কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তদারকিতে ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির তদারকির জন্য বিশেষ ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের তদারকিতে একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একাধিক বিশেষজ্ঞ এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের একাংশের মতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এআইয়ের বিকাশের গতি কমানোর পক্ষে নন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের অবস্থান, এই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি না হলে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় চিনের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে আমেরিকা। যদিও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং জননিরাপত্তার উপর তার প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে গঠিত ‘স্পেস ফোর্স’-এর ধাঁচেই ‘এআই ফোর্স’ তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, স্পেস ফোর্স সফল হয়েছে এবং একইভাবে নতুন বাহিনী এআই সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখবে। অদূর ভবিষ্যতে একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের ঘোষণাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এআই মানবসমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। এআই নিয়ে আতঙ্ক তৈরির প্রচেষ্টাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, তাঁর প্রশাসন এআই শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে না। বরং আমেরিকাকে এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের অগ্রণী দেশ হিসেবে ধরে রাখার লক্ষ্যে দ্রুত উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করা হবে। তবে এআইয়ের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, প্রযুক্তির বিকাশ বন্ধ না করে যারা এআই ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে প্রস্তাবিত বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, সদস্যসংখ্যা কিংবা কোন সরকারি বিভাগের অধীনে এটি কাজ করবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মক্কা প্যাক্টের আবহে পাকিস্তান-তুরস্ককে হুথিদের হুঁশিয়ারি
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াধ, ২০ সেপ্টেম্বর: সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্যাক্ট’। সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা। তার পরই পাকিস্তান ও তুরস্ককে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। মক্কা প্যাক্ট অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ তিন দেশের কোনও একটির উপর বাইরের শক্তির হামলাকে তিন দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রিয়াধকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহায়তা করতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ। সৌদি আরবের অনুরোধের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও পাকিস্তানি সেনার তরফে জানানো হয়েছে। একই অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের উপর গুরুতর আক্রমণ হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে থাকা মৈত্রী চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, সৌদি আরবের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হলে তা পূরণে আঙ্কারার আপত্তি নেই। পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থানের পরই পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে হুথিরা। এক সাক্ষাৎকারে হুথি তথা আনসারাল্লাহর পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ আল-বুখাইতি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তার জবাব দেওয়া হবে। আল-বুখাইতির বক্তব্য, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে পাকিস্তান বা তুরস্ক যোগ দিলে হুথিরা পাল্টা পদক্ষেপ করবে। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাধারণ মানুষের প্রতি এই সতর্কবার্তা নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দুই দেশের সরকারের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং তার পর পাকিস্তান ও তুরস্কের অবস্থানের জেরে মক্কা প্যাক্টের ভূমিকা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বেড়েছে। তবে পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি সামরিকভাবে এই সংঘাতে যুক্ত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে হুথিদের নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াধ। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী রিয়াধ এবং বন্দর শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকোর তেল স্থাপনাও রয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াধের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে চালানো অন্যান্য হামলাও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামলার কথা জানিয়েছেন। সারির দাবি, সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েক মাস পর এই প্রথম হুতিরা ফের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হুতিদের তরফে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আরামকোর তেল স্থাপনাকে তারা নিশানা করবে। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার বলেন, “রাজধানী সানাকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের হামলার চেষ্টার জবাবে দুটি সফল সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।” তাঁর দাবি, “প্রথম হামলাটি সৌদি রাজধানী রিয়াধের স্পর্শকাতর স্থানে এবং দ্বিতীয়টি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় চালানো হয়েছে।” ইয়ানবুতে হামলার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই শহরটি ইয়েমেন-সৌদি আরব সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০০ মাইল উত্তরে। রিয়াধও সীমান্ত থেকে ৭০০ মাইলের বেশি দূরে অবস্থিত। ফলে হুতিদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াধে হামলার ঘটনায় হুতিদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে একাধিক দেশ। কুয়েতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। মিশরও জানিয়েছে, হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের নীতির লঙ্ঘন। বাহরাইন এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জর্ডন জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হন এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়। ২০২২ সালে রাষ্ট্রসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার পর ইয়েমেনে বড় আকারের লড়াই অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ওই অঞ্চলে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ইরানের সাত শর্ত, মঙ্গলবার আলোচনা করবেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন। কাতারের মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য সাতটি শর্ত জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে না নিলে তারা ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, কাতার ইতিমধ্যেই ইরানের শর্তগুলি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। আল জাজিরা, সিনহুয়া, গালফ নিউজ ও আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাই বলেছেন, “আমরা মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে কাতার আমাদের শর্তগুলি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।” রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ফ্রিজ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই এক্স-এ লিখেছেন, ওয়াশিংটন যদি নিজেদের তৈরি করা সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে ইরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনও পথ নেই। তিনি আমেরিকার তরফে ফের হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, আগের দুই দফার সংঘর্ষের পর ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত মোতায়েন মার্কিন নৌসম্পদের উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। রেজাই দাবি করেছেন, সম্প্রতি একটি মার্কিন জাহাজ অথবা বিমানবাহী রণতরীর কাছে বহু ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং স্থানীয় সংস্থাগুলিও নিশানায় আসতে পারে। গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকেই কাতার ও পাকিস্তান নতুন করে আলোচনা শুরু করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে হামলার পর এই সংঘাত শুরু হয়েছিল। রেজাই জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটানোর কৌশল নিয়ে কাজ করছে তেহরান। এদিকে, শনিবার এক সাক্ষাৎকারে মহসিন রেজাই বলেন, তাঁদের দেশ প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের জারি করা সেই ধর্মীয় নির্দেশ এখনও মেনে চলছে, যেখানে পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রেজাই বলেন, “ভবিষ্যতে কী হবে, তা আমরা জানি না।” অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এরপর নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনায় ইরান অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে আসবে। তবে ট্রাম্প অথবা আমেরিকার অন্য কোনও প্রতিনিধি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
১১ দিনের ব্যবধানে চিকিৎসক ছেলে ও বাবার মৃত্যু, বাংলাদেশে আতঙ্কে হিন্দুরা!
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: বাংলাদেশে ১১ দিনের ব্যবধানে এক চিকিৎসক ছেলে ও তাঁর বাবার অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে নিজ বাসভবন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের তরুণ চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের (৩১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর, শুক্রবার মৌলভীবাজারের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপরের ঘর থেকে তাঁর বাবা পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মরদেহটি পাওয়া যায়। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোজ কুমার সরকার জানান, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গালের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দু’বছর আগে বিয়ে করা এই তরুণ চিকিৎসক নতুন বাড়িতে ওঠার পরদিনই এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করছে, তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের এমন পরপর মৃত্যুতে জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশ বা সাংবাদিক—কারও নিরাপত্তাই এখন নিশ্চিত নয়। একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু আদৌ আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’ পুস্তকের তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার, হুমকি ও নির্যাতন চলতে থাকলে দেশ অচিরেই সংখ্যালঘুশূন্য হয়ে পড়বে। নিত্যদিনের হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের বহু তথ্য জনসমক্ষেও আসছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পলাশ কান্তি দে বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে, ফোনে হিন্দুদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে, রাতে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। যার শতকরা ৫ ভাগও গণমাধ্যমে তো আসছেইনা, এমনি সামাজিক মাধ্যমেও ভয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পলাশবাবু উদ্বেগ করে বলেন, যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে নির্যাতন হচ্ছে তা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপরে হামলা করলে বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ত, কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের উপরে এতো নির্যাতন হচ্ছে বিশ্বমানবতা চুপ করে আছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংঘাত আরও তীব্র হল। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো-সহ একাধিক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি ধারাবাহিকভাবে ‘ভুয়ো ও কাল্পনিক খবর’ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর হবে। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি প্রেসিডেন্ট, তাঁর প্রশাসন এবং আমেরিকা সম্পর্কে নিয়মিত অসত্য তথ্য পরিবেশন করছে। তবে কোন নির্দিষ্ট প্রতিবেদন বা খবরের ভিত্তিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি। আগামী দিনে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদেও সিএনএনের এক সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ওই সাংবাদিকের প্রবেশের অনুমতি পুনর্বহাল করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যম সংক্রান্ত নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্টের দফতর, প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান কিংবা সীমিত জায়গায় আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে কোন সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন, সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে। এর আগে ‘গালফ অফ মেক্সিকো’-র নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অফ আমেরিকা’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাদের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতি অনুযায়ী পুরনো নামের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না করায় সংস্থাটির সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের কয়েকটি সীমিত কর্মসূচিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেও আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ও সংবাদমাধ্যমের সংঘাতের নজির আগেও রয়েছে। রিচার্ড নিক্সনের আমলে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সময় ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছিল। তবে কোনও সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত বরাবরই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সিদ্ধান্তটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি নতুন করে কোনও আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়ায় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
১৩৯৯টি ভূমিকম্পের নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা? গবেষণায় নতুন দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল: উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার সঙ্গে কি মাউন্ট মানতাপ অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের কোনও যোগসূত্র রয়েছে? নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই সম্ভাবনা। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে গত কয়েক বছরে ভূকম্পন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে দেশটির ষষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু পরীক্ষার পর থেকেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি গবেষণায়। গবেষকেরা ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাউন্ট মানতাপ এবং সংলগ্ন এলাকার ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে মোট ১,৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছে। অথচ ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া পরমাণু পরীক্ষা শুরু করার আগে অঞ্চলটিতে ভূকম্পন অত্যন্ত বিরল ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ভূগর্ভে মোট ছ’টি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে দেশটির তৃতীয় পরমাণু পরীক্ষার পর এলাকায় প্রথম উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। যদিও পরবর্তী কয়েক বছরে ভূমিকম্পের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে ২০১৭ সালের পর। ওই বছর উত্তর কোরিয়া তাদের ষষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু পরীক্ষা চালায়। বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৬.৩ মাত্রার ভূকম্পন তৈরি হয়েছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে পরীক্ষাস্থলের একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে থাকতে পারে এবং পাহাড়ের চূড়ার আকৃতিতেও প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে বলে গবেষকদের অনুমান। পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কিম জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে রেকর্ড হওয়া অধিকাংশ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ থেকে ৩-এর মধ্যে এবং সেগুলির উৎপত্তিস্থলও ছিল তুলনামূলকভাবে অগভীর। গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা শুরুর আগেও মাউন্ট মানতাপ অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের ঘটনা অত্যন্ত বিরল ছিল। চিন ও কোরিয়া অঞ্চলের প্রায় দু’হাজার বছরের ঐতিহাসিক নথির প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক কিম জানিয়েছেন, পরীক্ষাস্থলের প্রায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে অতীতে খুব কম সংখ্যক উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়। তবে গবেষণার ফলাফল নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। সাধারণত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট ভূকম্পন পরীক্ষার পর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত বাড়তে থাকার ঘটনা খুব সাধারণ নয়। ফলে ২০১৭ সালের পরীক্ষার এত বছর পরেও এলাকায় ভূকম্পন কেন অব্যাহত রয়েছে, তার সম্ভাব্য কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা। তাঁদের ধারণা, ২০১৭ সালের শক্তিশালী বিস্ফোরণে মাউন্ট মানতাপের ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের পুরনো ও সুপ্ত ফাটলগুলি পুনরায় সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের ধাক্কায় নতুন ফাটলও তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেই ফাটলের মধ্যে জল প্রবেশ করে শিলাস্তরের চাপের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে ছোট ছোট ভূমিকম্পের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ হতে পারে ২০১৭ সালের পর মাউন্ট মানতাপের নিচের ভূগর্ভস্থ কাঠামো এখনও পুরোপুরি আগের স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসেনি। তবে ১,৩৯৯টি ভূমিকম্পের প্রত্যেকটিই সরাসরি পরমাণু পরীক্ষার কারণে ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্ত গবেষণাটি দেয় না। বরং ২০১৭ সালের শক্তিশালী বিস্ফোরণ স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ঘটিয়ে পরবর্তী ভূকম্পনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারে বলেই গবেষকদের পর্যবেক্ষণ।
রুশ তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঝুঁকি, বিলে স্বাক্ষর ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর চাপ আরও বাড়াল আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন আইনে রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করা ভারত ও চিনের উপরও চাপ বাড়তে পারে। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে আইনটি এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই অনুমোদন পেয়েছিল। গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাশ হয়। তার আগেই সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদন পেয়েছিল এই প্রস্তাব। প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর এবার সেটি আইনে পরিণত হল। নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলিকে লক্ষ্য করে শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা। রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে আমেরিকায় রফতানি করা পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত বা চিনের সমস্ত পণ্যের উপর ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গিয়েছে। আইনটি শুল্ক আরোপের জন্য মার্কিন প্রশাসনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানোই এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। রুশ প্রশাসনের আধিকারিক, ব্যাঙ্ক, জ্বালানি ক্ষেত্র এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন মার্কিন পদক্ষেপে ভারতের উপর বিশেষ নজর রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। চিনও রুশ জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে ওয়াশিংটন নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর করলে দুই দেশের বাণিজ্যের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ভারত এর আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দেশের অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে রুশ তেল কেনার উপর নতুন কোনও মার্কিন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, মস্কোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। রাশিয়ার বক্তব্য, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নতুন আইনের প্রভাব এখন কতটা ভারতের উপর পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।
শি-এর আমেরিকার সফর নিয়ে বড় চুক্তির আভাস ট্রাম্পের, ফের ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: আগামী সপ্তাহে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য আমেরিকা সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। চিনের প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তিনি আসছেন। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো এবং আগামী সপ্তাহে তিনি এখানে থাকবেন। আমাদের মধ্যে একটি অত্যন্ত কার্যকর বৈঠক হতে যাচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, বেজিংয়ের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্কের কারণে তাদের অর্থনীতি চাপে পড়েছিল, তবে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া বজায় রয়েছে। শি জিনপিংয়ের এ সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ইরান ইস্যু নিয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরান যাতে কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, ওয়াশিংটন তা নিশ্চিত করেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন বোমারু বিমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “যদি আমরা বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করতাম, তবে তাদের হাতে এত দিনে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসত। আর যদি তারা এখনও তা না-ও পেয়ে থাকে, তবে সেটি ছিল মাত্র কয়েক দিনের ব্যাপার।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। সংঘাত থামার পর জ্বালানি তেলের দাম আগের অবস্থানে ফিরে যাবে, এমনকি হয়তো তার চেয়েও কমে আসবে।”
গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে, ‘মেয়াদহীন’ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সুমেরু অঞ্চলের ভূকৌশলগত স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের সামগ্রিক নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্বের সঙ্গে ওয়াশিংটন একটি স্থায়ী ও কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও আর্থিক ব্যয় হবে না। তাঁর কথায়, “আমার নির্দেশনায় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার স্থায়ী ও পূর্ণ কর্তৃত্ব পেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।” চুক্তির ধারা তুলে ধরে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সুস্পষ্ট লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনও মার্কিন প্রতিপক্ষ বা শত্রুভাবাপন্ন দেশ গ্রিনল্যান্ডে কোনও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সেনাসদস্য মোতায়েন কিংবা কৌশলগত খাতে কোনও ধরনের সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। এই সমঝোতাকে একটি ‘ইনফিনিট লাইফ’ বা মেয়াদহীন চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “এই চুক্তির কোনো সমাপ্তি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আজকের এই অর্জনকে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি আরও জানান, গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে অনতিবিলম্বে বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। দ্বীপটির স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং তাঁদের সব মিত্রদেশের জন্য একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।