ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মত পার্থক্য, চাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক জেরুজালেম/ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইসরায়েলি নেতৃত্বের আশা ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানের অবস্থান দুর্বল করা সম্ভব হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে সেই কৌশল এখন নতুন বাস্তবতার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তি নিয়ে তেল আবিবে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের মতে, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়ানো হলে ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্পগুলো সংকুচিত হতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে নেতানিয়াহু সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, তবু তিনি স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন হলেও সব বিষয়ে দুই দেশ একমত নয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তবে ইসরায়েলের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টি বর্তমান আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর ইসরায়েলি জনগণের আস্থাও আগের তুলনায় কমেছে বলে সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক মতপার্থক্য সেই অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ এই আলোচনার ফলাফল শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
হোয়াইটহাউসে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা ভণ্ডুলের দাবি এফবিআইয়ের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি বড় জনসমাগমকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তরাংশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল উপস্থিত অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট বহির্গমনপথের দিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পরে সেখানে স্নাইপার হামলা চালানো। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইউএফসি আমেরিকা ২৫০’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুষ্ঠানটি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক ক্ষোভ তাদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছিল। অভিযুক্তদের একজন নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানান, গত ১০ জুন সংস্থাটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পায় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তাঁর দাবি, পরিকল্পনায় যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি ওয়াশিংটন অঞ্চলের বাইরের বাসিন্দা ছিলেন। হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে অন্তত তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায়ও মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এখনো আদালতে নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তদন্তের সূত্রপাত হয় ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তিনি পুলিশকে জানান, তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং অনলাইনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এফবিআইয়ের হলফনামা অনুযায়ী, ওই যুবক পরে তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেন যে তিনি অনুষ্ঠানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন। এদিকে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কোনো বৃহত্তর নেটওয়ার্ক বা অর্থায়নের উৎস ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্যান্সের মতে, এত বড় পরিসরের হামলার পরিকল্পনা কেবল বিচ্ছিন্ন কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র, যার পেছনের পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শিগগিরই প্রকাশ পাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানচুক্তিরপূর্ণাঙ্গরূপরেখা: ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই দেশ স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজসহ আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে খুব শিগগিরই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। চুক্তির আওতায় ইরানকে পুনরায় তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং, পরিবহণ এবং বিমা খাতে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হতে পারে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের একাংশ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে ইরানের অভ্যন্তরেও অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরাফা বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা, সোনা-রুপোর দামে পতন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। দেশের সরাফা বাজারে আজ সোনা ও রুপোর দামে পতনের প্রবণতা দেখা গেছে। দামের এই হ্রাসের ফলে চেন্নাই ছাড়া দেশের অধিকাংশ বাজারে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চেন্নাইয়ে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। রুপোর দামেও প্রতি কিলোগ্রামে প্রতীকীভাবে ২০০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। দাম কমায় দেশের বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা আজ প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৩৬০ টাকা থেকে ১,৫৩,৩৭০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৮,৭৪০ টাকা থেকে ১,৪০,৫৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দাম কমে দিল্লির সরাফা বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম ২,৬৪,৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৫১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩৮,৮৯০ টাকা। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৩৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৭৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরা মূল্য ১,৫১,৪১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ১,৩৮,৭৯০ টাকা। প্রধান শহরগুলির মধ্যে চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৩,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪০,৫৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫১,৩৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৭৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫১,৪১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৭৯০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৫১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৮৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫১,৪১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৭৯০ টাকা। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৫১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৮,৮৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলঙ্গানা ও ওডিশার সরাফা বাজারেও আজ সোনার দামে পরিবর্তন দেখা গেছে। এই তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৩৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩৮,৭৪০ টাকা রয়েছে।
বাংলাদেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তির প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা। বাংলাদেশের তারিক রহমান সরকারের উদ্যোগে দেশের বিশেষ আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, র্যাবের পরিবর্তে নতুন একটি বাহিনী গঠন করা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৪ সালে গঠিত র্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, জঙ্গিবাদ দমন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি জানিয়েছে যে প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে নতুন বাহিনী র্যাবের জনবল, সম্পদ এবং চলমান কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নতুন বাহিনীর নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ অথবা ‘পিপলস প্রোটেকশন ফোর্স’ রাখা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে র্যাবকে বিলুপ্ত করে তার সম্পূর্ণ কাঠামো নতুন বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া র্যাবের কর্মকর্তা ও কর্মীদের চাকরির শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন আইনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষ সহায়ক বাহিনী গঠন করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে র্যাবের পরিবর্তে অধিক কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। নতুন বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালানো, কোনো স্থানে প্রবেশ, সন্দেহভাজনদের আটক ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। র্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীর সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলির তদন্তে গঠিত কমিশনও র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই সংস্কারের উদ্দেশ্য শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন নয়; বরং আরও জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সংবেদনশীল একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর সভাপতি আইনজীবী মঞ্জিল মুরশিদ বলেন, শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই হবে না, প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, র্যাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল রয়েছে এবং বাহিনীটির কার্যকর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও আছে। তাই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অনিয়মে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
জি-৭ সম্মেলনে উজ্জ্বল ভারতীয় কূটনীতি, ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, জাপান, মিশর ও কেনিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক এভিয়ান (ফ্রান্স)। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এসব বৈঠকের তথ্য ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা গত এক বছরে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বৈঠকে উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া এবং বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমিরশাহিতে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সেখানকার সরকারের সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই দেশের বহুমুখী সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত ও মিশরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক দক্ষিণের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও কেনিয়ার অংশীদারিত্ব পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং দুই দেশই নাগরিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলিকে ভারতের সক্রিয় বৈশ্বিক কূটনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
আমেরিকা-ইরান সমঝোতা অনিশ্চিত, ২৪ ঘণ্টার ‘চমক’-এর অপেক্ষায় পাকিস্তান; মাশহাদে চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দাবি ও আলোচনার মধ্যেও ইরান এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত নয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশ একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তবে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সম্ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। ইরানের মাশহাদ শহরে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও হয়েছে। গালফ নিউজ, শিনহুয়া, আল জাজিরা এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, শনিবার মাশহাদে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরের বাইরে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এক ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী লাল ও কালো পতাকা নাড়িয়ে “অপমানজনক আরাগচি, আগ্রাসীর মৃত্যু হোক” ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্বও এই প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, “চুক্তিতে কাল স্বাক্ষর হবে এবং স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে যাবে।” তবে এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রবিবার এটি হচ্ছে না,” যদিও ভবিষ্যতে সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা হয়নি। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।” পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রবিবারই স্বাক্ষর হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তেহরান জানিয়েছে, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, সেখানে টোল আদায়ের জন্য ইরান একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরান সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়, যা মার্কিন সেনা প্রতিহত করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল হতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের মতো থাকবে না। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হবে না এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই ঘোষণাটি রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হতে পারে।
পাকিস্তানি সেনার সাত ‘মুখবির’কে হত্যা, গোপন আস্তানাও উড়িয়ে দেওয়ার দাবি বিএলএ-র
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালোচিস্তানে সমন্বিত হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সেনার সাতজন ‘মুখবির’-কে হত্যা করার দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনের দাবি, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সেনার হয়ে কাজ করা কুখ্যাত ‘হত্যাকারী’ও ছিল, যাদের পুরো প্রদেশে ‘মৃত্যুদল’ নামে চিহ্নিত করা হয়। বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ ১৩ জুন এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তিনি জানান, খারান, কালাত, নুশকি, কোয়েটা এবং শারাঘ এলাকায় একাধিক সমন্বিত অভিযানে পাকিস্তানি সেনার ছয়জন মুখবির এবং ‘মৃত্যুদল’-এর এক সশস্ত্র সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, খারানের বারশুংকি এলাকায় ‘মৃত্যুদল’-এর সদস্য হাফিজ মুমতাজের গোপন আস্তানায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, খারানের বাসিন্দা সামির আউলাদ রফিককে আটক করেছে বিএলএ যোদ্ধারা। তাঁর বিরুদ্ধে সেনার হয়ে তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে বিএলএ-র এক প্রাক্তন যোদ্ধা আলি জান ওরফে সুদিস-এর হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। বিএলএ মুখপাত্রের দাবি, কালাতের ইসকালকো এলাকা থেকে ছদ্মবেশে ঘুরতে থাকা পাকিস্তানি সেনার মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের সদস্য তাহির-উল-চৌধুরী মুবারককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সেনার অফিসার হিসেবে নিজের পরিচয় স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হয়। তিনি আরও বলেন, নুশকি এলাকায় বিএলএ কমান্ডাররা পাকিস্তানি সেনার এক সদস্য শোয়েব মেঙ্গালকে গুলি করে হত্যা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএলএ-র হেফাজতে ছিলেন এবং পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি সংগঠনের। বিএলএ জানিয়েছে, গত মাসে শারাঘ এলাকার তাজ মোহাম্মদের পুত্র সুলতান মোহাম্মদ সামলানিকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সেনা ক্যাম্পে নিয়মিত যোগাযোগ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। পরে তাঁকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’-এর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সেটি কার্যকর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বিএলএ মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে কেউ পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে যোগ দিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তার পরিণতি তাজ মোহাম্মদের মতোই হবে।”
ভারত–জার্মানি উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। ভারত–জার্মানি উন্নয়ন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নীতি আয়োগ ও জার্মানির একটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নীতি আয়োগ এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ জানায়, এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন নীতি আয়োগের অর্থনীতি ও আর্থিক কর্মসূচি বিভাগের পরিচালক সঞ্জিত সিং। অন্যদিকে জার্মান পক্ষের নেতৃত্ব দেন জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (BMZ)-এর এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া নীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান বারবারা শেফার। এর আগে নীতি আয়োগ ভারত–জার্মানি উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য জার্মান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানায়। বৈঠকে স্বচ্ছ জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, কৃষি সংস্কার, জল ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। নীতি আয়োগের মতে, আলোচনায় সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ভারতের নেট জিরো ট্রানজিশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সার্কুলার ইকোনমি, পিপিপি মডেলের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি খাতে সংস্কার, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সবুজ অর্থনীতিতে এসএমই-এর অংশগ্রহণ এবং জিএসডিপি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থায়নের সামঞ্জস্য—এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় পক্ষই জার্মানির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উন্নয়ন অর্থায়ন সক্ষমতা এবং ভারতের নীতিগত অগ্রাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পারস্পরিক পরিপূরকতার ওপর গুরুত্ব দেয়। আলোচনায় অবকাঠামো অর্থায়নে সহযোগিতা জোরদার করা এবং ভারতের জলবায়ু ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। বৈঠকটি পারস্পরিক ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত–জার্মানি উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার যৌথ প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
হরমুজে ভারতীয় জাহাজে হামলার চেষ্টা নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি, নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে
সকাল সকাল ডেস্ক আরব বিশ্বের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজগুলিকে মানববিহীন উড়ন্ত যানের (ড্রোন) মাধ্যমে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় ইরান। ঘটনাটিকে তিনি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের রাতে ভারতীয় জাহাজগুলির বিরুদ্ধে চালানো ওই হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। চলতি সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভারত সরকার সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। শুধু জাহাজে হামলার অভিযোগই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা যে খসড়া চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনো মিল নেই। তেহরানের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সও এ বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকের বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সমঝোতার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। ফলে একদিকে হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা—দুই বিপরীত বার্তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।