কেরলমে বৃষ্টি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী সতীশন
সকাল সকাল ডেস্ক তিরুবনন্তপুরম : টানা বৃষ্টিতে কেরলমের একাধিক জেলায় উদ্ভূত দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। সোমবার তিনি রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে বিভিন্ন জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ শিবিরগুলির কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাথানামথিতায় একটি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। কোট্টায়ামে ইতিমধ্যেই দুটি এনডিআরএফ দল উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর আরাক্কোনাম থেকে আরও দুটি এনডিআরএফ দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য একটি হেলিকপ্টারও রাজ্যে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আলাপ্পুঝায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর জওয়ানদের মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, প্রয়োজনে কান্নুর ও ওয়ানাড জেলায় ডিফেন্স সিকিউরিটি কর্পসের কর্মীদেরও কাজে লাগানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১৬৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে অন্তত ৩,৫৯৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেরলমে বৃষ্টি দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা
সকাল সকাল ডেস্ক তিরুবনন্তপুরম : টানা ভারী বৃষ্টিতে কেরলমে দুর্যোগজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজ্যের চারটি জেলায় এখনও লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণে কোট্টায়াম, আলাপ্পুঝা, ইদুক্কি-সহ একাধিক জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিজনিত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। কেরলমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মালাপ্পুরম জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে চালিয়ার নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও সংলগ্ন জলাশয়ে প্রবেশ না করার জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন উদ্ধারকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৫,৭৯২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ২০৯টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে ২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা নষ্ট হয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে মুঝিয়ার, কাল্লারকুট্টি, ইরাত্তায়ার, লোয়ার পেরিয়ার এবং পোরিঙ্গালকুথু বাঁধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জলাধারগুলির পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন ১০০টি রবিবার ‘মাদক-মুক্ত ভারত’ গঠনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হবে: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আগামী ১০০টি রবিবার ‘মাদক-মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পরিণত হবে। তিনি তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করে মাদকের বিরুদ্ধে জনআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘নেশা মুক্ত যুবা, বিকশিত ভারত’ অভিযানের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০০ সপ্তাহ ধরে এই কর্মসূচি চলবে। তাঁর বক্তব্য, “আপনারাই ভারতের ‘অমৃত প্রজন্ম’। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরে আপনারাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বেন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন। দেশের উন্নয়নের জন্য আপনাদের প্রাণশক্তি, সৃজনশীলতা ও মেধা অপরিহার্য। তাই দেশের স্বার্থে এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য মাদকমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি বলেন, “আগামী ১০০টি রবিবার মাদকবিরোধী লড়াইয়ের ১০০টি শক্তিশালী অধ্যায় হয়ে উঠবে। হাজার হাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সমাজের সম্মিলিত সমর্থন, যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।” যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। ভারতের যুবসমাজ সচেতন, দায়িত্বশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ—আমার এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপকদের প্রতিও বিশেষ আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু পাঠদান নয়, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মাদকের ভয়াবহতা নিয়েও নিয়মিত আলোচনা করুন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেশাবিরোধী সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলুন। আপনাদের এই উদ্যোগ অসংখ্য তরুণের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর না হলে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে না: রাহুল
সকাল সকাল ডেস্ক, চেন্নাই : তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করতে হলে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার মহাবলীপুরমে তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরের অতিথিশালায় আয়োজিত তামিলনাড়ু কংগ্রেসের জেলা সভাপতিদের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলা সভাপতি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠন সম্প্রসারণ, বুথস্তরে দলকে আরও শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক কৌশল এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধী বলেন, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকার অন্যতম কারণ দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে কাজ করার প্রবণতা সংগঠনের সামগ্রিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস তখনই শক্তিশালী হবে, যখন নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। জেলা সভাপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের এলাকায় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও দৃঢ় যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস কার্যকর হলে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাঁর মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্যগুলির অধিকার এবং মানুষের সাংবিধানিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্যগুলিকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বর্তমান পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের অবস্থান তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থকে দুর্বল করতে পারে। রাহুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশ্নেও কংগ্রেস আগামী দিনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৭,৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, বিজয়নগরম : অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরামে ‘আল্লুরি সীতারাম রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি তিনি ১৭ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু। বিমানবন্দরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নতুন টার্মিনাল ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরম্পরাগত ‘ধিমসা’ নৃত্য পরিবেশন করেন হাজার হাজার আদিবাসী শিল্পী। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৩ হাজারেরও বেশি আদিবাসী মহিলার অংশগ্রহণ, নিষ্ঠা এবং নিজেদের সংস্কৃতির প্রাণবন্ত উপস্থাপনা সত্যিই অনন্য। এই পরিবেশনা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আদিবাসী ঐতিহ্য সংরক্ষণের উজ্জ্বল উদাহরণ। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে সব প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, তার মধ্যে বিমানবন্দর, সড়ক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তিশালী পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এই উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়নের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, প্রায় আট লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
সকাল সকাল ডেস্ক, ভুবনেশ্বর : ওড়িশার বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহানদী অববাহিকার উজানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসায় সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৈতরণী নদী ও তার শাখা-প্রশাখাকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, রাজ্যের ৫৭টি ব্লকের প্রায় আট লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মহানদী অববাহিকায় জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হীরাকুদ জলাধারের ১২টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে। জলাধারে জলের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ১২টি গেট খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ২ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। জাজপুর জেলায় ব্রহ্মাণী, কানি এবং নুয়া মাহারা নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত সাতটি স্থানে জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে দশরথপুর ব্লক থেকে, যেখানে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
আরও তিনটি দেহ উদ্ধার, ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
সকাল সকাল ডেস্ক, ভিওয়ান্ডি : মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে চারতলা একটি আবাসনের একাংশ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বিপর্যয়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর নেতৃত্বে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ বালাজি নগর এলাকার ভান্ডারি কম্পাউন্ডে অবস্থিত কোহিনূর ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পৌরসভার আধিকারিকদের মতে, চারতলা ওই ভবনে মোট ৪৮টি আবাসিক কক্ষ ছিল, প্রতিটি তলায় ১২টি করে ঘর। ভবনটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতর থেকে বিকট ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পান। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয়রা দ্রুত বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সবাই বেরিয়ে আসার আগেই ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকারী বাহিনী, দমকল এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও সারের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানানো হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, রান্নার গ্যাস এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস আমদানির উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন রবি মরসুমে কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, দেশের কোনও কৃষক যেন সারের অভাবে সমস্যায় না পড়েন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা, পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের নাগরিক কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সৌরশক্তি-সহ নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি নির্দেশ দেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টি
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : বাদল অধিবেশন চলাকালীন বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে দান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর সঙ্গে দলের আরও বহু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের সাংসদ কে. সি. বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতাকেও সংসদে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবলও একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই পেলেট গানের ব্যবহার হয়ে থাকে এবং তার জেরে মানুষ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার, তা দেশের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেলেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে আহতদের শরীরে তার প্রমাণ মিলেছে। এত বড় ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, বিরোধী দলনেতা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, তা আহত ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী এবং মহিলাদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এলেও সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে আলাদা বিক্ষোভ দেখান। ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত অধিকারকে খর্ব করেছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।