আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতটির উপর ব্যাপক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে আইসিসিকে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর মার্কিন ডলারে লেনদেনের ক্ষেত্রে আদালতটি বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে যোগাযোগ পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেনদেন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন অথবা তার পরেই এ বিষয়ে ঘোষণা হতে পারে।

প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি আগের ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। এর আগে আমেরিকা আইসিসির একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। আদালতের প্রাক্তন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকাশানে-সহ কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ওয়াশিংটন ও আন্তর্জাতিক আদালতের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কথিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ট তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আমেরিকা আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন মার্কিন নাগরিক এবং আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিকদের উপর আদালতটির বিচারিক এখতিয়ারের কিছু প্রয়োগের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে, আইসিসি নিজেদের বিচারিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম, কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন দেশে তদন্ত পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে লেনদেনে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।

এখন নজর মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি কতটা বিস্তৃত হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজকর্মে তার কী প্রভাব পড়ে, তা সেই সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Read More News

Read More