ইরান চুক্তি নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা, বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক প্যারিস/ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দু’দিন আগে ফের অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকবে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা কাঠামো। যদি আমার এটি গ্রহণযোগ্য না মনে হয় বা ইরান সঠিক আচরণ না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই ট্রাম্প প্রশাসন চাপ সৃষ্টির কৌশল অব্যাহত রেখেছে। যদিও গত রবিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানের এই পরিবর্তন কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে ওয়াশিংটন আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের রসিকতা ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে একটি হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ট্রাম্প মজা করে বলেন, “আমিই বস।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। মাক্রোঁও বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবেই গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, কানাডায় অনুষ্ঠিত আগের জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে ছেড়ে চলে গেলেও এবার ট্রাম্প পুরো সম্মেলনে অংশ নেন এবং যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেন। সম্মেলন শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তিনি ভার্সাই প্রাসাদে একটি বিশেষ নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান, শান্তিচুক্তিতে রয়েছে ১৪টি শর্ত
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সংঘাত শেষ করে এবার সমঝোতার পথে আমেরিকা ও ইরান। বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন আধিকারিকেরা কনফারেন্স কলে সমঝোতাপত্রে থাকা শর্তগুলি প্রকাশ্যে এনেছেন। ইরানের তরফে অবশ্য সমঝোতাপত্রের শর্তের বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। আমেরিকা ১৪টি শর্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মউ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান বিষয়ক মউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আমেরিকার পক্ষ থেকে যে ১৪টি শর্ত প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে – লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ার সব প্রান্তে দ্রুত পাকাপাকি ভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আমেরিকা, ইরান এবং তাদের সহযোগী রাষ্ট্রগুলি। আমেরিকা আর ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে। এছাড়াও চূড়ান্ত চুক্তিস্বাক্ষরের আগে আমেরিকা এবং ইরান ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে ইত্যাদি।
শিগগিরই প্রকাশ পাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানচুক্তিরপূর্ণাঙ্গরূপরেখা: ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই দেশ স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজসহ আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে খুব শিগগিরই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। চুক্তির আওতায় ইরানকে পুনরায় তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং, পরিবহণ এবং বিমা খাতে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হতে পারে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের একাংশ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে ইরানের অভ্যন্তরেও অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে।
আমেরিকা-ইরান সমঝোতা অনিশ্চিত, ২৪ ঘণ্টার ‘চমক’-এর অপেক্ষায় পাকিস্তান; মাশহাদে চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দাবি ও আলোচনার মধ্যেও ইরান এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত নয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশ একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তবে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সম্ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। ইরানের মাশহাদ শহরে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও হয়েছে। গালফ নিউজ, শিনহুয়া, আল জাজিরা এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, শনিবার মাশহাদে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরের বাইরে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এক ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী লাল ও কালো পতাকা নাড়িয়ে “অপমানজনক আরাগচি, আগ্রাসীর মৃত্যু হোক” ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্বও এই প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, “চুক্তিতে কাল স্বাক্ষর হবে এবং স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে যাবে।” তবে এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রবিবার এটি হচ্ছে না,” যদিও ভবিষ্যতে সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা হয়নি। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।” পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রবিবারই স্বাক্ষর হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তেহরান জানিয়েছে, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, সেখানে টোল আদায়ের জন্য ইরান একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরান সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়, যা মার্কিন সেনা প্রতিহত করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল হতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের মতো থাকবে না। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হবে না এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই ঘোষণাটি রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হতে পারে।
হরমুজে ভারতীয় জাহাজে হামলার চেষ্টা নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি, নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে
সকাল সকাল ডেস্ক আরব বিশ্বের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজগুলিকে মানববিহীন উড়ন্ত যানের (ড্রোন) মাধ্যমে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় ইরান। ঘটনাটিকে তিনি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের রাতে ভারতীয় জাহাজগুলির বিরুদ্ধে চালানো ওই হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। চলতি সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভারত সরকার সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। শুধু জাহাজে হামলার অভিযোগই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা যে খসড়া চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনো মিল নেই। তেহরানের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সও এ বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকের বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সমঝোতার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। ফলে একদিকে হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা—দুই বিপরীত বার্তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইরান, বাহরাইন, কুয়েতের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিপাত, হরমুজ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা—এখন শুধু বোমার মাধ্যমেই হবে আলোচনা
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে ইরানের ওপর মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা শুরু করেছে। এতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গাল্ফ নিউজ, আল জাজিরা এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আত্মরক্ষার জন্য হামলা অব্যাহত থাকবে। সেন্টকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে তিন মাস ধরে চলা সংঘাত শেষ করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এখন থেকে কেউ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, এই কৌশলগত জলপথ বন্ধ করার দাবি মিথ্যা; বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলো চলাচল করছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটি ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আলি ও আহমেদ এয়ার ফোর্স বেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। শেইখ ঈসা এয়ার বেস ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা গতকালও ইরানে হামলা করেছি, আজ আরও বড় হামলা হবে। যুক্তরাষ্ট্র কাউকে ভয় পায় না। নেতৃত্বের পতাকা যারা তুলবে, তাদের পরিণতি সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মতোই হবে।” তার এই বক্তব্যের পর মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাসে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণের শহর সিরিক ও মিনাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন ইরানের সঙ্গে শুধু বোমার মাধ্যমেই কথা হবে।
ফের আফগানিস্তানে হামলা পাকিস্তানের, নিহত ১৩ জন
সকাল সকাল ডেস্ক কাবুল: ফের আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। প্রাণঘাতী বিমান হামলার মাধ্যমে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের হামলায় ১৩ জন নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক মারা গিয়েছেন। তালিবানের প্রধান মুখপাত্র জবিহউল্লাহ মুহাজিদ জানিয়েছেন, খোস্ত, কুনার এবং পাকটিকা প্রদেশে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কমপক্ষে ১৩ জন ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু। যদিও পাকিস্তানের তরফে হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি এখনও। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের উপর হামলা চালাচ্ছে। প্রাণ হারিয়েছেন প্রচুর মানুষ। মাঝে হস্তক্ষেপ করেছিল চিন। কিছু সময়ের জন্য যু্দ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার রাতে ফের হামলা চালালো পাকিস্তান। কাবুলে ক্ষমতাসীন তালিবান সরকার বুধবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো রাতের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন মারা গিয়েছেন এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিপিন্সে ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৭, এখনও চলছে উদ্ধার কাজ
সকাল সকাল ডেস্ক ম্যানিলা: ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেনারেল সান্তোস-এ ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি বাণিজ্যিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে মঙ্গলবারও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও আরও দু’জন এখনও আটকে পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমবার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয় ফিলিপিন্সে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮ মাত্রা। ভূকম্পনের অভিঘাতে ফিলিপিন্সে বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
লেবাননে ইজরায়েলের হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল-সহ নিহত ১২
সকাল সকাল ডেস্ক বেইরুট: আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। শনিবারের এই হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং একজন ক্যাপ্টেন রয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের খারদালি–নাবাতিয়েহ সংযোগ সড়কে চলাচলকারী একটি সামরিক যানকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল এই হামলা চালায়। লেবাননের সেনাবাহিনী বলেছে, ইজরায়েলের ইচ্ছাকৃত, বারবার চালানো এমন নৃশংস আগ্রাসনের ধারাবাহিকতার লক্ষ্য হলো কোনও সমাধানে পৌঁছানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া। অন্যদিকে ইজরায়েলি সেনা দাবি করেছে, শনিবার ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ হামলা চালানো হয়েছে। ইজরায়েলি সেনা এও জানিয়েছে, গত দুদিনে তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রায় ১৫০টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার, রকেট লঞ্চার রয়েছে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার গভীর রাতে জানিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের দুজন সেনাও নিহত হয়েছে।
বন্ধু মোদীর সঙ্গে শীঘ্রই বাণিজ্য চুক্তি হবে, মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আবারও “বন্ধু” সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, বন্ধু মোদীর সঙ্গে শীঘ্রই বাণিজ্য চুক্তি হবে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “বছরের পর বছর ধরে ভারত আমেরিকার সুযোগ নিয়েছে। তারা আমাদের ওপর বিপুল শুল্ক আরোপ করেছে এবং কিছুই পরিশোধ করেনি। এখন পরিস্থিতি ঠিক উল্টো এবং আমরা ভারতের সঙ্গে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছি। কিন্তু আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি; তিনি আমার একজন ভালো বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক আছে।” উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে প্রস্তাব পেশ হয়েছে আমেরিকার আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চার রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ বার সেই ভোটদানকেই অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দলের চারজন সদস্য আসলে ‘দেশবিরোধী’ কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি হুমকি বজায় রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, ‘‘ইরানের হাতে কোনও আমেরিকার সেনার যদি মৃত্যু হয় সে ক্ষেত্রে যুদ্ধ ফের শুরু হবে। তার যৌক্তিকতাও অস্বীকার করা যাবে না।’’