গাজায় শান্তির ইঙ্গিত? হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ঐতিহাসিক সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজায় সক্রিয় অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েলও ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল বা হামাস—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সমর্থন জানায়নি। শুক্রবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প দাবি করেন, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মধ্যস্থতায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মিশর, কাতার এবং তুরস্কের ভূমিকাকেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের কাছে থাকা সব ধরনের অস্ত্র জমা দেবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনার জন্য ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) নামে ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী সূত্রের দাবি, এই রূপরেখার আওতায় হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, অস্ত্রভাণ্ডার এবং অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলিও ধাপে ধাপে ধ্বংস করা হবে। লক্ষ্য, গাজাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা। তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইজরায়েলি সূত্রের খবর, খসড়া চুক্তির কয়েকটি বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে গাজা থেকে সমস্ত অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, হামাস-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির মাধ্যমে প্রস্তাবিত রোডম্যাপের কয়েকটি ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে চুক্তির সব দিক এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বহুপাক্ষিক শান্তি উদ্যোগ শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, এই সমঝোতা সেই বৃহত্তর শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে হামাসের প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ, ইজরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক সম্মতির উপর। তাই পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, মৃত্যু কমপক্ষে ৩২ জনের
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বালুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরও ১০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা তাঁদের কাছে পৌঁছানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালোচ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বালুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে বিস্ফোরণ হয়। সম্ভবত মিথেন গ্যাসের জন্য এই বিস্ফোরণটি হয়। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল আরও ২৫ জনের মৃতদেহ খুঁজে পান। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল খনির ভিতরে আটকে পড়া বাকি খনিশ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি বলেছেন, উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করছে।
ওঠানামার পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার, বাড়ল সেনসেক্স-নিফটি, তবু বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং অটোমোবাইল খাতে কেনাকাটা বাড়ার জেরে বৃহস্পতিবার দিনের শেষে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। তবে বৃহত্তর বাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। দিনভর ওঠানামার পর বিএসই সেনসেক্স ২৭৩.৫৫ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৯২৮.১৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৬৬.৯৫ পয়েন্ট বা ০.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,৩১৭.১৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে। দিনের শুরুতে দুই সূচকই সামান্য দুর্বল ছিল। লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স একসময় ৫৬৫ পয়েন্টের বেশি এবং নিফটি ১৫৫ পয়েন্টের বেশি পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরে লাভের কিছুটা অংশ হারায়। খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে অটোমোবাইল খাত সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিল। নিফটির অটো সূচক ১.৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, ভোগ্য টেকসই পণ্য, ধাতু, তেল ও গ্যাস এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারেও কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে আবাসন খাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ ছিল। রিয়েলটি সূচক ২.০১ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া ব্যাঙ্কিং, মূলধনী পণ্য, দ্রুত বিক্রিত ভোগ্যপণ্য এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতও নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। বৃহত্তর বাজারে মিডক্যাপ সূচক ০.৩৫ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.৫৬ শতাংশ কমেছে। বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪৮৪.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৮৩.১৩ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারের মধ্যে ছিল মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা, কোল ইন্ডিয়া, মারুতি সুজুকি, আইশার মোটরস এবং টেক মহিন্দ্রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে আদানি পোর্টস, এইচডিএফসি লাইফ, শ্রীরাম ফাইন্যান্স, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট এবং জিও ফিনান্সিয়ালের শেয়ারে।
টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ রাশিয়ার, ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের গুরুতর অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি-র দাবি, টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং তরুণদের উসকানি দিচ্ছে। এফএসবি-র অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিয়োগ, যোগাযোগ ও হামলার পরিকল্পনা পরিচালিত হয়েছে। সংস্থার দাবি, এসব কার্যকলাপের ফলে প্রাণহানি এবং বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, ‘ডাইভিংচিক’ নামে একটি পরিষেবার মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়ে রুশ তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয় বলে অভিযোগ। এফএসবি-র দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের ১৬টি অঞ্চল থেকে এ ধরনের অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাশিয়ার দণ্ডবিধির ২০৫.১ ধারায় সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাভেল দুরোভের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাভেল দুরোভ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টেলিগ্রামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্ল্যাটফর্মটিতে সেন্সরশিপ আরোপের উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই অভিযোগ তুলছে। তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দেশত্যাগ করেন পাভেল দুরোভ। বর্তমানে তিনি ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি টেলিগ্রামের কিছু পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপেও টেলিগ্রামকে ঘিরে বিভিন্ন তদন্ত চলায় সংস্থাটি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেই গ্রিন কার্ডের সুযোগ? মার্কিন সিনেটে নতুন বিল, আশায় ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ সহজ করতে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল পেশ করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বহু ভারতীয় পেশাজীবী। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাদিলা এই বিলটি উত্থাপন করেছেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসী এর সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমান আইনে শুধুমাত্র ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নির্দিষ্ট অভিবাসীরাই ‘রেজিস্ট্রি’ বিধানের আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে সেই নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে ‘রোলিং’ বা চলমান সময়সীমার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশভিত্তিক কোটার কারণে বহু ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীকে গ্রিন কার্ডের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সন্তানরা ২১ বছর পূর্ণ করলে ‘এজিং আউট’-এর সমস্যায় পড়েন, যার ফলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। নতুন বিল আইনে পরিণত হলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিলের আওতায় শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নন, বরং ‘ড্রিমার্স’, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রাপ্ত অভিবাসী এবং আরও কয়েকটি শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দারাও উপকৃত হতে পারেন। তবে বিলটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিলটি পাস করানো সহজ হবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবুও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় পেশাজীবীদের কাছে এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা নিয়ে বিতর্ক, নীরব নিষেধাজ্ঞার অভিযোগে চাপে ইসলামাবাদ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, ইউএই নীরবে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রদান সীমিত বা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমিরাত প্রশাসন। পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, ভিসা না পাওয়ায় দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠক, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানসহ সব দেশের আবেদনকারীদের ভিসা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। কোনও দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা। রাওয়ালপিন্ডি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শওকত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউএই-তে ব্যবসা পরিচালনা করা একাধিক পাকিস্তানি উদ্যোক্তাও সম্প্রতি ভিসা পাননি। ফলে তাঁদের ব্যবসায়িক সফর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান নুন উৎপাদক সমিতির চেয়ারম্যান ইসমাইল সুত্তরের দাবি, ইউএই-নির্ভর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে করাচি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইতিমধ্যেই ইউএই-র কনসাল জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি। এদিকে, শিগগিরই দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একটি বড় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে অংশগ্রহণ নিয়ে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একই সময়ে ইউএই-পাকিস্তান সম্পর্কের কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই ভিসা বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ভিসা সমস্যার সঙ্গে এই কূটনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।
সোনার দামে ফের পতন, রুপোর দামে নেই কোনও পরিবর্তন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় সোনা-রুপোর বাজারে বৃহস্পতিবারও সোনার দামে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দেশের অধিকাংশ বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৬০০ থেকে ৬৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৫০০ থেকে ১,৪৩,৬৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,৫৪০ থেকে ১,৩১,৬৯০ টাকার মধ্যে। রুপোর দাম অপরিবর্তিত থেকে দিল্লি বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম ২,৩৪,৯০০ টাকায় স্থির রয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৬৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৯০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৫০০ টাকা ও ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৫৯০ টাকা। চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৫০০ টাকায় এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জয়পুর, লখনউ ও দিল্লিতে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি রয়েছে। ভোপাল ও পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৫৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
মার্কিন হামলার পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন/কায়রো/কুয়েত সিটি : জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলার উপযুক্ত জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান স্বীকার করেছে, রাতভর মার্কিন বিমান হামলায় বুশেহর প্রদেশের তিনটি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই প্রদেশেই অবস্থিত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, আইআরজিসির একাধিক সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের মতে, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হলেও সেগুলি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের কেশম দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মার্কিন বাহিনী একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টা ৫০ মিনিটে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। হরমোজগান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বুধবার ভোরে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বুশেহর, জাম এবং খোরমোজ শহরের আশপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। তবে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও নিরাপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, হামলার উপযুক্ত জবাব আজই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই জলপথে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা সংস্থার ভবন লক্ষ্য করে চালানো ইরানি হামলায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। হামলায় ভবনটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সামরিক সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক নিউইয়র্কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি পাকিস্তান, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ : ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। গত ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অভিযানের আগে ইরান জর্ডনে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর হামলার পর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বসরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। নিনেভেহ প্রদেশে অন্তত আট জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথিদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স ইরাকের একটি সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ইরান-সমর্থিত একাধিক শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই বাহিনী গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, বাস্তবে এর উপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়ে আসছে।
১৪ বছর বয়স থেকেই কারিগরি ও এআই শিক্ষার সুযোগ, ইংল্যান্ডে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়স থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রচলিত একাডেমিক পাঠের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ প্রযুক্তি, কোডিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে তোলা এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থায় গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বাধ্যতামূলক বিষয়গুলির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় বেছে নিতে পারবে। ফলে একাডেমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা একইসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার জানিয়েছে, নতুন কোর্সগুলি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জন এবং স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগও পাবে। এক নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর মতে, আগামী দিনে দক্ষ প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান, উৎপাদন বিশেষজ্ঞ এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাদারদের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষাই সফলতার একমাত্র পথ। নতুন শিক্ষানীতিতে সেই ধারণা বদলানো হবে। নির্মাণ, প্রকৌশল, কোডিং কিংবা উৎপাদনশিল্প—সব ক্ষেত্রের দক্ষতাকেই সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্ব কমানো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ লক্ষেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণ—কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত নন। উন্নত কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগাম সংযোগ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের আশা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষা তদারকি সংস্থা অফস্টেড ভবিষ্যতে বিদ্যালয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার মানকেও গুরুত্ব দেবে। তবে বর্তমান জিসিএসই মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে নতুন কাঠামোর সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এই সংস্কার শুধুমাত্র ইংল্যান্ডে কার্যকর হবে। কারণ যুক্তরাজ্যে শিক্ষা নীতি বিকেন্দ্রীভূত। তবে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডেও সাম্প্রতিক সময়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেন, নিয়োগদাতা সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা তরুণদের স্থানীয় কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অর্থনীতির চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। যদিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষা মহলের একাংশ, তবুও বাস্তবায়ন পদ্ধতি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং বিদ্যালয়গুলির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হেড টিচার্সের মহাসচিব পল হোয়াইটম্যান বলেন, পরিকল্পনাটি ইতিবাচক হলেও সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের শিক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রটের মতে, কেবল নতুন কারিগরি কোর্স চালু করলেই শ্রমবাজারের সব সমস্যা দূর হবে না। একই সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের শিক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র মুনিরা উইলসন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নমনীয়তা থাকা জরুরি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাদের নির্দিষ্ট শিক্ষাধারায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।