শনিবার ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্র দেবেন প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : শনিবার ২০তম ‘রোজগার মেলা’-য় বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে মোট ৪৫টি স্থানে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনিযুক্ত কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। নবনিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্ব বিভাগ, রেল মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোজগার মেলা যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে তাঁদের আরও বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নবনিযুক্তদের দেশের সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রোজেক্ট চিতায় বড় সাফল্য, ভারতে চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে ৫২
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ভারতে চিতা আনার পর কেটে গিয়েছে চার বছর। এর মধ্যেই প্রোজেক্ট চিতা প্রকল্পে বড় সাফল্য এল। নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বোতসোয়ানা—এই তিন দেশ থেকে আনা চিতার সংখ্যা এবং ভারতে জন্ম নেওয়া শাবক মিলিয়ে বর্তমানে দেশে মোট চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২-তে। ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত ‘ফোর ইয়ার্স অব চিতাস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ভারতে শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের মাটিতেই এখনও পর্যন্ত ৩২টি চিতা শাবকের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে দেশে থাকা ৫২টি চিতার মধ্যে ৪৯টি রয়েছে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে এবং তিনটি রয়েছে গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে। এই সংখ্যার মধ্যে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা জীবিত চিতা, ভারতে জন্ম নেওয়া তাদের শাবক এবং বোতসোয়ানা থেকে সম্প্রতি আনা চিতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে আনা ১২টি চিতার মধ্যে বর্তমানে আটটি জীবিত রয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতে জন্ম নিয়েছে তাদের ১০টি শাবক। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা বংশোদ্ভূত চিতা এবং তাদের শাবক মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। এদের মধ্যে ১৫টি রয়েছে কুনো জাতীয় উদ্যানে এবং তিনটি গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে। কুনো জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের মতে, প্রকল্পের চার বছর পূর্তির সময়ে স্ত্রী চিতাদের সফল প্রজনন এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের শাবকদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ভারতের চিতা পুনর্বাসন উদ্যোগের সাফল্যকে আরও দৃঢ় করেছে। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও প্রজননের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি প্রকল্পটিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, এআই পরিকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : বিশ্বজুড়ে উন্নত প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ার মধ্যেই ভারতে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর উদ্বোধন করে তিনি জানান, দেশে প্রযুক্তি বিপ্লবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সেমিকন্ডাক্টর মিশনের দ্বিতীয় পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ১ লক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ৭০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, দেশে এবং বিদেশে কর্মরত ভারতীয় তরুণ-তরুণী ও গবেষকদের উন্নত প্রযুক্তির বিকাশে অংশ নিতে ভারতে ফিরে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভারতের শিল্প সংস্কারের গতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেমিকন্ডাক্টর মিশনের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দেশীয় স্টার্টআপ, ভারতীয় নকশা প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং ওসিআই মালিকানাধীন সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে। নীতি প্রণয়ন, অর্থায়ন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যৌগিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন থেকে শুরু করে সমগ্র ইকোসিস্টেমে ‘সিলিকন ফোটোনিক্স’-এর সংযোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিকাঠামোর ভিত্তি ইতিমধ্যেই ভারতে স্থাপিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করতে ভারত একাধিক সংস্কার করেছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ভারতের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং বৃহৎ বাজারকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর পরিকাঠামো গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মোদীর নেতৃত্বে ভারত ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে : অমিত শাহ
সকাল সকাল ডেস্ক ভাদনগর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ক্রমাগত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে বলে জোর দিয়ে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ভাদনগরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর গোটা জীবনকে যদি মাত্র দুটি শব্দে ব্যাখ্যা করতে হয়, তাহলে তা হল— ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁর পৈতৃক ভিটে ভাদনগরে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, ভারতমাতার কল্যাণ এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এদিন ভাদনগর থেকে বিশেষ ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বাইক র্যালির সূচনা হয়। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, এই যাত্রা নরেন্দ্র মোদীর জন্মভূমি ভাদনগর থেকে শুরু হয়ে তাঁর কর্মভূমি বারাণসীতে পৌঁছবে। পুণ্যভূমি হাটকেশ্বর মহাদেবের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা কাশী বিশ্বনাথের চরণে গিয়ে শেষ হবে বলেও জানান তিনি। যাত্রার বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মোট ৬০০ জন বাইকার এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ভাদনগর থেকে ৩০০ জন এবং একই দিনে বারাণসী থেকে আরও ৩০০ জন যাত্রা শুরু করবেন। এই ৬০০ জন আরোহী দেশের সাতটি রাজ্য এবং অসংখ্য গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবেন। তাঁদের লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের সুশাসন ও জনসেবার বার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া। এই ২৫ বছরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন হলেও আগামী ৭ অক্টোবর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক পূর্ণ হতে চলেছে। ওই দিন তিনি একটানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২৫ বছর সম্পূর্ণ করবেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জনসেবা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের কথাও এদিন তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মধ্য এশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী
উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যোগ দেবেন এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে শনিবার উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নেবেন। শনিবার সকালে বিশেষ বিমানে নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম পর্বে তিনি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে পৌঁছে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি-স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি একাধিক সরকারি কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বিশকেকে যাবেন। সেখানে ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সফর শুরুর আগে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, আগামী কয়েক দিন তিনি উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি লেখেন, “তাশখন্দে প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করব। পাশাপাশি তাশখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে শাস্ত্রী স্মৃতিসৌধ এবং মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শন করব। এরপর বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেব।” কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এসসিও মঞ্চে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তাও এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সুস্থ সমাজ ও উন্নত কর্মসংস্কৃতির ভিত্তি ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সুস্থ সমাজ গঠন এবং উন্নত কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ‘খেলো ইন্ডিয়া সংলাপ’-এ ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি বলেন, একটি সুস্থ সমাজ, শক্তিশালী পারিবারিক পরিবেশ এবং ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে খেলাধুলার মানসিকতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আমাদের সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র— সর্বস্তরে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিভা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ক্রীড়া বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, কোচিং এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও ভারত সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা এনে দেবে। ‘খেলো ইন্ডিয়া সংলাপ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি শুধুমাত্র খেলাধুলা নিয়ে আলোচনা করার একটি কর্মসূচি নয়। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে নতুন নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা দেশের ক্রীড়া-ভাবনাকে নতুন দিশা দিতে পারে। পাশাপাশি তরুণদের সঙ্গে এই মতবিনিময় তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে দেশের বৃহত্তর লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের ক্রীড়া সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। তাঁর মতে, ক্রীড়া কেবল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, বরং শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১০৮টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া পূর্ব নওয়ালপরাসি থেকে ৬২ জন, পশ্চিম নওয়ালপরাসি থেকে ১৫ জন, ধাদিং থেকে ২৭ জন, গোর্খা থেকে ২০ জন, রাসুয়া থেকে ১৭ জন, নুয়াকোট থেকে ১২ জন এবং তানাহুন থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, বন্যায় আহত অন্তত ৫২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষণ হাসপাতালে ২৬ জন, ট্রমা সেন্টারে ২০ জন, বীর হাসপাতালে ২ জন, নারভিক হাসপাতালে ২ জন, মনমোহন হাসপাতালে ১ জন এবং বীরেন্দ্র মিলিটারি হাসপাতালে ১ জনের চিকিৎসা চলছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরকদমে চলছে। দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নেপালে হড়পা বানে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত, উদ্ধার ১৬২টি দেহ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: পাহাড়ি ঢল ও আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের প্রবল তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সকালে হড়পা বানের প্রচণ্ড জলস্রোতে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক এলাকা মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনিক অনুমান অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৫৯৮ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে সেনাবাধ্যিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
হাওড়ার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চারতলায় আটকে বহু বাসিন্দা; উদ্ধার ৮ জন
সকাল সকাল ডেস্ক হাওড়া : হাওড়ার আন্দুল মৌড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভবনের চারতলা থেকে আচমকা আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশ ও দমকল বিভাগে খবর দেন। আগুন লাগার সময় বহুতলের ভেতরে একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সমান তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দমকলকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে বহুতলের বিভিন্ন তলায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চারতলায় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা আবাসন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। ভবনের অন্য কোনও অংশে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তলা ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎই চারতলা থেকে আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই তলায় তাঁর এক পরিচিত মহিলা থাকেন বলে জানান তিনি। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বহুতলের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই তারাপীঠ এবং কলকাতার দুটি পৃথক গেস্ট হাউসে আগুন লেগে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি ভারত, দাবি নির্মলা সীতারমনের
সকাল সকাল ডেস্ক টরন্টো : ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর বক্তব্য, বৃহৎ বাজার, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিপুল তরুণ জনসংখ্যা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই চারটি শক্তির সমন্বয়ই ভারতের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কানাডার টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সীতারমন বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তন কোনও সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তরের ফল। দ্রুত নগরায়ণ, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান এবং বিশ্বমানের ডিজিটাল অবকাঠামো এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর কথায়, এই রূপান্তরের ফলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভারতের ডিজিটাল অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর প্রসঙ্গও বিশেষভাবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আর্থিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলেছে। একই সঙ্গে কানাডার ব্যাংক, ফিনটেক সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সহযোগিতা শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী প্রজন্মের আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভারত-কানাডা সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দুই দেশের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সেতুবন্ধনের কাজ করছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বহুত্ববাদ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক—এই সবকিছুর ভিত্তিতেই ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।