক্রমাগত ভিডিও বানিয়ে ভারতের যুবকদের ‘নেপালের মতো কাণ্ড’ করার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। ক্রান্তিকারী যুব সংগঠন (কেওয়াইএস)–এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এখানে “জয় ভীম, জয় ভীম” স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এখন আপনি নিজেই বিচার করুন, এই স্লোগানের এই আন্দোলনে কী কাজ! ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান উইমেন (এনএফআইডব্লিউ), যারা নয়াদিল্লিতে যন্তর-মন্তরের কাছে ডিলিমিটেশন এবং আদমশুমারি প্রক্রিয়া থেকে কোটাকে আলাদা করে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে, ভাবার বিষয় হলো এখানে এই ধরনের দাবির কী যৌক্তিকতা আছে? কংগ্রেস সেবা দলের স্বেচ্ছাসেবক এবং এনএফআইডব্লিউ–এর সদস্যরা এখানে বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত রয়েছেন। ইসলামপন্থী এবং বোরকা পরা মহিলাদের উপস্থিতিও সহজে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যখন তাঁদের নিট বিক্ষোভ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তখন তাঁরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছিলেন না। কৃষক নেতা গুরনাম সিং চারুনি–র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন এবং তাঁদের সমর্থকরা এখানে উপস্থিত আছেন। এটি বোঝার ঊর্ধ্বে যে কৃষকদের কোনো সংগঠন ছাত্রদের অধিকারের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে কেন এসেছে? নিহাং-রা তলোয়ার উঁচিয়ে পুলিশকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এই নিহাং-রা পাঞ্জাবে হওয়া পেপার লিক–এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে না এবং দিল্লি পর্যন্ত সফর করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে এসেছে! যন্তর-মন্তরে, সিজেপি–র বিক্ষোভকারীরা নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে শ্লীলতাহানি করেছে এবং পুরুষ সাংবাদিকদের মারধর করা শেষ পর্যন্ত কী বোঝাচ্ছে? এমতাবস্থায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে যন্তর-মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–র বিক্ষোভ প্রদর্শন ছাত্রদের উদ্বেগগুলো তুলে ধরা এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে একেবারেই করা হচ্ছে না। পুরো বিরোধী দল এখানে উপস্থিত আছে, শুধু ছাত্রদের মুখোশ লাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ দিন সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন ছিল, কারণ অনেক মেট্রো স্টেশন বন্ধ আছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা সহ্য করা যায় না, কারণ সেগুলি দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্স দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, তাই এখানে সব রাজনৈতিক দলের ভূমিকাও বিবেচ্য। ক্ষমতার বিরোধিতা করার অর্থ এটি হতে পারে না যে আপনি বিরোধিতার জন্য যেকোনো সীমা পর্যন্ত চলে যাবেন। সরকারের সমালোচনা করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু যদি কোনো ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র শিক্ষা সংস্কার থেকে সরে গিয়ে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের রাজনীতি হয়ে যায়, তবে একে মূল ইস্যুকে পিছনে ফেলে দেওয়া বলে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা, পরীক্ষা এজেন্সি–গুলোর জবাবদিহিতা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয়গুলোই এই আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা উচিত, যা বর্তমানে এই পুরো আন্দোলন থেকে উধাও! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো যে লক্ষ লক্ষ ছাত্রের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত আন্দোলনে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা বেশি হওয়া উচিত নাকি সমাজকে বিভক্ত করার? যদি কোনো মঞ্চে ধর্ম, জাতি বা বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে একে কী মনে করা হবে? নিশ্চিতভাবেই এতে আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। শিক্ষা সংস্কারের লড়াইকে যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক, জাতিগত বা আদর্শিক বিদ্বেষে পরিবর্তন করা ছাত্রদের স্বার্থে বলে গণ্য করা যায় না। আজ প্রয়োজন এই যে ছাত্র আন্দোলন তার মূল উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে আসুক। যদি তার অগ্রাধিকার নিরপেক্ষ পরীক্ষা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, জাতীয় পরীক্ষা এজেন্সি–গুলোতে সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওপর কঠোর শাস্তি এবং ছাত্রদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হয়, তবে তা ব্যাপক সামাজিক সমর্থন পাবেই। কিন্তু যদি আন্দোলনের প্রধান বার্তা রাজনৈতিক মেরুকরণ, অসংলগ্ন ইস্যু বা উস্কানিমূলক স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই সেই বার্তা দেশজুড়ে একেবারেই সঠিক যাবে না, যা এখন এখানে দেখাও যাচ্ছে। বস্তুত গণতন্ত্রে শক্তিশালী ছাত্র আন্দোলন যেকোনো রাষ্ট্রের শক্তি হয়। তারা ব্যবস্থাকে আরও উত্তরদায়ী করে তোলে এবং সংস্কারের পথ প্রশস্ত করে। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় পুঁজি হলো তাদের নৈতিক শৃঙ্খলা, স্পষ্ট উদ্দেশ্য এবং তথ্যভিত্তিক সংগ্রাম। তাই যেকোনো ছাত্র আন্দোলনের সফলতা এই দিয়ে মাপা হবে না যে তারা কত রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে, বরং এই দিয়ে মাপা
এআই, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং ডিজিটাল নজরদারি পরীক্ষার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে
সকাল সকাল ডেস্ক – সত্যজিৎ দত্ত প্রতি বছর ভারতে কোটি কোটি শিক্ষার্থী তাদের প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিট, জেইই এবং এসএসসি থেকে শুরু করে ব্যাংক ও রেলে নিয়োগের জন্য অন্যান্য রাজ্য স্তরের পরীক্ষা পর্যন্ত, এই সবই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে এটি বলা ভুল হবে না যে পরীক্ষার এই পুরো প্রক্রিয়ার সততা কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি মানুষের আস্থারও বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে পেপার লিক, ছদ্মবেশ ধারণ (ইমপারসনেশন), এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে হওয়া অনিয়মের ঘটনাগুলি এই আস্থার জন্য সর্বদা একটি ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই কারণেই এখন পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় এআই এবং বায়োমেট্রিকস–কে একীভূত করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রথাগত পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থীদের পরিচয়ের ম্যানুয়াল যাচাইকরণ অনেকাংশেই ইনভিজিলেটর দ্বারা প্রবেশপত্র এবং পরিচয়পত্রের শারীরিক মিলের ওপর নির্ভর করত। ম্যানুয়াল যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার এই ত্রুটির কারণে বিভিন্ন পরীক্ষায় ছদ্মবেশ ধারণ এবং ভুয়ো পরীক্ষার্থীর ঘটনা ঘটে চলেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন–এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ এই সমস্যাটি অনেকাংশেই সমাধান করতে সাহায্য করে। ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর পরিচয়ের যাচাইকরণ ছদ্মবেশ ধারণের সুযোগকে নগণ্য করে দেয়। এটি যেমন পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হবে, তেমনি এটি সেই সমস্ত সৎ পরীক্ষার্থীদের জন্যও ন্যায়ের কাজ, যারা বছরের পর বছর পড়াশোনার পর পরীক্ষা দিতে আসে। এআই প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত সিসিটিভি নজরদারি আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। প্রথাগত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি বেশিরভাগ ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত হত, যার বিশ্লেষণ ঘটনা ঘটার পরে করা সম্ভব ছিল। এআই যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ, যেমন ক্রমাগত এদিক-ওদিক তাকানো, অননুমোদিত সামগ্রীর দখল এবং পরীক্ষা হলে বহিরাগতদের প্রবেশ শনাক্ত করতে পারে। একটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার–এর সঙ্গে জিরো ব্লাইন্ড স্পট নজরদারি ব্যবস্থা শত শত পরীক্ষা কেন্দ্রের একযোগে, কোনো ত্রুটি ছাড়াই নজরদারি করার অনুমতি দেবে। এটি কেবল পরীক্ষা হল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; প্রশ্নপত্র ছাপানো, প্যাকিং এবং পরিবহনের মতো অন্যান্য প্রক্রিয়াও রয়েছে, যার জন্য সমান সতর্কতা প্রয়োজন। সুরক্ষিত প্রিন্টিং জোন, ডিজিটাল নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রিত অ্যাক্সেসের ব্যবহার নিশ্চিত করে যে প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত তার পুরো যাত্রাপথে সুরক্ষিত থাকে। পেপার লিক পরীক্ষা হলের বাইরে, সরবরাহ শৃঙ্খলের এমনই কোনো দুর্বল লিঙ্কে ঘটে, তাই প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির ব্যবহার পুরো প্রক্রিয়ায় করা উচিত। এখন তথ্যেও এই কথার প্রমাণ রয়েছে যে প্রযুক্তিভিত্তিক পরীক্ষাগুলি কাজ করে। আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত মানসম্মত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি কম সময়ে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সফল পরীক্ষা পরিচালনা করছে এবং অনেক রাজ্য সরকারি পরীক্ষার জন্য এগুলিকে একটি পছন্দের মান হিসেবে পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু এটি ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে প্রযুক্তি একা এর উত্তর নয়। এআই এবং নজরদারির ব্যবহার তখনই লাভজনক, যখন এর সঙ্গে স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে, প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে এগুলি পরিচালনা করার জন্য কর্মী থাকে এবং সেই সঙ্গে মানুষকে দায়বদ্ধ করার মতো কাঠামো থাকে। এটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, যা অনিয়ম শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু সংস্থার সক্ষমতা নির্ধারণ করে যে এই সতর্কবার্তায় কত দ্রুত মনোযোগ দেওয়া এবং ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ভারতের মতো দেশের আকার বিবেচনা করলে, যেখানে একটি মাত্র পরীক্ষার জন্য কোটি কোটি শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে, এই প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা কোনো ছোট কৃতিত্ব নয়। কিন্তু এআই, বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং ডিজিটাল নজরদারির রূপে প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন এটি নিশ্চিত করবে যে সমস্ত শিক্ষার্থী একটি সমান, নিরাপদ এবং নিরপেক্ষ সুযোগ পায়। ভারতের তুলনায় বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে পরীক্ষা ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরে কাজ করে, তাই তাদের মডেল হুবহু ভারতে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। আমেরিকা, ব্রিটেন এবং চীনের মতো দেশগুলিতেও বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং ডিজিটাল নজরদারির ব্যবহার বাড়ছে, কিন্তু সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা এবং পরীক্ষার্থীদের আকার ভারতের মতো বিশাল নয়। ভারতকে তার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ভাষাগত পার্থক্য এবং শহর-গ্রামের বৈষম্যের কথা মাথায় রেখে এমন একটি মডেল তৈরি করতে হবে, যা ছোট শহর ও মফস্বলের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতেও ঠিক ততটাই কার্যকরভাবে কাজ করবে, যতটা বড় মহানগরগুলোতে করে। এই কারণেই প্রযুক্তিকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া ততটাই জরুরি, যতটা তা গ্রহণ করা। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ এবং ব্যয়ের প্রশ্নটিও স্বাভাবিকভাবেই ওঠে। কারও মনে হতে পারে যে এআই ভিত্তিক নজরদারি এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন–এর মতো প্রযুক্তিগুলো ব্যয়বহুল হবে, কিন্তু এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা জরুরি। একটি পেপার লিক বা পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ফলে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়, তা প্রযুক্তিতে করা বিনিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি। পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রশাসনিক ব্যয়, শিক্ষার্থীদের সময়ের অপচয় এবং সর্বোপরি ব্যবস্থার ওপর ওঠা প্রশ্ন— এই সবই প্রমাণ করে যে সঠিক প্রযুক্তিতে প্রাথমিক বিনিয়োগ ভবিষ্যতে অনেক বেশি সাশ্রয় আনে। এই পুরো বিতর্কে একটি দিক, যা প্রায়ই আড়ালে চলে যায়, তা হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার ওপর এর প্রভাব। যখন কোনো শিক্ষার্থী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর পরীক্ষা হলে প্রবেশ করে, তখন তার মনে আগে থেকেই যথেষ্ট চাপ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যদি তার মনে এই আশঙ্কাও থাকে যে পেপার লিক হতে পারে, পরীক্ষা কেন্দ্রে কারচুপি হতে পারে বা কেউ অন্যায়ভাবে সুবিধা নিতে পারে, তবে এই চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল পরীক্ষা কেন্দ্র কেবল অনিয়মই রোধ করে না, বরং শিক্ষার্থীকে এই ভরসাও দেয় যে তার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হবে। এই মানসিক শান্তি পরীক্ষার দিনের পারফরম্যান্সের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে এআই এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির পরিধি কেবল পরিচয় যাচাই এবং নজরদারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে ডেটা অ্যানালিটিক্স–এর মাধ্যমে আগে থেকেই এটি শনাক্ত করা সম্ভব হবে যে কোন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকি বেশি, যাতে সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। রিয়েল টাইম অ্যালার্ট সিস্টেম, কেন্দ্রীভূত ড্যাশবোর্ড এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং–এর মতো সুবিধাগুলো পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি, সরকার, শিক্ষা বোর্ড এবং প্রযুক্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে নীতি ও প্রযুক্তি উভয়ই মিলেমিশে কাজ করে। পরিশেষে, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার কেবল প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমেই হবে না। এর জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যেখানে প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি— সবই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যখন এই সমস্ত উপাদান মিলেমিশে কাজ করে, তখনই পরীক্ষা হল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি জায়গা হয়ে ওঠে, যেখানে তাদের পরিশ্রম এবং যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হয়, ব্যবস্থার ত্রুটি নয়। ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশে এই ভরসা বজায় রাখাই প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা ও সুযোগের সমতার ভিত্তি।
পিএসি নির্বাচনে ভোটাভুটি এড়াল বিধানসভা, চেয়ারম্যান পদ বিরোধী শিবিরের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা
সকাল সকাল ডেস্ক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) গঠন নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ল না। নির্ধারিত ২০টি সদস্যপদের জন্য ঠিক ২০ জন বিধায়ক মনোনয়ন জমা দেওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমেই কমিটি গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বিধানসভা সূত্রের খবর, সংসদীয় প্রথা মেনে এবার পিএসি-র চেয়ারম্যান পদ বিরোধী শিবিরের হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক অশোককুমার দেবের। এছাড়া বিরোধী শিবির থেকে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, সমর মুখোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্র, গোলাম রব্বানী এবং কানাইয়ালাল আগরওয়াল। বাকি সদস্যরা শাসকদলের বিভিন্ন শিবিরের বিধায়ক। পিএসি-র সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন অশোককুমার দেব, অনুপকুমার সাহা, অম্লান ভাদুড়ি, বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাজেশ কুমার, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায়, সোনম লামা, সৌরভ সিকদার, সুব্রত ঠাকুর, স্বপনকুমার দাস, বিপ্লব মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, গোলাম রব্বানী, কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং সমর মুখোপাধ্যায়। বিধানসভা সূত্রের দাবি, সংসদীয় রীতি বজায় রেখে বিরোধী দলের মর্যাদা রক্ষায় চেয়ারম্যান পদ তাদের হাতেই রাখা হবে। সেই কারণে চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এবং বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতেই পিএসি-র নেতৃত্ব যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। উল্লেখ্য, সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী পিএসি-র চেয়ারম্যান সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য হন। তবে অতীতে এই প্রথা নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মানস ভুঁইয়া, মুকুল রায় এবং সুমন কাঞ্জিলালকে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি দীর্ঘদিন পিএসি-র বৈঠক বয়কট করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিতর্ক এড়িয়ে প্রথা বজায় রাখার দিকেই এগিয়েছে বিধানসভা।
ডিএ মামলার শুনানি পিছোল সুপ্রিম কোর্টে, ৮৫ শতাংশ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্যের
সকাল সকাল ডেস্ক সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও শুনানি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি আরও কিছুটা সময়ের জন্য অনিশ্চিত রইল। পরবর্তী শুনানির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যেই বুধবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সরকারের দাবি, রাজ্যের কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ রয়েছে। তাই আদালতের কাছে আংশিক ছাড় চেয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, আপাতত ৮৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ বকেয়া ২০২৮ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রস্তাবও আদালতের সামনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এককালীন অর্থপ্রদানের বদলে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর রূপরেখা পেশ করেছে সরকার। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তার সুপারিশ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কাজ শুরু করা ওই কমিটির সঙ্গে নতুন সরকারও বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকের সুপারিশ এবং আর্থিক পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। কমিশনটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করবে। বর্তমান ডিএ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ— এই দুই প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর সরকারি কর্মচারীদের। পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণার পাশাপাশি আদালত রাজ্যের প্রস্তাব সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আসানসোলে পড়ুয়াদের পুলকারে নিয়ন্ত্রণহীন মিনিবাসের ধাক্কায় মৃত ১ পথচারী, আহত বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া
সকাল সকাল ডেস্ক আসানসোল, ১৭ জুলাই : মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনায় পাঁচ স্কুল পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আসানসোলে ঘটল আরও একটি পথ দুর্ঘটনা। পড়ুয়াদের একটি পুলকারে সজোরে ধাক্কা মারল নিয়ন্ত্রণহীন একটি মিনিবাস। এই ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম জয়দেব মণ্ডল (৬১)। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়াও আহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ যাত্রিবোঝাই মিনিবাসটি আসানসোল থেকে রানিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময়ে আসানসোলের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পুলকারটি মুর্গাসোল এলাকা থেকে পড়ুয়াদের নিয়ে সবেমাত্র কয়েক গজ এগিয়েছিল। ঠিক তখনই দ্রুতগতির মিনিবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে এক পথচারীকে পিষে দেয় এবং তারপরেই পুলকারটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে পুলকার থেকে পড়ুয়াদের উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এদিকে ঘটনার পরেই যাত্রিবোঝাই বাসটি রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেন চালক ও কন্ডাক্টর। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শহরের মিনিবাসগুলি কোনওরকম ট্রাফিক আইন মানে না। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় লাগামছাড়া গতিতে বাস চালানো হয়, যার জেরেই এই দুর্ঘটনা। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে জিটি রোডের সিংহভাগ অংশ জুড়ে অস্থায়ী দোকানপাট বসেছে। সেই সঙ্গে রাস্তা দখল করে চলে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। ফলে রাস্তা অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত পথচারী আদতে পুরুলিয়ার কাশিপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আসানসোলের একটি হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কর্মস্থলে ইতিমধ্যেই খবর পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আসানসোল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট পাঁচজন পড়ুয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।