রামগড়ে গড়ে উঠবে পর্যটন সার্কিট, একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনে জেলাশাসক
রামগড়: ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রবিবার জেলাশাসক ঋতুরাজ জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
আদর্শ জনজাতি মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে উলিহাতুর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জোর
কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বৃজ নন্দন প্রসাদ শনিবার খুঁটি সফরে এসে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মস্থান উলিহাতুর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মো. জাভেদ হুসেনের উপস্থিতিতে সমাহরণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘উলিহাতু ট্রাইবাল ফ্রিডম ফাইটার মডেল ভিলেজ’ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয় সুস্থ মা এবং পুষ্টিসম্পন্ন শিশুর মাধ্যমে : অন্নপূর্ণা
কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী শনিবার ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই) সংলাপ অনুষ্ঠানে ‘সম্মিলিত দায়িত্ব’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি গর্ভধারণের শুরু থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত, অর্থাৎ জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের মাতৃপুষ্টি ও সঠিক পরিচর্যাকে জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, বৈদ্যনাথধাম-বাসুকীনাথে মোতায়েন হবে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে অনুষ্ঠিতব্য শ্রাবণী মেলা-২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তর সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মেলা চলবে ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিহার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘর পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁভারিয়া পথের নিরাপত্তার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান শাখার মহাপরিদর্শক নরেন্দ্র কুমার সিং জানান, মেলাকে শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে গোটা মেলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে ৩ আগস্ট, ১০ আগস্ট, ১৭ আগস্ট (নাগপঞ্চমী) এবং ২৪ আগস্ট—এই চারটি সোমবারে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২৯ জুলাই আষাঢ় পূর্ণিমার দিন দেওঘরের দুম্মায় ঝাড়খণ্ড প্রবেশদ্বারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শ্রাবণী মেলার সময় বিহারের সুলতানগঞ্জ থেকে উত্তরবাহিনী গঙ্গার পবিত্র জল কাঁধে নিয়ে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ভক্তরা বাবা বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে জলাভিষেক করেন। পরে বহু ভক্ত বাসুকীনাথধামেও পুজো দিতে যান। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার তিন লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসমের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত আসবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শেষ সোমবার, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে। মেলা উপলক্ষে কাঁভারিয়া পথে অতিরিক্ত পুলিশ টহল, সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট, সিসিটিভি নজরদারি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহণে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি গুজব রটনাকারী, ছিনতাইকারী, প্রতারক, নারী হয়রানিকারী এবং লাইনে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য পদপিষ্ট হওয়া, ভারী বৃষ্টি বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক, ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। শিশুদের জন্য খোঁজ-খবর কেন্দ্র, বিশ্রামশিবির, পানীয় জল, শৌচাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। শ্রাবণী মেলার নিরাপত্তায় দেওঘর ও বাসুকীনাথে ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে থাকবেন এটিএস, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ), ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার, সিআরপিএফ-এর মহিলা ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানি, এনডিআরএফ, বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকের বিশেষ শাখার সদস্যরা। ড্রোন ও অত্যাধুনিক সিসিটিভির মাধ্যমে মেলা এলাকা ও কাঁভারিয়া পথের সার্বক্ষণিক নজরদারিও চালানো হবে।
সিএসআর তহবিল পাইয়ে দেওয়ার নামে এনজিওর কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগে আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বিস্টুপুর সাইবার অপরাধ থানার পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে পুনর্নির্মিত পিস্কা ও মুরি রেলস্টেশনের সূচনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের পিস্কা রেলস্টেশনে অমৃত ভারত স্টেশন যোজনা-র অধীনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় ঝাড়খণ্ডের পিস্কা ও মুড়ি রেলস্টেশনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত কুখ্যাত মাওবাদী অজয় মাহতো গ্রেফতার
রাঁচি: গিরিডিহ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত কুখ্যাত মাওবাদী অজয় মাহতো ওরফে ‘টাইগার’-কে অস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর সক্রিয় সদস্য অজয় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ধরনাদা নদীর উপর সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী, বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বহু গ্রাম
ঝাড়খণ্ডের খুঁটি জেলার কাররা প্রখণ্ডের কুদলুম পঞ্চায়েতের ধরনাদা নদীর উপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দিগাদোন, পাত্রা মুচিয়া-সহ কয়েক ডজন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতি বর্ষায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলেই নদীর জলস্তর বেড়ে যায় এবং এই গ্রামগুলির সঙ্গে মূল সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যাতায়াত, কৃষিকাজ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানিয়েও কার্যকর উদ্যোগ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
রাঁচি রোটারির নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত পৃথিবী গড়ছে রোটারি’
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, রোটারি ক্লাব অব রাঁচির ৭৩তম পদস্থাপনা অনুষ্ঠান করমটোলি চকের সেলিব্রেশন সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল এবং সম্পাদক ভাবনা তনেজা, প্রাক্তন গভর্নর তথা ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীরের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী ও সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়াকে কলার পরিয়ে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী ভাবেশানন্দজি মহারাজ। তিনি বলেন, সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবকল্যাণে রোটারি যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে, তার ইতিবাচক প্রভাব আগামী প্রজন্মের উপর পড়বে। তাঁর মতে, রোটারি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন, রোটারির মূলমন্ত্র ‘সার্ভিস অ্যাবাভ সেলফ’ বা নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ অনুসরণ করে প্রতিটি রোটারিয়ান সমাজসেবায় যে ভূমিকা পালন করছেন, তা ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশিষ্ট অতিথি সরলা বিড়লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জগন্নাথন চোকালিঙ্গম বলেন, রোটারি ক্লাব বরাবরই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর মতে, ভারতের প্রতিভা, দক্ষতা ও সম্পদের কোনো অভাব নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো ছোট ছোট দায়িত্বই একটি উন্নত সমাজ গড়ে তোলে। এই ক্ষেত্রে রোটারিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সহকারী গভর্নর ড. বিনয় ধাঁঢানিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোটারিয়ানরা মানবসেবার কাজ করে চলেছেন এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল ২০২৫-২৬ বর্ষে ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, সদস্যদের সম্মিলিত ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলেই একাধিক বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রোটারির লক্ষ্য শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। আগামী এক বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোটারির ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। ২০২৬-২৭ বর্ষে রোটারি রাঁচি আরও বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে মাস্টার অব সিরেমনি গৌরব বাগারয় বলেন, রোটারির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই পোলিওর মতো দুরারোগ্য ব্যাধি আজ বিশ্ব থেকে প্রায় নির্মূল হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ক্লাবের নতুন সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া বলেন, সমাজকল্যাণে রোটারির প্রতিটি পদক্ষেপ যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা কাজ করবেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাক্তন গভর্নর অজয় ছাবড়া। তিনি বলেন, রোটারি শুধু একটি সেবামূলক সংগঠন নয়, এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিন্তাধারা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মঞ্চ। সংবেদনশীল মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অজয় মারু, লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন গভর্নর বি. কে. গদিয়ান, অনিল সিং, রাজীব মোদি, সুমিত আগরওয়াল, সঞ্জয় কাশ্যপ, সুরেশ সাবু, মনোজ তিওয়ারি, দীপক শ্রীবাস্তব, মুকেশ তনেজা, অজয় জৈন, ড. আনন্দ সিনহা, পবন জয়সওয়াল, প্রিয়াঙ্কা ত্রিপাঠী, হিতেশ ভগত, মেঘা জৈন, রোহন সুদ, ড. অনির্বাণ সান্যাল-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এদিন ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ললিত ত্রিপাঠী, সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া, কোষাধ্যক্ষ গিরিশ আগরওয়াল, সহ-সভাপতি ভাবনা তনেজা, মনোনীত সভাপতি হিতেশ ভগত, ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীর এবং অন্যান্য পরিচালক ও পদাধিকারীরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে রোটারি রাঁচি আগামী দিনে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ভারত টেক্স ২০২৬-এ নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/রাঁচি: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ভারত টেক্স ২০২৬-এর তৃতীয় দিনেও ঝাড়খণ্ড প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব সিংভূম জেলার বহড়াগোড়ার অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টারের তৈরি বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ দেশ-বিদেশের ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা বহন করছে। বাঁশ ও স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি বিশেষ বোতলটি গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের তাপমাত্রা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে বাঁশ, স্টেনলেস স্টিল এবং খাদ্য-নিরাপদ প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করে তৈরি মগে পানীয়ের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে। রাজ্য সরকারের মতে, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ভারত টেক্স ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তসর রেশম, ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃত পণ্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প এবং বাঁশ-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সামগ্রীর মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করছে। অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টার শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকেই নতুন রূপ দিচ্ছে না, বরং আধুনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যও তৈরি করছে। লেজার কাটিং, লেজার খোদাই, সিএনসি রাউটিং এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশা তৈরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস্টারটি বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করছে। এবারের ভারত টেক্স ২০২৬-এ ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঝাড়খণ্ডের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্প ও বাঁশ-ভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।