নভেম্বরের পরই শেষ হবে ইরান সংঘাত, তেলের দাম কমার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ডাবলিন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে এগোতে পারে। সংঘাত থামলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত কমবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শনিবার ডাবলিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলাই তেহরানের লক্ষ্য। তবে মার্কিন জনগণ পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, সংঘাতের অবসান ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত নেমে আসবে। দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার মতো কোনও ‘আঞ্চলিক পুলিশ’-এর প্রয়োজন নেই। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলিরই। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হামলার মুখে পড়লেও ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চায় না। শান্তি বজায় রাখাই তেহরানের লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমানহানায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়। এরপর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে ইরান। গত জুনে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান সামনে আসেনি। এর মধ্যেই সংঘাত ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক জলপথেও। মঙ্গলবার পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। হামলার আগে জাহাজগুলির কর্মীদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মার্কিন নৌজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল এবং সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এরপরই ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিশানা করা হয়। তেহরান ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলে আরও তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের জন্য তেহরান অনুমতি ও নির্দিষ্ট মাশুল দাবি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের উপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি বাস্তবে রূপ নিলে শুধু পশ্চিম এশিয়ার সামরিক পরিস্থিতিই নয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর তৈরি হওয়া চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
এআইয়ের গতি কমানোর ডাক, পাশে মাস্ক-অল্টম্যান-হাসাবিস
সকাল সকাল ডেস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেই এবার তার গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হল প্রযুক্তি দুনিয়ায়। অত্যাধুনিক এআই মডেলের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদে। তাঁর এই অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, এক্সএআইয়ের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেমিস হাসাবিস। শনিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ ব্লগ পোস্টে আমোদে এআই শিল্পে উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অত্যাধুনিক বা ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ মডেলের নিরাপত্তা মূল্যায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মানে আমূল পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে গুরুতর রোগের চিকিৎসায় অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে আরও শক্তিশালী এআই তৈরি হতে থাকলে একসময় তা মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন দফা পরিকল্পনার কথা বলেছেন আমোদে। তাঁর প্রস্তাব, ফ্রন্টিয়ার এআই নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীদের নিয়মিত প্রবেশাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করে অভিন্ন নিরাপত্তা মান তৈরি এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অত্যাধুনিক এআই তৈরির গতিতে সীমা আরোপ করতে হবে। আমোদের বক্তব্যকে সমর্থন করে ডেমিস হাসাবিস জানিয়েছেন, প্রস্তাবটির বিস্তারিত দিক নিয়ে আরও কাজের প্রয়োজন থাকলেও মূল দিকনির্দেশনা সঠিক। তাঁর মতে, এই কারণেই গুগল ডিপমাইন্ড ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের জন্য শিল্পজুড়ে অভিন্ন মান নির্ধারণকারী সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমোদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্যাম অল্টম্যানও। ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি। স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছেন ওপেনএআই প্রধান। অন্যদিকে ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘দারিও ঠিক বলেছেন।’ এআই নিরাপত্তা নিয়ে এই আলোচনায় যোগ দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকও। নিরাপত্তাব্যবস্থা যাতে এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সে জন্য ফ্রন্টিয়ার এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তবে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁর মতে, শুধু এআই উন্নয়নের গতি কমানো যথেষ্ট নয়। উন্নত এআই তৈরিতে বিরতি দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে বিশ্বের শীর্ষ এআই সংস্থাগুলি শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের ক্ষেত্রে কতটা সীমা বা নতুন নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলি সম্মিলিতভাবে এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ করলে প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রযুক্তির দৌড় যত দ্রুত হচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এআই নিরাপত্তা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টিও এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
জাভা সাগরে জাহাজডুবি: উদ্ধার ১০৩, মৃত ১, এখনও নিখোঁজ ১৪০
সকাল সকাল ডেস্ক জাকার্তা, ১৩ সেপ্টেম্বর। ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে নিখোঁজ যাত্রীবাহী জাহাজ ‘ভার্জিনো ট্রান্সপোর্ট ৮’-এর ১০৩ জন যাত্রীকে রবিবার উদ্ধার করেছে বানজারমাসিন সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৪০ জন। জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন আরোহী ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদ সংস্থা অন্তারার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বানজারমাসিন সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দফতরের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, বিপদের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। মধ্য ইন্দোনেশিয়ার সময় অনুযায়ী রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে টিবি মৌহাভ ৯, টিবি টিসিপি এবং এমভি হাইডা জাহাজের দল অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি কেএন এসএআর লক্ষ্মণ, ইন্দোনেশিয়ার যুদ্ধজাহাজ কেআরআই নালা এবং নেভিগেশন জাহাজ কেএম কুনিয়িতকেও অভিযানে নামানো হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ১৪০ জনের সন্ধানে অভিযান চলছে। জানা গিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে রবিবার স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ২টো নাগাদ ‘ভার্জিনো ট্রান্সপোর্ট ৮’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজটি ১২ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে বানজারমাসিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ‘দ্য কোরিয়া টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে জাহাজের ক্যাপ্টেন সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময় সমুদ্রে প্রায় ৩ মিটার বা ১০ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ উঠছিল। ক্যাপ্টেন জানিয়েছিলেন, জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে যাচ্ছে। পরে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, জাহাজটি উল্টে গিয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ফেরি ও অন্যান্য জলযান। বিমানযাত্রার তুলনায় জলপথে যাতায়াত তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ এর উপর নির্ভর করেন। তবে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগের
নেপালে বন্যায় বাস্তুচ্যুত পরিবারকে মাসে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু, ১৩ সেপ্টেম্বর। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভোটেকোশী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, চার সদস্য পর্যন্ত একটি পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবারের সদস্যসংখ্যা চারজনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আরও ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও পরিবার যদি এই আর্থিক সহায়তা নিতে না চায়, তাহলে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছে সরকার। সেক্ষেত্রে স্থায়ী বাসস্থান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রী তিমিলসিনা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে ফর্ম পাঠানো হয়েছে। বন্যায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকার বিস্তারিত চাহিদা নিরূপণের কাজ এখনও চলছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর: নিউইয়র্কের মূল অনুষ্ঠানে নেই ট্রাম্প, শ্রদ্ধা জানালেন পেন্টাগনে
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন করল যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোয় আবেগঘন অনুষ্ঠানে হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথাগতভাবে নিউইয়র্কের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তিনি পেন্টাগনে গিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং ওয়াশিংটনের কাছে পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়। আরও একটি বিমান পেনসিলভানিয়ায় ভেঙে পড়ে। ওই দিনের হামলায় মোট ২,৯৭৭ জন নিহত হন। তাঁদের অধিকাংশের মৃত্যু হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় ট্রাম্প ২৫ বছর আগের সেই দিনের কথা স্মরণ করেন। নিহতদের কখনও ভুলে না যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বর্তমানে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, ২৫ বছর আগে নিহতদের স্মরণে যে শপথ নেওয়া হয়েছিল, আমেরিকা আজও সেই অঙ্গীকারে অটল রয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোয় আয়োজিত মূল স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে হাজির ছিলেন চার জীবিত প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন। ৯/১১ হামলার সময় জর্জ ডব্লিউ বুশই ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সকাল থেকেই গ্রাউন্ড জিরোয় নিহতদের পরিবারের সদস্য-সহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের কিছু পরে আনুষ্ঠানিক স্মরণপর্ব শুরু হয়। ২৫ বছর আগের সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ সময় ধরে স্মরণ করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও হামলায় নিহত প্রত্যেকের নাম পাঠ করা হয়। হামলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিকে স্মরণ করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘণ্টাধ্বনিও করা হয়। গ্রাউন্ড জিরোর বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান সাধারণত রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে দূরে রাখা হয়। এখানে আলাদা করে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ার রীতি নেই। তবে এবার নিহতদের নাম পাঠ করতে আসা কয়েকজন স্বজন তাঁদের বক্তব্যে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে অতীতে মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরও সমালোচনা করেন তাঁরা।
লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট, ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি আরব
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াধ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ফলে আরব উপদ্বীপের দুই প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ ঘিরে চাপ আরও বেড়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলিকে লোহিত সাগরের উপকূলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর সুযোগ পায় রিয়াধ। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে হরমুজ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই পাইপলাইনের গুরুত্ব আরও বেড়েছিল। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াধ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে হামলা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল রপ্তানিতে ঠিক কতটা প্রভাব পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের আনুমানিক ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। ফলে পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যেই বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইয়েমেনের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম বা ময়উন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির মাঝামাঝি অবস্থিত। ফলে লোহিত সাগরে প্রবেশ ও বেরোনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা নৌযানে সেখানে পৌঁছয়। বাব আল-মানদেব উপকূলের বিভিন্ন এলাকাতেও সশস্ত্র যোদ্ধা ও সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবশ্য দাবি করেছেন, আগে থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজগুলির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ রয়েছে। এদিকে ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জন্য কারা সরাসরি দায়ী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পর ইরাকের মাইসান প্রদেশে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরান সীমান্তবর্তী মাইসান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইরাক সরকার সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করেছে বাগদাদ। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বড় আকারে অভিযান চলছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। সৌদি আরব এখনও পাল্টা সামরিক হামলার পথে না হাঁটার সিদ্ধান্তে অটল। তবে রিয়াধ জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন হুতিদের মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য, ওয়াশিংটন আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে নামতে আগ্রহী নয়। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়া হতে পারে।
বালুচিস্তানের সুরাবে পাক সেনার উপর জোড়া হামলা, বহু জওয়ান নিহতের দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক বালুচিস্তান,: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে পাক সেনাকে লক্ষ্য করে হামলা আরও তীব্র হওয়ার খবর সামনে এসেছে। শুক্রবার সুরাব জেলায় পাক সেনাকে লক্ষ্য করে পৃথক দুটি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রথম হামলায় বেশ কয়েকজন পাক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন এবং একটি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। এরপর নিহত সেনাদের দেহ উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো দ্বিতীয় একটি সেনাদলের উপরও হামলা চালানো হয় বলে খবর। তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচিস্তানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’ স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রথম হামলাটি সুরাব জেলার গিদার এলাকার টোবো ক্রসের কাছে ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাক সেনার উপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ান নিহত হন এবং একটি সামরিক যান ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার পর নিহত সেনাদের দেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের দেহ উদ্ধারের জন্য পাক সেনার দ্বিতীয় একটি দল ঘটনাস্থলের দিকে গেলে রোডেনি ক্রসের কাছে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলাতেও পাক সেনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। খবর লেখা পর্যন্ত সুরাবে হওয়া এই দুই হামলা নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কোনও সংগঠনও তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। সুরাবের ঘটনার একদিন আগে বৃহস্পতিবার কালাত জেলার মারজান এলাকাতেও পাক সেনার একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলার খবর সামনে আসে। বিভিন্
কঙ্গোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ শিশুর মৃত্যু, পুড়ে ছাই ৩০০ বাড়ি ও দুই স্কুল
সকাল সকাল ডেস্ক কিনশাসা: আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে এবং ৮ জন ছেলে। আগুনে ৩০০টিরও বেশি বাড়ি এবং দুটি স্কুল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। সাউথ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু বর্তমানে রুয়ান্ডার সেনাবাহিনী ও তাদের এম২৩ মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘এজেন্স কঙ্গোলেজ দ্য প্রেস’ (এসিপি)-এর ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এসিপি জানিয়েছে, হাসপাতাল ও স্কুল সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে আরও ২৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং ১২ জন কাদুতু প্রভিন্সিয়াল জেনারেল রেফারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্কুল সূত্রের দাবি, আগুনে ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগিরা কমিউনের ইপি মোসালা এবং কাদুতু কমিউনের ইপি নোঙ্গো—এই দুটি স্কুলও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন কাশেকে, লুগুলু এবং এলিলা—এই তিনটি সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত এক মাসের মধ্যে বুকাভুতে অন্তত ১৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার মুখে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক আলজিয়ার্স: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। তবে ঠিক কোন সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা আর গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগও ক্রমশ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ আলজিয়ার্সের। দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তা কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির বিদেশ মন্ত্রক আশা প্রকাশ করেছে, এই পরিস্থিতি সাময়িক হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছে। আমিরাতের বিবৃতিতে আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আমিরাতে বসবাসকারী আলজেরীয় নাগরিক এবং পর্যটকদের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমিরাতের বিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি আমিরাতে নিবন্ধিত সামরিক ও বেসামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক উড়ানকে সাময়িক ভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হবে। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই একাধিক আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্নে আলজেরিয়া এবং আমিরাত বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম সাহারা থেকে ইসরায়েল, একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আলজেরিয়া। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। আলজেরিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কোও একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পশ্চিম সাহারা প্রশ্নেও আলজিয়ার্স ও আবুধাবি বিপরীত মেরুতে। আমিরাত পশ্চিম সাহারার উপর মরক্কোর দাবিকে সমর্থন করে এবং ওই অঞ্চলে তাদের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে আলজেরিয়া। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে আমিরাত। অন্যদিকে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি দেশগুলির সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। সংশ্লিষ্ট দেশের নাম না বললেও তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেই তখন মনে করা হয়েছিল। ওই দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগও করেছিলেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দূরত্বের আর একটি ইঙ্গিত মিলেছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া। এবার সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে সেই টানাপোড়েন আরও গভীর হল।
ভোটের আগে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’, ভারতের ভাতা-রাজনীতির ছায়া?
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের জন্য মাথাপিছু ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’-এর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ পাওয়ার সঙ্গে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সাফল্যের শর্ত জুড়ে দেওয়ায় বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ঘোষণা নয়, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বহুল ব্যবহৃত নগদ সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে এর তুলনাও শুরু হয়েছে। টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারসভায় দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প জানান, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষ—হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে। তবে বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন কিংবা কীভাবে অর্থ বণ্টন করা হবে—তার বিস্তারিত রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। ভারতের ‘ভাতা মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে তুলনা সামনে এসেছে। ভারতে অবশ্য সরাসরি নগদ সহায়তা থেকে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত পরিষেবা—বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর প্রাথমিক নজিরগুলির অন্যতম তামিলনাড়ু। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কে কামরাজ বিনামূল্যে শিক্ষার প্রসার এবং স্কুলপড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিলের মতো সামাজিক প্রকল্পের উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে ডিএমকে নেতা সি এন আন্নাদুরাই সস্তায় চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলেন। সময়ের সঙ্গে কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পরিধি আরও বাড়ে। ২০০৬ সালের তামিলনাড়ু নির্বাচনে এম করুণানিধির ডিএমকে রঙিন টেলিভিশন, ভর্তুকিতে চাল, গ্যাস স্টোভ-সহ একাধিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০১১ সালে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের প্রতিযোগিতায় মিক্সার-গ্রাইন্ডার, ফ্যান, ল্যাপটপ থেকে বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তাও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকায় জায়গা পায়। পরবর্তীতে এই প্রবণতা তামিলনাড়ুর গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লিতে বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবায় ভর্তুকি, বিভিন্ন রাজ্যে কৃষিঋণ মকুব, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা, সরাসরি নগদ সহায়তা, স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী রাজনীতির পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিতে চাপ নিয়ে প্রশ্ন এই ধরনের প্রকল্পকে একদিকে সামাজিক সুরক্ষা ও আয় সহায়তার মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে রাজকোষের উপর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মূল প্রশ্ন হল, রাজস্বের বড় অংশ নগদ সহায়তা বা ভর্তুকিতে ব্যয় হলে পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ কতটা প্রভাবিত হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালের ‘এস সুব্রহ্মণ্যম বালাজি বনাম তামিলনাড়ু সরকার’ মামলায় নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন সুবিধার প্রতিশ্রুতিকে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে সরাসরি দুর্নীতিমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করেনি। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক তারপরেও অব্যাহত রয়েছে। মূল লেখায় উদ্ধৃত ‘ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যগুলিতে শর্তহীন নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ফলে জনকল্যাণমূলক ব্যয় কতটা টেকসই এবং তার আর্থিক উৎস কী—এই প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্প আগেও তুলেছেন ‘ডিভিডেন্ড’-এর প্রসঙ্গ ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবই ট্রাম্পের প্রথম নগদ অর্থ ফেরানোর ধারণা নয়। এর আগে ‘DOGE Dividend’-এর ধারণা সামনে এসেছিল। সরকারি ব্যয় কমিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তার একটি অংশ নাগরিকদের ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপর আমদানি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশ নাগরিকদের ফেরত দেওয়ার ‘ট্যারিফ রিফান্ড’-এর ধারণাও আলোচনায় আসে। তবে মূল লেখার দাবি অনুযায়ী, আগের কোনও পরিকল্পনাই ঘোষিত আকারে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব ঘিরেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের উৎস এবং বাস্তবায়নের পথ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় আর্থিক কর্মসূচি কার্যকর করা কঠিন। ভারত ও আমেরিকার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কাঠামো এক নয়। ভারতের রাজ্যভিত্তিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল সরকারের সম্ভাব্য নগদ বণ্টন কর্মসূচির সরাসরি তুলনাও তাই সীমাবদ্ধ। তবু ভোটের আগে সরাসরি আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাই ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ শুধু অর্থনৈতিক প্রস্তাব নয়, নির্বাচনী কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থের উৎস, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোটারদের রায়ের উপর।