পাকা চুল ঢাকতে মেহেদির সঙ্গে মেশান এই ৫ উপাদান
সকাল সকাল ডেস্ক বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলে পাক ধরা স্বাভাবিক। তবে বর্তমানে অনেকেরই অল্প বয়সে চুল ধূসর বা সাদা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। পাকা চুল ঢাকতে অনেকেই হেয়ার কালার ব্যবহার করেন। আবার রাসায়নিক রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে মেহেদির উপর ভরসা করেন অনেকে। মেহেদি চুলে রং দেওয়ার পাশাপাশি চুলকে নরম ও উজ্জ্বল দেখাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু মেহেদি নয়, কয়েকটি উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা যেতে পারে হেয়ার প্যাক। লেবুর রস: মেহেদির রং আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে লেবুর রস ব্যবহার করা হয়। একটি লেবুর রস মেহেদির মিশ্রণে যোগ করা যেতে পারে। তবে লেবু অ্যাসিডিক হওয়ায় সংবেদনশীল মাথার ত্বকে জ্বালা বা চুলে অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। আমলকি গুঁড়ো: চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার দীর্ঘদিনের। মেহেদির সঙ্গে প্রায় দুই টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়ো মিশিয়ে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করা যেতে পারে। এতে মেহেদির রঙেও কিছুটা গাঢ় আভা আসতে পারে। টক দই: মেহেদি ব্যবহারের পরে অনেকের চুল শুষ্ক বা রুক্ষ মনে হয়। সে ক্ষেত্রে মেহেদির মিশ্রণে প্রায় তিন টেবিল চামচ টক দই যোগ করা যেতে পারে। দই চুলকে কন্ডিশন করতে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। মিশ্রণটি ক্রিমের মতো মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। অ্যালোভেরা জেল: শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য মেহেদির সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মিশ্রণটিকে সহজে চুলে লাগানোর উপযোগী করে তোলে এবং চুলকে নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে। খাঁটি বা প্রাকৃতিক অ্যালোভেরা জেল মেহেদির পেস্টের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া যায়। বিটের রস: মেহেদির স্বাভাবিক লালচে আভার পরিবর্তে আরও গাঢ় লাল বা বারগান্ডি ধরনের আভা চাইলে বিটের রস ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ জলের পরিবর্তে বিটের রস দিয়ে মেহেদির পেস্ট তৈরি করা যায়। তবে চূড়ান্ত রং ব্যক্তির চুলের স্বাভাবিক রং, পাকা চুলের পরিমাণ এবং ব্যবহৃত মেহেদির উপর নির্ভর করে। মেহেদির সঙ্গে এই উপাদানগুলির মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রত্যেকের চুল ও মাথার ত্বকের ধরন আলাদা। কোনও উপাদান ব্যবহারের পর চুলকানি, জ্বালা বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। অস্বাভাবিকভাবে অল্প বয়সে দ্রুত চুল পেকে গেলে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও প্রয়োজন।
‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বেরিয়ে আসা কেন জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক প্থমবার লেখক হওয়ার জন্য চাকরির আবেদন করতে যাওয়ার সময় আমি বেশ শঙ্কিত ছিলাম। প্থমত আমার কোনো বন্ধু এই পেশায় ছিল না এবং দ্বিত্ীয়ত আমি এই পেশার তেমন কাউকে চিনতামও না। তা সত্ত্বেও আমি শেষ পর্যন্ত সেখানে আবেদন করেছি। বিষয়টি যেমন ভয়ের ছিল, তেমনি আমার জন্য বেশ চমৎকার একটি অভিজ্ঞতাও ছিল। এর মাধ্যমে চমৎকার কিছু লেখকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশে অনেক কিছু শিখেছি এবং বেশ কিছু ভালো বন্ধু পেয়েছি। আপনি কি কখনো নতুন কোনো জিনিসে আগ্রহ্ী হয়েছেন কিন্তু আপনার কোনো বন্ধুকে একই বিষয়ে আগ্রহ্ী হতে দেখেননি? এটা হতে পারে নতুন কোন শখ, নতুন চাকরি অথবা নতুন দেশের ক্ষেত্রে আগ্রহ। অনেকের জন্য পরিবর্তন কিছুটা ভয়ের কারণ বা অপ্য়োজন্ীয় মনে হতে হতে পারে, বিশেষত আপনি যদি আপনার অবস্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন। তবে আপনার বর্তমান স্বাছন্দ্য আপনার সফলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নিজেদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যে পৗঁেছানোর জন্য আমরা কখনো কখনো নতুন কোনো বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। সেটি করার জন্য নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন মানুষদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিতে হবে। সবসময় একই মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা করলে নতুন কিছু করার ইচ্ছা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ তাদের লক্ষ্য আপনার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। এ ছাড়া নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে আসার ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হল নেটওয়ার্কিং। যদিও মানুষ অনেক সময় নেটওয়ার্কিংকে কম গুরুত্ব দেয়, কিন্তু এটি সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেউ যদি নতুন কোনো কিছু করার সুযোগ পায় কিন্তু নিজের গণ্ডি থেকে বের হতে না চায় তাহলে তাদের নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা গড়ে উঠবে না। অন্যদিকে যদি কেউ নিজেই নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন, নতুন অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আগ্রহ্ী হোন তাহলে তার খুব ভালো নেটওয়ার্কিং দক্ষতা গড়ে উঠবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যত বেশি মানুষের সঙ্গে মিশবেন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি তত প্সারিত হবে ও নতুন কিছু শিখতে পারবেন। এটা ঠিক যে, এই অভিজ্ঞতাগুলো সবসময় ইতিবাচক নাও হতে পারে। তবে সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলোও আপনাকে মূল্যবান শিক্ষা দিতে পারে। এক্ষেত্রে স্বাধ্ীনতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা আপনি অন্যের ওপর নির্ভর না করে একাই অর্জন করতে পারেন। কাছের বন্ধুরা সবসময় একটি নিরাপদস্থল হিসেবে থাকে, তবে মাঝে মাঝে একাই নিজের ডানা প্সারিত করে আকাশে উড়তে হয়। নাহলে এক সময় দেখবেন অন্যের ওপর বেশি নির্ভর করতে করতে নিজের স্বাধ্ীনতা ও ভব্যিষত আকাঙ্ক্ষা কোনোটিই অর্জন করা হবে না। পৃথিব্ী নতুনদের জন্য অপেক্ষা করে, যারা কিছুদিনের মধ্যেই এর হাল ধরবে। তাই নিজের গণ্ডি থেকে বের হয়ে নতুন সূচনা ও নতুন অভিজ্ঞতাকে আলিঙ্গন করার সময় এখনই।
ঘুম থেকে উঠেই এই ভুলগুলো করছেন? সারাদিন থাকতে পারে ক্লান্তি ও অস্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কয়েকটি অভ্যাস সারাদিনের কাজকর্ম ও মনের অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ অনেকেই দিনের শুরুতেই এমন কিছু কাজ করেন, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না দিয়ে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে সকাল হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও প্রাণবন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ও মনকে নতুন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতেই মোবাইল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিংবা চিনিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। ঘুম ভাঙতেই হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না সারারাত বিশ্রামের পর ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে কারও কারও মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এমন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর প্রথমে কিছুক্ষণ বিছানায় বসে হাত-পা আলতোভাবে নড়াচড়া করতে পারেন। সামান্য স্ট্রেচিংয়ের পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়। চোখ খুলেই মোবাইল নয় ঘুম ভাঙতেই মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস এখন অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু দিনের শুরুতেই বিপুল তথ্য, কাজের বার্তা কিংবা নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হওয়া মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। দিনের প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত নিজের শরীর ও মনের জন্য রাখলে সকাল তুলনামূলক শান্তভাবে শুরু করা সম্ভব। সকালে পানি পান করতে ভুলবেন না ঘুমের সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পানি পান করা হয় না। তাই সকালে উঠে পানি পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। একসঙ্গে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি নয় অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে যাঁদের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা পাকস্থলীর অস্বস্তির প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে পানি পান করা যেতে পারে। এরপর নিজের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী নাশতার সঙ্গে বা পরে চা-কফি নেওয়া ভালো। নাস্তায় অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন মিষ্টি খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা সিরিয়াল দিয়ে সকালের নাশতা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে এবং পরে কমে যেতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষুধা, ক্লান্তি বা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সকালের নাশতায় তাই অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে দিনের শুরুতে কিছুটা হাঁটাচলা বা হালকা শরীরচর্চাও করা যেতে পারে। মনের যত্নও জরুরি সকালের ব্যস্ততায় শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া, কয়েক মিনিট শান্তভাবে বসা, মেডিটেশন করা কিংবা নিজের দিনের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া কাজে আসতে পারে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় বড় পার্থক্য তৈরি করে। ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করা, কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর নাশতার মতো সাধারণ অভ্যাস দিয়ে দিনের শুরুটা আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।
হেলমেট পরলেই কি চুল পড়ে? বাইক চালকদের যা জানা জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা অত্যন্ত জরুরি। দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমাতে হেলমেটের বিকল্প নেই। তবে নিয়মিত হেলমেট ব্যবহারে চুল পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট নিজে সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত আঁটসাঁট হেলমেট, দীর্ঘ সময় মাথায় চাপ এবং চুলে বারবার ঘর্ষণ হলে চুলের গোড়ায় টান পড়তে পারে। প্রতিদিন যাঁরা বাইক চালান বা নিয়মিত বাইকে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে হেলমেট নিত্যদিনের সঙ্গী। নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে চুল ও মাথার ত্বকের যত্নও নেওয়া সম্ভব। ভেজা চুলে হেলমেট পরবেন না গোসলের পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর হেলমেট পরা ভালো। মাথার ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমতে পারে। অতিরিক্ত টাইট হেলমেট এড়িয়ে চলুন হেলমেট এমন মাপের হওয়া প্রয়োজন, যাতে সেটি মাথায় সঠিকভাবে বসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে অস্বাভাবিক চাপ বা অস্বস্তি তৈরি করে এমন হেলমেট ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান ও ঘর্ষণ হলে চুল দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত হেলমেট পরিষ্কার করুন দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে হেলমেটের ভিতরে ঘাম, ধুলা, তেল ও ময়লা জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী হেলমেটের ভিতরের প্যাডিং ও পরিষ্কারযোগ্য অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখতে হবে। হেলমেট খোলার সময় চুলে টান দেবেন না হেলমেট পরা বা খোলার সময় চুল আটকে গেলে জোর করে টেনে বের করা উচিত নয়। ধীরে এবং সাবধানে হেলমেট খুলুন। বারবার চুলের গোড়ায় টান পড়লে দীর্ঘমেয়াদে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যের হেলমেট ব্যবহারে সতর্কতা সম্ভব হলে নিজের হেলমেট ব্যবহার করাই ভালো। বিশেষ করে কারও মাথার ত্বকে সংক্রমণ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা থাকলে হেলমেট ভাগাভাগি করা এড়িয়ে চলা উচিত। ব্যক্তিগত হেলমেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। চুল পড়ার জন্য শুধু হেলমেট দায়ী নয় চুল পড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে। তাই হেলমেট ব্যবহারের পর চুল পড়া বেড়েছে মনে হলেই হেলমেটকে একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করলে, মাথার কোনও নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা বা ফাঁকা হয়ে গেলে কিংবা মাথার ত্বকে অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরা বন্ধ করা কোনও সমাধান নয়। বরং সঠিক মাপের হেলমেট ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চুল ও মাথার ত্বকের নিয়মিত যত্ন—এই কয়েকটি অভ্যাসই হতে পারে নিরাপদ বাইকযাত্রার পাশাপাশি চুল ভালো রাখার সহজ উপায়।
ফ্যাশন বদলালেও অমলিন বেনারসি, প্রজন্ম পেরিয়েও কেন এত জনপ্রিয়?
সকাল সকাল ডেস্ক সময় বদলায়, তার সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশনের ধরন ও পোশাকের নকশা। কখনও সাবেকি সাজ ফিরে আসে নতুন রূপে, কখনও আবার আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যায় চেনা পোশাক। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেও বেনারসি শাড়ির আবেদন যেন একই রকম অটুট। বিয়ের সাজ থেকে উৎসব—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির পছন্দের তালিকায় বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। বেনারসি শুধু একটি পোশাক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্য, স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগ। সময়ের সঙ্গে বেনারসির নকশা এবং পরার ধরনে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্যবাহী বুনন ও কারুকাজ এখনও সমানভাবে আকর্ষণীয়। সাবেকি বুননেই বেনারসির বিশেষত্ব বর্তমানে বাজারে বেনারসি নামে নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। তবে ঐতিহ্যবাহী বেনারসির মূল আকর্ষণ তার সূক্ষ্ম বুনন, সোনালি বা রূপালি জরির কাজ এবং নকশায়। অতিরিক্ত চাকচিক্যের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুকাজই একটি খাঁটি বেনারসিকে অন্য শাড়ির থেকে আলাদা করে দেয়। শাড়ির পাড়ে সাধারণত সোনালি বা রূপালি জরির সূক্ষ্ম কাজ দেখা যায়। শাড়ির শরীরজুড়ে থাকতে পারে ফুল, জালি কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে আঁচল। ভারী জরির কাজের সঙ্গে ফুল, কল্কা ও অন্যান্য নকশা বেনারসির আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে তোলে। বিয়ের সাজে এখনও বিশেষ কদর বাঙালি বিয়ের সঙ্গে বেনারসির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নববধূর সাজে বেনারসি ছিল প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের সঙ্গে বিয়ের পোশাকে নানা নতুন ধারা এলেও সেই ঐতিহ্য এখনও হারিয়ে যায়নি। ফুল ও কল্কা নকশার সাবেকি বেনারসি এখনও অনেকের প্রথম পছন্দ। শুধু বিয়ে নয়, পুজো, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অন্য কোনও বিশেষ উপলক্ষেও বেনারসি বেছে নেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী গয়না ও সাজের সঙ্গে এই শাড়ি সহজেই এনে দেয় আভিজাত্যের ছোঁয়া। মায়ের বেনারসিতে স্মৃতি ও আবেগ বেনারসির জনপ্রিয়তার পিছনে শুধু তার সৌন্দর্য নয়, রয়েছে আবেগও। বহু পরিবারেই মায়ের বিয়ের বেনারসি পরে মেয়েকে নতুন সাজে দেখা যায়। কখনও আবার একটি শাড়ি এক প্রজন্ম থেকে পৌঁছে যায় পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। ফলে পুরনো বেনারসি হয়ে ওঠে শুধুই শাড়ি নয়, পরিবারের স্মৃতি ধরে রাখার মাধ্যম। তার প্রতিটি ভাঁজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরনো দিনের গল্প এবং প্রিয় মানুষের স্মৃতি। টেকসই ফ্যাশনেও গুরুত্বপূর্ণ খাঁটি হাতে বোনা বেনারসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার স্থায়িত্ব। সঠিকভাবে যত্ন নিলে একটি ভালো বেনারসি বহু বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি একই শাড়ি প্রজন্মের পর প্রজন্মও ব্যবহার করা যায়। বারবার নতুন পোশাক কেনার পরিবর্তে পুরনো শাড়িকে সংরক্ষণ ও পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রবণতা টেকসই ফ্যাশনের ধারণার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেন অমলিন বেনারসির আবেদন? ফ্যাশনের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রবণতা আসে। কিছু জনপ্রিয়তা পায়, আবার কিছু সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যায়। কিন্তু বেনারসির আবেদন শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট সময়ের ফ্যাশনের উপর নির্ভরশীল নয়। সূক্ষ্ম বুনন, জরির কারুকাজ, ফুল-কল্কার চিরচেনা নকশার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য, পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগই বেনারসিকে আলাদা করে রেখেছে। তাই প্রজন্ম বদলালেও বাঙালির সাজে বেনারসি আজও চিরন্তন।
বর্ষার বিকেলে বাড়িতেই বানান মুচমুচে রাম লাড্ডু
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষার দিনে গরম গরম পকোড়া বা ভাজাভুজির স্বাদই আলাদা। আর সেই তালিকায় রাম লাড্ডু থাকলে জমে যায় বিকেলের জলখাবার। বাইরে মুচমুচে এবং ভিতরে নরম রাম লাড্ডুর সঙ্গে টক-মিষ্টি চাটনি স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে বর্ষায় বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। তাই চাইলে বাড়িতেই সহজ উপায়ে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু রাম লাড্ডু। রাম লাড্ডু তৈরির উপকরণ ছোলার ডাল ১ কাপ, মুগ ডাল ১ কাপ, হিং এক চিমটি, জিরে ১ চা চামচ, বেকিং সোডা এক চিমটি, আদা ১ ইঞ্চি, কাঁচা লঙ্কা ২টি, ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো তেল এবং স্বাদমতো নুন। চাট সাজানোর জন্য মিহি করে কুচোনো ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ, সবুজ চাটনি আধ কাপ, তেঁতুলের চাটনি আধ কাপ, সামান্য আমচুর গুঁড়ো, চাট মশলা এবং স্বাদমতো বিট নুন বা কালো নুন। কীভাবে তৈরি করবেন? প্রথমে একটি বড় পাত্রে ছোলার ডাল ও মুগ ডাল নিয়ে পর্যাপ্ত জলে অন্তত চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল ভালোভাবে ঝরিয়ে নিন। ভেজানো ডালের সঙ্গে আদা ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। প্রয়োজন হলে সামান্য জল দেওয়া যেতে পারে। তবে মিশ্রণটি যেন খুব বেশি পাতলা না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার তৈরি করা ডালের মিশ্রণ একটি পাত্রে নিয়ে তাতে জিরে, হিং, বেকিং সোডা এবং স্বাদমতো নুন দিন। কয়েক মিনিট ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এতে মিশ্রণটি হালকা হবে এবং ভাজার পরে রাম লাড্ডুর ভিতরের অংশ নরম হতে সাহায্য করবে। কড়াইয়ে প্রয়োজনমতো তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে ডালের মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে ছোট বলের আকারে তেলে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজুন। চারদিক সোনালি-বাদামি ও মুচমুচে হয়ে গেলে তেল থেকে তুলে নিন। এবার পরিবেশনের পালা একটি প্লেটে চার-পাঁচটি গরম রাম লাড্ডু রাখুন। তার উপর স্বাদ অনুযায়ী সবুজ চাটনি ও তেঁতুলের চাটনি দিন। মিহি করে কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে তার উপর সামান্য চাট মশলা, আমচুর গুঁড়ো এবং বিট নুন ছড়িয়ে দিন। ব্যস, তৈরি বর্ষার বিকেলের মুচমুচে রাম লাড্ডু। গরম চা কিংবা পছন্দের পানীয়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে জমে যাবে বর্ষার বিকেলের জলখাবার।
বর্ষায় সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার রাখুন এই ৫ জিনিস
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দিলেও বাতাসে ও ঘরের ভিতরে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে এই সময়ে খাবার থেকে অসুস্থতা, ত্বকের সংক্রমণ ও বিভিন্ন অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়তে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি শুধু বাইরের কাদা বা বৃষ্টির জলেই সীমাবদ্ধ নয়। ঘরের এমন কিছু নিত্যব্যবহার্য জিনিস রয়েছে, যেগুলি আমরা বারবার স্পর্শ করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করি না। বর্ষায় কেন বাড়ে জীবাণুর ঝুঁকি? ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য আর্দ্রতা, অনুকূল তাপমাত্রা এবং জৈব পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বর্ষায় এই পরিবেশ সহজেই তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নাঘর ও বাথরুমের ভেজা কাপড়, স্পঞ্জ এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় অণুজীব বৃদ্ধির সুযোগ বেশি থাকে। তাই ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ভেজা জিনিস দ্রুত শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। ১. রান্নাঘরের স্পঞ্জ রান্নাঘরের স্পঞ্জের ছোট ছোট ছিদ্রে খাবারের কণা ও জল আটকে থাকতে পারে। ফলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। ব্যবহারের পরে স্পঞ্জ ভালোভাবে ধুয়ে জল চিপে বের করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে রাখুন। দুর্গন্ধ, রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নোংরা হয়ে গেলে স্পঞ্জ বদলে ফেলাই নিরাপদ। ২. মোবাইল ফোন ও কভার হাত থেকে শুরু করে পকেট, ব্যাগ ও টেবিল—সারা দিনে বিভিন্ন জায়গার সংস্পর্শে আসে মোবাইল ফোন। তাই ফোন ও তার কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। ফোন প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে উপযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করুন। ফোনের উপর সরাসরি তরল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার করার আগে যন্ত্রটি বন্ধ করে নেওয়াও ভালো। ৩. দরজার হাতল, সুইচবোর্ড ও রিমোট বাড়ির সদস্যরা দিনে বহুবার দরজার হাতল, বৈদ্যুতিক সুইচ এবং টিভির রিমোট স্পর্শ করেন। তাই এগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জীবাণুনাশক দিয়ে সামান্য ভেজানো কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক বা বৈদ্যুতিন যন্ত্রের উপর সরাসরি কোনও তরল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ৪. টুথব্রাশ রাখার পাত্র ও বেসিন বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। টুথব্রাশ রাখার পাত্র নিয়মিত ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। বেসিনও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখলে স্যাঁতসেঁতে ভাব কমানো সম্ভব। ৫. জলের বোতল ও ঢাকনা প্রতিদিন ব্যবহৃত জলের বোতল বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখালেও ঢাকনা, মুখ বা স্ট্রয়ের মতো অংশে অণুজীবের আস্তরণ জমতে পারে। তাই প্রতিদিন সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে বোতল এবং ঢাকনার প্রতিটি অংশ ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে চলা ভালো। বর্ষাকালে ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এই ধরনের ঘন ঘন স্পর্শ করা জিনিসগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পরিষ্কার করা, ভেজা জিনিস শুকিয়ে রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে জীবাণু ও ছত্রাক বৃদ্ধির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেতে পারে।
নাকের কালো দাগ দূর করতে সহজ ত্বক পরিচর্যা
সকাল সকাল ডেস্ক নাক ও গালে ছোট ছোট কালচে দাগ বারবার ফিরে আসা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। পরিষ্কার করার পর কিছুদিন ত্বক স্বাভাবিক দেখালেও ফের দেখা দিতে পারে ব্ল্যাকহেডস। সাধারণ এই ত্বকের সমস্যা সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু ব্ল্যাকহেডস তুলে ফেললেই হবে না, কেন সেগুলি তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে পুনরায় হওয়া কমানো যায়, সেটিও জানা জরুরি। কেন তৈরি হয় ব্ল্যাকহেডস? ত্বকের লোমকূপে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ জমে মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হতে পারে। নিয়মিত মৃত কোষ পরিষ্কার না করা, ভারী ময়েশ্চারাইজার বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার, অপরিষ্কার হাতে বারবার মুখ স্পর্শ করা এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘামের কারণেও সমস্যা বাড়তে পারে। ঘরে কীভাবে যত্ন নেবেন? মুখে হালকা ভাপ নিলে ত্বকের উপরিভাগ নরম হতে পারে এবং জমে থাকা তেল পরিষ্কার করা সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত গরম ভাপ বা দীর্ঘক্ষণ ভাপ নেওয়া উচিত নয়। ত্বকের মৃত কোষ দূর করার জন্য মৃদু এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। তবে আখরোট বা কফির মতো শক্ত ও খসখসে দানাযুক্ত স্ক্রাব দিয়ে জোরে ঘষলে ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত ও জ্বালা তৈরি হতে পারে। তাই কোমল পদ্ধতি বেছে নেওয়াই ভালো। ক্লে বা চারকোলযুক্ত ফেস মাস্ক অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হলে এগুলি ঘন ঘন ব্যবহার না করাই ভালো। ব্ল্যাকহেডসের ক্ষেত্রে রেটিনয়েডযুক্ত ত্বক পরিচর্যার পণ্যও উপকারী হতে পারে। সাধারণত রাতে এগুলি ব্যবহার করা হয় এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালা বা সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ফিরে আসা কমাতে কী করবেন? দিনে দু’বার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। এতে ত্বকে জমে থাকা তেল, ঘাম ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ দূর হয়। ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও মেকআপের ক্ষেত্রে লোমকূপ বন্ধ করে না—এমন ‘নন-কমেডোজেনিক’ পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার অভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত স্ক্রাব বা ব্ল্যাকহেডস চেপে বের করার চেষ্টা এড়িয়ে চলুন। বালিশের কভার নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং মুখ মোছার জন্য পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন। সঠিক পরিচর্যার পরেও ব্ল্যাকহেডস খুব বেশি হলে বা ব্রণ, লালভাব ও প্রদাহ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বারবার পরিচিত নাম-শব্দ মনে পড়ছে না? কখন বুঝবেন সতর্ক হওয়ার সময়
সকাল সকাল ডেস্ক পরিচিত কোনও মানুষের নাম জানা আছে, জায়গাটিও চেনা, এমনকি কোনও সাধারণ শব্দও বহুবার ব্যবহার করেছেন—তবু প্রয়োজনের মুহূর্তে কিছুতেই মনে পড়ছে না। মনে হচ্ছে উত্তরটি যেন জিভের ডগায় আটকে রয়েছে। কিছুক্ষণ পর আবার আচমকাই মনে পড়ে গেল। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সকলেরই হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’। মাঝে মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেই স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। সাধারণত এটি মস্তিষ্কের স্মৃতি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। তবে পরিচিত নাম বা শব্দ মনে করতে না পারার ঘটনা যদি ঘন ঘন ঘটতে শুরু করে, ক্রমশ বাড়ে কিংবা দৈনন্দিন কথাবার্তায় সমস্যা তৈরি করে, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন পরিচিত শব্দ মনে পড়ে না? ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’-এর সময় শব্দটি সাধারণত স্মৃতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। বরং নির্দিষ্ট মুহূর্তে সেই শব্দটি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য মনে থাকে, অথচ ঠিক শব্দটিই মুখে আসে না। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট পরে কোনও বিশেষ চেষ্টা ছাড়াই সেটি আবার মনে পড়তে পারে। ভাষা ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে পড়ে। এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেলে পরিচিত শব্দও মনে করতে অসুবিধা হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং ক্লান্তি সাময়িকভাবে তথ্য মনে করার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি থেকে কোনও তথ্য খুঁজে বের করার গতি কিছুটা কমে যাওয়াও স্বাভাবিক। তাই মাঝেমধ্যে কারও নাম বা কোনও শব্দ মনে না পড়া মানেই স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? সমস্যা যদি আগের তুলনায় বাড়তে থাকে, নিয়মিত কথাবার্তায় বাধা সৃষ্টি করে কিংবা স্মৃতি ও চিন্তাভাবনার অন্য পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অবসাদ, উদ্বেগ, শ্রবণশক্তির সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও স্মৃতি ও মনোযোগের পরিবর্তন যুক্ত থাকতে পারে। বারবার পরিচিত মানুষের নাম বা সাধারণ শব্দ ভুলে যাওয়া, অন্যের কথার ধারা অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া কিংবা নিজের বক্তব্য ঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা দৈনন্দিন পরিচিত কাজ করতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। হঠাৎ সমস্যা হলে জরুরি চিকিৎসা শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং তার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। শব্দ মনে না পড়লে কী করবেন? কোনও শব্দ মনে না এলে সেটি জোর করে মনে করার চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ অন্যদিকে মন দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে শব্দটির অর্থ বা সেটি কী বোঝায়, তা অন্যভাবে বর্ণনা করে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া যায়। পরে আবার শব্দটি মনে করার চেষ্টা করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা ও নিয়মিত মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাসও উপকারী। সুতরাং, মাঝেমধ্যে পরিচিত কোনও নাম বা শব্দ মনে না পড়া সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই সমস্যা যদি বারবার হতে থাকে, ক্রমশ বাড়ে বা তার সঙ্গে আচরণ, স্মৃতি, ভাষা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।
দুধের সরেই ফিরবে ত্বকের জেল্লা! কীভাবে ব্যবহার করবেন মালাই
সকাল সকাল ডেস্ক নিখুঁত, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক কে না চান! ত্বকের যত্নে অনেকেই বাজারচলতি নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের পরিচর্যা করতে চাইলে কাজে লাগতে পারে রান্নাঘরে থাকা দুধের সর বা মালাই। মালাইয়ে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মধু, হলুদ, গোলাপজল, বেসন কিংবা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় কয়েক ধরনের ঘরোয়া ফেস প্যাক। মালাই ও মধু শুষ্ক ত্বকের যত্নে মধু ও মালাইয়ের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মালাই ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়ক হতে পারে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে আধ চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান। প্রায় ১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মালাই ও হলুদ ত্বকের পরিচর্যায় হলুদের ব্যবহার বহু পুরনো। মালাইয়ের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে একটি পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। সেটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর জল দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তবে হলুদে সংবেদনশীলতা থাকলে এই মিশ্রণ এড়িয়ে চলাই ভালো। মালাই ও গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখতে মালাইয়ের সঙ্গে গোলাপজল ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ গোলাপজল ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মালাই ও বেসন ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে বেসন দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ বেসন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগানোর সময় খুব হালকা হাতে মালিশ করুন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না, কারণ এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। মালাই ও অ্যালোভেরা জেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অ্যালোভেরা জেলও জনপ্রিয়। সমপরিমাণ মালাই ও অ্যালোভেরা জেল ভালো করে মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে যা খেয়াল রাখবেন যে কোনও ফেস প্যাক ব্যবহারের আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করা জরুরি। নতুন কোনও উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াও ভালো। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি এ ধরনের ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কোনও উপাদান ব্যবহারের পর চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা অন্য কোনও অস্বস্তি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায়ের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।