সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে ফের বিতর্কিত দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য বৃহত্তর সামরিক সংঘাত ঠেকাতে তাঁর প্রশাসন উভয় দেশকে উচ্চ হারে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে ভারত পুনরায় স্পষ্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগের ফল এবং এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মুখে ছিল। সেই সময় তিনি দুই দেশকেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, প্রথমে উভয় দেশই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও পরে তারা সংঘাতে না জড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কারণ তাঁর হস্তক্ষেপে এমন একটি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারত।
তবে ভারত সরকার বরাবরের মতোই এই দাবি খারিজ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয় পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের অনুরোধ জানানোর পর। এতে কোনও বিদেশি মধ্যস্থতার ভূমিকা ছিল না।
এছাড়া সংঘর্ষে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ট্রাম্পের দাবিও নাকচ করেছে ভারত। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বক্তব্যের কোনও সরকারি ভিত্তি বা প্রমাণ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ মে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি, লঞ্চপ্যাড এবং পরিকাঠামো লক্ষ্য করে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। লক্ষ্যভেদ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র অনুরোধে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে অভিযান স্থগিত করা হয়।
ভারত পুনর্ব্যক্ত করেছে, অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত, সামরিক অভিযান শুরু থেকে স্থগিত করা পর্যন্ত, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনভাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে।
No Comment! Be the first one.