এশিয়ান গেমসের আগে জার্সি বিভ্রাটে ভারতীয় ক্রিকেট দল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : এশিয়ান গেমসের জন্য জাপানের বিমান ধরার ঠিক আগে জার্সি নিয়ে সমস্যায় পড়ল ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে অভিযান শুরু করার কথা শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতের। তার আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে সেদেশের মাটিতে একটি টি-২০ ম্যাচ খেলবে ‘মেন ইন ব্লু’। সেই কারণে রবিবার ভোরেই নাগোয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ভারতীয় দলের। কিন্তু তার আগেই ক্রিকেটারদের জার্সির মাপ নিয়ে সমস্যা সামনে এসেছে। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য তৈরি জার্সির মাপ সঠিক হয়নি। ফলে তাঁদের জন্য নতুন করে সঠিক মাপের জার্সি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ সমস্যার ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে এবং বাকিদের জার্সিও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। সাধারণত ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের কিট প্রস্তুত করে অ্যাডিডাস। কিন্তু এশিয়ান গেমসের জন্য ক্রিকেটারদের কিট তৈরি করেছে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কিট সরবরাহকারী সংস্থা জেএসডব্লিউ ইন্সপায়ার। এশিয়ান গেমসের পাশাপাশি জাপানের বিরুদ্ধে টি-২০ ম্যাচেও সেই কিট পরেই মাঠে নামার কথা ভারতীয় ক্রিকেটারদের। আইওএ-র এক সূত্র সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের কিটের মাপ নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তার অধিকাংশই ইতিমধ্যে ঠিক করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকি কাজ শেষ করে সঠিক মাপের জার্সি ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ এবং এশিয়ান গেমসের জন্য আলাদা জার্সি তৈরি হওয়ার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আপাতত জার্সি বিভ্রাট তৈরি হলেও ভারতীয় দলের জাপান যাত্রায় তার প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়েই শ্রেয়স আইয়ারের দল এশিয়ান গেমসের উদ্দেশে রওনা হবে। তবে শুধু ক্রিকেট দলই নয়, এবারের এশিয়ান গেমসের আগে ভারতের কিট সংক্রান্ত আরও একটি সমস্যা সামনে এসেছে। পুরুষদের পতাকাবাহক হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল শটপুটার তাজিন্দর পাল সিং তুরের। কিন্তু তাঁর অফিসিয়াল গেমস কিট সময়মতো ট্রেনিং বেসে না পৌঁছনোয় নির্ধারিত সময়ে নাগোয়ার উদ্দেশে রওনা হতে পারেননি তিনি। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবর্তে তারকা শুটার মনু ভাকেরের সঙ্গে ভারতের পতাকা বহনের দায়িত্ব পেয়েছেন কবাডি তারকা পবন শেরাওয়াত। এদিকে নাগোয়ায় আয়োজকদের তরফে অ্যাথলিটদের থাকার ব্যবস্থা নিয়েও ভারতীয় শিবিরের একাংশের অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও পুরুষ ক্রিকেট দলের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে শ্রেয়স আইয়ারদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছে বোর্ড। অন্যদিকে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের থাকার বন্দোবস্ত করেছে দেশের অলিম্পিক সংস্থা। ইতিমধ্যেই এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সব মিলিয়ে সোনা ধরে রাখার অভিযান শুরুর আগেই জার্সি ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কিছু সমস্যা সামনে এলেও ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি নির্ধারিত সূচি মেনেই এগোচ্ছে। জাপানের বিরুদ্ধে টি-২০ ম্যাচের পর ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে নামবে শ্রেয়স আইয়ারের দল।
অল্পতেই রেগে যাচ্ছেন? রাগ নিয়ন্ত্রণে কাজে আসতে পারে ৫ অভ্যাস
সকাল সকাল ডেস্ক আজকাল অনেকেই অভিযোগ করেন, সামান্য বিষয়েই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আগে যে ঘটনা সহজেই উপেক্ষা করা যেত, এখন সেটিই বিরক্তি বা রাগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ—বিভিন্ন বিষয় এর নেপথ্যে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ। তবে রাগ যদি ঘন ঘন হয়, অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে কিংবা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত রাগ সম্পর্কের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাগকে শুধু চেপে রাখার চেষ্টা না করে কেন রাগ হচ্ছে এবং রাগের সময় নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি অভ্যাস এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। রাগের কারণ চিহ্নিত করুন: প্রত্যেক মানুষের রাগের পেছনে আলাদা কারণ থাকতে পারে। কেউ যানজটে আটকে গেলে বিরক্ত হন, কেউ কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপে মেজাজ হারান, আবার কারও ক্ষেত্রে পারিবারিক কোনো ঘটনা রাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই রেগে গেলে প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ঠিক কোন বিষয়টি এই অনুভূতির জন্ম দিল। কয়েক দিন ধরে কোন পরিস্থিতিতে বেশি রাগ হচ্ছে, তা লিখে রাখলে নিজের রাগের ধরন ও কারণ বুঝতে সুবিধা হতে পারে। কারণ জানা গেলে সেই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া কীভাবে সামলানো যায়, সেটিও ধীরে ধীরে বোঝা সহজ হয়। প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে কিছুটা সময় নিন: রাগের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আবেগের বশে কাউকে কড়া বার্তা পাঠানো, চিৎকার করা কিংবা তর্ক আরও বাড়িয়ে দেওয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই রাগের সময় সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করার অভ্যাস করা যেতে পারে। ধীরে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া কিংবা উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়া আবেগের তীব্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। শান্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব এড়ানো সহজ হয়। কথা বলার সময় শব্দ বেছে নিন: রাগের মাথায় বলা কিছু কথা পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। ‘তুমি সবসময় এমন করো’ কিংবা ‘তুমি আমাকে কখনও বোঝো না’—এ ধরনের বাক্য অপর পক্ষকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। ফলে ছোট মতপার্থক্যও বড় ঝগড়ায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার পরিবর্তে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলা যেতে পারে। যেমন, ‘এই ঘটনায় আমার খারাপ লেগেছে’ কিংবা ‘আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখছি’—এ ধরনের বাক্যে অভিযোগের সুর তুলনামূলক কম থাকে এবং আলোচনা শান্ত রাখতেও সাহায্য করতে পারে। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন নেই: কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলেই সেই মুহূর্তে তার সমাধান করতে হবে, এমন নয়। রাগের সময় পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো ফল দিতে পারে। তাই নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—এক ঘণ্টা বা এক দিন পরেও কি বিষয়টি একই রকম গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে সেটি নিয়ে তর্ক না বাড়ানোই ভালো হতে পারে। কিছু পরিস্থিতি থেকে সাময়িক দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রতিটি উস্কানিতে প্রতিক্রিয়া না জানানো রাগ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিন: সব সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কারণেই যে মানুষ রেগে যান, তা নয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও খিটখিটে মেজাজের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাসও উপকারী হতে পারে। রাগ সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব বা প্রয়োজনীয়—কোনোটিই নয়। বরং কখন, কেন এবং কীভাবে রাগ হচ্ছে, তা বুঝে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাগ যদি এতটাই বেড়ে যায় যে সম্পর্ক, কাজ বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে, অথবা নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
চুল ভালো রাখতে বায়োটিন, জেনে নিন ৭ উপকার
সকাল সকাল ডেস্ক বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, দূষণ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব পড়ছে চুলের স্বাস্থ্যে। চুল পড়া, গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। এক্ষেত্রে শরীরে বায়োটিনের পর্যাপ্ত উপস্থিতি চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ শরীরে কেরাটিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। কেরাটিন চুলের অন্যতম প্রধান গঠনগত প্রোটিন। বিশেষ করে শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বায়োটিন চুলের গোড়া ও ফলিকলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঝরে পড়ার সমস্যা কমতে পারে। একই সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুল পাতলা ও প্রাণহীন হয়ে পড়লে সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ততা চুলের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়ক। মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সঠিক পুষ্টি প্রয়োজন। বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে চুল পাতলা হওয়া বা চুল পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পুষ্টি চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে। দূষণ, ধুলোবালি, অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এবং রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস চুলকে সুস্থ রাখতে সহায়ক হলেও এসব বাহ্যিক ক্ষতি থেকে বায়োটিন সরাসরি সুরক্ষা দেয়—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বায়োটিন গ্রহণ করলেই চুল দ্রুত বাড়বে বা চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে।
ঘুম থেকে উঠেই এই ভুলগুলো করছেন? সারাদিন থাকতে পারে ক্লান্তি ও অস্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কয়েকটি অভ্যাস সারাদিনের কাজকর্ম ও মনের অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ অনেকেই দিনের শুরুতেই এমন কিছু কাজ করেন, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না দিয়ে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে সকাল হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও প্রাণবন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ও মনকে নতুন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতেই মোবাইল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিংবা চিনিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। ঘুম ভাঙতেই হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না সারারাত বিশ্রামের পর ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে কারও কারও মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এমন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর প্রথমে কিছুক্ষণ বিছানায় বসে হাত-পা আলতোভাবে নড়াচড়া করতে পারেন। সামান্য স্ট্রেচিংয়ের পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়। চোখ খুলেই মোবাইল নয় ঘুম ভাঙতেই মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস এখন অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু দিনের শুরুতেই বিপুল তথ্য, কাজের বার্তা কিংবা নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হওয়া মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। দিনের প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত নিজের শরীর ও মনের জন্য রাখলে সকাল তুলনামূলক শান্তভাবে শুরু করা সম্ভব। সকালে পানি পান করতে ভুলবেন না ঘুমের সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পানি পান করা হয় না। তাই সকালে উঠে পানি পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। একসঙ্গে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি নয় অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে যাঁদের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা পাকস্থলীর অস্বস্তির প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে পানি পান করা যেতে পারে। এরপর নিজের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী নাশতার সঙ্গে বা পরে চা-কফি নেওয়া ভালো। নাস্তায় অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন মিষ্টি খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা সিরিয়াল দিয়ে সকালের নাশতা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে এবং পরে কমে যেতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষুধা, ক্লান্তি বা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সকালের নাশতায় তাই অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে দিনের শুরুতে কিছুটা হাঁটাচলা বা হালকা শরীরচর্চাও করা যেতে পারে। মনের যত্নও জরুরি সকালের ব্যস্ততায় শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া, কয়েক মিনিট শান্তভাবে বসা, মেডিটেশন করা কিংবা নিজের দিনের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া কাজে আসতে পারে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় বড় পার্থক্য তৈরি করে। ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করা, কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর নাশতার মতো সাধারণ অভ্যাস দিয়ে দিনের শুরুটা আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।
হেলমেট পরলেই কি চুল পড়ে? বাইক চালকদের যা জানা জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা অত্যন্ত জরুরি। দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমাতে হেলমেটের বিকল্প নেই। তবে নিয়মিত হেলমেট ব্যবহারে চুল পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট নিজে সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত আঁটসাঁট হেলমেট, দীর্ঘ সময় মাথায় চাপ এবং চুলে বারবার ঘর্ষণ হলে চুলের গোড়ায় টান পড়তে পারে। প্রতিদিন যাঁরা বাইক চালান বা নিয়মিত বাইকে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে হেলমেট নিত্যদিনের সঙ্গী। নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে চুল ও মাথার ত্বকের যত্নও নেওয়া সম্ভব। ভেজা চুলে হেলমেট পরবেন না গোসলের পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর হেলমেট পরা ভালো। মাথার ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমতে পারে। অতিরিক্ত টাইট হেলমেট এড়িয়ে চলুন হেলমেট এমন মাপের হওয়া প্রয়োজন, যাতে সেটি মাথায় সঠিকভাবে বসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে অস্বাভাবিক চাপ বা অস্বস্তি তৈরি করে এমন হেলমেট ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান ও ঘর্ষণ হলে চুল দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত হেলমেট পরিষ্কার করুন দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে হেলমেটের ভিতরে ঘাম, ধুলা, তেল ও ময়লা জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী হেলমেটের ভিতরের প্যাডিং ও পরিষ্কারযোগ্য অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখতে হবে। হেলমেট খোলার সময় চুলে টান দেবেন না হেলমেট পরা বা খোলার সময় চুল আটকে গেলে জোর করে টেনে বের করা উচিত নয়। ধীরে এবং সাবধানে হেলমেট খুলুন। বারবার চুলের গোড়ায় টান পড়লে দীর্ঘমেয়াদে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যের হেলমেট ব্যবহারে সতর্কতা সম্ভব হলে নিজের হেলমেট ব্যবহার করাই ভালো। বিশেষ করে কারও মাথার ত্বকে সংক্রমণ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা থাকলে হেলমেট ভাগাভাগি করা এড়িয়ে চলা উচিত। ব্যক্তিগত হেলমেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। চুল পড়ার জন্য শুধু হেলমেট দায়ী নয় চুল পড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে। তাই হেলমেট ব্যবহারের পর চুল পড়া বেড়েছে মনে হলেই হেলমেটকে একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করলে, মাথার কোনও নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা বা ফাঁকা হয়ে গেলে কিংবা মাথার ত্বকে অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরা বন্ধ করা কোনও সমাধান নয়। বরং সঠিক মাপের হেলমেট ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চুল ও মাথার ত্বকের নিয়মিত যত্ন—এই কয়েকটি অভ্যাসই হতে পারে নিরাপদ বাইকযাত্রার পাশাপাশি চুল ভালো রাখার সহজ উপায়।
ফ্যাশন বদলালেও অমলিন বেনারসি, প্রজন্ম পেরিয়েও কেন এত জনপ্রিয়?
সকাল সকাল ডেস্ক সময় বদলায়, তার সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশনের ধরন ও পোশাকের নকশা। কখনও সাবেকি সাজ ফিরে আসে নতুন রূপে, কখনও আবার আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যায় চেনা পোশাক। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেও বেনারসি শাড়ির আবেদন যেন একই রকম অটুট। বিয়ের সাজ থেকে উৎসব—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির পছন্দের তালিকায় বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। বেনারসি শুধু একটি পোশাক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্য, স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগ। সময়ের সঙ্গে বেনারসির নকশা এবং পরার ধরনে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্যবাহী বুনন ও কারুকাজ এখনও সমানভাবে আকর্ষণীয়। সাবেকি বুননেই বেনারসির বিশেষত্ব বর্তমানে বাজারে বেনারসি নামে নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। তবে ঐতিহ্যবাহী বেনারসির মূল আকর্ষণ তার সূক্ষ্ম বুনন, সোনালি বা রূপালি জরির কাজ এবং নকশায়। অতিরিক্ত চাকচিক্যের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুকাজই একটি খাঁটি বেনারসিকে অন্য শাড়ির থেকে আলাদা করে দেয়। শাড়ির পাড়ে সাধারণত সোনালি বা রূপালি জরির সূক্ষ্ম কাজ দেখা যায়। শাড়ির শরীরজুড়ে থাকতে পারে ফুল, জালি কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে আঁচল। ভারী জরির কাজের সঙ্গে ফুল, কল্কা ও অন্যান্য নকশা বেনারসির আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে তোলে। বিয়ের সাজে এখনও বিশেষ কদর বাঙালি বিয়ের সঙ্গে বেনারসির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নববধূর সাজে বেনারসি ছিল প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের সঙ্গে বিয়ের পোশাকে নানা নতুন ধারা এলেও সেই ঐতিহ্য এখনও হারিয়ে যায়নি। ফুল ও কল্কা নকশার সাবেকি বেনারসি এখনও অনেকের প্রথম পছন্দ। শুধু বিয়ে নয়, পুজো, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অন্য কোনও বিশেষ উপলক্ষেও বেনারসি বেছে নেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী গয়না ও সাজের সঙ্গে এই শাড়ি সহজেই এনে দেয় আভিজাত্যের ছোঁয়া। মায়ের বেনারসিতে স্মৃতি ও আবেগ বেনারসির জনপ্রিয়তার পিছনে শুধু তার সৌন্দর্য নয়, রয়েছে আবেগও। বহু পরিবারেই মায়ের বিয়ের বেনারসি পরে মেয়েকে নতুন সাজে দেখা যায়। কখনও আবার একটি শাড়ি এক প্রজন্ম থেকে পৌঁছে যায় পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। ফলে পুরনো বেনারসি হয়ে ওঠে শুধুই শাড়ি নয়, পরিবারের স্মৃতি ধরে রাখার মাধ্যম। তার প্রতিটি ভাঁজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরনো দিনের গল্প এবং প্রিয় মানুষের স্মৃতি। টেকসই ফ্যাশনেও গুরুত্বপূর্ণ খাঁটি হাতে বোনা বেনারসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার স্থায়িত্ব। সঠিকভাবে যত্ন নিলে একটি ভালো বেনারসি বহু বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি একই শাড়ি প্রজন্মের পর প্রজন্মও ব্যবহার করা যায়। বারবার নতুন পোশাক কেনার পরিবর্তে পুরনো শাড়িকে সংরক্ষণ ও পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রবণতা টেকসই ফ্যাশনের ধারণার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেন অমলিন বেনারসির আবেদন? ফ্যাশনের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রবণতা আসে। কিছু জনপ্রিয়তা পায়, আবার কিছু সময়ের সঙ্গে হারিয়েও যায়। কিন্তু বেনারসির আবেদন শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট সময়ের ফ্যাশনের উপর নির্ভরশীল নয়। সূক্ষ্ম বুনন, জরির কারুকাজ, ফুল-কল্কার চিরচেনা নকশার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য, পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগই বেনারসিকে আলাদা করে রেখেছে। তাই প্রজন্ম বদলালেও বাঙালির সাজে বেনারসি আজও চিরন্তন।
বর্ষার বিকেলে বাড়িতেই বানান মুচমুচে রাম লাড্ডু
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষার দিনে গরম গরম পকোড়া বা ভাজাভুজির স্বাদই আলাদা। আর সেই তালিকায় রাম লাড্ডু থাকলে জমে যায় বিকেলের জলখাবার। বাইরে মুচমুচে এবং ভিতরে নরম রাম লাড্ডুর সঙ্গে টক-মিষ্টি চাটনি স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে বর্ষায় বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। তাই চাইলে বাড়িতেই সহজ উপায়ে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু রাম লাড্ডু। রাম লাড্ডু তৈরির উপকরণ ছোলার ডাল ১ কাপ, মুগ ডাল ১ কাপ, হিং এক চিমটি, জিরে ১ চা চামচ, বেকিং সোডা এক চিমটি, আদা ১ ইঞ্চি, কাঁচা লঙ্কা ২টি, ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো তেল এবং স্বাদমতো নুন। চাট সাজানোর জন্য মিহি করে কুচোনো ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ, সবুজ চাটনি আধ কাপ, তেঁতুলের চাটনি আধ কাপ, সামান্য আমচুর গুঁড়ো, চাট মশলা এবং স্বাদমতো বিট নুন বা কালো নুন। কীভাবে তৈরি করবেন? প্রথমে একটি বড় পাত্রে ছোলার ডাল ও মুগ ডাল নিয়ে পর্যাপ্ত জলে অন্তত চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল ভালোভাবে ঝরিয়ে নিন। ভেজানো ডালের সঙ্গে আদা ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। প্রয়োজন হলে সামান্য জল দেওয়া যেতে পারে। তবে মিশ্রণটি যেন খুব বেশি পাতলা না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার তৈরি করা ডালের মিশ্রণ একটি পাত্রে নিয়ে তাতে জিরে, হিং, বেকিং সোডা এবং স্বাদমতো নুন দিন। কয়েক মিনিট ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এতে মিশ্রণটি হালকা হবে এবং ভাজার পরে রাম লাড্ডুর ভিতরের অংশ নরম হতে সাহায্য করবে। কড়াইয়ে প্রয়োজনমতো তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে ডালের মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে ছোট বলের আকারে তেলে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজুন। চারদিক সোনালি-বাদামি ও মুচমুচে হয়ে গেলে তেল থেকে তুলে নিন। এবার পরিবেশনের পালা একটি প্লেটে চার-পাঁচটি গরম রাম লাড্ডু রাখুন। তার উপর স্বাদ অনুযায়ী সবুজ চাটনি ও তেঁতুলের চাটনি দিন। মিহি করে কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে তার উপর সামান্য চাট মশলা, আমচুর গুঁড়ো এবং বিট নুন ছড়িয়ে দিন। ব্যস, তৈরি বর্ষার বিকেলের মুচমুচে রাম লাড্ডু। গরম চা কিংবা পছন্দের পানীয়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে জমে যাবে বর্ষার বিকেলের জলখাবার।
বর্ষায় সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার রাখুন এই ৫ জিনিস
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দিলেও বাতাসে ও ঘরের ভিতরে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে এই সময়ে খাবার থেকে অসুস্থতা, ত্বকের সংক্রমণ ও বিভিন্ন অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়তে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি শুধু বাইরের কাদা বা বৃষ্টির জলেই সীমাবদ্ধ নয়। ঘরের এমন কিছু নিত্যব্যবহার্য জিনিস রয়েছে, যেগুলি আমরা বারবার স্পর্শ করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করি না। বর্ষায় কেন বাড়ে জীবাণুর ঝুঁকি? ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য আর্দ্রতা, অনুকূল তাপমাত্রা এবং জৈব পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বর্ষায় এই পরিবেশ সহজেই তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নাঘর ও বাথরুমের ভেজা কাপড়, স্পঞ্জ এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় অণুজীব বৃদ্ধির সুযোগ বেশি থাকে। তাই ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ভেজা জিনিস দ্রুত শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। ১. রান্নাঘরের স্পঞ্জ রান্নাঘরের স্পঞ্জের ছোট ছোট ছিদ্রে খাবারের কণা ও জল আটকে থাকতে পারে। ফলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। ব্যবহারের পরে স্পঞ্জ ভালোভাবে ধুয়ে জল চিপে বের করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে রাখুন। দুর্গন্ধ, রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নোংরা হয়ে গেলে স্পঞ্জ বদলে ফেলাই নিরাপদ। ২. মোবাইল ফোন ও কভার হাত থেকে শুরু করে পকেট, ব্যাগ ও টেবিল—সারা দিনে বিভিন্ন জায়গার সংস্পর্শে আসে মোবাইল ফোন। তাই ফোন ও তার কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। ফোন প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে উপযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করুন। ফোনের উপর সরাসরি তরল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার করার আগে যন্ত্রটি বন্ধ করে নেওয়াও ভালো। ৩. দরজার হাতল, সুইচবোর্ড ও রিমোট বাড়ির সদস্যরা দিনে বহুবার দরজার হাতল, বৈদ্যুতিক সুইচ এবং টিভির রিমোট স্পর্শ করেন। তাই এগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জীবাণুনাশক দিয়ে সামান্য ভেজানো কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক বা বৈদ্যুতিন যন্ত্রের উপর সরাসরি কোনও তরল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ৪. টুথব্রাশ রাখার পাত্র ও বেসিন বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। টুথব্রাশ রাখার পাত্র নিয়মিত ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। বেসিনও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখলে স্যাঁতসেঁতে ভাব কমানো সম্ভব। ৫. জলের বোতল ও ঢাকনা প্রতিদিন ব্যবহৃত জলের বোতল বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখালেও ঢাকনা, মুখ বা স্ট্রয়ের মতো অংশে অণুজীবের আস্তরণ জমতে পারে। তাই প্রতিদিন সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে বোতল এবং ঢাকনার প্রতিটি অংশ ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে চলা ভালো। বর্ষাকালে ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এই ধরনের ঘন ঘন স্পর্শ করা জিনিসগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পরিষ্কার করা, ভেজা জিনিস শুকিয়ে রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে জীবাণু ও ছত্রাক বৃদ্ধির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেতে পারে।
নাকের কালো দাগ দূর করতে সহজ ত্বক পরিচর্যা
সকাল সকাল ডেস্ক নাক ও গালে ছোট ছোট কালচে দাগ বারবার ফিরে আসা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। পরিষ্কার করার পর কিছুদিন ত্বক স্বাভাবিক দেখালেও ফের দেখা দিতে পারে ব্ল্যাকহেডস। সাধারণ এই ত্বকের সমস্যা সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু ব্ল্যাকহেডস তুলে ফেললেই হবে না, কেন সেগুলি তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে পুনরায় হওয়া কমানো যায়, সেটিও জানা জরুরি। কেন তৈরি হয় ব্ল্যাকহেডস? ত্বকের লোমকূপে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ জমে মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হতে পারে। নিয়মিত মৃত কোষ পরিষ্কার না করা, ভারী ময়েশ্চারাইজার বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার, অপরিষ্কার হাতে বারবার মুখ স্পর্শ করা এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘামের কারণেও সমস্যা বাড়তে পারে। ঘরে কীভাবে যত্ন নেবেন? মুখে হালকা ভাপ নিলে ত্বকের উপরিভাগ নরম হতে পারে এবং জমে থাকা তেল পরিষ্কার করা সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত গরম ভাপ বা দীর্ঘক্ষণ ভাপ নেওয়া উচিত নয়। ত্বকের মৃত কোষ দূর করার জন্য মৃদু এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। তবে আখরোট বা কফির মতো শক্ত ও খসখসে দানাযুক্ত স্ক্রাব দিয়ে জোরে ঘষলে ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত ও জ্বালা তৈরি হতে পারে। তাই কোমল পদ্ধতি বেছে নেওয়াই ভালো। ক্লে বা চারকোলযুক্ত ফেস মাস্ক অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হলে এগুলি ঘন ঘন ব্যবহার না করাই ভালো। ব্ল্যাকহেডসের ক্ষেত্রে রেটিনয়েডযুক্ত ত্বক পরিচর্যার পণ্যও উপকারী হতে পারে। সাধারণত রাতে এগুলি ব্যবহার করা হয় এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালা বা সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ফিরে আসা কমাতে কী করবেন? দিনে দু’বার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। এতে ত্বকে জমে থাকা তেল, ঘাম ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ দূর হয়। ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও মেকআপের ক্ষেত্রে লোমকূপ বন্ধ করে না—এমন ‘নন-কমেডোজেনিক’ পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার অভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত স্ক্রাব বা ব্ল্যাকহেডস চেপে বের করার চেষ্টা এড়িয়ে চলুন। বালিশের কভার নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং মুখ মোছার জন্য পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন। সঠিক পরিচর্যার পরেও ব্ল্যাকহেডস খুব বেশি হলে বা ব্রণ, লালভাব ও প্রদাহ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বারবার পরিচিত নাম-শব্দ মনে পড়ছে না? কখন বুঝবেন সতর্ক হওয়ার সময়
সকাল সকাল ডেস্ক পরিচিত কোনও মানুষের নাম জানা আছে, জায়গাটিও চেনা, এমনকি কোনও সাধারণ শব্দও বহুবার ব্যবহার করেছেন—তবু প্রয়োজনের মুহূর্তে কিছুতেই মনে পড়ছে না। মনে হচ্ছে উত্তরটি যেন জিভের ডগায় আটকে রয়েছে। কিছুক্ষণ পর আবার আচমকাই মনে পড়ে গেল। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সকলেরই হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’। মাঝে মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেই স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। সাধারণত এটি মস্তিষ্কের স্মৃতি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। তবে পরিচিত নাম বা শব্দ মনে করতে না পারার ঘটনা যদি ঘন ঘন ঘটতে শুরু করে, ক্রমশ বাড়ে কিংবা দৈনন্দিন কথাবার্তায় সমস্যা তৈরি করে, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন পরিচিত শব্দ মনে পড়ে না? ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’-এর সময় শব্দটি সাধারণত স্মৃতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। বরং নির্দিষ্ট মুহূর্তে সেই শব্দটি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য মনে থাকে, অথচ ঠিক শব্দটিই মুখে আসে না। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট পরে কোনও বিশেষ চেষ্টা ছাড়াই সেটি আবার মনে পড়তে পারে। ভাষা ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে পড়ে। এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেলে পরিচিত শব্দও মনে করতে অসুবিধা হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং ক্লান্তি সাময়িকভাবে তথ্য মনে করার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি থেকে কোনও তথ্য খুঁজে বের করার গতি কিছুটা কমে যাওয়াও স্বাভাবিক। তাই মাঝেমধ্যে কারও নাম বা কোনও শব্দ মনে না পড়া মানেই স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? সমস্যা যদি আগের তুলনায় বাড়তে থাকে, নিয়মিত কথাবার্তায় বাধা সৃষ্টি করে কিংবা স্মৃতি ও চিন্তাভাবনার অন্য পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অবসাদ, উদ্বেগ, শ্রবণশক্তির সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও স্মৃতি ও মনোযোগের পরিবর্তন যুক্ত থাকতে পারে। বারবার পরিচিত মানুষের নাম বা সাধারণ শব্দ ভুলে যাওয়া, অন্যের কথার ধারা অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া কিংবা নিজের বক্তব্য ঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা দৈনন্দিন পরিচিত কাজ করতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। হঠাৎ সমস্যা হলে জরুরি চিকিৎসা শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং তার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। শব্দ মনে না পড়লে কী করবেন? কোনও শব্দ মনে না এলে সেটি জোর করে মনে করার চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ অন্যদিকে মন দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে শব্দটির অর্থ বা সেটি কী বোঝায়, তা অন্যভাবে বর্ণনা করে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া যায়। পরে আবার শব্দটি মনে করার চেষ্টা করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা ও নিয়মিত মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাসও উপকারী। সুতরাং, মাঝেমধ্যে পরিচিত কোনও নাম বা শব্দ মনে না পড়া সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই সমস্যা যদি বারবার হতে থাকে, ক্রমশ বাড়ে বা তার সঙ্গে আচরণ, স্মৃতি, ভাষা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।