দিনভর ওঠানামার পর মিশ্র ফল শেয়ার বাজারে, লগ্নিকারীদের সম্পদ বাড়ল ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর: দিনভর ওঠানামার পর শুক্রবার মিশ্র ফলের সঙ্গে বন্ধ হল দেশের শেয়ার বাজার। দিনের শুরুটা ইতিবাচক হলেও কিছু ক্ষণের মধ্যেই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের টানাপড়েন শুরু হয়। দুপুর ২টো পর্যন্ত সেনসেক্স ও নিফটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। পরে কেনাকাটা বাড়ায় দুই সূচকই গতি পায়। যদিও শেষ আধ ঘণ্টায় মুনাফা তোলার চাপ বাড়ায় দিনের সর্বোচ্চ স্তর ধরে রাখতে পারেনি বাজার। দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ১৯.৬৩ পয়েন্ট বা ০.০৩ শতাংশ কমে ৭৪,২৯৪.৯৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্য দিকে, এনএসই নিফটি ৭৫.৮০ পয়েন্ট বা ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ২৩,৩৪৬.৪০ পয়েন্টে থামে। এ দিন সেনসেক্স ২৬০.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৭৪,৫৭৫.২৪ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করেছিল। বাজার খোলার পরেই বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় সূচক নেমে আসে ৭৪,৩৭৫.০৭ পয়েন্টে। ওই স্তর থেকে কেনাকাটা শুরু হওয়ায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় সেনসেক্স। দুপুর ২টো পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ওঠানামার পর ক্রেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার জেরে এক ঘণ্টার মধ্যেই সেনসেক্স ৪১৩.৮৫ পয়েন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৪,৭২৮.৪৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। কিন্তু শেষ আধ ঘণ্টায় মুনাফা তোলার চাপ তৈরি হয়। সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৪৩৩.৪৮ পয়েন্ট নেমে শেষ পর্যন্ত ৭৪,২৯৪.৯৬ পয়েন্টে থামে সূচক। একই ছবি দেখা যায় নিফটিতেও। এ দিন ৬৪.১০ পয়েন্ট বা ০.২৮ শতাংশ বেড়ে ২৩,৩৩৪.৭০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে নিফটি। বাজার খোলার পর বিক্রির চাপে সূচক একসময় ২৩,২৮৬.৬০ পয়েন্টে নেমে যায়। পরে ক্রেতাদের সক্রিয়তায় পতন সামলে নেয় নিফটি। দুপুর ২টোর পর বাজারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেনাকাটা বাড়তে থাকে। তার জেরে বিকেল ৩টের কিছু আগে নিফটি ১১৮.৫৫ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ বেড়ে ২৩,৩৮৯.১৫ পয়েন্টে পৌঁছয়। পরে মুনাফা তোলার কারণে সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৪০ পয়েন্টের বেশি নেমে শেষ পর্যন্ত ২৩,৩৪৬.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়। এ দিনের লেনদেনে কনজিউমার ডিউরেবলস এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল বেশি। বিএসই কনজিউমার ডিউরেবলস সূচক ১.২৭ শতাংশ কমেছে। নিফটি আইটি সূচক ১.০৩ শতাংশ পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে। অটোমোবাইল এবং এফএমসিজি সূচকও লাল নিশানে বন্ধ হয়েছে। অন্য দিকে, ক্যাপিটাল গুডস ক্ষেত্রের শেয়ারে জোরালো কেনাকাটা দেখা যায়। বিএসই ক্যাপিটাল গুডস সূচক ১.৫৬ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাঙ্কিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধাতু, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের সূচকও লাভের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। বৃহত্তর বাজারে এ দিন মূল সূচকের তুলনায় বেশি শক্তি দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ সূচক ১.২৪ শতাংশ বেড়েছে। স্মলক্যাপ সূচক আরও ১.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারের এই উত্থানের জেরে এক দিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা। এ দিনের লেনদেন শেষে বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪৭৯.৭৯ লক্ষ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার তা ছিল ৪৭৭.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা। এ দিন এনএসই-তে মোট ৩,২৪৫টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২,১৫১টি শেয়ার লাভের সঙ্গে সবুজ নিশানে এবং ১,০৯৪টি শেয়ার ক্ষতির সঙ্গে লাল নিশানে বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের মধ্যে ১০টি বেড়েছে এবং ২০টি কমেছে। নিফটির ৫০টি শেয়ারের মধ্যে ২৬টি লাভে এবং ২৪টি ক্ষতিতে বন্ধ হয়েছে। দাম বৃদ্ধির নিরিখে প্রথম সারিতে ছিল আদানি পোর্টস। সংস্থার শেয়ার ৪.৯৩ শতাংশ বেড়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজেস ৩.৩১ শতাংশ, ভারতী এয়ারটেল ৩.১২ শতাংশ, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ২.৫২ শতাংশ এবং বাজাজ ফিনান্স ২.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে, টিসিএস-এর শেয়ার ৩.৮৮ শতাংশ কমেছে। টিএমপিভি ৩.৪০ শতাংশ, এসবিআই লাইফ ইনশিওরেন্স ২.০৩ শতাংশ, কোল ইন্ডিয়া ১.৯৪ শতাংশ এবং মারুতি সুজুকির শেয়ার ১.৯০ শতাংশ পতনের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা, পাকিস্তানের কোহাটে নিহত অন্তত ১৬
সকাল সকাল ডেস্ক পেশোয়ার: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট। শুক্রবার পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকার একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশকর্মী এবং ১১ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবারের নমাজের সময়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একটি অংশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম দিকে উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ সাত জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়ে। আহতদের কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকায় ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের কাছেও এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র হামলাকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশ লাইনস চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণের পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধার অভিযানও চালানো হয়। হামলার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আহতদের দ্রুত সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানি তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে কোহাটের শুক্রবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। পুলিশ লাইনসের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। হামলাকারীদের পরিচয় এবং বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ক্রিপ্টো থেকে ড্রোন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ পাকিস্তানের
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে। সেই ধারায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তান সেনা এবং মার্কিন ড্রোন নির্মাতা সংস্থা পাওয়ারআসের সমঝোতা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারআস পাকিস্তান সেনার সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক অর্ডারও। তবে কতগুলি ড্রোন বা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে, চুক্তির আর্থিক মূল্য কত এবং ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি দেওয়া হবে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার তরফে ভবিষ্যতে পাকিস্তানে যৌথভাবে ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নের আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে। পাওয়ারআস সামরিক ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক মানববিহীন যান এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে রয়েছে। ওই মার্কিন সংস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ তহবিলের অর্থ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের দুই ছেলে জানিয়েছেন, তাঁদের বিনিয়োগ নিষ্ক্রিয় বা ‘প্যাসিভ’ এবং পাওয়ারআসের পরিচালনা বা পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। এই চুক্তি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের উষ্ণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। ২০২৫ সালের জুনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। একই মাসে পাকিস্তান সরকার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, ডিজিটাল অর্থনীতিতেও ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান এসসি ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজিসের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সহযোগী। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল ডলার-নির্ভর ‘ইউএসডি১’ স্টেবলকয়েনকে সীমান্তপারের লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো নিয়ে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা খতিয়ে দেখা। পাকিস্তানের কাছে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান ও ঋণের চাপ সামলাতে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়নের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ ঔরঙ্গজেব জানিয়েছেন, আমেরিকার কাছ থেকে প্রস্তাবিত ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে চিনের সঙ্গে বিদ্যমান কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অংশীদার চিন। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন যোগাযোগ সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টার অংশ কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনায় মানববিহীন আকাশযান এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির গুরুত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। ফলে মার্কিন সংস্থার সহযোগিতায় পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে ড্রোন তৈরি বা প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতা বাড়ায়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বর্তমান সমঝোতার প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং সরবরাহের পরিমাণ প্রকাশ্যে না আসায় সম্ভাব্য সামরিক প্রভাব সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। সব মিলিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ড্রোন প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, পাওয়ারআসের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা শুধু প্রাথমিক সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ভবিষ্যতে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পাকিস্তানে স্থানীয় উৎপাদনের দিকেও এগোয়।
চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নেপালের সেনাপ্রধানের
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: চিন সফরে রয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোকরাজ সিগদেল| তিনি চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নেপালের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও তথ্য দফতরের তরফে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোকরাজ সিগদেল শুক্রবার চিনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিও পরিদর্শন করেন। এছাড়া, তিনি বেজিংয়ে আয়োজিত ১৩-তম বেজিং শিয়াংশান ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
ইরানের সঙ্গে ভালো চুক্তি, নইলে কোনও সমঝোতা নয়; তেহরানকে বার্তা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরান সমঝোতা করতে চায়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী তেহরান এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এমন ভালো চুক্তি করা হবে, তা না হলে কোনও সমঝোতাই হবে না। মিডিয়া সংস্থা ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরান আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলেও এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনও সমঝোতা আমেরিকার প্রত্যাশা অনুযায়ীই হতে হবে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি-র সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের উপর মার্কিন হামলায় দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, তা না হলে এতদিনে তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকত। ইরান অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির অর্থনীতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ৩০০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকর্মীরাও বেতন পাচ্ছেন না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। জানি না, সেটা কোনও চুক্তির মাধ্যমে হবে কি না। তবে আমরা ইতিমধ্যেই জিতছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির বিপরীতে পেন্টাগনের এক প্রাক্তন আধিকারিক দাবি করেছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক ব্রেন্ট স্যাডলারের বক্তব্য উল্লেখ করে জানিয়েছে, তেহরানের উপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়ছে। সেই কারণেই নভেম্বরের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। স্যাডলার বলেন, “আর্থিক ও মুদ্রানীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই এই ফলাফলের দিকেই ইঙ্গিত করছে।” তাঁর মতে, বছরের শেষ হওয়ার আগেই অথবা নভেম্বরের নির্বাচন চলাকালীন এই সংঘর্ষের অবসান হতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধের অন্যান্য পদ্ধতিই তাঁর এই অনুমানের প্রধান কারণ বলে জানান স্যাডলার।
তীব্র জ্বালানি সংকট পাকিস্তানে, চারদিন অফিস-সন্ধ্যায় বাজার বন্ধের ভাবনা
ইসলামাবাদ: ইরান-মার্কিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহে। পেট্রল ও ডিজেলের দাম কয়েক দফায় বৃদ্ধির পর জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি অফিসের কর্মদিবস কমানো এবং হাটবাজার ও শপিংমল আগেভাগে বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ইসলামাবাদ। জ্বালানির ব্যবহার কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ক্ষেত্রেই জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নতুন করে বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। মঙ্গলবার রাতে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা ১০ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৬ টাকা ৪১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর ফলে পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৩৮৪ টাকা ৩৪ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৪১৫ টাকা ৮৩ পয়সা। সরকারের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল আমদানিতে তৈরি হওয়া সমস্যার কারণে জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাব্য ব্যবস্থাকে ঘিরে পাকিস্তানে ‘স্মার্ট লকডাউন’ শব্দটিও আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে সপ্তাহে চারদিন কাজ এবং তিনদিন ছুটির ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। কর্মদিবসগুলোতেও বিকালের মধ্যে অফিস বন্ধ করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে হাটবাজার, বিপণিবিতান ও শপিংমলের সময়সীমা কমানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাত ৮টার পর বাজার ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হতে পারে। খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ‘স্মার্ট লকডাউন’ নিয়ে প্রকাশিত খবরকে সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ পাকিস্তান সরকারের একাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, সরকার জ্বালানি ও ব্যয় সাশ্রয়ের বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। তার অর্থ এই নয় যে গোটা দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারারও জানিয়েছিলেন, সরকারি ব্যয় কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। মঙ্গলবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচিত প্রস্তাবগুলো সেই বৃহত্তর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আওয়াইস লেঘারি। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় সরকারের ব্যয়ের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি সরবরাহেও সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। জ্বালানিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের প্রতি ১০ দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় ও মূল্যবৃদ্ধির পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিরোধী দলগুলোর একাংশ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ সামাল দেওয়াও শাহবাজ শরিফ সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
হুথি সংকটে ইজরায়েলের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব, সেনা পাঠাতে নারাজ পাকিস্তান
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াদ: ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে নতুন কৌশল খুঁজছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের উপকূল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান সরাসরি সামরিক অভিযানে সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হুথিদের মোকাবিলায় ইজরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে রিয়াদ পরোক্ষ যোগাযোগ করেছে বলে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি। ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সামরিক হুমকি মোকাবিলা নিয়ে সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে গোপন আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ইজরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মিশরের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে সেন্টকমের মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যসহ অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছে সৌদি আরব। ফলে হুথি সংকট মোকাবিলায় ইজরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতার খবর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি বা ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বিষয়টি পৃথকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরব ব্রিটেনের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো রক্ষা করা। একই সঙ্গে সৌদি নেতৃত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছেও হুথিদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে বলে খবর। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে গোয়েন্দা সহযোগিতার উপর জোর দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে পাকিস্তান ও তুরস্ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে খবর। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদের ভূমিকা সেই সীমার মধ্যেই থাকতে পারে। ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অভিযানে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর বিষয়ে তারা অনাগ্রহী। অন্যদিকে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার কারণে পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে মিশর। হুথিদের হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের দাবি। তেলের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোর কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে হুথিদের অগ্রগতির দাবি সামনে এসেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের মোখা বন্দর ঘিরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও সামনে এসেছে। এর ফলে শুধু সৌদি আরব নয়, লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রিয়াদের অন্যতম উদ্বেগ, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও হুথিদের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছলে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলে তার কী প্রভাব পড়বে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব একদিকে প্রচলিত মিত্রদের সহযোগিতা চাইছে, অন্যদিকে ইজরায়েলের মতো দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতার পথও খতিয়ে দেখছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
লাইভ সম্প্রচারের মাঝেই ভেঙে পড়ল নিউজ হেলিকপ্টার, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিহত ৩
সকাল সকাল ডেস্ক লস অ্যাঞ্জেলেস: বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে লারলাইন অ্যাভিনিউ ও নর্ডহফ স্ট্রিটের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এলএএফডি) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি ফাঁকা জায়গায় আছড়ে পড়ে। এরপরই তাতে আগুন ধরে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাছাকাছি থাকা দুটি শিপিং কনটেইনার ও কয়েকটি গাড়িতেও। দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনাস্থলে চারজনকে পরীক্ষা করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সম্প্রচার কেন্দ্র এনবিসি৪-এর ‘নিউজকপ্টার৪’। এর আগে চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি বড় বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে হেলিকপ্টারটি সেখানে গিয়েছিল। ওই বাস দুর্ঘটনায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু এবং ছয়জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর এনবিসি৪-এর সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপিকা কলিন উইলিয়ামস লাইভ সম্প্রচারে আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তাঁদের দলের সঙ্গে হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে তাঁরা দুর্ঘটনার দুঃসংবাদ পান। এলএএফডির ক্যাপ্টেন ব্র্যান্ডেন সিলভারম্যান জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ার সময় ঘটনাস্থলের বাইরে থাকা এক ব্যক্তিকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে হেলিকপ্টারের ভিতরে ঠিক কতজন ছিলেন এবং নিহতদের মধ্যে কারা হেলিকপ্টারের আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা যায়নি। হেলিকপ্টারটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে এলএএফডি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
সরাফা বাজারে সোনার ঔজ্জ্বল্য কমল, রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন নেই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। দেশের সরাফা বাজারে বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে সোনার দামে দুর্বলতার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। দাম কমার ফলে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনা ৮৫০ টাকা থেকে ৯২০ টাকা পর্যন্ত সস্তা হয়েছে। অন্যদিকে, টানা তৃতীয় দিনের মতো রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবারের দামেই বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে রুপো কেনাবেচা হচ্ছে। দাম কমার পর দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির সরাফা বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপো ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকা। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশার সরাফা বাজারেও বুধবার সোনার দাম নিম্নমুখী রয়েছে। এই তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে এই তিন শহরে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক পরিকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি, বাড়ল উদ্বেগ
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির নতুন ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। খবর অনুযায়ী, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মার্কিন সেনারাই এই ছবিগুলি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান, ভবন ও সামরিক যান দেখা যাচ্ছে। মার্কিন টেলিভিশন সম্প্রচারকারী সিবিএস নিউজ প্রকাশিত ছবির উল্লেখ করে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের একটি ছবিতে চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের পিছনের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যাচ্ছে। ছবিতে দেখা যায়, বিমানের লেজের অংশটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ওই বিমানে থাকা ঘূর্ণায়মান রাডারটি আকাশপথে নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ঘাঁটির অন্যান্য ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাকও দেখা গিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি ভবনের কাঠামোর কাছে থাকা কংক্রিটের দেওয়ালগুলি তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ছবিতেও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, সামরিক যান এবং অন্যান্য সামরিক সম্পত্তি দেখা গিয়েছে। মার্কিন সেনার স্থলবাহিনী, সাঁজোয়া যান এবং কিছু বিমানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। ক্যাম্প আরিফজান থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এক মার্কিন সেনা সিবিএস নিউজকে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ তথ্য এখনও মার্কিন জনগণের সামনে আসেনি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই সেনা এই বক্তব্য দিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের নতুন প্রতিবেদনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি বিমান রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার তথ্য জানিয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হামলায় ওই দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটির কয়েকশো ভবন ও অন্যান্য কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে ঘাঁটিগুলির মেরামতের সম্পূর্ণ ব্যয় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্রের দাবি, একটি এ-১০ বিমানের একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া প্রায় আটটি এফ-১৫ বিমানে সামান্য ক্ষতি হয়েছিল এবং সেগুলিকে ফের পরিষেবায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন ছবি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ইরানি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ছবি সরবরাহকারী মার্কিন সেনাদের দাবি এবং সরকারি সামরিক মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।