নেপালে হড়পা বানে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত, উদ্ধার ১৬২টি দেহ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: পাহাড়ি ঢল ও আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের প্রবল তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সকালে হড়পা বানের প্রচণ্ড জলস্রোতে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক এলাকা মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনিক অনুমান অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৫৯৮ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে সেনাবাধ্যিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
হাওড়ার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চারতলায় আটকে বহু বাসিন্দা; উদ্ধার ৮ জন
সকাল সকাল ডেস্ক হাওড়া : হাওড়ার আন্দুল মৌড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভবনের চারতলা থেকে আচমকা আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশ ও দমকল বিভাগে খবর দেন। আগুন লাগার সময় বহুতলের ভেতরে একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সমান তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দমকলকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে বহুতলের বিভিন্ন তলায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চারতলায় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা আবাসন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। ভবনের অন্য কোনও অংশে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তলা ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎই চারতলা থেকে আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই তলায় তাঁর এক পরিচিত মহিলা থাকেন বলে জানান তিনি। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বহুতলের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই তারাপীঠ এবং কলকাতার দুটি পৃথক গেস্ট হাউসে আগুন লেগে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি ভারত, দাবি নির্মলা সীতারমনের
সকাল সকাল ডেস্ক টরন্টো : ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর বক্তব্য, বৃহৎ বাজার, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিপুল তরুণ জনসংখ্যা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই চারটি শক্তির সমন্বয়ই ভারতের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কানাডার টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সীতারমন বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তন কোনও সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তরের ফল। দ্রুত নগরায়ণ, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান এবং বিশ্বমানের ডিজিটাল অবকাঠামো এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর কথায়, এই রূপান্তরের ফলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভারতের ডিজিটাল অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর প্রসঙ্গও বিশেষভাবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আর্থিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলেছে। একই সঙ্গে কানাডার ব্যাংক, ফিনটেক সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সহযোগিতা শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী প্রজন্মের আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভারত-কানাডা সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দুই দেশের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সেতুবন্ধনের কাজ করছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বহুত্ববাদ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক—এই সবকিছুর ভিত্তিতেই ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
সীমান্ত ইস্যুতে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে অজিত দোভাল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মঙ্গলবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পর্যায়ের বৈঠক করেন। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরের আগে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চিনের সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনা প্রক্রিয়ায় অজিত দোভাল এবং ওয়াং ই উভয়েই নিজ নিজ দেশের ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী ও সামগ্রিক সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে এই বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর আগে, দু’দিনের সরকারি সফরে বেজিং পৌঁছে সোমবার চিনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অজিত দোভাল। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। দূতাবাসের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তিতেই এই আলোচনা এগিয়ে চলেছে।
ইউপিআই-এর অভূতপূর্ব সাফল্যে গর্বিত হওয়া উচিত প্রত্যেক ভারতীয়ের: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) চালুর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ইউপিআই-এর বিস্তৃতি ও সাফল্য প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, ইউপিআই শুধু ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেই বদলে দেয়নি, বরং বিশ্বমঞ্চেও দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরেছে। সোমবার এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “দশ বছর আগে ইউপিআই চালু হয়েছিল। আজ এটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট যাত্রার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ইউপিআই-এর ব্যাপক প্রসার ও জনপ্রিয়তা এমন একটি অর্জন, যা নিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়র গর্ব করা উচিত।” ইউপিআই সহজ, নিরাপদ এবং তাৎক্ষণিক লেনদেনের সুবিধা এনে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লব ঘটিয়েছে। নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে আরও দ্রুত ও সহজ করেছে। ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে ইউপিআই এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজের উপস্থিতি জোরদার করেছে। বর্তমানে ভুটান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপ-সহ মোট ১১টি দেশে ইউপিআই পরিষেবা চালু রয়েছে। এই সম্প্রসারণ ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি বৈশ্বিক আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।
পিপলকোটি সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী ধামি
সকাল সকাল ডেস্ক চামোলি : উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় টিএইচডিসি-র নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে জল ঢুকে ধস নামার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর থেকেই জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনও সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করানোও ছিল অত্যন্ত কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টিআরটি সুড়ঙ্গে ধস নামার ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ জলমগ্ন হয়ে যায়। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ২২ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। জেলাশাসক গৌরব কুমার সারারাত ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর কাজ করে চলেছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করা ছয়জন উদ্ধারকর্মী নিরাপদে রয়েছেন। আহতদের গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ, পুলিশ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে জল জমে থাকা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রদীপ সিং পাওয়ার, মুকেশ, দুর্লভ শর্মা, বিজয়, জিতেন্দ্র কুমার, লোকেশ্বর এবং ভুবনেশ্বর। প্রদীপ সিং পাওয়ার তেহরি জেলার চম্বা এলাকার গেনওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মুকেশের বাড়ি চামোলি জেলার উরগামে। দুর্লভ শর্মা বিহারের বাসিন্দা এবং বিজয় ও জিতেন্দ্র কুমারের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। লোকেশ্বর ও ভুবনেশ্বরের পরিচয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শীঘ্রই ভারত সফরে আসবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: শীঘ্রই ভারত সফরে আসার কথা জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার সিংহদরবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে প্রথম একান্ত বৈঠকে এই কথা জানান তিনি। বৈঠকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শাহের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা এবং ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত শ্রীবাস্তব শাহকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। আমি শীঘ্রই ভারত সফর করব।” প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এতদিন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এড়িয়ে চলেছিলেন শাহ। সাধারণত একসঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় সাড়ে চার মাস পর সোমবারই প্রথমবার একই দিনে ভারত ও চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন শাহ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রধান ব্যক্তিগত সচিব সুবাস শর্মা, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বিবেক মিশ্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের ভারত ডেস্কের প্রধান সহসচিব-সহ দু’জন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন এবং এক রাজনৈতিক আধিকারিক। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে শাহের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। প্রধানমন্ত্রীর দলের এক উপদেষ্টা বলেন, “সোমবারই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর ফলে ভারত সফরের পথ খুলে গেল। এখন কবে সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।” প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শাহ এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না করায় তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এরই মধ্যে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা কুমার বেন দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁর দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুমার বেনের দিল্লি সফরকে শাহের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়েছিল। দিল্লি যাওয়ার আগে এবং সফর থেকে ফেরার পরও তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে কথা বলেন। কুমার বেনের আগে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির সভাপতি রবি লামিছানেও ভারত সফর করেছেন।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কোনও পদক্ষেপে প্রস্তুত ভারত : রাজনাথ সিং
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার দিল্লির বেস হাসপাতালে ‘সিঁদুর মহারক্তদান যাত্রা’ রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ গোটা বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে, দেশের নারীদের সিঁদুরের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভারত প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, তারা পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস দেখানো শক্তিগুলিকেও উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। রক্তদান মানবতার শ্রেষ্ঠ উপহার রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, রক্ত কোনও কারখানা বা গবেষণাগারে তৈরি করা যায় না। একজন সুস্থ মানুষই অন্য একজনের জীবন রক্ষার জন্য রক্ত দিতে পারেন। তাই জীবনদানের পাশাপাশি রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে বীরত্ব ও সহমর্মিতার যে ঐতিহ্য ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সময় থেকে চলে আসছে, তা আজও অব্যাহত রয়েছে। অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশসেবার মধ্যেই মানুষের শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিহিত রয়েছে। রক্তদানকে সংস্কৃতিতে পরিণত করার আহ্বান তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রক্তদানকে শুধুমাত্র একটি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। তরুণদের এই উদ্যোগে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সংবেদনশীল ভারত গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা জাতীয় গঠনে মূল্যবান অবদান রাখতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবের দাবিতে সংসদের মকর দ্বারে বিরোধীদের বিক্ষোভ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সিজেপি-র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ব্যাখ্যার দাবিতে শুক্রবারও সংসদ ভবনের মকর দ্বারে বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধী সাংসদরা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও তাঁদের হাতে ছিল ‘অমিত শাহ জবাব দো’ লেখা ব্যানার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে উপস্থিতি এবং ঘটনার ব্যাখ্যার দাবিতে তাঁরা স্লোগান দেন। কংগ্রেস সাংসদ চামলা কিরণ কুমার বলেন, “আমরা চাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে এসে ২০ জুলাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্য রাখুন। আমরা বারবার এই অনুরোধ জানিয়েছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত অমিত শাহ বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেউই এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেননি।” তিনি আরও বলেন, “প্রথমে সরকারকে জানাতে হবে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল। এরপরই আমরা বিল উত্থাপন ও তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। এটাই আমাদের দাবি। কিন্তু সরকার আমাদের দাবি উপেক্ষা করছে। তারা মনে করছে বিরোধী দল বা দেশের মানুষের কাছে তাদের কোনও জবাবদিহি নেই। যতক্ষণ না সরকার এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।” সংসদের চলতি অধিবেশনেও এই ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য প্রয়োজন। অন্যদিকে সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সফল উৎক্ষেপণে আরও শক্তিশালী ভারতের প্রতিরক্ষা, ডিআরডিও-র অগ্নি-৪ পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে সমন্বিত পরীক্ষণ কেন্দ্র (আইটিআর) থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৪। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করে সর্বোচ্চ নির্ধারিত পাল্লা অতিক্রম করে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিরও প্রমাণ বহন করছে। ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নি-৪ একটি অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের পেলোড বহন করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি সড়কভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায়, ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নেভিগেশন ও গাইডেন্স প্রযুক্তির কারণে অগ্নি-৪ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উচ্চমানের নির্দেশন প্রযুক্তি এটিকে কঠিন পরিস্থিতিতেও কার্যকর করে তুলেছে। এর ফলে ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ডিআরডিও জানিয়েছে, অগ্নি-৪-কে পূর্বে অগ্নি-২ প্রাইম নামেও পরিচিত করা হতো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক নেভিগেশন ও নির্দেশন ব্যবস্থা দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতাকে আরও উন্নত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নি-৪ পরীক্ষার এই সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন নীতিরও বড় প্রমাণ। দেশীয় গবেষণা, নকশা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক মানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশে ভারতের সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফল উৎক্ষেপণ দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে এবং ভবিষ্যতে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশের পথকে আরও প্রশস্ত করবে। অগ্নি-৪-এর সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্বনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।