শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর শাকিবের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা : বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক এবং মাগুরা-১ আসনের প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সাংসদ শাকিব আল হাসানের মাগুরার পৈতৃক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী বাড়িটি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। অভিযোগ, বাড়িতে পেট্রল বোমাও ছোড়া হয় এবং আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। হামলায় বাড়ির একাধিক জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির বাইরে বোমাসদৃশ শব্দ সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে এই হামলার সঙ্গে শাকিব আল হাসানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের যোগ রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশ দাবি করেছেন। বুধবার দিল্লি থেকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শাকিবও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শেখ হাসিনা গত বছরের সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চক্রান্ত’ বলে দাবি করেন। ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণের খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও এখনও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে বাড়ির দেওয়াল ও জানালার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের অন্যতম সফল অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে একই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাংলাদেশে ফেরেননি। তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা-সহ একাধিক আইনি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বর্তমানে শাকিব পরিবার-সহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি এর আগেই জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরবেন না। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনার পর তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
প্রকাশ্যে নেই সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত প্রেসিডেন্টের
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান : ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার সময় মোজতবা খামেনেই আহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়। একই হামলায় তাঁর বাবা এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই মোজতবা খামেনেই সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে তিনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে বার্তা দিলেও জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। এমনকি গত মাসে তাঁর বাবার শেষকৃত্যেও তাঁর অনুপস্থিতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ নয়। তবে তিনি দাবি করেন, খামেনেইর উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দেশের জন্য বড় শক্তির উৎস। তাঁর কথায়, সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠকে তিনি আন্তরিকতা এবং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি সুপ্রিম লিডারের ভাবমূর্তি বিকৃত করার চেষ্টা করছেন এবং তাঁর সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও মোজতবা খামেনেইর সীমিত প্রকাশ্য উপস্থিতি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি। গত ১৮ জুলাই সম্প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথ বেছে নিলে ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ অক্ষ যেকোনও আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নীতিগত মতবিরোধের জেরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন এবং মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রও জমা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে তাঁর সরকারকে কার্যত দূরে রাখা হয়েছে। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, ফের কাশ্মীর ইস্যুতে সরব বিক্ষোভকারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন : জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দিনটিকে ‘ইয়ৌম-এ-ইস্তেহসাল কাশ্মীর’ বা ‘কাশ্মীর শোষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে এবং কাশ্মীর ইস্যুতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদের অধিকাংশ বিধান কার্যত বাতিল করা হয়। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়। ভারত সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে আগের তুলনায় শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দুনিয়া নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা কাশ্মীর ও পাকিস্তানের পতাকা প্রদর্শন করেন। তাঁদের একাংশ দাবি করেন, কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ করার লক্ষ্যে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও কাশ্মীরবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়। বিক্ষোভকারীরা কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানান। এই কর্মসূচিতে ব্রিটিশ-কাশ্মীরি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ অংশ নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে প্রতি বছর ৫ আগস্ট পাকিস্তান-সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিদেশের একাধিক শহরে এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
ওমান-ইরান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে, হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হুথিদের হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন/সানা/মাসকাট : হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না। তেহরানের এই অবস্থানের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় ফের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে চলা আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন, সিবিএস নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির জন্য একটি নির্দিষ্ট নৌপথ নির্ধারণে ইরান ও ওমান ইতিমধ্যেই একমত হয়েছে। পাশাপাশি এই জলপথের যৌথ পরিচালনার ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি এখন মূলত আমেরিকার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। আমেরিকা যদি ইরানের বন্দরগুলির উপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে, তাহলে প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “হরমুজ প্রণালীকে অরক্ষিত করে তুলেছে যে কারণগুলি, তার মধ্যে আমেরিকার নৌ-অবরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি।” অন্যদিকে, লাস ভেগাসের রেড রক ক্যাসিনো রিসর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং বুধবার অথবা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই অভিযান স্থগিত করেন। এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনাও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এক্স-এ জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূল থেকে প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে জাহাজের সমস্ত নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। এদিকে, ইয়েমেনে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, বুধবার বাব-আল-মান্দেব প্রণালীর দক্ষিণে আদেন উপসাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডেইজি-কে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের হুঁশিয়ারি, বাব-আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি আরবের প্রতিটি তেলবাহী জাহাজই তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।
ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়ার গল্ফ কোর্সের বাইরে সন্দেহভাজন গ্রেফতার, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়ার গল্ফ কোর্সের বাইরে থেকে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য গোলাবারুদসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবের বাইরে রবিবার এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ক্লাব চত্বরে ঘোরাফেরা করছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস খতিয়ে দেখছে ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কোনও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি ছিলেন কি না। সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের ঘোষণা যখন করা হয়, তখন ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশে রওনা ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসে অবস্থিত তাঁর গল্ফ কোর্সে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির এক নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জিনিন জন ট্যালে (৩৮)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউনি এলাকার বাসিন্দা। এল সেগুন্ডো এলাকায় ডাকাতির একটি পুরনো মামলায়ও তাঁর নাম রয়েছে। শেরিফ দফতরের দাবি, ট্যালে গল্ফ কোর্সের ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজরদারি করছেন বলে সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে গোপনে অস্ত্র বহন এবং নিষিদ্ধ গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার আদালতে ট্যালে তাঁর বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের একটি ডাকাতির অভিযোগ এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবের বাইরে গ্রেফতারের পর দায়ের হওয়া অস্ত্র সংক্রান্ত তিনটি অভিযোগ রয়েছে। শেরিফ দফতর জানিয়েছে, এফবিআই-এর যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা সোমবার ট্যালের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সেখানে একটি নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। ওই নোটবুকে এআর-ধরনের রাইফেল, .৪৫ ক্যালিবার পিস্তল, বডি আর্মার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন, গোলাবারুদ এবং রেডিও সিগন্যাল ডিভাইসসহ বিভিন্ন সামগ্রীর উল্লেখ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা এই তথ্যগুলির গুরুত্ব খতিয়ে দেখছেন।
রাতভর রুশ হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, নিহত ১৭
সকাল সকাল ডেস্ক কিয়েভ : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং তার আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার রাতভর চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক ডজনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে এবারের বিবৃতিতে প্রথমবারের মতো কোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করা হয়নি। সামরিক সূত্রের দাবি, ইউক্রেনের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত এখন অত্যন্ত সীমিত। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে ইউক্রেনে রুশ হামলায় অন্তত ৩৭৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ২,১২৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এক মাসে এটিই সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে জুলাই মাস ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাকে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানের জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে ইউক্রেন রাশিয়ার ই-কমার্স সংস্থা ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছিল। রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ এবং তার আশপাশের বিভিন্ন গুদাম, লজিস্টিকস কেন্দ্র ও শিল্প অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গুদামগুলি। তিনি বলেন, একটি বিয়ার কারখানা, হার্ডওয়্যার স্টোরের গুদাম, একটি রেলস্টেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার আরও হামলার আশঙ্কা এখনও রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই অভিযানে ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জেলেনস্কি আবারও ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলির কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: হুমকি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। না হলে দেশটিকে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। হোয়াইট হাউসে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন। একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে ট্রাম্প নিজের দাবির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের (ইরান) জন্য একটি ভালো চুক্তি সই করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তাঁর মতে ‘হয়তো আগামীকালই’ সম্ভব। অন্যটি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। সেটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে ইরানের। একই সঙ্গে দেশটি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও ধরে রেখেছে। এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। জাহাজটির নাম, সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গত শনিবার তিনি সে অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, একটি চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রায় প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও এ প্রণালিতে অবরোধ জোরদার করেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং কিছু জাহাজে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তাদের তৈরি করা এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। আর কোনো চুক্তি বা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।’ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে এখন ইরান প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র মানছে না। বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে শুধু নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে। গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এটি করা হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি (এখনই) আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। সপ্তাহান্তে এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশ তাঁকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তা না হলে ইরানে যে হামলা চালানো হতো, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কোনো হামলার ঘটনা হতো। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছে। গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পাল্টে ফেলল নাউরু
সকাল সকাল ডেস্ক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নতুন নাম নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র। স্থানীয় ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে মিল রেখেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নাওয়েরোর প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক সংকেত বা কোডও বদলানো হবে। এত দিন দেশটির নাগরিকদের নাউরুয়ান বলা হলেও এখন থেকে তাঁদের দিই—নাওয়েরো নামে ডাকা হবে।’ সরকার বলেছে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে নাওয়েরো তার ঐতিহ্যবাহী নামেই ফিরে গেল। বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার জন্য এত দিন আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহার করা হতো। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে দেশটির নাম সব সময়ই ছিল ‘নাওয়েরো’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং। তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথভাবে সম্মান জানানো হবে।’ পরে প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। নাওয়েরোতে মাত্র ১২ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এর আগে রয়েছে টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি। নাওয়েরো একসময় জার্মানির উপনিবেশ ছিল। পরে ছিল অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনের অধীন। ১৯৬৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে নাওয়েরো বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। তবে সেই শিল্প ধসে পড়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ কারণে নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেছেন, নাম পরিবর্তন জাতীয় গৌরবের নতুন সূচনা করবে। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, গণভোটের প্রয়োজন নেই। সরকারের ভাষ্য, নাওয়েরো নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি মানুষের পরিচয়, জাতীয় প্রতীক ও স্থানীয় ভাষায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংবিধানেও এ নামের স্বীকৃতি রয়েছে। এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক অতীতের পরিচয় থেকে সরে এসে ঐতিহ্যবাহী নাম গ্রহণ করা দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো নাওয়েরো। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নাম বদলে এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে তুর্কিয়ে নাম ব্যবহার শুরু করে। নাম পরিবর্তনের ফলে নাওয়েরোর জাতীয় উড়োজাহাজ ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আনা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নতুন নামকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নাওয়েরো সরকার। জাতিসংঘসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সরকারি ওয়েবসাইটেও দেশটির নতুন নাম এরই মধ্যে নাওয়েরো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে আমেরিকাতেই আইনি লড়াই, আদালতের দ্বারস্থ ২৫ অঙ্গরাজ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন আমদানি শুল্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এ মামলা দায়ের করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এমন শুল্ক আরোপ করেছেন এবং পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া নীতিই নতুন আইনি ভিত্তি দেখিয়ে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (Forced Labour) রোধের যুক্তি দেখিয়ে ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে। তবে রাজ্যগুলির দাবি, এই যুক্তি আসলে পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া বিস্তৃত শুল্কনীতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার একটি অজুহাত মাত্র। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড অভিযোগ করে বলেন, আদালতে বারবার পরাজিত হওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং আমদানিনির্ভর শিল্পের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলও এই নীতিকে আইনের অপব্যবহার বলে দাবি করেছেন। গত ২৩ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন করায় প্রস্তাবিত ১২.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় এসেছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত শুল্কনীতি মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এবার ৩০১ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলেও, বিরোধীদের দাবি, এত ব্যাপক পরিসরে এই আইনের ব্যবহার নজিরবিহীন এবং তা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মামলায় শুল্ক বাতিলের পাশাপাশি ইতিমধ্যে আদায় করা অতিরিক্ত শুল্ক ফেরতেরও দাবি জানানো হয়েছে। এখন এই মামলার রায়ের দিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে ভারত-সহ একাধিক দেশের রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি কতটা কার্যকর থাকবে।
উদ্বোধনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িক বন্ধ লন্ডনের হলদিরামস, কারণ জানাল কর্তৃপক্ষ
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারে অবস্থিত হলদিরামসের প্রথম আউটলেট। তবে এই বন্ধের নেপথ্যে ব্যবসায়িক কোনও সমস্যা নয়, বরং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলদিরামস ইউকের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বায়োতে জানানো হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN)-এর নির্ধারিত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজের জন্য ২০২৬ সালের ২১ জুলাই থেকে রেস্তোরাঁটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ শেষ হলেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে। এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর প্রবেশদ্বারে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কসের পূর্বনির্ধারিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস আপগ্রেডের কাজের জন্য সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। নোটিশে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি পুনরায় খোলার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN) লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে এই সাময়িক বন্ধ পরিকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারের ১৯–২০ আরভিং স্ট্রিটে প্রায় ৩,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে হলদিরামস তাদের প্রথম যুক্তরাজ্য শাখার উদ্বোধন করে। রেস্তোরাঁটিতে একসঙ্গে ১২০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাইরে আরও ২০টি আসনের সুবিধা রাখা হয়েছে। এই শাখায় প্রচলিত কুইক-সার্ভিস মডেলের পাশাপাশি প্রিমিয়াম ক্যাজুয়াল ডাইনিংয়ের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেনুতে রাখা হয় ছোলে ভাটুরে, পাও ভাজি, রাজ কচুরি, বিভিন্ন ধরনের চাট এবং লন্ডন আউটলেটের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কয়েকটি ফিউশন ডেজার্ট। পাশাপাশি প্যাকেটজাত মিষ্টি ও স্ন্যাকস কেনার জন্য একটি পৃথক রিটেল বিভাগও চালু করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই রেস্তোরাঁটির বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল এবং লন্ডনে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও এটি ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি পুনরায় কবে খুলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।