সকাল সকাল ডেস্ক
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বাড়াতে পারে মানসিক চাপ, চোখের ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখেন
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নেওয়া এখন বহু মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। চোখ খুলেই বার্তা দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো কিংবা খবর পড়া—এসব যেন দিনের শুরুতেই নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং দিনের শুরুতেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
কেন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার ক্ষতিকর?

ঘুমের সময় শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও বিশ্রাম নেয়। ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু সেই সময়ই যদি মোবাইলে অসংখ্য বার্তা, ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য দেখতে শুরু করা হয়, তাহলে মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এবং দিনের শুরুতেই মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে
সকালে ঘুম ভাঙার সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। এই সময় নেতিবাচক খবর, কাজের বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা বিষয় দেখলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হলে তা সারাদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং কাজের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকালটা যতটা সম্ভব শান্তভাবে শুরু করাই ভালো।
চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলের উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকালে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চোখের সুরক্ষার জন্য ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকা এবং সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে

দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালে নিজের কাজের পরিকল্পনা থেকে মন সরে যেতে পারে। অন্যের নানা পোস্ট বা খবরের কারণে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে কাজের গতি, মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর।
যাঁরা নিয়মিত সকালে মোবাইল ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই দিনের শুরুতেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব
মোবাইলের নীল আলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী মেলাটোনিন হরমোনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও রাতে মোবাইল ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, তবুও সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যবহার করাও শরীরের স্বাভাবিক জৈব ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে অস্থিরতা, মানসিক ক্লান্তি এবং সারাদিন অবসাদ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পটভূমি
সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন এবং যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাসও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো। এই সময় এক গ্লাস জল পান, হালকা শরীরচর্চা, ধ্যান, প্রার্থনা, বই পড়া অথবা খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ও মন সতেজ থাকে। এতে দিনের শুরু ইতিবাচক হয় এবং কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের বদলে নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন আনতে পারলে মানসিক চাপ কমবে, মনোযোগ বাড়বে এবং দৈনন্দিন কাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা চোখের গুরুতর সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
No Comment! Be the first one.