সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্তির পর ফের ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে তেহরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতির উপর চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে সংঘাতের মাত্রা কমাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর সংঘাত শুরু হওয়ার ছ’মাস পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান। পাল্টা ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যেই রবিবার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের একটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে নতুন করে মাইন বসাতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই লারাক দ্বীপে অভিযান চালানো হয়েছিল। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান।
এই পরিস্থিতিতেই ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের উপর কঠোর আঘাত করব। ইরানকে জবাব দেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব না হলেও সেটি কোনও বড় হুমকি তৈরি করেনি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। তবে সেগুলি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে ইরান। যদিও আবুধাবি আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তেহরান।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া ইরান বা অঞ্চলের কোনও দেশের স্বার্থে নয়। তাঁর মতে, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এদিকে সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখবে আমেরিকা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের উপর চাপ বজায় রাখা হবে এবং কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে তার বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেল-সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
No Comment! Be the first one.