নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৭,৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, বিজয়নগরম : অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরামে ‘আল্লুরি সীতারাম রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি তিনি ১৭ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু। বিমানবন্দরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নতুন টার্মিনাল ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরম্পরাগত ‘ধিমসা’ নৃত্য পরিবেশন করেন হাজার হাজার আদিবাসী শিল্পী। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৩ হাজারেরও বেশি আদিবাসী মহিলার অংশগ্রহণ, নিষ্ঠা এবং নিজেদের সংস্কৃতির প্রাণবন্ত উপস্থাপনা সত্যিই অনন্য। এই পরিবেশনা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আদিবাসী ঐতিহ্য সংরক্ষণের উজ্জ্বল উদাহরণ। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে সব প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, তার মধ্যে বিমানবন্দর, সড়ক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তিশালী পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এই উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়নের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, প্রায় আট লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
সকাল সকাল ডেস্ক, ভুবনেশ্বর : ওড়িশার বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহানদী অববাহিকার উজানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসায় সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৈতরণী নদী ও তার শাখা-প্রশাখাকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, রাজ্যের ৫৭টি ব্লকের প্রায় আট লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মহানদী অববাহিকায় জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হীরাকুদ জলাধারের ১২টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে। জলাধারে জলের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ১২টি গেট খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ২ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। জাজপুর জেলায় ব্রহ্মাণী, কানি এবং নুয়া মাহারা নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত সাতটি স্থানে জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে দশরথপুর ব্লক থেকে, যেখানে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
আরও তিনটি দেহ উদ্ধার, ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
সকাল সকাল ডেস্ক, ভিওয়ান্ডি : মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে চারতলা একটি আবাসনের একাংশ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বিপর্যয়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর নেতৃত্বে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ বালাজি নগর এলাকার ভান্ডারি কম্পাউন্ডে অবস্থিত কোহিনূর ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পৌরসভার আধিকারিকদের মতে, চারতলা ওই ভবনে মোট ৪৮টি আবাসিক কক্ষ ছিল, প্রতিটি তলায় ১২টি করে ঘর। ভবনটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতর থেকে বিকট ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পান। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয়রা দ্রুত বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সবাই বেরিয়ে আসার আগেই ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকারী বাহিনী, দমকল এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও সারের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানানো হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, রান্নার গ্যাস এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস আমদানির উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন রবি মরসুমে কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, দেশের কোনও কৃষক যেন সারের অভাবে সমস্যায় না পড়েন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা, পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের নাগরিক কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সৌরশক্তি-সহ নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি নির্দেশ দেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টি
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : বাদল অধিবেশন চলাকালীন বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে দান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর সঙ্গে দলের আরও বহু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের সাংসদ কে. সি. বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতাকেও সংসদে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবলও একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই পেলেট গানের ব্যবহার হয়ে থাকে এবং তার জেরে মানুষ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার, তা দেশের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেলেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে আহতদের শরীরে তার প্রমাণ মিলেছে। এত বড় ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, বিরোধী দলনেতা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, তা আহত ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী এবং মহিলাদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এলেও সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে আলাদা বিক্ষোভ দেখান। ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত অধিকারকে খর্ব করেছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ সংশোধনী বিল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা সংশোধনী বিল লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল বুধবার নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়। বৃহস্পতিবার বিলটি রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের আন্দোলন কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী। এরপরই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেদিন একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ায় বিল নিয়ে আলোচনা এগোয়নি। মঙ্গলবার থেকে বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয় এবং বুধবার তা ধ্বনিভোটে গৃহীত হয়। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বিরোধী দলনেতার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এ নিয়ে লোকসভায় শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে স্পিকার স্পষ্ট করে দেন, কোনও ঘটনার তদন্ত দাবি করা যেতে পারে, তবে প্রমাণ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সংসদের নিয়মের পরিপন্থী। এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংশোধনী বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রথম আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সংশোধনীতে শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার হবে।
প্রায় ছয় দশকের সশস্ত্র হিংসার অবসান, ভারত এখন নকশাল-মুক্ত: সংসদে জানাল কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের নকশাল হিংসার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভারত এখন সম্পূর্ণ নকশাল-মুক্ত বলে বুধবার সংসদে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, এক সময় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির অন্যতম ছিল নকশাল সমস্যা। তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগ এবং নকশাল দমনে ২০১৫ সালের জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ফলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোনও জেলাকেই আর নকশাল-কবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে ১২৬টি জেলা নকশাল-কবলিত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, সেখানে ২০২১ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৭০-এ। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তা কমে হয় ৩৮ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মাত্র ৮টি জেলা ওই তালিকায় ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সেই সংখ্যাও শূন্যে নেমে এসেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৩৭টি জেলাকে ‘লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলিকে আর নকশাল-প্রভাবিত বলা না হলেও, সেখানে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া একটি জেলাকে ‘ডিস্ট্রিক্ট অফ কনসার্ন’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিস্তার এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নকশাল কার্যকলাপ কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সাফল্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দীর্ঘদিনের একটি বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটিয়েছে।
বিশ্ব ওআরএস দিবসে শিয়ালদহ স্টেশনে সচেতনতা শিবির, যাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওআরএস বিতরণ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বিশ্ব ওআরএস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্ব রেলের উদ্যোগে বুধবার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হল বিশেষ জনসচেতনতা কর্মসূচি। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওষ্করের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং ডিহাইড্রেশন মোকাবিলায় ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস)-এর গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বি. আর. সিং হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে শিয়ালদহের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সম্পাদক ড. মিহির সরকার, অধ্যাপক ড. দিব্যেন্দু রায় চৌধুরী, শিয়ালদহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এসিএমএস ড. সঞ্জীব চৌধুরী-সহ একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়রিয়া হলে দ্রুত ওআরএস খাওয়ানো, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্ষাকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে বলে প্রতিটি পরিবারের কাছে ওআরএস প্যাকেট মজুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিয়ালদহ স্টেশনের শত শত যাত্রীর হাতে বিনামূল্যে ওআরএস প্যাকেট এবং সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা যাত্রীদের ওআরএস তৈরির সঠিক পদ্ধতি, ব্যবহারের নিয়ম এবং ডিহাইড্রেশনের বিপজ্জনক লক্ষণ সম্পর্কে হাতে-কলমে বোঝান। পাশাপাশি, গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সচেতন করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে স্টেশনের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডেও স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হয়। স্বাস্থ্যকর্মী, রেল আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রেল স্টেশনে এই ধরনের জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রতিদিনের বিপুল সংখ্যক যাত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে পূর্ব রেল ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
অসমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবুও সাত জেলায় জলবন্দি তিন লক্ষাধিক মানুষ
জল কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। সকাল সকাল ডেস্ক অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও তিন লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে শিবসাগর জেলায় আরও সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শিবসাগর, গোলাঘাট, চড়াইদেও, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ (মহানগর) জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যাকবলিত। মোট ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম এখনও জলের নিচে রয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪২ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল কমলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বহু রাস্তা, বিদ্যালয় এবং সরকারি ভবন এখনও কাদা ও পলিতে ভরে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উজান অসমের চারটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যাও এই এলাকাগুলিতেই বেশি। শিবসাগরের নাজিরা এলাকায় এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মিললে সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের মৃত ঘোষণা করে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। নতুন সমস্যার মুখে দুর্গত মানুষ বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহু বাড়ি, বিদ্যালয় ও অন্যান্য ভবনের ভিতরে হাঁটুসমান পলি জমে রয়েছে। অনেক বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বহু পরিবার এখনও ত্রাণশিবিরেই অবস্থান করছে। পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বর্তমানে ৮১টি ত্রাণশিবির এবং ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ত্রাণশিবিরে বর্তমানে ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬ হাজার ৩১৪ জন মানুষ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ১২৫টি চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে। উদ্ধারকাজে ২১টি নৌকা নিয়োজিত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধনশিরি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।