সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
পঞ্চায়েত স্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণপদত্যাগ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলে বা অনাস্থার জেরে বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলাশাসক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একসঙ্গে পদত্যাগ করলে জেলাশাসক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। প্রশাসক বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রধান, উপ-প্রধান এবং নির্বাচিত বোর্ডকে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।
সংশোধিত আইনে প্রধান ও উপ-প্রধানকে অপসারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি প্রধান বা উপ-প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা তাঁদের বিরুদ্ধে বিধিসম্মত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতের কাজ আটকে থাকার সুযোগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক প্রশাসনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন পঞ্চায়েতের চেকে নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী হিসেবে প্রধানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো। সংশোধিত আইনে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব নির্বাহী সহায়ক গ্রাম পঞ্চায়েতের সভার সামনে উপস্থাপন করবেন।
এছাড়া প্রধান বা উপ-প্রধান টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে জেলাশাসক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারবেন। গ্রাম সভার কার্যক্রমেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনার জন্য প্রধানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পঞ্চায়েতের যে কোনও সদস্যকে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে বৈঠক পরিচালনা করা যাবে।
সরকারের মতে, এই সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই সংশোধনী নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
No Comment! Be the first one.