ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: হুমকি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। না হলে দেশটিকে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। হোয়াইট হাউসে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন। একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে ট্রাম্প নিজের দাবির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের (ইরান) জন্য একটি ভালো চুক্তি সই করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তাঁর মতে ‘হয়তো আগামীকালই’ সম্ভব। অন্যটি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। সেটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে ইরানের। একই সঙ্গে দেশটি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও ধরে রেখেছে। এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। জাহাজটির নাম, সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গত শনিবার তিনি সে অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, একটি চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রায় প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও এ প্রণালিতে অবরোধ জোরদার করেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং কিছু জাহাজে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তাদের তৈরি করা এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। আর কোনো চুক্তি বা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।’ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে এখন ইরান প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র মানছে না। বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে শুধু নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে। গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এটি করা হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি (এখনই) আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। সপ্তাহান্তে এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশ তাঁকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তা না হলে ইরানে যে হামলা চালানো হতো, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কোনো হামলার ঘটনা হতো। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছে। গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পাল্টে ফেলল নাউরু
সকাল সকাল ডেস্ক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নতুন নাম নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র। স্থানীয় ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে মিল রেখেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নাওয়েরোর প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক সংকেত বা কোডও বদলানো হবে। এত দিন দেশটির নাগরিকদের নাউরুয়ান বলা হলেও এখন থেকে তাঁদের দিই—নাওয়েরো নামে ডাকা হবে।’ সরকার বলেছে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে নাওয়েরো তার ঐতিহ্যবাহী নামেই ফিরে গেল। বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার জন্য এত দিন আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহার করা হতো। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে দেশটির নাম সব সময়ই ছিল ‘নাওয়েরো’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং। তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথভাবে সম্মান জানানো হবে।’ পরে প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। নাওয়েরোতে মাত্র ১২ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এর আগে রয়েছে টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি। নাওয়েরো একসময় জার্মানির উপনিবেশ ছিল। পরে ছিল অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনের অধীন। ১৯৬৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে নাওয়েরো বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। তবে সেই শিল্প ধসে পড়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ কারণে নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেছেন, নাম পরিবর্তন জাতীয় গৌরবের নতুন সূচনা করবে। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, গণভোটের প্রয়োজন নেই। সরকারের ভাষ্য, নাওয়েরো নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি মানুষের পরিচয়, জাতীয় প্রতীক ও স্থানীয় ভাষায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংবিধানেও এ নামের স্বীকৃতি রয়েছে। এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক অতীতের পরিচয় থেকে সরে এসে ঐতিহ্যবাহী নাম গ্রহণ করা দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো নাওয়েরো। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নাম বদলে এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে তুর্কিয়ে নাম ব্যবহার শুরু করে। নাম পরিবর্তনের ফলে নাওয়েরোর জাতীয় উড়োজাহাজ ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আনা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নতুন নামকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নাওয়েরো সরকার। জাতিসংঘসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সরকারি ওয়েবসাইটেও দেশটির নতুন নাম এরই মধ্যে নাওয়েরো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে আমেরিকাতেই আইনি লড়াই, আদালতের দ্বারস্থ ২৫ অঙ্গরাজ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন আমদানি শুল্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এ মামলা দায়ের করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এমন শুল্ক আরোপ করেছেন এবং পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া নীতিই নতুন আইনি ভিত্তি দেখিয়ে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (Forced Labour) রোধের যুক্তি দেখিয়ে ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে। তবে রাজ্যগুলির দাবি, এই যুক্তি আসলে পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া বিস্তৃত শুল্কনীতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার একটি অজুহাত মাত্র। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড অভিযোগ করে বলেন, আদালতে বারবার পরাজিত হওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং আমদানিনির্ভর শিল্পের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলও এই নীতিকে আইনের অপব্যবহার বলে দাবি করেছেন। গত ২৩ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন করায় প্রস্তাবিত ১২.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় এসেছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত শুল্কনীতি মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এবার ৩০১ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলেও, বিরোধীদের দাবি, এত ব্যাপক পরিসরে এই আইনের ব্যবহার নজিরবিহীন এবং তা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মামলায় শুল্ক বাতিলের পাশাপাশি ইতিমধ্যে আদায় করা অতিরিক্ত শুল্ক ফেরতেরও দাবি জানানো হয়েছে। এখন এই মামলার রায়ের দিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে ভারত-সহ একাধিক দেশের রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি কতটা কার্যকর থাকবে।
উদ্বোধনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িক বন্ধ লন্ডনের হলদিরামস, কারণ জানাল কর্তৃপক্ষ
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারে অবস্থিত হলদিরামসের প্রথম আউটলেট। তবে এই বন্ধের নেপথ্যে ব্যবসায়িক কোনও সমস্যা নয়, বরং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলদিরামস ইউকের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বায়োতে জানানো হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN)-এর নির্ধারিত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজের জন্য ২০২৬ সালের ২১ জুলাই থেকে রেস্তোরাঁটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ শেষ হলেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে। এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর প্রবেশদ্বারে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কসের পূর্বনির্ধারিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস আপগ্রেডের কাজের জন্য সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। নোটিশে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি পুনরায় খোলার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN) লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে এই সাময়িক বন্ধ পরিকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারের ১৯–২০ আরভিং স্ট্রিটে প্রায় ৩,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে হলদিরামস তাদের প্রথম যুক্তরাজ্য শাখার উদ্বোধন করে। রেস্তোরাঁটিতে একসঙ্গে ১২০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাইরে আরও ২০টি আসনের সুবিধা রাখা হয়েছে। এই শাখায় প্রচলিত কুইক-সার্ভিস মডেলের পাশাপাশি প্রিমিয়াম ক্যাজুয়াল ডাইনিংয়ের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেনুতে রাখা হয় ছোলে ভাটুরে, পাও ভাজি, রাজ কচুরি, বিভিন্ন ধরনের চাট এবং লন্ডন আউটলেটের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কয়েকটি ফিউশন ডেজার্ট। পাশাপাশি প্যাকেটজাত মিষ্টি ও স্ন্যাকস কেনার জন্য একটি পৃথক রিটেল বিভাগও চালু করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই রেস্তোরাঁটির বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল এবং লন্ডনে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও এটি ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি পুনরায় কবে খুলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
আরবিআই-এর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা বৈঠক শুরু, রেপো রেটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই : ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) তিন দিনের পর্যালোচনা বৈঠক সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আরবিআই-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ঘোষণা করবেন গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র। আরবিআই এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘অন্তর্দৃষ্টি, মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের পথ—খুব শীঘ্রই আসছে।’ একই সঙ্গে ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় মুদ্রানীতি কমিটির বিবৃতির জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে এমপিসির দ্বিতীয় বৈঠক জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করা হয়। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এবারের বৈঠকেও আরবিআই নীতিগত সুদের হার রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন করবে না। তাঁদের ধারণা, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই বহাল রাখা হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এমপিসির মোট ছয়টি বৈঠক হওয়ার কথা। এটি চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় বৈঠক। প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এপ্রিল মাসে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে গত বছর আরবিআই নীতিগত সুদের হার রেপো রেটে মোট ১.২৫ শতাংশ হ্রাস করেছিল। বর্তমানে সেই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে স্থির রয়েছে।
দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে বিপর্যয়! গ্রিসে কপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ২, বরাতজোরে বাঁচলেন দু’জন
সকাল সকাল ডেস্ক দাবানলের তাণ্ডবের মাঝেই গ্রিসে মুখোমুখি সংঘর্ষ দুটি হেলিকপ্টারের (Greece Helicopter Crash)! ভেঙে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই ক্রু সদস্য। রবিবার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে (Wildfire Firefighting Collision)। জানা গিয়েছে, ভয়ংকর দাবানল নেভাতে যাওয়া দুটি ‘বেল’ (Bell) মডেলের হেলিকপ্টারের মধ্যে ধাক্কা লাগলে একটি আগুন ধরে খাদে পড়ে যায়। সেই কপ্টারেই থাকা ডেনমার্কের এক পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের এক আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একজন ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেকজন গ্রিক আধিকারিক চোট পেলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা ‘ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন’ থেকে ভাড়া নেওয়া দুটি হেলিকপ্টার আতিকা-বোওটিয়া সীমান্তে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে ওড়ার সময় একটি কপ্টারের ব্লেড বা প্রপেলার অন্যটির গায়ে গিয়ে সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তে আগুন ধরে যায় প্রথম কপ্টারটিতে এবং সেটি নীচে একটি খাদে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কপ্টারটি কোনওমতে একটি ঝোপঝাড়যুক্ত নিচু জায়গায় জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করতে সক্ষম হয়। কপ্টারটি ভেঙে পড়ার পর বেঁচে যাওয়া দুই সদস্যই উদ্ধারকারী দলকে দ্রুত খবর দেন, যার ফলে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সহজ হয়। শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, দেশজুড়ে কপ্টার উড়ানে নিষেধাজ্ঞা এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিয়াইরিয়াকোস মিটসোটাকিস। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তায় তিনি মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার পরই গ্রিক সুরক্ষা প্রটোকল মেনে দেশজুড়ে সমস্ত ‘বেল’ মডেলের কপ্টার ওড়ানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক আধিকারিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ রাখছেন। ইউরোপজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানলের আগুন গত কিছুদিন ধরেই তীব্র দাবদাহ এবং শুকনো আবহাওয়ার কারণে গ্রিস-সহ সমগ্র ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এথেন্সের একাধিক অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রিসের পোর্টো জেরমেনো, মেগারা ও কেফালোনিয়ার মতো এলাকায় ৫০০-রও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দিনরাত এক করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও অতিরিক্ত দাবদাহে ফ্রান্স ও স্পেনের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও তীব্র খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ইউরোপের দেশগুলোর কপালে।
পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১৩, আহত অন্তত ২২
সকাল সকাল ডেস্ক পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলা। রবিবার একটি শান্তি মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত জেলার একটি শহরে ওই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় উপজাতি সংগঠন ‘সোয়াত আমান জিরগা’-র উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার আর আর্তনাদ। বিস্ফোরণের জেরে বহু মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং হামলার পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের পরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সেখানে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে শান্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিলেই এমন রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তির দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রশাসন দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ খতিয়ে দেখে হামলার নেপথ্যের চক্রান্ত উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জুলাইয়ে দেশে কয়লা উৎপাদন ৭.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি, সরবরাহ বেড়েছে ১৭.৩৪ শতাংশ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশে জুলাই মাসে কয়লা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশের মোট কয়লা উৎপাদন হয়েছে ৬৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টন (অন্তর্বর্তী হিসাব), যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৬৪ কোটি ৮৮ লক্ষ টন-এর তুলনায় ৭.৫১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কয়লা সরবরাহেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই মাসে মোট ৮৬ কোটি ৩৩ লক্ষ টন (অন্তর্বর্তী হিসাব) কয়লা সরবরাহ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৭৩ কোটি ৫৭ লক্ষ টন-এর তুলনায় ১৭.৩৪ শতাংশ বেশি। কয়লা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট কয়লা উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০২ কোটি ২৪ লক্ষ টন (অন্তর্বর্তী হিসাব)। একই সময়ে মোট কয়লা সরবরাহ হয়েছে ৩৫৪ কোটি ৭০ লক্ষ টন, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ৫.৮৭ শতাংশ বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (সিআইএল)-ও উৎপাদন ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। সংস্থাটি জুলাই মাসে ৫০ কোটি ৩৫ লক্ষ টন (অন্তর্বর্তী হিসাব) কয়লা উৎপাদন করেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ৮.৪২ শতাংশ বেশি। এছাড়া জুলাই মাসে কোল ইন্ডিয়া মোট ৬৩ কোটি ৬৭ লক্ষ টন (অন্তর্বর্তী হিসাব) কয়লা সরবরাহ করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ১৭.৪৩ শতাংশ। সংস্থার চলতি অর্থবর্ষে সামগ্রিক কয়লা সরবরাহও ৬.৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়লা মন্ত্রকের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে কয়লা উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির এই ধারা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে রেস্তোরাঁয় গুলি, তিনজন নিহত
সকাল সকাল ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইডাহো অঙ্গরাজ্যে একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবারের এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অঙ্গরাজ্যটির পুলিশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করলেও সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখনো জানায়নি। বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় টুইন ফলস শহরের পুলিশপ্রধান ম্যাথিউ হিকস বলেন, ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গার নামে ওই রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে এখনো কাজ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের ম্যাথিউ হিকস বলেন, গুলি ছোড়ার সময় সেখানে খুবই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শহর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জোশ পালমার বলেন, গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারী আছেন কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করেননি। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ফুটেজে রেস্তোরাঁর বাইরে লম্বা বন্দুক নিয়ে এক তরুণকে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে ওই রেস্তোরাঁর বাইরে বেশ কিছু মানুষকে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। আইডাহো অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণের শহর টুইন ফলস। সল্ট লেক সিটি থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৯০ কিলোমিটার। শহরটিতে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বসবাস।
মধ্যপ্রাচ্যসংঘাতেইরানেআড়াইহাজারেরবেশিশিশুহতাহত: ইউনিসেফ
সকাল সকাল ডেস্ক জেনেভা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে শিশুদের প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে সংঘাতকবলিত ছয়টি দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানেই হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে জানান, ইরানে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৮৬ শিশু নিহত এবং ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব শিশুদের জীবন, শিক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর গভীর আঘাত হানছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে বাড়ি, বিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকাগুলো শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, সেখানেই তারা প্রাণ হারাচ্ছে অথবা গুরুতরভাবে আহত হচ্ছে। সর্বশেষ ৩০ জুলাই ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। আবদুল ফোফানা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, পুরো অঞ্চলে সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে শিশুরাই। যে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি এবং বন্ধ করারও কোনও ক্ষমতা তাদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছে নিরীহ শিশুরা। এই পরিস্থিতিকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। ইউনিসেফ সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং যেখানেই থাকুক না কেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের জীবন, শিক্ষা ও মানসিক সুস্থতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।