তিন বছর পর শ্রেণিকক্ষে গাজার শিশুরা, ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নতুন শুরুর স্বপ্ন
সকাল সকাল ডেস্ক গাজা: দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করেছে গাজার লাখ লাখ শিশু। তবে পরিচিত স্কুলবাড়ি নয়, কারও ক্লাস বসছে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে, কারও আবার তাঁবু কিংবা অস্থায়ী কাঠামোর নীচে। যুদ্ধের ক্ষত সঙ্গে নিয়েই শুরু হয়েছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ। অধিকাংশ পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক যে সন্তানদের জন্য স্কুলের পোশাক, খাতা-কলম কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ বিদ্যালয় ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার শিক্ষা আধিকারিকদের দাবি, প্রায় ৬ লক্ষ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে সশরীরে ক্লাস এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। খান ইউনিসের শিক্ষা পরিচালক ইব্রাহিম রমাদানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩২ জন শিক্ষক-সহ ৭৭০ জনেরও বেশি শিক্ষা কর্মী। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও স্কুলে পঠনপাঠন ফের শুরু হওয়াকে নতুন আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খান ইউনিসের শিক্ষার্থী মুয়ায়াদ আবু মুস্তফার কথায়, প্রায় তিন বছর পর সে আবার স্কুলে ফিরেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ তার কাছে আনন্দের পাশাপাশি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। যদিও তার বর্তমান ‘শ্রেণিকক্ষ’ একটি তাঁবু। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। মেঝেতে বসেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেকের ভালো জুতো নেই, খাতা-কলমেরও অভাব রয়েছে। যুদ্ধে বন্ধুদের হারানোর বেদনা নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় মুস্তফা। তার কথায়, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, তাঁবুর ভিতরে বসেও তারা শিক্ষা চালিয়ে যাবে। একই ছবি ১৫ বছরের বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থী সমর আবু সালমির জীবনেও। পরিবারের সঙ্গে তাঁবুতে বসবাস করলেও সে আবার ক্লাসে ফিরেছে। দীর্ঘদিন মোবাইলের পর্দায় পড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগও ছিল না। এখন অস্থায়ী স্কুলে ফিরতে পেরে নিজের স্বপ্নের দিকে আবার এগিয়ে যাওয়ার আশা দেখছে সমর। তবে শিক্ষা সামগ্রীর অভাব তারও নিত্যসঙ্গী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সমরের স্মৃতিতে যুদ্ধের আগের জীবন সম্পূর্ণ অন্যরকম। তখন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী থেকে পোশাক—সবকিছুই সহজে পাওয়া যেত। এখন সেই স্বাভাবিক জীবন তার কাছে অনেক দূরের স্মৃতি। গাজা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলির সহায়তায় ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রক ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পঠনপাঠন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁবু, ত্রিপল, টিন ও কাঠ দিয়ে বহু অস্থায়ী বিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে। কোনও কোনও স্কুল তৈরি হয়েছে বালিতে ঢাকা খোলা জায়গায়। কিছু অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে কয়েকটি তোশক এবং একটি ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কার্যত আর কিছুই নেই। আবার বহু স্কুল ভবন এখনও বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৪ বছরের শিক্ষার্থী ইয়ামেন আবু সামরার কথাতেও উঠে এসেছে বদলে যাওয়া বাস্তবতার ছবি। যুদ্ধের আগে স্কুলে যাওয়ার সঙ্গে যে আনন্দ জড়িয়ে ছিল, এখন তার জায়গা নিয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক। স্কুলে যাওয়ার পথেও গুলি, রকেট এবং বিমান হামলার ভয় তাদের তাড়া করে বলে জানিয়েছে সে। শিক্ষা আধিকারিকদের আশা, ইউনিসেফের সহায়তায় চলতি শিক্ষাবর্ষে অন্তত ৫ লক্ষ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অস্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস করার সুযোগ পাবে। যারা এখনও স্কুলে ফিরতে পারছে না অথবা সংঘাতের সময় গাজা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থাও চালু রাখা হবে। ধ্বংসস্তূপ, তাঁবু, শিক্ষা সামগ্রীর অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও গাজার শিশুদের স্কুলে ফেরা তাই শুধু নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা নয়—স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন।
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পরিকল্পনা, আর্কটিকে বাড়ছে উপস্থিতি
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক: আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথে আমেরিকা। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে নতুন করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হবে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রস্তাবিত দুটি স্থানের একটি দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নরসারসুয়াক। শীতল যুদ্ধের সময় এখানে আমেরিকার ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ নামে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নরসারসুয়াকে জনবসতি অত্যন্ত কম। নতুন চুক্তির মাধ্যমে পুরনো সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে সেখানে ফের মার্কিন উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানটি পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টার্সভিগ। বর্তমানে এই দুর্গম আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের ‘সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোল’ নজরদারি চালায়। ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর এই বিশেষ ইউনিটটি বিস্তীর্ণ ও দুর্গম এলাকায় টহল এবং নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে মেস্টার্সভিগেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে পরিকল্পনার খুঁটিনাটিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার একমাত্র সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি হল পিতুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ, মহাকাশ নজরদারি এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় অবশ্য গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। একসময় দ্বীপটিতে ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারেরও বেশি সেনা ও কর্মী সেখানে মোতায়েন ছিলেন। পরবর্তী কয়েক দশকে সেই উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এবার নতুন দুটি ঘাঁটি চালু হলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো আবারও সম্প্রসারিত হবে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন সমুদ্রপথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে। আমেরিকার পাশাপাশি রাশিয়া ও চিনও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি এবং কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান সামরিক ও ভূকৌশলগত দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, নতুন দুই সামরিক ঘাঁটির পরিকল্পনা গ্রিনল্যান্ড ও বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। তবে চুক্তির সম্পূর্ণ শর্ত প্রকাশ্যে আসার পরই স্পষ্ট হবে, প্রস্তাবিত ঘাঁটিগুলিতে কত সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে এবং সেখানে কী ধরনের সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
ইরানি বিমানকে পরিষেবা দিলেই নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আমেরিকার
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের বিমান সংস্থাগুলিকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থান নিল আমেরিকা। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্টের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইরানি বিমান সংস্থাগুলির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ-সহ বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া কিংবা তাদের টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিদেশি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, বিশ্বের যে সমস্ত দেশে এখনও ইরানি বিমান সংস্থার উড়ান চলাচল করছে, তাদের নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি বিমান কোনও দেশে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণের সুবিধা কিংবা অন্যান্য পরিষেবা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এমনকি ইরানি বিমান সংস্থার টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছেন মার্কিন অর্থ সচিব। তাঁর দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ করা হতে পারে। বেসেন্ট জানিয়েছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার কথা। ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন অর্থ দফতর ইরানের আরও কয়েকটি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। পাশাপাশি ইরানের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে সহায়তার অভিযোগে দেশের বাইরের কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমেরিকার এই অবস্থানের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে পড়তে শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক তাদের আকাশসীমায় ইরানি বিমান সংস্থার উড়ান স্থগিত করার ঘোষণা করেছে। জর্জিয়াতেও ইরানি বিমানের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে তুরস্কের অনুরোধে ইরানের মহান এয়ার তুরস্কগামী উড়ান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ইরানের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায়। বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ইরানি বিমান সংস্থাগুলির পক্ষে নতুন বিমান কেনা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে চিনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে বেসেন্টের অর্থনৈতিক বৈঠকের পরপরই ইরানের বিমান সংস্থাগুলিকে ঘিরে এই কঠোর বার্তা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই এই আলোচনা হয়েছে। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার চিন হওয়ায় ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিকেও নজর রয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই তলানিতে পৌঁছেছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি তেহরানের উপর অর্থনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে তৃতীয় দেশের সংস্থা ও পরিষেবা প্রদানকারীদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।
‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের, সংবাদ মাধ্যমের বিকল্প তৈরির উদ্যোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: প্রচলিত মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সরকারি কার্যক্রম ও প্রেসিডেন্টের বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নিজস্ব ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং প্ল্যাটফর্ম চালু করল হোয়াইট হাউস। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে এই ২৪/৭ লাইভ স্ট্রিমিং নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করা হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইমে মার্কিন প্রশাসনের যাবতীয় ঘোষণা, নীতিগত সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ সম্প্রচারিত হবে। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই উদ্যোগ ঘোষণা করে বার্তা দেওয়া হয়, প্রশাসনের এমন বহু মুহূর্ত রয়েছে যা সাধারণ টিভি চ্যানেলে দেখানো হয় না, এবার তা সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসেই সরাসরি দেখতে পারবেন।
নিউ ইয়র্কে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নেপালের বিদেশমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল সোমবার নিউ ইয়র্কে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এই সাক্ষাতের ছবি সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তিনি ‘এক্স’-এ লিখেছেন, নিউ ইয়র্কে শিশির খনাালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত। এই কঠিন সময়ে নেপালের প্রতি ভুটানের সংহতি জানিয়েছি। নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং পুনর্নির্মাণের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছি। উল্লেখ্য, নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল নিউ ইয়র্কে খানাল রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১-তম অধিবেশনের অন্তর্গত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক-সহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের তাঁর সমকক্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’, বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক,: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। তাঁর মতে, এই সংঘাতের অভিঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং উত্তেজনা প্রশমন জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সেখানে কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন শেখ মহম্মদ। তাঁর কথায়, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনও দেশ অন্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলটিকে ক্রমাগত ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির চক্র’ থেকে বের করে আনার উপর জোর দেন। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ মহম্মদ একে ‘ভূমিকম্পের মতো’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিকম্পের ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও অনুভূত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে এতদিনের প্রচলিত ধারণাগুলিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তিনি বলেন, সংকট শুরু হওয়ার পর প্রায় প্রতিটি আলোচনার প্রথম বিষয় ছিল নিরাপত্তা এবং উত্তেজনা কমানো। কিন্তু সেই আলোচনা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং বিনিয়োগের ভবিষ্যতের দিকে গড়িয়েছে। তাঁর মতে, এগুলি আলাদা বিষয় বলে মনে হলেও মূলত একই সমস্যার বিভিন্ন দিক। সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। শেখ মহম্মদের দাবি, বর্তমান সংকটের মধ্যে কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় টিকে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব থেকে কাতারও পুরোপুরি মুক্ত নয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ধরে অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে গোটা অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই উত্তেজনার মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে কাতার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্কে কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করাতে দোহা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সংঘাতের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতটির উপর ব্যাপক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে আইসিসিকে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর মার্কিন ডলারে লেনদেনের ক্ষেত্রে আদালতটি বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে যোগাযোগ পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেনদেন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন অথবা তার পরেই এ বিষয়ে ঘোষণা হতে পারে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি আগের ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। এর আগে আমেরিকা আইসিসির একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। আদালতের প্রাক্তন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকাশানে-সহ কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ওয়াশিংটন ও আন্তর্জাতিক আদালতের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কথিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ট তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমেরিকা আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন মার্কিন নাগরিক এবং আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিকদের উপর আদালতটির বিচারিক এখতিয়ারের কিছু প্রয়োগের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে, আইসিসি নিজেদের বিচারিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম, কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন দেশে তদন্ত পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে লেনদেনে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এখন নজর মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি কতটা বিস্তৃত হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজকর্মে তার কী প্রভাব পড়ে, তা সেই সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।
হুথিদের হুঁশিয়ারির মধ্যেই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ/কাবুল: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। সোমবার আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সরকারের দাবি, হামলায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামাবাদের দাবি, জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তাতে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ফলে হামলায় হতাহতের সংখ্যা এবং পরিচয় নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরেও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তা হলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। হুথিদের সৌদি-বিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। ঠিক এই সময়েই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভিতরে হামলা চালাচ্ছে। কাবুলের তালিবান সরকার অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের উপর একাধিক হামলার পর আফগানিস্তানের উপর ইসলামাবাদের চাপ আরও বেড়েছে। এদিকে, ‘আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল’-এর উদ্ধৃত নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, হুথিদের মাধ্যমে পাকিস্তানকে ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে পাকিস্তানের সামরিক নজর আফগান সীমান্ত থেকে অন্যদিকে সরানো যায়। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর সম্ভাব্য সামরিক দায়বদ্ধতার মুখে পাকিস্তান কি আফগান সীমান্তে নিজের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার আরও বাড়াচ্ছে? আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে মক্কা চুক্তির দায় এড়ানোর কোনও পরিকল্পিত কৌশলের সরাসরি যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান অনুযায়ী, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং টিটিপির তৎপরতাই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের প্রধান কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে কার্যত একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে আফগানিস্তান সীমান্তে টিটিপিকে ঘিরে সংঘাত, অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। এর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়বদ্ধতা যুক্ত হওয়ায় ইসলামাবাদের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পাকিস্তান কোন ক্ষেত্রে কতটা সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গার্মেন্টস কারখানায় আগুন, মৃত ৬, দগ্ধ ২০
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে আশুলিয়ার জামগড়া শিল্পাঞ্চলে রবিবার সন্ধ্যায় একটি কাভার্ড ভ্যানে থাকা এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, একটি সিলিন্ডার প্রায় ২০০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশের একটি দোকানে পড়ে। এতে দোকানের ভিতরে থাকা এক মহিলার মৃত্যু হয়। একের পর এক বিস্ফোরণের জেরে একটি গার্মেন্টস কারখানাতেও আগুন ধরে যায়। ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া আগুন সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে জামগড়ায় থাকা পাঁচ-ছয়টি গাড়িকেও গ্রাস করে। আশুলিয়া পুলিশ রবিবার গভীর রাতে জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। রাত প্রায় সোয়া ১১টা নাগাদ কাভার্ড ভ্যানের ভিতর থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম জয়নব (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলির স্ত্রী। জয়নব তাঁর মেয়ে সানজিদা আখতারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সানজিদা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি দর্জির দোকানে কাজ করেন। জয়নব দোকানের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বিস্ফোরণের অভিঘাতে একটি সিলিন্ডার টিনের ছাদ ভেদ করে তাঁর মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আধিকারিকদের মতে, জামগড়ায় প্রিটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত একটি শিল্পাঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া জানিয়েছেন, কারখানায় ব্যবহারের জন্য আনা সিলিন্ডারগুলি একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে নামানোর সময় আগুন লাগে। আশুলিয়া মহিলা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার হারুন-উর-রশিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের অধিকাংশই কারখানার আশপাশে থাকা সবজি বিক্রেতা এবং পথচারী। গুরুতরভাবে দগ্ধ দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি, ইয়েমেনে তীব্র লড়াই; পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত হতে পারেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন। ইরান দাবি করেছে, আমেরিকা তাদের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন কোনও পদক্ষেপ করলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার’ কড়া ভাষায় জানিয়েছে, আমেরিকা অথবা মধ্যপ্রাচ্যে তার সহযোগী দেশগুলি কোনও ‘ভুল’ করলে তাদের প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হতে হবে। আল জাজিরা, সিবিএস নিউজ এবং ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর সামনে মূলত তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করা; এবং তৃতীয়ত, ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো। এ প্রসঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন একটি কাঠামোর প্রয়োজন যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান থাকবে এবং কোনও দেশ অন্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না। এদিকে, ইয়েমেনের আল-জৌফ প্রদেশে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনী একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এই সংঘর্ষের ক্ষেত্রগুলি মূলত ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তীব্র লড়াই চলছে পশ্চিম উপকূলে। তাইজের পশ্চিমের গ্রামীণ এলাকা থেকে লাহজ পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলিতে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে কোনও বাহিনী স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে কি না, তা বলা কঠিন। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ২৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, তাইজ, আল-জৌফ এবং মারিব প্রদেশকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ৭৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন রিপাবলিকান কৌশলবিদ এবং হোয়াইট হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রাক্তন কর্মকর্তা মার্ক ফিফল বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রচেষ্টার পাশাপাশি চিনও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, আগামী সপ্তাহে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও প্রস্তুত হতে পারেন। পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে মার্কিন সতর্কবার্তার মধ্যেই সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফ রবিবার বিশেষ সফরে কায়রো গিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। সিসির দফতর জানিয়েছে, বৈঠকে মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইরান, গাজা ভূখণ্ড ও সুদানে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলির উপর হামলা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফতর শনিবার আমেরিকান নাগরিকদের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে এবং সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বাড়তে পারে। র্যাটক্লিফের কায়রো সফরের কয়েক দিন আগেই সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন কায়রোয় প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা বাব আল-মন্দেব প্রণালী দিয়ে নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।