ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ৭টি স্থানে অভিযান ইডি-র
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৮ সেপ্টেম্বর: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক (জেএসসিবি) সম্পর্কিত অর্থ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার অভিযান চালালো| ইডি-র রাঁচি আঞ্চলিক কার্যালয় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মোট সাতটি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। জানা গেছে, ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সরাইকেলা শাখায় সংঘটিত বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান। তদন্তে দেখা গেছে যে ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার ডালমিয়া জেএসসিবি-র তৎকালীন ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যাঙ্কের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতারণা করেন। ইডি-র এই অভিযান ব্যবসায়ী সঞ্জয় ডালমিয়া এবং তৎকালীন ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থানগুলোর ওপর কেন্দ্র করে চালানো হচ্ছে। তল্লাশি চলাকালীন সংস্থাটি আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ লেনদেন এবং সম্পত্তি অধিগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে। এই মামলায় জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত করতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।
যশবন্ত সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ সুবোধকান্ত সহায়ের
বিহার-ঝাড়খণ্ডের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আলোচনা সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি/হাজারিবাগ: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধকান্ত সহায় শুক্রবার হাজারিবাগ যাওয়ার পথে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী তথা ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিরোধী প্রার্থী যশবন্ত সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হাজারিবাগে যশবন্ত সিনহার বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। দুই প্রবীণ নেতার আলোচনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উঠে আসে। পাশাপাশি নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পুরনো ঘটনা ও স্মৃতিও ভাগ করে নেন তাঁরা। সুবোধকান্ত সহায় ও যশবন্ত সিনহা দু’জনেই অতীতে ঝাড়খণ্ড থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সুবোধকান্ত সহায় রাঁচি এবং যশবন্ত সিনহা হাজারিবাগ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় কংগ্রেস নেতা সুনীল কুমার সহায়-সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে গ্রেফতার, জানালো সিআইডি
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১০ আগস্ট : ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে-কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। রাঁচিতে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সিআইডি জানিয়েছে, প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার বিষয়ে সিবিআই-এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জেপিএসসি ও জেএসএসসি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। ‘ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন’-এর (জেপিএসসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান হলেন এল খিয়াংতে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মধ্যেই খিয়াংতের গ্রেফতারিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন খিয়াংতে। প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার সকালে ‘বিধানসভা মার্চ’ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরীক্ষায় তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে পড়ুয়াদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। জাতীয় পতাকা, পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নতুন বিধানসভা ভবনের দিকে এগোতে থাকে। পড়ুয়াদের রুখতে পুরনো বিধানসভার কাছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছিল পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে থাকে। চতুর্থ ব্যারিকেডটিও পার করে পড়ুয়ারা বিধানসভা থেকে মাত্র ১০০ মিটারের দূরত্বে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতে এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভকারীদের থামাতে জলকামানও ব্যবহার করে।
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করলেন বড়কাগাঁওয়ের বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গিরিডিহের সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী। বৈঠকে বিধায়ক জানান, বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ একর জমি আগেই চিহ্নিত করা হলেও সেটি এখনও সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের এখনও অস্থায়ী ভবনে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। রোশনলাল চৌধুরী আরও বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দ্রুত জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের উদ্যোগ এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। বৈঠকের পর বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হলে পাত্রাতু, রামগড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
ডুরান্ড কাপে দুরন্ত সূচনা জামশেদপুর এফসির, ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি: ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাল জামশেদপুর এফসি। শ্রীলঙ্কার ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করল আইএসএল-এর দলটি। ম্যাচের নায়ক রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ একাই হ্যাটট্রিক করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে জামশেদপুর। খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রতিপক্ষ সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই অষ্টম মিনিটে আবারও গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এরপরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে জামশেদপুর। ২৩তম মিনিটে আমন সি. কে. দলের তৃতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ৩৯তম মিনিটে দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচ কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় জামশেদপুর। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্ডার্স এফসি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও জামশেদপুরের শক্তিশালী রক্ষণভাগ তাদের কোনও সুযোগই দেয়নি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার ব্যর্থ করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায় ভারতীয় দলটি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ। নিজের তৃতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সেই ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় জামশেদপুরের। হ্যাটট্রিকের সুবাদে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পান রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ। এছাড়া আমন সি. কে. ও দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর একটি করে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই একতরফা ৫-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল জামশেদপুর এফসি। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্সে তারা যে এ বারের অন্যতম দাবিদার, তা স্পষ্ট করে দিল এই জয়।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেবঘরে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা, ৩০ জুলাই থেকে বাড়ছে রেল পরিষেবা
সকাল সকাল ডেস্ক ধানবাদ, ২৬ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের দেবঘরে বসবে বিশ্বখ্যাত শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর এই সময় বাবা বৈদ্যনাথ ধামে জলাভিষেক করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল একাধিক ‘শ্রাবণ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রবিবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে রাঁচি-ভাগলপুর শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা। রেল সূত্রে জানা গেছে, রাঁচি ও ভাগলপুরের মধ্যে দুটি জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। একটি ট্রেন বোকারো, গোমো, কোডারমা ও তিলাইয়া হয়ে চলবে, অন্যটি বরকাকানা ও হাজারিবাগ টাউন রুট ব্যবহার করবে। দুটি ট্রেনই সুলতানগঞ্জ হয়ে ভাগলপুর পৌঁছাবে, যাতে বৈদ্যনাথ ধামে যাওয়া পুণ্যার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল ট্রেনে একটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, সাতটি শয়নযান এবং সাতটি সাধারণ শ্রেণির কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে মহারাষ্ট্রের ইতওয়ারি থেকে মধুপুর পর্যন্ত আরও একটি শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই ট্রেন রাঁচি, বোকারো, চন্দ্রপুরা, কাত্রাস এবং ধানবাদ হয়ে যাতায়াত করবে। এতে চারটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, ১০টি শয়নযান এবং চারটি সাধারণ কোচ থাকবে। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল (০৮৬৯০) আগামী ২৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি রবিবার ও বুধবার চলবে। রাঁচি থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে বোকারো, চন্দ্রপুরা ও গোমো হয়ে পরদিন সকালে সুলতানগঞ্জ ও ভাগলপুর পৌঁছাবে। ভাগলপুর-রাঁচি স্পেশাল (০৮৬৮৯) ২৭ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলবে। ভাগলপুর থেকে সকালে ছেড়ে সুলতানগঞ্জ, গোমো, চন্দ্রপুরা ও বোকারো হয়ে রাতে রাঁচিতে পৌঁছাবে। এছাড়া ইতওয়ারি-মধুপুর স্পেশাল (০৮৮৯৫) ১ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি শনিবার চলবে। ফেরার পথে মধুপুর-ইতওয়ারি স্পেশাল (০৮৮৯৬) ২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি রবিবার চলবে। শ্রাবণী মেলার সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে যশিডিহ স্টেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পাঁচ মিনিটের বিশেষ বিরতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, জন শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং বাবা বৈদ্যনাথ এক্সপ্রেসসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি স্টপেজের ফলে শ্রাবণী মেলায় আগত লক্ষাধিক ভক্তের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
আইনি সচেতনতার পাশাপাশি ১০৫ জন উপভোক্তার হাতে ১০৫.৯৪ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ও সুবিধা তুলে দিল ডিএলএসএ
পশ্চিম সিংভূম: ঝাড়খণ্ড রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রবিবার কোলহান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সভাগৃহে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএলএসএ) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি বৃহৎ আইনি ক্ষমতায়ন শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছবে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় উদ্যোগ ঝাড়খণ্ড সরকারের
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়া। এতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৭২০টি নতুন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা, গর্ভবতী মহিলা, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৭২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৫০টি অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট (এএলএস), ২৭০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) এবং ৪০০টি পেশেন্ট ট্রান্সপোর্ট ভেহিকল (পিটিভি) থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিটিভি অ্যাম্বুলেন্সগুলি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (সিএইচসি) ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, এএলএস অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রাখা হবে। ড. আনসারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ছোট আকারের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাকি ৬৯০টি অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত সেগুলি পরিষেবায় যুক্ত করা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝাড়খণ্ডের কোনও নাগরিক যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সময়মতো প্রত্যেকের কাছে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
কংগ্রেসের ন্যূনতম নৈতিকতা থাকলে ঝাড়খণ্ড সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুক: রঘুবর দাস
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন রাজ্যপাল রঘুবর দাস। শনিবার রাঁচিতে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, নিট ইস্যুতে আন্দোলন করলেও ঝাড়খণ্ডে পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে কংগ্রেস সম্পূর্ণ নীরব। রঘুবর দাস বলেন, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আরজেডি, আম আদমি পার্টি ও বাম দলগুলি ছাত্রদের স্বার্থের কথা বললেও ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র অনিয়ম নিয়ে কোনও অবস্থান নিচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, জেপিএসসি-তে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরও রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস কেন রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইছেন না। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের যদি সামান্যও নৈতিকতা থাকে, তবে ছাত্রদের স্বার্থে ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে শুরু করে অতীতের সব নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের সিবিআই তদন্তের দাবি জানান তিনি। রঘুবর দাসের অভিযোগ, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন দায়িত্ব এমন একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, যেটি এর আগে জেএসএসসি কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। কীভাবে সেই সংস্থা আবার দায়িত্ব পেল, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে একসঙ্গে নয়টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা স্থগিত হওয়া এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় দেশের মধ্যে ঝাড়খণ্ড শীর্ষস্থানে রয়েছে। সাঁওতালি ভাষার প্রশ্নপত্রে পাঠ্যক্রমের বাইরে প্রশ্ন, প্রবেশপত্র ডাউনলোডে সমস্যাসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, আবগারি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার দৌড়ে প্রাণ হারানো ১৯ জন শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদিকে, কেন্দ্রের নতুন কড়া পেপার লিক বিরোধী আইনকে স্বাগত জানিয়ে রঘুবর দাস বলেন, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক প্ররোচনায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান।