সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির তদারকির জন্য বিশেষ ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের তদারকিতে একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একাধিক বিশেষজ্ঞ এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের একাংশের মতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এআইয়ের বিকাশের গতি কমানোর পক্ষে নন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের অবস্থান, এই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি না হলে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় চিনের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে আমেরিকা। যদিও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং জননিরাপত্তার উপর তার প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে গঠিত ‘স্পেস ফোর্স’-এর ধাঁচেই ‘এআই ফোর্স’ তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, স্পেস ফোর্স সফল হয়েছে এবং একইভাবে নতুন বাহিনী এআই সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখবে। অদূর ভবিষ্যতে একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের ঘোষণাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এআই মানবসমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। এআই নিয়ে আতঙ্ক তৈরির প্রচেষ্টাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, তাঁর প্রশাসন এআই শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে না। বরং আমেরিকাকে এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের অগ্রণী দেশ হিসেবে ধরে রাখার লক্ষ্যে দ্রুত উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করা হবে।
তবে এআইয়ের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, প্রযুক্তির বিকাশ বন্ধ না করে যারা এআই ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে প্রস্তাবিত বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, সদস্যসংখ্যা কিংবা কোন সরকারি বিভাগের অধীনে এটি কাজ করবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
No Comment! Be the first one.