২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করলেন বড়কাগাঁওয়ের বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গিরিডিহের সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী। বৈঠকে বিধায়ক জানান, বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ একর জমি আগেই চিহ্নিত করা হলেও সেটি এখনও সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের এখনও অস্থায়ী ভবনে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। রোশনলাল চৌধুরী আরও বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দ্রুত জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের উদ্যোগ এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। বৈঠকের পর বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হলে পাত্রাতু, রামগড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
ডুরান্ড কাপে দুরন্ত সূচনা জামশেদপুর এফসির, ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি: ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাল জামশেদপুর এফসি। শ্রীলঙ্কার ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করল আইএসএল-এর দলটি। ম্যাচের নায়ক রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ একাই হ্যাটট্রিক করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে জামশেদপুর। খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রতিপক্ষ সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই অষ্টম মিনিটে আবারও গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এরপরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে জামশেদপুর। ২৩তম মিনিটে আমন সি. কে. দলের তৃতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ৩৯তম মিনিটে দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচ কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় জামশেদপুর। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্ডার্স এফসি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও জামশেদপুরের শক্তিশালী রক্ষণভাগ তাদের কোনও সুযোগই দেয়নি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার ব্যর্থ করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায় ভারতীয় দলটি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ। নিজের তৃতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সেই ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় জামশেদপুরের। হ্যাটট্রিকের সুবাদে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পান রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ। এছাড়া আমন সি. কে. ও দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর একটি করে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই একতরফা ৫-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল জামশেদপুর এফসি। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্সে তারা যে এ বারের অন্যতম দাবিদার, তা স্পষ্ট করে দিল এই জয়।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেবঘরে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা, ৩০ জুলাই থেকে বাড়ছে রেল পরিষেবা
সকাল সকাল ডেস্ক ধানবাদ, ২৬ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের দেবঘরে বসবে বিশ্বখ্যাত শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর এই সময় বাবা বৈদ্যনাথ ধামে জলাভিষেক করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল একাধিক ‘শ্রাবণ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রবিবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে রাঁচি-ভাগলপুর শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা। রেল সূত্রে জানা গেছে, রাঁচি ও ভাগলপুরের মধ্যে দুটি জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। একটি ট্রেন বোকারো, গোমো, কোডারমা ও তিলাইয়া হয়ে চলবে, অন্যটি বরকাকানা ও হাজারিবাগ টাউন রুট ব্যবহার করবে। দুটি ট্রেনই সুলতানগঞ্জ হয়ে ভাগলপুর পৌঁছাবে, যাতে বৈদ্যনাথ ধামে যাওয়া পুণ্যার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল ট্রেনে একটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, সাতটি শয়নযান এবং সাতটি সাধারণ শ্রেণির কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে মহারাষ্ট্রের ইতওয়ারি থেকে মধুপুর পর্যন্ত আরও একটি শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই ট্রেন রাঁচি, বোকারো, চন্দ্রপুরা, কাত্রাস এবং ধানবাদ হয়ে যাতায়াত করবে। এতে চারটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, ১০টি শয়নযান এবং চারটি সাধারণ কোচ থাকবে। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল (০৮৬৯০) আগামী ২৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি রবিবার ও বুধবার চলবে। রাঁচি থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে বোকারো, চন্দ্রপুরা ও গোমো হয়ে পরদিন সকালে সুলতানগঞ্জ ও ভাগলপুর পৌঁছাবে। ভাগলপুর-রাঁচি স্পেশাল (০৮৬৮৯) ২৭ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলবে। ভাগলপুর থেকে সকালে ছেড়ে সুলতানগঞ্জ, গোমো, চন্দ্রপুরা ও বোকারো হয়ে রাতে রাঁচিতে পৌঁছাবে। এছাড়া ইতওয়ারি-মধুপুর স্পেশাল (০৮৮৯৫) ১ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি শনিবার চলবে। ফেরার পথে মধুপুর-ইতওয়ারি স্পেশাল (০৮৮৯৬) ২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি রবিবার চলবে। শ্রাবণী মেলার সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে যশিডিহ স্টেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পাঁচ মিনিটের বিশেষ বিরতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, জন শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং বাবা বৈদ্যনাথ এক্সপ্রেসসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি স্টপেজের ফলে শ্রাবণী মেলায় আগত লক্ষাধিক ভক্তের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
আইনি সচেতনতার পাশাপাশি ১০৫ জন উপভোক্তার হাতে ১০৫.৯৪ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ও সুবিধা তুলে দিল ডিএলএসএ
পশ্চিম সিংভূম: ঝাড়খণ্ড রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রবিবার কোলহান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সভাগৃহে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএলএসএ) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি বৃহৎ আইনি ক্ষমতায়ন শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছবে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় উদ্যোগ ঝাড়খণ্ড সরকারের
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়া। এতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৭২০টি নতুন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা, গর্ভবতী মহিলা, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৭২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৫০টি অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট (এএলএস), ২৭০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) এবং ৪০০টি পেশেন্ট ট্রান্সপোর্ট ভেহিকল (পিটিভি) থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিটিভি অ্যাম্বুলেন্সগুলি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (সিএইচসি) ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, এএলএস অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রাখা হবে। ড. আনসারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ছোট আকারের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাকি ৬৯০টি অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত সেগুলি পরিষেবায় যুক্ত করা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝাড়খণ্ডের কোনও নাগরিক যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সময়মতো প্রত্যেকের কাছে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
কংগ্রেসের ন্যূনতম নৈতিকতা থাকলে ঝাড়খণ্ড সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুক: রঘুবর দাস
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন রাজ্যপাল রঘুবর দাস। শনিবার রাঁচিতে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, নিট ইস্যুতে আন্দোলন করলেও ঝাড়খণ্ডে পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে কংগ্রেস সম্পূর্ণ নীরব। রঘুবর দাস বলেন, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আরজেডি, আম আদমি পার্টি ও বাম দলগুলি ছাত্রদের স্বার্থের কথা বললেও ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র অনিয়ম নিয়ে কোনও অবস্থান নিচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, জেপিএসসি-তে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরও রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস কেন রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইছেন না। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের যদি সামান্যও নৈতিকতা থাকে, তবে ছাত্রদের স্বার্থে ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে শুরু করে অতীতের সব নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের সিবিআই তদন্তের দাবি জানান তিনি। রঘুবর দাসের অভিযোগ, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন দায়িত্ব এমন একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, যেটি এর আগে জেএসএসসি কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। কীভাবে সেই সংস্থা আবার দায়িত্ব পেল, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে একসঙ্গে নয়টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা স্থগিত হওয়া এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় দেশের মধ্যে ঝাড়খণ্ড শীর্ষস্থানে রয়েছে। সাঁওতালি ভাষার প্রশ্নপত্রে পাঠ্যক্রমের বাইরে প্রশ্ন, প্রবেশপত্র ডাউনলোডে সমস্যাসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, আবগারি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার দৌড়ে প্রাণ হারানো ১৯ জন শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদিকে, কেন্দ্রের নতুন কড়া পেপার লিক বিরোধী আইনকে স্বাগত জানিয়ে রঘুবর দাস বলেন, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক প্ররোচনায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা, ভিআইপি-ভিভিআইপি দর্শনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক দেওঘর, ২৫ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য সরকারি শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে সামনে রেখে শনিবার দেওঘর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঝাড়খণ্ডের নগর উন্নয়ন, উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমার। বৈঠকে দেওঘরের জেলা প্রশাসক সৌরভ কুমার ভুবানিয়া এবং দুমকার জেলা প্রশাসক অভিজিৎ সিনহা বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুদিব্য কুমার বলেন, মেলা শুরুর আগেই ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জলাভিষেক করতে পারেন এবং বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রাবণী মেলা চলাকালীন আউট অব টার্ন দর্শন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ ভক্তদের দর্শনে কোনও অসুবিধা হবে না। আগামী ২৯ জুলাই ফের দেওঘর ও দুমকার তীর্থযাত্রী পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে মেলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ট্রাফিক পোস্ট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, মাতৃত্ব বিশ্রামগৃহ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনটি টেন্ট সিটিতে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে মিস্ট কুলিং ব্যবস্থা এবং ‘ইন্দ্র বর্ষা’ স্প্রে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওঘর ও বাসুকীনাথের মধ্যে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সমন্বিত মেলা কন্ট্রোল রুম, এআই ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্যাভিলিয়ন এবং কিউআর কোডভিত্তিক অভিযোগ ও মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভক্তরা সরাসরি প্রশাসনকে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিকাঠামো এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভক্তবান্ধব হবে।
বাচিক মঞ্জরী’র কবিতা ও শ্রুতি নাটকে মুখর ‘বর্ষা মঙ্গল’ অনুষ্ঠান
সকাল সকাল ডেস্ক চিত্রদীপ ভট্টাচার্য জামশেদপুর: শহরের অন্যতম বাচিক শিল্পীদের সংগঠন ‘বাচিক মঞ্জরী’-র উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হল বর্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বর্ষা মঙ্গল’। কবিতা আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক এবং বর্ষার আবহে সাজানো মনোজ্ঞ পরিবেশনায় দর্শকদের মন জয় করে নেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিশুদের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। এরপর স্বপ্না চ্যাটার্জি ও বিটপী দাশগুপ্ত পরিবেশন করেন ‘আষাঢ়’ কবিতা। সুস্মিতা গাঙ্গুলীর আবৃত্তি ‘বানভাসি’ মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করেন। অমিত রায় ও মুনমুন রায় পরিবেশন করেন একটি শ্রুতি নাটক, যা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মিঠু মণ্ডল আবৃত্তি করেন ‘আজ যেন খুব মেঘ করেছে’, পূরবী ঘোষ শোনান ‘বর্ষার দিনে’ এবং কেকা সরকার, সুমিতা ঘোষ তাঁদের আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। চন্দ্রা দেব, সরস্বতী দাস ও অনুমিত্রা রায় যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘বৃষ্টি নামল যখন’। শ্রাবণী মিত্র ও ইতি সেনগুপ্ত তাঁদের আবৃত্তি দিয়ে বর্ষার আবেগকে আরও গভীর করে তোলেন। অরূপ ঘোষ, সোনালী মিত্র ও দোলন ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘শ্রাবণের ধারার মতো’। মৌসুমী ঘোষ হাজরা আবৃত্তি করেন আঞ্চলিক কবিতা ‘আশা’। এরপর মিঠু মণ্ডল, রিংকু নন্দী, চম্পা ধর ও রুমা মুখার্জির পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে। মলয় আচার্য আবৃত্তি করেন ‘কোলাজ’ ও ‘বৃষ্টি যখন নামে’। শ্রাবণী চৌধুরী, চৈতালি পানি ও আন্না গাঙ্গুলী পরিবেশন করেন ‘নব বর্ষা’। কমলা মুখার্জী, দেবশ্রী সেনগুপ্ত, মনীষা ঘোষ, সোমা ব্যানার্জি ও রূপা লাহিড়ী যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘কবিতা কোলাজ’। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষক ও আবৃত্তিকার সব্যসাচী চন্দ্র তাঁর স্বকীয় ভঙ্গিতে কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেদন এবং বাংলা কবিতার আবেগময় পরিবেশনায় ‘বর্ষা মঙ্গল’ হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
কুমিরমুড়ি গ্রামের ছেলে থেকে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা, রবি রাজ মুর্মুর সাফল্যের গল্প
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৪ জুলাই: ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার জাদুগোড়ার কুমিরমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ মুর্মু আজ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক। ছোট্ট গ্রাম থেকে বড় স্বপ্ন দেখার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন। ২০০৮ সালে জ্যোতি ফেলোশিপ-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে রবির পথচলা শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ পান। পরে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ভিডিও প্রোডাকশনে বিশেষজ্ঞ হন। সেই সময় টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘সমুদায় কে সাথ (এসকেএস)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা সিনেমার মাধ্যমে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের গল্প বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে। এসকেএস-এর অধীনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য কমিউনিটি বিভাগে পুরস্কার পান রবি। এই স্বীকৃতি তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তিনি শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং এসকেএস-এর মেন্টর হিসেবেও কাজ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। টাটা স্টিল রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বর্তমানে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, এ ইন্টার্নশিপের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ নথিবদ্ধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, মানুষের গল্পই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে সামনে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রবি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তথ্যচিত্র, গবেষণাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, প্রচারচিত্র এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করেন। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, জিও হটস্টার এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-র বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও ট্রেলার এডিটর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৬ সালে তাঁর আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র ‘অঙ্গেন’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এই সম্মান শুধু রবির সাফল্যই নয়, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গল্প বলার ঐতিহ্যকেও জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেয়। রবির লক্ষ্য এখন আদিবাসী সমাজের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ঝাড়খণ্ডের মৌলিক গল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা। তাঁর সাফল্যের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।