জুনে বড় ধাক্কায় সোনার দাম, ১০ গ্রামে কমেছে প্রায় ১০ হাজার টাকা; রুপোও সস্তা, ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার আশা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : জুন মাসে কলকাতার বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সোনা ও রুপোর দাম। মাসজুড়ে দামের ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যবান দুই ধাতুর দর নিম্নমুখী থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর বর্তমান মূল্যস্তর গয়না কেনার জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল সুযোগ তৈরি করেছে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুনের তুলনায় ২০ জুনে ২৪ ক্যারাট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম কমেছে ৯ হাজার ৫৫০ টাকা। একই সময়ে ২২ ক্যারাট হলমার্কযুক্ত গয়না সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে কমেছে ৯ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা। শনিবার কলকাতার বাজারে কর ছাড়া ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দর ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা। খুচরো বাজারে একই পরিমাণ সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। ২২ ক্যারাট হলমার্কযুক্ত গয়না সোনার প্রতি ১০ গ্রামের মূল্য ছিল ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা। রুপোর খুচরো বাজারদর প্রতি কেজিতে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৫০ টাকা। অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুন ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং খুচরো বাজারে ছিল ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১০০ টাকা। সেই সময় ২২ ক্যারাট গয়না সোনার মূল্য ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। রুপোর দাম ছিল প্রতি কেজিতে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সংশোধন, মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে এই পতন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের একাংশ এখন কেনাকাটার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ঘোষিত বাজারদরেই গয়না কেনা সম্ভব নয়। সোনার দামের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত হবে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং গয়না তৈরির মজুরি। বিভিন্ন বিপণি ও ব্র্যান্ডভেদে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত মূল্য ঘোষিত বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে। আসন্ন বিয়ের মরশুম এবং উৎসবের আগে সোনা ও রুপোর দামে এই সংশোধন বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহ ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকতে পারে।
ভিসা ও রুপে—দুই নেটওয়ার্কের সুবিধাসহ নতুন কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড আনল পিএনবি ও জ্যাগল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন কো-ব্র্যান্ডেড ‘টুইন’ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা একই সঙ্গে ভিসা এবং রুপে—দুই পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবেন। পিএনবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের সহযোগিতায় চালু করা ‘পিএনবি-জ্যাগল ক্রেডিট কার্ড’ পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি। পরিবেশ সচেতন গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে কার্ডগুলি বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যাঙ্কের মতে, এই কার্ডে দ্বৈত নেটওয়ার্কের সুবিধা থাকছে। ভিসা নেটওয়ার্কের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত সুবিধার পাশাপাশি রুপে নেটওয়ার্কের লাইফস্টাইল সুবিধা এবং ইউপিআই-ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিএনবির লক্ষ্য, ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্রেডিট কার্ড বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি, ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহী তরুণ গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) অশোক চন্দ্র বলেন, তরুণ এবং ডিজিটালভাবে সচেতন গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ব্যাঙ্ক উদ্ভাবনী ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, ভারতের ক্রেডিট কার্ড ক্ষেত্রে এখনও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং জ্যাগলের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে। জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অবিনাশ রমেশ গোদখিন্ডি বলেন, “গ্রাহকদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও উন্নত আর্থিক প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরি করার যে কৌশল আমরা গ্রহণ করেছি, এই অংশীদারিত্ব তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
অস্ট্রেলিয়ায় শুরু বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যানবেরা : বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে একটি অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম বৃহৎ পরিসরের এমন উদ্যোগ, যা বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মোরেটন বে অঞ্চলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের সূচনা হয়। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কম্পিউটার ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপাদান বিজ্ঞান এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জনসংখ্যার বিচারে তুলনামূলকভাবে ছোট দেশ হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ গবেষক, উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের পরিবেশের কারণে দেশটিকে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি সংস্থা সাইকোয়ান্টামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম একটি কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে অঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গবেষণার উপযোগী পরিবেশ থাকায় এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্পোন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। বর্তমানে যেসব জটিল গণনামূলক সমস্যা প্রচলিত সুপারকম্পিউটার দিয়েও সমাধান করা কঠিন, ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার সেগুলির অনেকগুলিই তুলনামূলকভাবে কম সময়ে সম্পন্ন করতে পারবে। প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানমন্ত্রী টিম আয়ারস। তিনি এই উদ্যোগকে দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে। টিম আয়ারস বলেন, এই প্রকল্প শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প সফল হলে তা শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জি-৭ সম্মেলনের ছবি ঘিরে ট্রাম্প-মেলোনি বিতর্ক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে ‘মনগড়া’ বললেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক রোম : জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলেও তার রেশ এখনও কাটেনি। সম্মেলনে তোলা একটি ছবি এবং তা ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে খণ্ডন করে দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক জি-৭ সম্মেলনের পর এক ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অত্যন্ত আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতালির প্রধানমন্ত্রী নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ইতালির রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী ও শাসক উভয় শিবিরের নেতারাই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। পরবর্তীতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং তা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইতালি একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ এবং কোনও পরিস্থিতিতেই অন্য কারও কাছে অনুগ্রহ বা বিশেষ সুবিধা প্রার্থনা করার প্রয়োজন অনুভব করে না। মেলোনির কথায়, “আমি জানি না কেন তিনি তাঁর মিত্রদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কিংবা ইতালি কখনও কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।” শুধু ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেই থেমে থাকেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেলোনির অভিযোগ, যেসব দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থান অনেক সময় নমনীয় হয়ে পড়ে। অথচ মিত্র দেশগুলির প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোরতা দেখা যায়। এই মন্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও দেখা গিয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রশ্নে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা নীতি এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ সামনে এসেছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কাউকে সরাসরি আক্রমণ করেননি, তবুও কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই নেতার সম্পর্কের উষ্ণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক সেই দূরত্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, একটি ছবি এবং তা নিয়ে মন্তব্যের জেরে যে মাত্রার প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত মতবিরোধের বিষয় নয়; বরং এর মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তাও নিহিত রয়েছে। সব মিলিয়ে, জি-৭ সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতৃত্বের ভাষা, পারস্পরিক সম্মান এবং মিত্র দেশগুলির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রকাশে বিলম্বের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাপে পড়েছে পাকিস্তান সরকার। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ভান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ এবং তথ্যপ্রকাশের কাঠামো। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বাক্-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিসর নেই। ভান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু জনসমক্ষে আনতে আগ্রহী ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষ সরকারি নথি বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা এবং তার উপর মতামত গঠনের সুযোগ পায়। কিন্তু সব দেশে সেই ধরনের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা বা পরিবেশ বিদ্যমান নয়। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ঘোষণা করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশিত হয় দুই দিন পরে। এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এবং বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইরানকে কোনও বড় ধরনের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছে কি না, তা গোপন রাখতেই নথি প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরের একাধিক নেতা প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানান এবং সমঝোতার শর্তাবলি জনসমক্ষে আনার আহ্বান তোলেন। পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত বুধবার সমঝোতা স্মারকের সম্পূর্ণ পাঠ্য প্রকাশ করে মার্কিন প্রশাসন। তবে নথি প্রকাশে বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভান্স যে ভাবে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন, তা ইসলামাবাদের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উষ্ণ হলেও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন মন্তব্য পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। প্রসঙ্গত, বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং তথ্যপ্রকাশে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে রয়েছে দেশটি।
গ্ল্যাম আপ ফেস্ট ২০২৬: নবপ্রজন্ম ও মহানগরের বাইরের শহরগুলির হাত ধরে ফ্লিপকার্টের সৌন্দর্য বিভাগে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ই-বাণিজ্য সংস্থা ফ্লিপকার্ট শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা বিভাগে বছরে বছরে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে এই মঞ্চে সৌন্দর্য-সংক্রান্ত মোট কেনাকাটার প্রায় ৬০ শতাংশই করছেন নবপ্রজন্মের ক্রেতারা। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘গ্ল্যাম আপ ফেস্ট ২০২৬’-এর চতুর্থ সংস্করণে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ১০০-রও বেশি শীর্ষস্থানীয় সৌন্দর্যপণ্য নির্মাতা সংস্থা এবং ৬ হাজারেরও বেশি বিষয়বস্তু নির্মাতা, প্রভাবক ও তারকা অংশ নেন। এদিন ফ্লিপকার্ট তাদের ‘বিশ্বমানের বিলাসবহুল সৌন্দর্য ভাণ্ডার’-এরও উদ্বোধন করে, যার সূচনা করেন অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ‘বার্ষিক সৌন্দর্য প্রবণতা প্রতিবেদন ২.০’-এ ভারতীয় ক্রেতাদের মধ্যে সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে দ্রুত বদলে যাওয়া মানসিকতার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌন্দর্য-সংক্রান্ত মোট কেনাকাটার প্রায় ৬০ শতাংশই করছেন নবপ্রজন্মের ক্রেতারা। এই বৃদ্ধির পিছনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরের গ্রাহকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় সৌন্দর্যচর্চাকে শুধুমাত্র আকাঙ্ক্ষার বিষয় হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে তা আত্মপরিচর্যা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হয়েছে। ফ্লিপকার্টের তথ্য অনুযায়ী, সৌন্দর্য-সংক্রান্ত প্রতি তিনটি অনুসন্ধানের মধ্যে দু’টি আসে মহানগরের বাইরের শহরগুলি থেকে। কটক, বর্ধমান, গোরখপুর, কোট্টায়ম, গুন্টুর, জামনগর এবং সাংলির মতো শহরগুলি দ্রুত দেশের সৌন্দর্য প্রবণতা ও ক্রয়-সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। বিশ্বমানের বিলাসবহুল সৌন্দর্য ভাণ্ডারের সূচনা এই নতুন ভাণ্ডারের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রেতারা ত্বক পরিচর্যা, সুগন্ধি এবং কোরীয় সৌন্দর্যপণ্যের মতো আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের সহজ নাগাল পাবেন। এই ভাণ্ডারে ১০০-রও বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের সৌন্দর্যপ্রেমী ক্রেতাদের জন্য আরও বিস্তৃত পছন্দের সুযোগ এনে দেবে।
মানবিক খাতে ব্যয়ের জন্য ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের মানবিক খাতে ব্যয়ের জন্য স্থগিত থাকা ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যার আওতায় ইরানকে মানবিক ব্যয়ের জন্য তার জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগকে ইরানের জন্য একটি প্রণোদনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে একটি বিস্তৃত চুক্তির পথে এগিয়ে আসে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বর্তমানে কাতারে আটকে থাকা তহবিল খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক পণ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। সূত্রগুলির দাবি, ভবিষ্যতে ইরানের অন্যান্য জব্দকৃত সম্পদের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে এই মডেল কাজ করতে পারে। তবে খবর অনুযায়ী, ইরান এখনও এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। গত ১৪ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করে যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ জুন রাতে দুই দেশ দূরবর্তী পদ্ধতিতে ওই নথিতে স্বাক্ষর করে, যেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা সামরিক সংঘাতের অবসানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য উভয় দেশকে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-পরিবহণ পুনরায় চালুর একটি সময়সীমাও এতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই ট্রেনের সংঘর্ষ লন্ডনে; মৃত্যু চালকের, আহত বহু
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: লন্ডনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে একটি ট্রেনের চালকের। আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উত্তর লন্ডনের বেডফোর্ডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এক চালকের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। দু’টি ট্রেনই দক্ষিণ থেকে লন্ডনের সেন্ট প্যাংক্রাস স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পরে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে আহতদের উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়। উত্তর লন্ডন থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে বেডফোর্ড এলাকায় দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। পূর্ব লন্ডন অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস জানায়, বেডফোর্ডের দক্ষিণে এই ট্রেন দু্র্ঘটনার খবর পেতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে তারা একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স-সহ একাধিক জরুরি সামগ্রী পাঠায়।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান বৈঠক স্থগিত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু
সকাল সকাল ডেস্ক জেনেভা/বেইরুত : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকান নিউজ চ্যানেল এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়ার কথা থাকা আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আলোচনায় সহায়তা করতে সুইজারল্যান্ড প্রস্তুত রয়েছে। বার্গেনস্টকে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতির কাজ চলছে। বর্তমানে এর বাইরে আর কোনো তথ্য নেই।” সুইস মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘোষণা করেছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাবেন না। এর ফলে সুইস সরকারের বৈঠকের প্রস্তুতি ভেস্তে গেছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে প্রাথমিক আলোচনার জন্য বৈঠক করবে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারাও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বৈঠকটি লুসার্নের কাছে একটি রিসোর্ট এলাকা বার্গেনস্টকে হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। চ্যানেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের ১১টি আলাদা শহর ও গ্রামে রাতভর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং চলমান হামলার কারণে উদ্ধারকর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে রাতভর অভিযানের সময় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই ধসের মুখে দেশের শেয়ার সূচক
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: টানা পাঁচটি লেনদেন ধরে উঠতে থাকা শেয়ার বাজার শুক্রবার ধসের মুখে পড়ল। সেনসেক্স ও নিফটি৫০-সহ একাধিক সেক্টরাল ইনডেক্সের গ্রাফ রয়েছে লাল। আইটি স্টকগুলিও এ দিন ধসে গিয়েছে। দুপুর গড়ানোর আগেই সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের বেশি খুইয়ে নেমে যায় ৭৬,৬০০ অঙ্কে। নিফটি ২০০ পয়েন্ট পড়ে চলে যায় ২৩,৯৫০-এর নীচে। সেনসেক্স ও নিফটি৫০-র পতনের দিনেও স্মল ক্যাপ ইনডেক্সগুলির গ্রাফ সবুজ রয়েছে। স্মল ক্যাপ ইনডেক্সগুলি ০.২০ শতাংশের আশপাশে বেড়েছে। যদিও মিড ক্যাপ ইনডেক্সগুলির গ্রাফ লাল রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পতনের অন্যতম কারণ আমেরিকার বাজারে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা অ্যাকসেনচার-এর শেয়ার দর ১১ শতাংশ পড়া। এর ধাক্কায় প্রভাব পড়েছে ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দামে। একাংশের অবশ্য দাবি, টানা পাঁচটি লেনদেনে বাজার ওঠার পরে এ দিন বহু লগ্নিকারী হাতের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা ঘরে তুলতে নামেন।