পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী ট্রাম্প, ইরানকে তোপ মার্কিন প্রেসিডেন্টের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী বলে জানালেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ফের একবার ইরানের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমেরিকার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি এমনটি চেয়েছিলাম, তবে আমি তখনই তা করতে চাই যখন আমরা কোনও শান্তি চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত থাকব। আমি এটা করতে চাই। আমরা রাশিয়া, ইউক্রেন এবং সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। এটি ব্যবসার জন্য দারুণ হবে। রাশিয়ার বিশাল ও অত্যন্ত মূল্যবান ভূখণ্ড রয়েছে। অনেক ভালো কিছু ঘটছে। আমার বিশ্বাস, আমি এখনই এটা করতে পারব। তবে যুদ্ধ যখন শেষের পথে থাকবে, তখনই আমি এটা করতে চাই; আর আমার ধারণা, আমরা তা পারবও।” ইরানকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছি। মাঝেমধ্যে তারা কোনও ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—অত্যন্ত জোরালো নিয়ন্ত্রণ। তারা নিজেদের রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং মাইন ফেলার সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল। তারা এমন একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল যা থেকে মাইন ফেলা যায়। এমনটা কারা করে? আপনি কি কখনও এমন কোনও রকেট তৈরি করেছেন যা থেকে মাইন ফেলা যায়? আমি তো এমন কিছুর কথা কখনও শুনিনি, কিন্তু তারা ঠিক সেটাই করছিল। তারা ওটা তৈরি করছিল। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, তাই আমরা ওটা ধ্বংস করে দিয়েছি।
ইরানে মার্কিন হামলায় বাসিজের ৩ যোদ্ধা ও আইআরজিসির ৪ সদস্য-সহ নিহত ১৮
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান, ২ সেপ্টেম্বর: ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘লাভান দ্বীপে’ একদিন আগে চালানো মার্কিন হামলায় আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রাতভর চলা মার্কিন বিমান হামলায় সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, কোহেস্তকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন এবং খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কেরমানশাহে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির চার সদস্য এবং লাভান দ্বীপে বাসিজের তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সাধারণ নাগরিকদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুমান করা হয়, বাসিজে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার যোদ্ধা রয়েছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রায়ই এই বাহিনীকে সামনের সারিতে মোতায়েন করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিদ্রোহ দমনে বাসিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইজরায়েল এই সংগঠনের প্রধান কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করেছিল। বাসিজ আইআরজিসির পাঁচটি শাখার অন্যতম। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেইনি এই বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন দমনে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ও সহিংস ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইরানের বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি পোশাকবিধি, বিশেষ করে হিজাব সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতেও বাসিজকে ব্যবহার করা হয়। নৈতিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি ইরানের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় কট্টর ইসলামি মতাদর্শের প্রচার এবং দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরির ক্ষেত্রেও এই বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
নেপালে হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: নেপালে হড়পা বান বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১১৪। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিধ্বংসী হড়পা বান প্রসঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বুধবার বলেন, “এখনও পর্যন্ত মোট ১,১১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯৫টি মৃতদেহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ আরও বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমরা দেশের পাশে আছি। ঘটনাটি ২৬ আগস্ট তারিখে সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটে। বিষয়টি জানার পরপরই আমরা আমাদের দলগুলিকে সতর্ক করি। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে একটি বৈঠক ডাকা হয় এবং হেলিকপ্টারগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আমাদের জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। মানুষের জীবন রক্ষা করাই ছিল আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
ইরানে ‘কঠোর আঘাতের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্তির পর ফের ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে তেহরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতির উপর চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে সংঘাতের মাত্রা কমাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর সংঘাত শুরু হওয়ার ছ’মাস পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান। পাল্টা ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যেই রবিবার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের একটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে নতুন করে মাইন বসাতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই লারাক দ্বীপে অভিযান চালানো হয়েছিল। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতেই ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের উপর কঠোর আঘাত করব। ইরানকে জবাব দেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব না হলেও সেটি কোনও বড় হুমকি তৈরি করেনি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। তবে সেগুলি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে ইরান। যদিও আবুধাবি আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তেহরান। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া ইরান বা অঞ্চলের কোনও দেশের স্বার্থে নয়। তাঁর মতে, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব। এদিকে সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখবে আমেরিকা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের উপর চাপ বজায় রাখা হবে এবং কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে তার বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেল-সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা পুতিন-সির
সকাল সকাল ডেস্ক বিশকেক: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের আবহে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সি চিন পিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার মুখোমুখি বৈঠক করেন পুতিন ও সি। গত মে মাসের পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি বৈঠক হল। বৈঠকের শুরুতেই রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফের সাক্ষাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন সি চিন পিং। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বেজিং ও মস্কোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বর্তমান গতি বজায় রাখার উপরও জোর দেন তিনি। সি-র বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতি থেকে কৌশলগত সহযোগিতা—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ও সি-র আলোচনায় মূল গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলেও তা আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল না। এসসিও-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশকেকে দু’দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। জবাবে পুতিন জানান, মস্কোও চলমান সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পুতিনের পৃথক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নে রাশিয়া ও চীনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এসসিও সম্মেলনে মস্কো ও বেজিংয়ের ঘনিষ্ঠতার বার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসসিও-র পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, নরেন্দ্র মোদি, মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং শাহবাজ শরিফ-সহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ। বর্তমানে এসসিও-র ১০টি পূর্ণ সদস্যদেশ রয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি অংশীদার দেশের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলন এবং বিশেষ করে রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতার বার্তা ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের ইস্তফা, ট্রাম্পের কাছে জমা পদত্যাগপত্র
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ড্রিসকল তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কথিত টানাপড়েন ও মতবিরোধের জেরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ড্রিসকল তাঁর পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেনাবাহিনী সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত খবর প্রকাশকারী সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেন্স স্কুপ’ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ তাদের প্রতিবেদনে এই ঘটনাবলির বিস্তারিত উল্লেখ করেছে। ডিফেন্স স্কুপ জানিয়েছে, আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার প্রথম এই খবর প্রকাশ করে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। এক সামরিক আধিকারিকের বক্তব্য, “সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন আর্মি সেক্রেটারি এবং তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।” তবে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সেনার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই। সোমবার সন্ধ্যায় ‘ফক্স নিউজ’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ড্রিসকলের ইস্তফা গ্রহণ করেননি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, “আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকল বিভাগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করে তোলা’র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের সময় তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনাতেও সহায়তা করেছেন। এর ফলে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।” প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের খবরের মধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এল। চলতি বছরের শুরুতে আর্মি চিফ অফ স্টাফের পদ থেকে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে সরানো এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আধিকারিককে অপসারণের সিদ্ধান্ত ঘিরে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের পদত্যাগ গ্রহণ করলে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আবহের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী সেনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত নেতৃত্ব ছাড়াই থাকতে পারে। এই সংঘাতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাইকেল ওবাডল বর্তমানে আর্মির আন্ডার সেক্রেটারি পদে রয়েছেন। ড্রিসকলের পদত্যাগ গৃহীত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। ড্রিসকল তাঁর স্পষ্টবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি একসময় ‘ড্রোনবাস্টার’ অস্ত্রের মান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ইয়েল ল স্কুলের স্নাতক ড্রিসকলকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এমনকি একসময় তাঁকে হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হয়েছিল। মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকলকে ‘ট্রাম্প ২.০’ প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায়ও তিনি কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেগসেথ ও ড্রিসকলের মধ্যে বিরোধের আরও একটি কারণ ছিল সামরিক আধিকারিকদের পদোন্নতির তালিকা। অভিযোগ, হেগসেথ ওই তালিকা থেকে চারজন আধিকারিকের নাম বাদ দিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং দু’জন মহিলা ছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে ড্রিসকলের সিনিয়র উপদেষ্টা কর্নেল ডেভিড বাটলারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও হেগসেথ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ। বাটলার এর আগে জেনারেল মার্ক মিলির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন। ড্রিসকল তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হেগসেথের চাপের বিরোধিতা করেছিলেন। এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ড্রিসকলও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক বাজেটের পাশাপাশি ১০ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় সেনা, ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ সদস্য এবং ৩ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি অসামরিক কর্মীর প্রশাসনিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের একাংশের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। নভেম্বরে আমেরিকার শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরতে তিনি ইউক্রেন সফর করেছিলেন।
প্রয়াত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অ্যাডা ইয়োনাথ
সকাল সকাল ডেস্ক রেহোভোত: নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ইজরায়েলি বিজ্ঞানী তথা এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফার অ্যাডা ইয়োনাথ ৮৭ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। সোমবার তিনি প্রয়াত হন। ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স-এর তরফ থেকে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবনের সিংহভাগ সময় গবেষণা চালিয়ে গেছেন। অ্যাডা ইয়োনাথ ২০০৯ সালে রাইবোজোমের গঠন ও কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত যুগান্তকারী গবেষণার জন্য রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কোশের ভেতরে প্রোটিন কীভাবে তৈরি হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনী গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর এই আবিষ্কার গবেষকদের আরও বেশি কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন পথ দেখায়। ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউটের মতে, একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুতর চিকিৎসা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ— অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর উদ্ভাবন অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৩৯ সালে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণকারী অ্যাডা ইয়োনাথের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে। অতি অল্প বয়সেই তাঁকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি পড়াশোনা থামাননি। ১৯৬৮ সালে তিনি ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট থেকে এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফিতে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিশ্বে অসামান্য অবদান রাখেন। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ বিজ্ঞানী ইয়োনাথকে দেশের বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অ্যাডা ইয়োনাথ ছিলেন এমন এক পথিকৃৎ নারী বিজ্ঞানী, যিনি নিজের কৌতূহল, লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা ও দৃঢ় সংকল্পের জোরে জ্ঞানের সীমানাকে আরও প্রসারিত করেছিলেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-সৌদি নেতৃ
সকাল সকাল ডেস্ক ইস্তাম্বুল: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাসও কাটেনি। এর মধ্যেই চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে তৎপর তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। তিন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বৈঠক ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার তিন দেশের বিদেশমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কৌশলগত ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ইসলামাবাদের তরফে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। কোনও সদস্য দেশ বহিরাগত আক্রমণের মুখে পড়লে অন্য দেশগুলি সামরিক সরঞ্জাম, কৌশলগত সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা সহযোগিতা দেবে—এমন ব্যবস্থার কথা চুক্তিতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে কোনও কোনও মহল ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে উল্লেখ করছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য মূলত পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি। এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশও আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের সময় বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি উঠতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এত দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের নজর এখন ইস্তাম্বুলের বৈঠকের দিকে। বিশেষ করে তিনটি দেশ বর্তমানে সরাসরি কোনও অভিন্ন যুদ্ধে জড়িত না থাকায় এই তৎপরতার কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ও সেনাবাহিনী ঈশাক দার এবং আসিম মুনিরের সফরকে ‘সরকারি সফর’ হিসেবেই উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে তুরস্কের তরফে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও বৈঠকের বিস্তারিত এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বৈঠক থেকে নতুন কোনও সামরিক রূপরেখা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ইরানের ‘গুরুতর হুমকি’! আমেরিকা থেকে নেতানিয়াহু-পুত্রকে জরুরি ভিত্তিতে ফেরাল ইজরায়েল
সকাল সকাল ডেস্ক তেল আভিভ/ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইয়ার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর জীবনের উপর ‘গুরুতর হুমকি’ রয়েছে বলে জানিয়ে আমেরিকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি নেতানিয়াহুও দাবি করেছিলেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ার নেতানিয়াহুকে ক্ষতি করার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দ্রুত ফ্লোরিডা থেকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকি ছিল, কারা তার নেপথ্যে ছিল কিংবা কখন তাঁকে আমেরিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, সেই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি শিন বেত। গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট হুমকি চিহ্নিত হওয়ার পর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তার ভিত্তিতেই তাঁর নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ইজরায়েলে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় ইয়ার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের সন্ধান পেয়েছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দারা। ইজরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শিন বেত নিউ ইয়র্কে ইজরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন এজেন্টকেও ওই অভিযানে কাজে লাগিয়েছিল। অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে যুক্ত গুপ্তচরেরা ইয়ারের বাসস্থান এবং তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ইয়ার বেশ কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছিলেন। হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি। পরিস্থিতি এতটাই জরুরি ছিল যে নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহ করার সুযোগ না নিয়েই তিনি ইজরায়েলে ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে নিশানা করেছিল। তাঁর কথায়, ইরান তাঁর ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে সেই সময় কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনা করা হয়েছিল বা তার বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। ইয়ার নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা নিয়েও ইজরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযানের জন্য বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে যখন ডাকা হয়েছিল, সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কেন বিদেশে রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সমালোচকদের একাংশ। কড়া নিরাপত্তায় ব্যারন ট্রাম্প এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনার পর রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের আবহে ব্যারন নিজের চলাফেরা অনেকটাই সীমিত রেখেছেন। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করার পাশাপাশি ব্যারন জনসমক্ষে উপস্থিতি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির বড় অংশ তিনি মা তথা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারে কাটিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ব্যারন সাধারণত বাইরে খুব একটা বের হন না এবং প্রচারের আলো থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁকে আশপাশে ঘুরতে বা নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা যায় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট বা প্রত্যক্ষ প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। নিউ ইয়র্ক পোস্ট আরও দাবি করেছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং কার্কের হত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ব্যারন তাঁর বাবাকে ফোন করেছিলেন। নেতানিয়াহু-পুত্রকে ঘিরে কথিত ইরানি হুমকি এবং ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তা—দুই ঘটনাই পশ্চিম এশিয়া ও আমেরিকায় চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পালটা, জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান–আম্মান: হরমুজ প্রণালীর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ওই হামলার জবাবে জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। নতুন করে এই সামরিক সংঘাত ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবার লারাক দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর দিকে রকেট ছোড়ার জন্য প্রস্তুত কয়েকটি লঞ্চারকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় তাদের একাধিক সেনা হতাহত হয়েছেন। এরপরই পালটা সামরিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে তেহরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডনের কিং হুসেন এবং আল-আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পরিকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কয়েকটি স্থানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ইরান ও অন্য পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরানের হামলার পর জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আইআরজিসি এই হামলাকে লারাক দ্বীপে মার্কিন অভিযানের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করা হলে তার পালটা জবাব দেওয়া হবে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন ক্রুডের দামও ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫.৬৪ ডলার হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাজার বিশেষজ্ঞদের। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সামুদ্রিক যাতায়াত ফের চালু করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। কাতার-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তিও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করছে। কিন্তু লারাক দ্বীপে মার্কিন অভিযান এবং তার পালটা হিসেবে জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম বড় মার্কিন সামরিক হামলা বলে জানা গিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পালটা আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি মার্কিন-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এখন ওয়াশিংটন পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে এবং তেহরান কীভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।