সম্পর্ক ভালো রাখতে সঙ্গীকে কোন কথাগুলো না বলাই ভালো? বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সকাল সকাল ডেস্ক প্রাক্তন সম্পর্ক, অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য ও নেতিবাচক মন্তব্য— কিছু বিষয় অযথা আলোচনা করলে সম্পর্কে বাড়তে পারে দূরত্ব, জানালেন বিশেষজ্ঞরা একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে। সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা অবশ্যই জরুরি, তবে তার অর্থ এই নয় যে জীবনের প্রতিটি তথ্য বা প্রতিটি ভাবনা সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেই হবে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভালো রাখতে সঙ্গীকে কোন কথাগুলো না বলাই ভালো— তা জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোন বিষয় ব্যক্তিগত রাখবেন, সেই সচেতনতাও সমান প্রয়োজন। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু আলোচনা ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক অস্বস্তি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা না করাই ভালো অনেকেই বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে নিজের আগের সম্পর্কের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তবে প্রাক্তন সঙ্গীকে নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা, তাঁর সঙ্গে বর্তমান সঙ্গীর তুলনা করা বা পুরোনো স্মৃতি বারবার তুলে আনা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সঙ্গীর মনে অস্বস্তি, ঈর্ষা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো, কিন্তু সেই অতীতকে বর্তমান সম্পর্কের মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়। বর্তমান সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ অন্যের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য প্রকাশ করবেন না বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত কেউ যদি আপনাকে বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জানিয়ে থাকেন, তাহলে সেই বিশ্বাস রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। শুধুমাত্র সঙ্গী বলে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা ঠিক নয়। এতে অন্য মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। একটি সুস্থ সম্পর্ক মানে শুধু একে অপরকে ভালোবাসা নয়, অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও সম্মান দেখানো। পরিবার বা বন্ধুদের নেতিবাচক মন্তব্য হুবহু বলবেন না অনেক সময় পরিবার বা বন্ধু আপনার সঙ্গী সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করতে পারেন। সেই মন্তব্য হুবহু সঙ্গীকে জানিয়ে দিলে অকারণে সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি তৈরি হতে পারে। যদি কোনো বিষয় সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং সম্পর্কের উন্নতির জন্য আলোচনা প্রয়োজন হয়, তাহলে তা শান্তভাবে, সম্মানজনক ভাষায় এবং সমাধানের উদ্দেশ্যে বলা উচিত। কিন্তু শুধুমাত্র কষ্ট দেওয়ার মতো মন্তব্য পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্বকে সম্মান করুন অনেকের ধারণা, ভালোবাসা মানেই সব তথ্য, সব পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত হিসাব একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে ব্যক্তিগত গোপনীয়তারও একটি স্বাভাবিক সীমা থাকে। পারস্পরিক সম্মতি ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তথ্য ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখা কখনোই সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাসের লক্ষণ নয়। বরং একে অপরের স্বাধীনতাকে সম্মান করা সম্পর্ককে আরও পরিণত করে তোলে। পটভূমি বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দ্রুত যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সহজে ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এর ফলে অনেক সময় আবেগের বশে এমন কিছু কথা বলা হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা সম্পর্কে সংযত ও সচেতন যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হলো সততা, পারস্পরিক সম্মান এবং সংবেদনশীলতা। সব বিষয় খোলাখুলি বলার চেয়ে কোন বিষয় কীভাবে বলা উচিত, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় তুলনা, অন্যের গোপন তথ্য প্রকাশ বা কষ্টদায়ক মন্তব্য এড়িয়ে চললে সম্পর্ক আরও সুস্থ ও স্থায়ী হতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা হলে তা শান্তভাবে আলোচনা করুন। আবেগের বশে এমন কথা বলবেন না, যা সঙ্গীর মনে আঘাত করতে পারে। একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, সব কথা বলাই প্রয়োজনীয় নয়; বরং সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলাই একটি সুখী ও সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম চাবিকাঠি।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখেন? এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা
সকাল সকাল ডেস্ক ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বাড়াতে পারে মানসিক চাপ, চোখের ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখেন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নেওয়া এখন বহু মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। চোখ খুলেই বার্তা দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো কিংবা খবর পড়া—এসব যেন দিনের শুরুতেই নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং দিনের শুরুতেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। কেন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার ক্ষতিকর? ঘুমের সময় শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও বিশ্রাম নেয়। ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু সেই সময়ই যদি মোবাইলে অসংখ্য বার্তা, ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য দেখতে শুরু করা হয়, তাহলে মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এবং দিনের শুরুতেই মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে সকালে ঘুম ভাঙার সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। এই সময় নেতিবাচক খবর, কাজের বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা বিষয় দেখলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হলে তা সারাদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং কাজের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকালটা যতটা সম্ভব শান্তভাবে শুরু করাই ভালো। চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলের উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকালে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। চোখের সুরক্ষার জন্য ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকা এবং সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালে নিজের কাজের পরিকল্পনা থেকে মন সরে যেতে পারে। অন্যের নানা পোস্ট বা খবরের কারণে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে কাজের গতি, মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর। যাঁরা নিয়মিত সকালে মোবাইল ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই দিনের শুরুতেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব মোবাইলের নীল আলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী মেলাটোনিন হরমোনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও রাতে মোবাইল ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, তবুও সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যবহার করাও শরীরের স্বাভাবিক জৈব ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে অস্থিরতা, মানসিক ক্লান্তি এবং সারাদিন অবসাদ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন এবং যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাসও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো। এই সময় এক গ্লাস জল পান, হালকা শরীরচর্চা, ধ্যান, প্রার্থনা, বই পড়া অথবা খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ও মন সতেজ থাকে। এতে দিনের শুরু ইতিবাচক হয় এবং কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের বদলে নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন আনতে পারলে মানসিক চাপ কমবে, মনোযোগ বাড়বে এবং দৈনন্দিন কাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা চোখের গুরুতর সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন: চুল মজবুত ও উজ্জ্বল রাখার সহজ ঘরোয়া উপায়
সকাল সকাল ডেস্ক প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন করলে চুলের গোড়া পুষ্ট হয়, কমতে পারে চুল পড়া ও রুক্ষতা, ফিরতে পারে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন: চুল মজবুত ও উজ্জ্বল রাখার সহজ ঘরোয়া উপায় বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। দূষণ, ধুলোবালি, মানসিক চাপ এবং রাসায়নিকযুক্ত চুলের প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অল্প বয়সেই চুল পড়া, ভেঙে যাওয়া এবং অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে, চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য মিলতে পারে। কেন প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন জরুরি? রাসায়নিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী অনেক সময় অল্প সময়ের জন্য চুলকে সুন্দর দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। অন্যদিকে, ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান সাধারণত মাথার ত্বক ও চুলের গোড়াকে পুষ্টি জোগাতে সহায়ক। তবে কোনও উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে তা ব্যবহার না করাই ভালো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ আমলকির জল চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সহায়ক চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার বহু প্রাচীন। এতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অকালে চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। দুই কাপ জলে এক কাপ শুকনো আমলকি ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। চুল ধোয়ার পর এই জল ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য মিলতে পারে। রিঠা প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে কার্যকর রিঠা একটি পরিচিত প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। এটি মাথার ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ধুলো ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে চুল পরিষ্কার, নরম এবং সতেজ অনুভূত হয়। কয়েকটি রিঠা জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এরপর চুল ধোয়ার পর সেই জল ব্যবহার করলে রাসায়নিক প্রসাধনীর ব্যবহার কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ শিকাকাই চুলকে নরম ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে আয়ুর্বেদে শিকাকাই দীর্ঘদিন ধরে চুলের যত্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকে কোমল ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক হতে পারে। শুকনো শিকাকাই জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে সেই জল দিয়ে চুল ধুলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিমের জল খুশকি ও মাথার ত্বকের সমস্যা কমাতে সহায়ক নিমের জীবাণুনাশক ও ছত্রাকনাশক গুণ মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় উপকারী বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে খুশকি, চুলকানি এবং হালকা সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিমপাতার জল ব্যবহার অনেকেই করে থাকেন। এক মুঠো নিমপাতা জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এরপর সেই জল মাথার ত্বক ও চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তুলসি চুলের বৃদ্ধি ও গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে তুলসি শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেই নয়, চুলের যত্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সহায়ক। কিছু তুলসি পাতা জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই জল চুলে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সবুজ চা চুলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারে সবুজ চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়ার প্রবণতা কমার পাশাপাশি চুলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে পারে। এক কাপ সবুজ চা তৈরি করে ঠান্ডা হওয়ার পর সেই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ঘৃতকুমারী শুষ্কতা দূর করতে কার্যকর ঘৃতকুমারীতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম ও আর্দ্রতা বজায় রাখার উপাদান শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য উপকারী। এটি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকে কোমল রাখতে সাহায্য করে। জলের সঙ্গে ঘৃতকুমারীর শাঁস ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে লাগান। প্রায় ১০ মিনিট পর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, অ্যালার্জি বা মাথার ত্বকের সংক্রমণের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রভাব নিয়মিত প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিলে চুলের গোড়া শক্ত হতে, রুক্ষতা কমতে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে এগুলি কোনও চিকিৎসার বিকল্প নয়। গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সরকারি বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য ত্বক ও চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কোনও উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। নতুন কোনও উপাদান ব্যবহার করার আগে অল্প অংশে পরীক্ষা করে নিন। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চুল সুস্থ রাখার অন্যতম প্রধান উপায়।
সাধ্যের মধ্যে স্ট্রোক চিকিৎসায় বিপ্লব আনবে দেশীয় প্রযুক্তি, দাবি বিশেষজ্ঞদের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর : মস্তিষ্কের বড় শিরাতে জমাট বাঁধা রক্ত অস্ত্রোপচারে এবার ব্যবহৃত হবে দেশের তৈরি ‘যন্ত্র’। দিল্লি এইমস-সহ দেশের মোট আটটি হাসপাতালে স্ট্রোকের চিকিৎসায় ওই যন্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরে তা ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই জানালেন ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’-এ অংশ নেওয়া একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। প্রায় বছরখানেক ধরে ওই পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেশের পূর্বাঞ্চলে একমাত্র অংশ নিয়েছিল কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতাল। সেখানকার স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপ দাস জানান, মস্তিষ্কের ভিতরের বড় শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন রোগী। সাধারণত এক চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। আর, তিন চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে রোগী জীবিত থাকলেও জটিল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তিনি আরও জানান, বড় শিরার ক্ষেত্রে রক্ত গলানোর (থ্রম্বলাইসিস) ওষুধে কাজ হয় না। তখন মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমি করতে হয়। ডাঃ দীপ দাস বলেন, অস্ত্রোপচারে বিদেশি যে স্টেন্ট রিট্রিভার-ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তার দাম প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। দেশীয় যন্ত্রটিতে আমজনতার উপকার হবে। তিনি এও বলেন, প্রায় বছরখানেক যাবৎ ৮টি হাসপাতালের মোট ৪২ জন রোগীর অস্ত্রোপচারে ওই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যন্ত্রটির কার্যকারীতা ও সুরক্ষা বিষয়ক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারপরেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ছাড়পত্র মিলছে। ডাঃ দীপ দাস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, উক্ত প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজির প্রফেসর বিমান কান্তি রায়। পাশাপাশি গ্র্যাভিটি ইন্টারন্যাশনাল এর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডঃ শাশ্বত দেশাই এর বড় ভূমিকা ছিল তৃণমূল স্তরে ট্রায়ালের ক্ষেত্রে। জানা যাচ্ছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য যন্ত্রটি বিদেশে তৈরি হলেও, আগামী দু’মাসের মধ্যে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় সংস্থা সেটি তৈরির কাজ শুরু করবে। তাতে দেশীয় বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ কম দামে যন্ত্রটি মিলবে।
রিনপাসের শতবর্ষ অনুষ্ঠান ৪ তারিখ, মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিমন্ত্রণপত্র প্রদান করলেন
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি, ৩ সেপ্টেম্বর : রাঁচি ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসাইকিয়াট্রি অ্যান্ড এলাইড সায়েন্সেস (রিনপাস) তার প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এই বিশেষ উপলক্ষে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর কাংকে অবস্থিত রিনপাস প্রাঙ্গণে শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের মানসিক স্বাস্থ্য ও সাইকিয়াট্রি ক্ষেত্রে খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ ইরফান আনসারি বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এই আমন্ত্রণ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রী একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনুষ্ঠানের সময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এবং রোগীদের জন্য নতুন প্রকল্পের রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। ডঃ আনসারি বলেন, রিনপাসের শতবর্ষ কেবল প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, এটি ঝাড়খণ্ড এবং সমগ্র দেশের জন্য গৌরবের মুহূর্ত। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। মন্ত্রী আরও জানান, রিনপাসের প্রতিষ্ঠা প্রায় এক শতাব্দী আগে হয়েছিল এবং এটি আজ দেশের নির্বাচিত মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিনপাস শতবর্ষ উদযাপন প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি, ০৩ সেপ্টেম্বর : ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ ইরফান আনসারি বুধবার রাঁচির কাংকে অবস্থিত রাঁচি ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসাইকিয়াট্রি অ্যান্ড এলাইড সায়েন্সেস (রিনপাস)-এর শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই সময়ে বিভাগের কর্মকর্তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। ডঃ আনসারি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠান সফলভাবে এবং সময়মতো সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। মন্ত্রী জানান, রিনপাসের এই শতবর্ষ উদযাপন রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতের ১০০ বছরের গৌরবের সাক্ষী হবে। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের মিডিয়া, আমন্ত্রিত অতিথি, নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রেখে অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য এবং সকল কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য নির্দেশনা দেন। ডঃ আনসারি আরও জানান, এই শতবর্ষ অনুষ্ঠানে মূলমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠান কেবল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি পুরো ঝাড়খণ্ডের জন্য গৌরবের এবং মানসিক রোগীদের জন্য নতুন আশা নিয়ে আসবে।
ভারতে করোনার নতুন ঢেউ এবং চ্যালেঞ্জ
সকাল সকাল ডেস্ক। ডা. আনসার আহমেদ করোনা (কোভিড-১৯)-এর নতুন ঢেউ ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর পরীক্ষা। যদিও টিকাকরণ, পরীক্ষা এবং গণযোগাযোগের স্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবুও অবকাঠামোগত ঘাটতি, অসম প্রবেশাধিকার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি এখনও বিদ্যমান। যদি অতীত থেকে শেখা পাঠ গ্রহণ করে নিরন্তর বিনিয়োগ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা হয়, তবে ভারত কেবল বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। সার্স-কোভ-২ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। মে ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে ৪.৫ কোটিরও বেশি নিশ্চিত কেস এবং ৫.৩৩ লক্ষেরও বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত মৃত্যু হয়েছে। এখন নতুন ভেরিয়েন্টগুলির সাথে কোভিড-১৯-এর একটি নতুন ঢেউ ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আবারও গুরুতর চাপে ফেলেছে। ভারতে কোভিড-১৯-এর প্রথম রোগী ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি শনাক্ত হয়েছিল। উহান (চীন) থেকে ফিরে আসা তিনজন মেডিকেল ছাত্রের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট, যেমন বি.১.৬১৭ (ডেল্টা) এবং বি.১.১.৭ (আলফা) বিশেষ করে ২০২১ সালের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছিল। মে ২০২৫-এ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্ট এবং সরকারি সতর্কতা অনুসারে, জেএন.১-এর মতো নতুন ভেরিয়েন্টগুলির উপস্থিতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আবারও সতর্ক করে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ এবং ভারতীয় সার্স-কোভ-২ জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম (আইএনএসএসিওজি) জিনোমিক নজরদারি জোরদার করেছে। হাসপাতালগুলিতে গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ফ্লু-এর মতো লক্ষণযুক্ত রোগীদের উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। যদিও এই ঢেউয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম, তবুও মাস্ক পরার পরামর্শ এবং সতর্ক নজরদারি এই ভাইরাসের ক্রমাগত হুমকির প্রমাণ দেয়। এই ঢেউয়ের উত্থানের প্রধান কারণগুলির মধ্যে ভেরিয়েন্টগুলির জেনেটিক পরিবর্তনশীলতা অন্যতম। সার্স-কোভ-২-এর ক্রমাগত মিউটেশনের ক্ষমতা বিদ্যমান ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা হ্রাস করেছে। আইএনএসএসিওজি ক্রমাগত নতুন ভেরিয়েন্ট শনাক্ত করতে কাজ করছে, কিন্তু ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে সামগ্রিক জিনোমিক নজরদারি একটি জটিল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, টিকাকরণের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভারত এ পর্যন্ত বিলিয়ন বিলিয়ন ভ্যাকসিন ডোজ বিতরণ করেছে, কিন্তু বুস্টার ডোজের কম হার এবং গ্রামীণ এলাকায় সীমিত প্রবেশাধিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। এর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। পূর্ববর্তী ঢেউ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, বেকারত্ব এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধা জনগণের দুর্বলতা আরও বাড়িয়েছে, যার ফলে নতুন স্বাস্থ্য উদ্যোগের সাফল্য সীমিত হচ্ছে। ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উপর ক্রমবর্ধমান বোঝা অন্যতম। ২০২১ সালের দ্বিতীয় ঢেউ ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। অক্সিজেন, আইসিইউ বেড এবং ভেন্টিলেটরের ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে। সরকার ৬০০-এরও বেশি বিশেষ কোভিড-১৯ কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং রেলওয়ে কোচকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেছে, তবুও গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা আজও অপর্যাপ্ত। ভারতে ডাক্তার থেকে রোগীর অনুপাত ১:১৭০০ এবং অনেক গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কর্মীর ব্যাপক অভাব রয়েছে। পরীক্ষা এবং নজরদারির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৪৯ লক্ষ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কিন্তু রাজ্যগুলির মধ্যে পরীক্ষা সক্ষমতায় অসমতা রয়ে গেছে। বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে পরীক্ষার হার দিল্লির তুলনায় অনেক কম ছিল। জিনোমিক নজরদারি সত্ত্বেও, দ্রুত নির্ণয় এবং একত্রিত পরীক্ষার মতো কৌশলগুলির প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে যাতে সংক্রমণ সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা এবং ক্লান্তি সম্পর্কে সবাই অবগত। স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯-এর সবচেয়ে অগ্রভাগে রয়েছেন। বৈশ্বিক তথ্য অনুসারে, মোট মামলার মধ্যে ৪-১২ শতাংশ মামলা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারতে ৯০ জনেরও বেশি ডাক্তার তাদের জীবন হারিয়েছেন। যদিও প্রতিদিন ছয় লক্ষ পিপিই কিট উৎপাদন শুরু হয়েছিল, তবুও গুণমান এবং বিতরণ সংক্রান্ত সমস্যা রয়ে গেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা ক্ষমতার জন্য হুমকি। সামাজিক এবং আচরণগত বাধার সমস্যাগুলি আলাদা। শহুরে এলাকার ঘনবসতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন করে তোলে। ২০২০ সালের লকডাউন অভিবাসন, বেকারত্ব,এবং খাদ্য সংকটের কারণ হয়েছিল। ভুল তথ্য এবং সামাজিক কলঙ্ক মানুষকে পরীক্ষা বা চিকিৎসা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল। সচেতনতা অভিযান শুরু করা হয়েছিল, কিন্তু আচরণগত পরিবর্তন ধীর এবং অসম ছিল। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযান চালিয়েছিল, যেখানে সিরাম ইনস্টিটিউট দ্বারা নির্মিত কোভিশিল্ড প্রধান ছিল। যদিও বুস্টার ডোজের কম হার এবং গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছানোর সমস্যা আজও বিদ্যমান। আইসিএমআর আরটি-পিসিআর কিটকে অনুমোদন দিয়েছে এবং র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করেছে। সংগৃহীত পরীক্ষা এবং স্ব-পরীক্ষা কিটের মতো ব্যবস্থা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে সহায়ক হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পোস্ট-কোভিড যত্নের উপর জোর দিয়েছে। সাম্প্রতিক নির্দেশিকাগুলিতে সতর্কতা এবং ভারসাম্যের কৌশলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 2021 সালের বাজেটে ওয়ান হেলথ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছিল, যা মানুষ, পশু এবং পরিবেশের সম্মিলিত স্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেয়। এর জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যানিমাল বায়োটেকনোলজি একটি বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি এখনও বিদ্যমান। যেমন জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি 2017-এ জুনোটিক মহামারীর আশঙ্কাকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। টিবি নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাকরণ কর্মসূচিতে প্রভাব পড়েছিল, যেমন 2019 থেকে 2020 সালের মধ্যে টিবি-র ক্ষেত্রে 24 শতাংশের পতন এসেছিল। করোনা মহামারী লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও গভীর করেছিল। মহিলাদের চাকরি হারাতে হয়েছিল এবং যত্নের বোঝাও বেশি পড়েছিল। শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের পথ স্বাস্থ্য বাজেটকে জিডিপি-র ন্যূনতম 2.5 শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সময়ের দাবি। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বিকেন্দ্রীভূত মডেল গ্রহণ করে প্রতিক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে। উচ্চ মানের পিপিই, পর্যাপ্ত স্টাফিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়া উচিত। স্বচ্ছ বার্তা এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে অভিযানগুলি ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে পারে। আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলিকে প্রতিরোধে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রদায়গত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা যেতে পারে। ভ্যাকসিন বিতরণ এবং ভেরিয়েন্ট নজরদারিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভারতের প্রস্তুতিকে সুদৃঢ় করতে পারে।
দেশে কোভিডে মৃত্যু বেড়ে ৩৭, ভয় ধরাচ্ছে নতুন সংক্রমণ
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : ভারতে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৭। অন্যদিকে, মঙ্গলবার গোটা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৪,০২৬। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা দেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন। তবে একদিনে একসঙ্গে একাধিক কোভিড আক্রান্তের মৃত্যু ভয় ধরাচ্ছে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলেছে গুজরাটে। সেখানে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। অন্যদিকে, কেবল গুজরাটে বর্তমানে কোভিড রোগীর সংখ্যা ৩৭২। এর পরেই একদিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে কর্নাটক। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ এর সন্ধান মিলেছে। তবে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে কেরল। সে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১৬ জন। এর পরই স্থান মহারাষ্ট্রের। মঙ্গলবার সে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৪ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাট, চতুর্থ দিল্লি। সেখানে যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত বেশ কয়েক জন রোগী সেরে ওঠায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯৩।
महीने भर में मोटापे से मिलेगा छुटकारा, पेट की चर्बी झट से होगी गायब, अपनाएं ये सुपरफूड्स
खराब जीवनशैली और खानपान मोटापे की बीमारी को जन्म दे रही है. हमारे आसपास कई लोग वजन बढ़ने और मोटापे की समस्या से परेशान मिल जाते हैं.