মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব, ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ চীনের
সকাল সকাল ডেস্ক বেইজিং: যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকাভুক্তির জবাবে প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ খাতের সঙ্গে যুক্ত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বা তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং মার্কিন পদক্ষেপের জবাব দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘চীনা সামরিক এন্টারপ্রাইজ’ তালিকাভুক্তি একটি ‘অত্যন্ত আপত্তিকর পদক্ষেপ’। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক যান নির্মাতা ওশকোশ ডিফেন্স, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাভিওক্স, বিরল খনিজ উৎপাদক এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থ। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত-ব্যবহার সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু চীনা রপ্তানিকারক নয়, অন্য কোনও দেশ বা অঞ্চলের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এই পণ্যগুলো তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানির কাছে সরবরাহ করতে পারবে না। এদিকে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় পৃথক এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন, বোয়িং ডিফেন্স, জেনারেল ডাইনামিকস এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবুও জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মতবিরোধ এখনও গভীর। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে চীনে ব্যবসা পরিচালনাকারী মার্কিন বিনিয়োগযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন,: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করবেন। লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সহকর্মীদের মতামত বিবেচনা করে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি। স্টারমারের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘদিনের বিরোধী আসন থেকে সরকার গঠন করে। তাঁর সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক নীতিগত ইউ-টার্ন, জনপ্রিয়তা হ্রাস, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান এবং বহু সাংসদের প্রকাশ্য অসন্তোষ তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। লেবার পার্টি জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্টারমারের বিদায়ের ফলে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর ব্রিটেন তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা এবং ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।
কাতারের গ্যাস হাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত৫৪; বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন শঙ্কা
দোহা, ২২ জুন: পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি কেন্দ্র রাস লাফান শিল্প নগরীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থা ‘কাতারএনার্জি’ জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্প এলাকার বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আগুনের শিখা বহু দূর থেকেও দেখা যায় এবং দ্রুত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে কোনও গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেনি এবং সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবুও নিখোঁজ ১৮ জনের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। এ কাজে কাতারি ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপকে মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাস লাফান শিল্প নগরীর গ্যাস অবকাঠামো। দীর্ঘ মেরামতির পর রবিবার পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে রাস লাফানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এখান থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই শিল্পাঞ্চল উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ একাধিক দেশের গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে কাতারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। ভারতের আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ কাতার থেকে আসে। ফলে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারমূল্যের ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নতুন সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর ধাক্কা: ৫৬.৪ শতাংশ ইসরায়েলি বললেন, ইরান যুদ্ধ সামলাতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক জেরুজালেম: ইসরায়েলে পরিচালিত এক নতুন জনমত সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে যে, দেশের অধিকাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট নন। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫৬.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মোকাবিলায় নেতানিয়াহু ব্যর্থ বা খারাপ কাজ করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ২৬.৫ শতাংশ তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৩,৬৪৪ জনের ওপর এই সমীক্ষা চালায়। পরে তার ফলাফল একটি ইসরায়েলি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৫৬.৪ শতাংশ মানুষ যুদ্ধকালীন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মাত্র ২৬.৫ শতাংশ তাঁর কাজকে সমর্থন করেছেন। সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে যে, ৭২.৫ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক নেতানিয়াহুর এই দাবিতে আস্থা রাখেন না যে ইসরায়েল যুদ্ধে বড় সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশের সামনে থাকা অস্তিত্বের সংকট দূর করতে সক্ষম হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, ৯২.১ শতাংশ উত্তরদাতার মতে ইরান এই সংঘাতে কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকতে পেরেছে। একই সঙ্গে ৮২.৯ শতাংশের ধারণা, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৮৭.৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইসরায়েল তার ঘোষিত সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাও কমেছে। মার্চ মাসে যেখানে তাঁর সমর্থন ছিল ৪০.৫ শতাংশ, জুনে তা নেমে এসেছে ২৯.৪ শতাংশে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে জনমত বিভক্ত। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪৮.২ শতাংশ মানুষ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ২০.৯ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। এদিকে রবিবার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বৈঠক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা। সমঝোতার সম্ভাব্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে লেবানন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শত্রুতা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধরনের সমীক্ষায় প্রতিফলিত জনঅসন্তোষ ভবিষ্যতেও বজায় থাকে, তাহলে আগামী দিনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
কাতারে গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ৫৪ জন
সকাল সকাল ডেস্ক দোহা: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাতারের অন্যতম বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, রবিবার রাতে কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানে বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণে ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আরও ১৮ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, রাস লাফানের বারজান এলাকায় একটি গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ হয় রবিবার রাতে। তার পরে সেখানে আগুন ধরে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, গোটা বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন এবং রফতানি কেন্দ্র এটি।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে স্থায়ী সমাধান অসম্ভব: ইরান
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/সুইৎজারল্যান্ড: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও স্থায়ী সমাধানের পথে এখনও বড় বাধা লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়বে। সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিতে কিছু ছাড়, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পুনর্গঠনমূলক প্রকল্প শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোর সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেবাননের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর। এরই মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বৈঠকের প্রথম দফা শেষ হয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আগের সমঝোতাগুলির বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। বৈঠকে ইরানের তেল রফতানির অনুমোদন, স্থগিত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির দাবি করেছে তেহরান। একইসঙ্গে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখার কথা জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কারিগরি পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না। দেশের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে থাকবে।
টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা জারি, রাস্তায় সেনা
সকাল সকাল ডেস্ক লাপাজ: ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। একই সঙ্গে সড়ক অবরোধ সরাতে সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকোচাষিদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের জেরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, চলমান অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই কয়েকশো কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থার আওতায় দেশজুড়ে সব ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত এলাকাগুলিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এল আল্টো শহরসহ একাধিক এলাকায় সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। রাস্তায় তৈরি করা ব্যারিকেড ও প্রতিবন্ধকতা সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজধানী লাপাজেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের। শহরের প্রধান চত্বর এবং প্রশাসনিক এলাকাগুলিতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, ‘‘বলিভিয়ার জনগণ এমন অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, যা তাদের কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের পথ বন্ধ করে দেয়।’’ তাঁর দাবি, জরুরি অবস্থার লক্ষ্য নাগরিক অধিকার খর্ব করা নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার করা। তবে বিক্ষোভকারীরা সরকারের এই অবস্থান মেনে নিতে রাজি নন। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট পাজের উদার অর্থনৈতিক সংস্কার সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী। আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছে। যদিও সংকট নিরসনে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে সরকার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের পথে না হাঁটা এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে ওই সংগঠন আন্দোলন প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। তবে আদিবাসী সংগঠনগুলির একটি বড় অংশ এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। দেশজুড়ে ৪০টিরও বেশি স্থানে সড়ক অবরোধ বহাল রয়েছে। এক আদিবাসী নেত্রীর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক অসন্তোষের এই ত্রিমুখী সংকট বলিভিয়ার নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
‘আমার কথা তারা শোনে’, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, নিহত ৫
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/বেইরুট: ইজরায়েলের ওপর নিজের প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। শনিবারের এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইজরায়েল তাঁর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি যা বলেন, তারা তা-ই করে। লেবাননে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান রোধে তিনি ইজরায়েলকে প্রভাবিত করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘‘হ্যাঁ, আমি পারব। আমার প্রতি তাদের অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।’’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘সম্পর্ক ভালো, তবে তাঁকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।’’ যদিও তেহরানের সঙ্গে সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অতীতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই ইজরায়েলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেই চুক্তি বহাল থাকলে ইরান অনেক আগেই পরমাণু অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় ট্রাম্পের বক্তব্যে। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বাস্তবে তাঁর কার্যক্ষমতার পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। যুদ্ধবিরতির পর এত দ্রুত পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ট্রাম্প–মেলোনি বাকযুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রকাশ্য বাকযুদ্ধকে ঘিরে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমছে। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা না করাই এর অন্যতম কারণ। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, যা সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অসুবিধার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, তাঁর জনপ্রিয়তা কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না, বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন।’’ এর আগেও দু’জনের মধ্যে কথার লড়াই দেখা গিয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনের সময় মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সহানুভূতি থেকেই তিনি সেই অনুরোধ বিবেচনা করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মেলোনি। তাঁর কথায়, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ মনগড়া কথা বলছেন।’’ অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতার চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে। সেই প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে প্রণালীতে কোনও ধরনের অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সমস্যা সমাধানে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজন: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেছেন, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যুর সমাধান অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের মতো করে করা সম্ভব নয়। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ সফর শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে লি জানান, ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার আগেই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এর জবাবে লি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের মতো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর জন্য বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। লি ট্রাম্পের সামনে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানের একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রথমে উত্তর কোরিয়ায় পরমাণু উপাদান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে, এরপর বিদ্যমান পরমাণু উপাদান দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, তবে তার আগে বাস্তবসম্মত ও স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রেসিডেন্টের দাবি, ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। লি আরও জানান, উত্তর কোরিয়া ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্বিগ্ন বলেই তাঁর কাছে মনে হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সংলাপ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, যদিও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাই সিওল, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সফরকালে লি ভ্যাটিকানে ১৪তম পোপ লিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইউথ ডে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য পোপকে আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) পরিদর্শনের অনুরোধও করেন। লি জানান, পোপ এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মতে, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি পোপের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া আলোচনার সময় পোপ রসিকতার সুরে জানান যে তিনি স্যামসাংয়ের ঘড়ি ও মোবাইল ফোন এবং হুন্ডাইয়ের গাড়ি ব্যবহার করেন।