ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভারতের দলে আকিব নবি ও নমন ধির
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই : শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতের টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পেয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও এবার তাঁর সামনে খুলল একদিনের ক্রিকেটের দরজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আসন্ন সিরিজের জন্য প্রথমবার ভারতের ওয়ান ডে স্কোয়াডে ডাক পেলেন আকিব। তাঁর সঙ্গে প্রথমবার জাতীয় ওয়ান ডে দলে জায়গা পেয়েছেন পঞ্জাবের নমন ধিরও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিনটি ওয়ান ডে এবং পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে ভারত। সিরিজ শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। ওয়ান ডে দলের নেতৃত্বে থাকছেন শুভমন গিল। একই সময়ে জাপানে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়স আইয়ার। ফলে গিলের ডেপুটি হিসেবে কেএল রাহুলকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের কথা মাথায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে জসপ্রীত বুমরাকে। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পথে থাকলেও হার্দিক পান্ডিয়াকে এখনই জাতীয় দলে ফেরানোর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাঁকে। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে ওয়ান ডে দলে সিম বোলিং অলরাউন্ডারের বিকল্প বাড়াতে নীতীশ রেড্ডিকে রাখা হয়েছে। সেই কারণে তাঁকে এশিয়ান গেমসের দল থেকে সরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজারও। অক্ষর প্যাটেল এশিয়ান গেমসে ব্যস্ত থাকবেন এবং তরুণ হর্ষ দুবে চোটের কবলে থাকায় ফের ওয়ান ডে পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছেন জাদেজা। নতুন মুখ নমন ধিরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে নির্বাচকদের। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বিজয় হাজারে ট্রফিতে পঞ্জাবের হয়ে ১৪ ম্যাচে চারটি অর্ধশতরান-সহ ৩৫৭ রান করেছেন তিনি। পার্টটাইম অফস্পিনে নিয়েছেন সাতটি উইকেট। অন্যদিকে লাল বলের ক্রিকেটে নজর কাড়ার পর এবার সাদা বলের জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন আকিব নবি। জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে ৩৬টি লিস্ট-এ ম্যাচে ৫.২০ ইকনমি রেটে তাঁর সংগ্রহ ৫৬ উইকেট। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দুই নতুন মুখের অভিষেকের সুযোগ আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। ভারতের ওয়ান ডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), ধ্রুব জুরেল, নীতীশ রেড্ডি, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, গুরনুর ব্রার, মহম্মদ সিরাজ, আকিব নবি, যশস্বী জয়সওয়াল ও নমন ধির। ভারতের টি–২০ দল: শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষান (উইকেটরক্ষক), সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), শিবম দুবে, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবি বিষ্ণোই, নীতীশ রেড্ডি, অর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব ও ময়াঙ্ক যাদব।
শনিবার ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্র দেবেন প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : শনিবার ২০তম ‘রোজগার মেলা’-য় বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে মোট ৪৫টি স্থানে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনিযুক্ত কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। নবনিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্ব বিভাগ, রেল মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোজগার মেলা যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে তাঁদের আরও বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নবনিযুক্তদের দেশের সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এশিয়াডে ভারতের পতাকাবাহক মনু ভাকের ও তাজিন্দরপাল সিং তুর
সকাল সকাল ডেস্ক আইচি-নাগোয়া : গত এশিয়ান গেমসে ১০৭টি পদক জিতে সর্বকালীন সেরা ফল করেছিল ভারত। সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হাজির ভারতীয় দল। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমস। তার আগেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবাহক হিসেবে মনু ভাকের ও তাজিন্দরপাল সিং তুরের নাম সামনে এল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় পতাকা বহন করবেন অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী শুটার মনু ভাকের এবং পরপর দুই এশিয়ান গেমসে শটপুটে সোনাজয়ী তাজিন্দরপাল সিং তুর। শুক্রবার দুই তারকার নাম নিশ্চিত করা হয়। ভারতের ‘শেফ দ্য মিশন’ সহদেব যাদব মনুর নাম নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে তাজিন্দরের নাম জানায় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। প্যারিস অলিম্পিক্সে ইতিহাস গড়েছিলেন মনু। মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং মিক্সড টিম ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে একই অলিম্পিক্সে দুটি পদকজয়ী প্রথম স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় অ্যাথলিট হয়েছিলেন তিনি। এবার এশিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা বহনের সম্মান তাঁর মুকুটে যোগ করল নতুন পালক। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসে তাজিন্দরপাল সিং তুরের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়াডে পুরুষদের শটপুটে সোনা জেতার পর হ্যাংঝৌতেও খেতাব ধরে রেখেছিলেন তিনি। ফলে জাপানের মাটিতে টানা তৃতীয় সোনার লক্ষ্যে নামবেন ভারতের এই তারকা শটপুটার। এবারের এশিয়ান গেমসে ভারতের দলে রয়েছেন ৪৯২ জন অ্যাথলিট। এত বড় দলের মধ্যে থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকাবাহক নির্বাচিত হওয়া মনু ও তাজিন্দরের কাছে বিশেষ সম্মানের। এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই কয়েকটি খেলায় ভারতের অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে। খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে দুরন্ত শুরু করেছে মহিলা ক্রিকেট দল। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। মহিলাদের টেকবলেও ঐতিহাসিক পদকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছেন কুইমসি জোয়াকিম ডি’সুজা। গতবারের ১০৭ পদকের রেকর্ড সামনে রেখে এবার আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য ভারতের। শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনু ও তাজিন্দরের হাতে তেরঙ্গা দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আইচি-নাগোয়ায় ভারতের নতুন এশিয়াড অভিযান।
৩০ বলে সেঞ্চুরি, ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন অভিষেক শর্মা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে শতরান করে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-২০ সেঞ্চুরির নজির গড়লেন বাঁ-হাতি ওপেনার। ভেঙে দিলেন রোহিত শর্মার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন রোহিত। সেই রেকর্ড পাঁচ বল কম খেলেই টপকে গেলেন অভিষেক। শতরানে পৌঁছনোর সময় তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১০টি ছক্কা। তখন মাত্র ৮.৩ ওভারে ভারতের স্কোর বিনা উইকেটে ১৩২ রান। টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে থাকেন অভিষেক। ফজলহক ফারুকি, আজমতুল্লাহ ওমরজাই থেকে রশিদ খান—কাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। পাওয়ার-প্লেতেই মাত্র ২২ বলে ৭৬ রান তুলে ফেলেন অভিষেক। ফারুকির এক ওভার থেকে আসে ২৩ রান। রশিদের বিরুদ্ধেও একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। অন্য প্রান্ত থেকে সঞ্জু স্যামসনও পরে আক্রমণে যোগ দেওয়ায় আফগান বোলারদের ওপর চাপ আরও বাড়ে। নবম ওভারে মুজিব উর রহমানকে আক্রমণ করে মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। সেঞ্চুরির পর হাঁটু মুড়ে ধ্যানের ভঙ্গিতে তাঁর উদ্যাপন নজর কাড়ে। ফুটবল তারকা এরলিং হাল্যান্ডের পরিচিত উদ্যাপনের সঙ্গে যার মিল রয়েছে। অবশ্য শতরানের পর ইনিংস খুব বেশি দীর্ঘ করতে পারেননি তিনি। দশম ওভারে রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসের সুবাদে একাধিক নজির গড়েছেন অভিষেক। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৩৭ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ৪০ বলের কমে একাধিক শতরানের বিরল কীর্তিও তাঁর নামের পাশে যুক্ত হল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু সিরিজের শুরু থেকেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ৩২ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত ৩৯ রান করেন। আর শেষ ম্যাচে এল রেকর্ড গড়া শতরান। দিল্লির এই ইনিংসে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে স্পিনারদের বিরুদ্ধে অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিং। রশিদ, মুজিবদের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। মাত্র ৩০ বলে শতরান করে ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম নতুন করে লিখে দিলেন অভিষেক শর্মা।
জাপানকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ভারত
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখার অভিযানে দুরন্ত ছন্দে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক জাপানকে কার্যত একতরফা ম্যাচে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ভারত। শুক্রবার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বল হাতে শ্রী চরণির ঘূর্ণি এবং ব্যাটে শেফালি বর্মার বিধ্বংসী ইনিংসে মাত্র ৫ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় হরমনপ্রীত কৌরের দল। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জাপান। শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি আয়োজকরা। মাই ইয়ানাগিদা ও হারুনা ইওয়াসাকি সতর্ক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান যোগ করেন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের ছবিটা পুরোপুরি বদলে দেন শ্রী চরণি। বাঁ-হাতি স্পিনে জাপানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান চরণি। প্রথম ওভারে ৯ রান খরচ করলেও পরের তিন ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে তুলে নেন চারটি উইকেট। তাঁর স্পিনের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জাপান। আয়ুকা কাটো-স্টাফোর্ড ৪৭ বলে ২৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেফালি বর্মার বলে তিনি ফিরতেই জাপানের লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। চরণি ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। শেফালিও বল হাতে সফল। ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে তাঁর সংগ্রহ ২ উইকেট। চোট কাটিয়ে ফেরা শ্রেয়াঙ্কা পাটিল ৩ ওভারে দেন মাত্র ৭ রান। ভারতীয় বোলারদের দাপটে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জাপান। ৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন শেফালি। প্রথম ওভারেই অহল্যা চান্ডেলকে চারটি বাউন্ডারি মেরে ভারতের স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৭ রান। যদিও দ্বিতীয় ওভারে খাতা না খুলেই ফেরেন গুনালান কমলিনী। তিন নম্বরে নামা ভারতী ফুলমালিও ৭ বলে ৬ রান করে আউট হন। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও ভারতের রান তোলার গতি থামেনি। এক প্রান্তে জাপানি বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যান শেফালি। তাঁকে সঙ্গ দেন রিচা ঘোষ। মাত্র ৫ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিচা। শেফালি অপরাজিত থাকেন মাত্র ১৫ বলে ৪০ রানে। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কা হাঁকিয়েই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবার সামনে বাংলাদেশ। ২০ সেপ্টেম্বর সেই ম্যাচ জিতলেই ফের সোনার পদকের লড়াইয়ে ফাইনালে নামার সুযোগ পাবে ভারত।
‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বেরিয়ে আসা কেন জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক প্থমবার লেখক হওয়ার জন্য চাকরির আবেদন করতে যাওয়ার সময় আমি বেশ শঙ্কিত ছিলাম। প্থমত আমার কোনো বন্ধু এই পেশায় ছিল না এবং দ্বিত্ীয়ত আমি এই পেশার তেমন কাউকে চিনতামও না। তা সত্ত্বেও আমি শেষ পর্যন্ত সেখানে আবেদন করেছি। বিষয়টি যেমন ভয়ের ছিল, তেমনি আমার জন্য বেশ চমৎকার একটি অভিজ্ঞতাও ছিল। এর মাধ্যমে চমৎকার কিছু লেখকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশে অনেক কিছু শিখেছি এবং বেশ কিছু ভালো বন্ধু পেয়েছি। আপনি কি কখনো নতুন কোনো জিনিসে আগ্রহ্ী হয়েছেন কিন্তু আপনার কোনো বন্ধুকে একই বিষয়ে আগ্রহ্ী হতে দেখেননি? এটা হতে পারে নতুন কোন শখ, নতুন চাকরি অথবা নতুন দেশের ক্ষেত্রে আগ্রহ। অনেকের জন্য পরিবর্তন কিছুটা ভয়ের কারণ বা অপ্য়োজন্ীয় মনে হতে হতে পারে, বিশেষত আপনি যদি আপনার অবস্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন। তবে আপনার বর্তমান স্বাছন্দ্য আপনার সফলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নিজেদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যে পৗঁেছানোর জন্য আমরা কখনো কখনো নতুন কোনো বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। সেটি করার জন্য নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন মানুষদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিতে হবে। সবসময় একই মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা করলে নতুন কিছু করার ইচ্ছা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ তাদের লক্ষ্য আপনার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। এ ছাড়া নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে আসার ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হল নেটওয়ার্কিং। যদিও মানুষ অনেক সময় নেটওয়ার্কিংকে কম গুরুত্ব দেয়, কিন্তু এটি সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেউ যদি নতুন কোনো কিছু করার সুযোগ পায় কিন্তু নিজের গণ্ডি থেকে বের হতে না চায় তাহলে তাদের নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা গড়ে উঠবে না। অন্যদিকে যদি কেউ নিজেই নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন, নতুন অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আগ্রহ্ী হোন তাহলে তার খুব ভালো নেটওয়ার্কিং দক্ষতা গড়ে উঠবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যত বেশি মানুষের সঙ্গে মিশবেন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি তত প্সারিত হবে ও নতুন কিছু শিখতে পারবেন। এটা ঠিক যে, এই অভিজ্ঞতাগুলো সবসময় ইতিবাচক নাও হতে পারে। তবে সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলোও আপনাকে মূল্যবান শিক্ষা দিতে পারে। এক্ষেত্রে স্বাধ্ীনতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা আপনি অন্যের ওপর নির্ভর না করে একাই অর্জন করতে পারেন। কাছের বন্ধুরা সবসময় একটি নিরাপদস্থল হিসেবে থাকে, তবে মাঝে মাঝে একাই নিজের ডানা প্সারিত করে আকাশে উড়তে হয়। নাহলে এক সময় দেখবেন অন্যের ওপর বেশি নির্ভর করতে করতে নিজের স্বাধ্ীনতা ও ভব্যিষত আকাঙ্ক্ষা কোনোটিই অর্জন করা হবে না। পৃথিব্ী নতুনদের জন্য অপেক্ষা করে, যারা কিছুদিনের মধ্যেই এর হাল ধরবে। তাই নিজের গণ্ডি থেকে বের হয়ে নতুন সূচনা ও নতুন অভিজ্ঞতাকে আলিঙ্গন করার সময় এখনই।
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, এআই পরিকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : বিশ্বজুড়ে উন্নত প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ার মধ্যেই ভারতে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর উদ্বোধন করে তিনি জানান, দেশে প্রযুক্তি বিপ্লবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সেমিকন্ডাক্টর মিশনের দ্বিতীয় পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ১ লক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ৭০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, দেশে এবং বিদেশে কর্মরত ভারতীয় তরুণ-তরুণী ও গবেষকদের উন্নত প্রযুক্তির বিকাশে অংশ নিতে ভারতে ফিরে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভারতের শিল্প সংস্কারের গতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেমিকন্ডাক্টর মিশনের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দেশীয় স্টার্টআপ, ভারতীয় নকশা প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং ওসিআই মালিকানাধীন সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে। নীতি প্রণয়ন, অর্থায়ন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যৌগিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন থেকে শুরু করে সমগ্র ইকোসিস্টেমে ‘সিলিকন ফোটোনিক্স’-এর সংযোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিকাঠামোর ভিত্তি ইতিমধ্যেই ভারতে স্থাপিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করতে ভারত একাধিক সংস্কার করেছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ভারতের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং বৃহৎ বাজারকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর পরিকাঠামো গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে ভালো চুক্তি, নইলে কোনও সমঝোতা নয়; তেহরানকে বার্তা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরান সমঝোতা করতে চায়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী তেহরান এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এমন ভালো চুক্তি করা হবে, তা না হলে কোনও সমঝোতাই হবে না। মিডিয়া সংস্থা ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরান আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলেও এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনও সমঝোতা আমেরিকার প্রত্যাশা অনুযায়ীই হতে হবে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি-র সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের উপর মার্কিন হামলায় দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, তা না হলে এতদিনে তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকত। ইরান অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির অর্থনীতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ৩০০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকর্মীরাও বেতন পাচ্ছেন না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। জানি না, সেটা কোনও চুক্তির মাধ্যমে হবে কি না। তবে আমরা ইতিমধ্যেই জিতছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির বিপরীতে পেন্টাগনের এক প্রাক্তন আধিকারিক দাবি করেছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক ব্রেন্ট স্যাডলারের বক্তব্য উল্লেখ করে জানিয়েছে, তেহরানের উপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়ছে। সেই কারণেই নভেম্বরের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। স্যাডলার বলেন, “আর্থিক ও মুদ্রানীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই এই ফলাফলের দিকেই ইঙ্গিত করছে।” তাঁর মতে, বছরের শেষ হওয়ার আগেই অথবা নভেম্বরের নির্বাচন চলাকালীন এই সংঘর্ষের অবসান হতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধের অন্যান্য পদ্ধতিই তাঁর এই অনুমানের প্রধান কারণ বলে জানান স্যাডলার।
ইনজুরি টাইমে এস্পির গোলে নাটকীয় জয় রিয়ালের, বার্সার পয়েন্ট ছুঁল মাদ্রিদ
সকাল সকাল ডেস্ক শেষ মুহূর্তের গোলে এলচের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও একসময় জয় হাতছাড়া হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে পরিবর্ত হিসেবে নামা কার্লোস এস্পির গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাদ্রিদ। এই জয়ের ফলে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ছুঁয়ে ফেলেছে রিয়াল। ম্যাচের ৯১ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন এস্পি। চলতি মরসুমের শুরুতে লেভান্তে থেকে রিয়ালে যোগ দিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। এখনও প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও পরিবর্ত হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। লিগের প্রথম ম্যাচে এসপানিয়লের বিরুদ্ধেও শেষ মুহূর্তে তাঁর গোল রিয়ালকে স্বস্তি দিয়েছিল। ছয় ম্যাচে পাঁচটি জয় নিয়ে বর্তমানে বার্সেলোনার সমান পয়েন্টে রয়েছে মাদ্রিদের দলটি। এলচের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রিয়াল। জুড বেলিংহ্যামকে বিশ্রাম দিয়ে প্রথম একাদশে আর্দা গুলেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন কোচ জোসে মোরিনহো। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গুলেরের পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। কিন্তু সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাজিলীয় তারকা। পরে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর আরও একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এগিয়ে যায় রিয়াল। গুলেরের ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে এলচের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর শরীরে প্রতিহত হয়ে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মাদ্রিদ। আট মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। ইয়ান দিওমান্ডের পাস থেকে গোল করেন এমবাপে। চলতি মরসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ফরাসি তারকার অষ্টম গোল। গোল করার সময় বিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেলেও ম্যাচ চালিয়ে যান তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় এলচে। লুকাস সেপেদার ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান আবিয়েল ওসোরিও। এরপর রিয়ালের রক্ষণের উপর চাপ বাড়াতে থাকে এলচে। তারই ফল মেলে ৮৩ মিনিটে। নিনোর গোলে ২-২ সমতা ফেরায় তারা। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ থেকে পয়েন্ট হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শেষ দিকে আক্রমণভাগে পরিবর্তন করেন মোরিনহো। কার্লোস এস্পি এবং এন্ড্রিককে মাঠে নামানো হয়। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল দেয়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে এমবাপের পাস থেকে গোল করে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এস্পি। বাকি সময়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি এলচে। ম্যাচের পর এস্পির পাশাপাশি এমবাপের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন মোরিনহো। তবে দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরেও এলচেকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেওয়ায় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়ার পর সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চাপে রাখতে না পারার বিষয়টি শুধরে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন রিয়াল কোচ। এদিকে লা লিগার অন্য ম্যাচে আলাভেসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে লুই রিওজার গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। অন্যদিকে এসপানিয়লের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে রায়ো ভায়েকানো।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুতেই ধাক্কা, আল-আইনের কাছে ৪-০ হার রোনাল্ডোদের
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে অভিযান শুরুর ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আল-নাসের। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্লাব আল-আইনের কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে সৌদি আরবের দলটি। গোটা ম্যাচে আল-আইনের আক্রমণের সামনে কার্যত ছন্দ খুঁজে পায়নি আল-নাসের। গোলের দেখা পাননি রোনাল্ডোও। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দু’বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন আল-আইন। ২৫ মিনিটে হুসিন রহিমির গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে আল-আইন। এক ঘণ্টার খেলা পেরোনোর পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান রহিমি। ৭২ মিনিটে আল-নাসেরের রক্ষণ ভেঙে তৃতীয় গোলটি করেন তাঁর ভাই সুফিয়ান রহিমি। এরপরও আল-আইনের আক্রমণ থামেনি। সুফিয়ানের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন জর্জিওস গিয়াকুমাকিস। শেষ পর্যন্ত ৪-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্লাবটি। আল-নাসেরের হয়ে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কেরিয়ারের ৯৮০তম গোলের সন্ধানে থাকা পর্তুগিজ তারকা ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রি-কিক থেকে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শট আটকে দেন আল-আইনের গোলরক্ষক খালিদ ইসা। ফলে গোল না করেই ম্যাচ শেষ করতে হয় রোনাল্ডোকে। ম্যাচের পর আল-নাসেরের পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু। তাঁর বক্তব্য, ফুটবলাররা নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন এবং এই হারের জন্য তাঁদের দায়ী করতে চান না তিনি। দল হিসেবে আল-নাসের প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে পারেনি বলেও স্বীকার করেন কোচ। এই ফলের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচে আল-নাসেরের জয় মাত্র একটি। এদিকে প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে সৌদি আরবের অন্য ক্লাবগুলির ফল ছিল মিশ্র। চারবারের চ্যাম্পিয়ন আল-হিলাল ২-১ গোলে হারিয়েছে কাতারের আল-ঘারাফাকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করেন রুবেন নেভেস। পরে সের্গেই মিলিঙ্কোভিচ-সাভিচের গোলে জয় নিশ্চিত করে আল-হিলাল। অন্য ম্যাচে উজবেকিস্তানের পাখতাকোরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে আল-আহলি। কাতারের আল-শামালের বিরুদ্ধেও একই ব্যবধানে ড্র করেছে আল-ইত্তিহাদ। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল-ওয়াসলকে ২-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে আল-কাদিসিয়া। প্রথম ম্যাচে চার গোলের পরাজয় আল-নাসেরকে শুরুতেই চাপে ফেলল। মহাদেশীয় ফুটবলে এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়া রোনাল্ডোদের সামনে এখন পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।