সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় বুধবার ধাক্কা খেল দেশের শেয়ার বাজার। দিনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপে সমস্ত লাভ হারায় সেনসেক্স ও নিফটি। দিনের শেষে সেনসেক্স ০.২৪ শতাংশ এবং নিফটি ০.৫২ শতাংশ পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। বাজারের এই দুর্বলতায় একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ কমেছে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা।
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক কড়াকড়ি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে।
দিনের শুরুতে চাঙ্গা ছিল সেনসেক্স
বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ২৩৬.০১ পয়েন্ট বা ০.৩০ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৮৯২.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। বাজার খোলার পর প্রথম আধ ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকটি ৩৩০.৭৫ পয়েন্ট বা ০.৪৩ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৯৮৬.৮৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়।
তবে সেই ঊর্ধ্বগতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিক্রির চাপ বাড়তেই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে সেনসেক্স। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৫১৩.৯০ পয়েন্ট নেমে শেষ পর্যন্ত ১৮৩.১৫ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ পতনের সঙ্গে ৭৭,৪৭২.৯৪ পয়েন্টে বন্ধ হয় সূচক।
২৪,২০৭ পয়েন্টে বন্ধ নিফটি
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৭.৪০ পয়েন্ট বা ০.০৩ শতাংশ বেড়ে ২৪,৩৪১.৯৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শুরু করেছিল। প্রথম দিকে কেনাকাটার জোরে সূচকটি ৪৪.০৫ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ উঠে ২৪,৩৭৮.৬০ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছয়।
প্রথম আধ ঘণ্টার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাজারে বিক্রির চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ১৭০.৮৫ পয়েন্ট নেমে নিফটি শেষ পর্যন্ত ১২৬.৮০ পয়েন্ট বা ০.৫২ শতাংশ পতনের সঙ্গে ২৪,২০৭.৭৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়।
ব্যাঙ্ক ও ধাতু ক্ষেত্রে কেনাকাটা
বাজারে সামগ্রিক পতন হলেও ধাতু এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক ক্ষেত্রের শেয়ারে কেনাকাটা দেখা গিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সূচকও লাভের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ ছিল। পাশাপাশি মোটরগাড়ি, মূলধনী পণ্য, ভোগ্যপণ্য, নিত্যব্যবহার্য পণ্য, তেল ও গ্যাস, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং আবাসন ক্ষেত্রের সূচকও পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে।
ছোট সংস্থার শেয়ারে উল্টো ছবি
বৃহত্তর বাজারে এদিন মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছে। মাঝারি সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় নিফটির মিডক্যাপ সূচক ০.১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ছোট সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটার জোর বজায় ছিল। ফলে নিফটির স্মলক্যাপ সূচক ০.৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বন্ধ হয়েছে।
লগ্নিকারীদের ক্ষতি প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা
বাজারের পতনে একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি কমেছে। বুধবারের লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য কমে প্রায় ৪৯৩.৮২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার তা ছিল প্রায় ৪৯৪.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
বাড়ল ২,৩৭৫টি শেয়ার, কমল ১,৯৪৪টি
বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৪,৫৪০টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২,৩৭৫টি শেয়ার লাভের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে এবং ১,৯৪৪টি শেয়ারের দাম কমেছে। ২২১টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩,১২৭টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৭৩৬টি শেয়ার লাভের সঙ্গে এবং ১,৩৯১টি শেয়ার লোকসানের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মধ্যে ১৩টির শেয়ার বেড়েছে এবং ১৭টির দাম কমেছে। নিফটির ৫০টি সংস্থার মধ্যে ১৪টির শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ৩৬টির শেয়ার নিম্নমুখী ছিল।
লাভের শীর্ষে কোটাক মাহিন্দ্রা
দিনের লেনদেনে কোটাক মাহিন্দ্রার শেয়ার ৩.৭৬ শতাংশ বেড়ে লাভের তালিকায় শীর্ষে ছিল। এছাড়া অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ১.৬২ শতাংশ, জেএসডব্লিউ স্টিল ১.৫৭ শতাংশ, আলট্রাটেক সিমেন্ট ১.৫৩ শতাংশ এবং এইচডিএফসি লাইফ ১.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের শেয়ার ২.৩১ শতাংশ কমেছে। পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন ২.১৪ শতাংশ, ইনফোসিস ২.১০ শতাংশ, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ১.৯৬ শতাংশ এবং নেসলে ১.৮৬ শতাংশ পতনের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
No Comment! Be the first one.