শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা, ভিআইপি-ভিভিআইপি দর্শনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক দেওঘর, ২৫ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য সরকারি শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে সামনে রেখে শনিবার দেওঘর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঝাড়খণ্ডের নগর উন্নয়ন, উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমার। বৈঠকে দেওঘরের জেলা প্রশাসক সৌরভ কুমার ভুবানিয়া এবং দুমকার জেলা প্রশাসক অভিজিৎ সিনহা বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুদিব্য কুমার বলেন, মেলা শুরুর আগেই ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জলাভিষেক করতে পারেন এবং বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রাবণী মেলা চলাকালীন আউট অব টার্ন দর্শন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ ভক্তদের দর্শনে কোনও অসুবিধা হবে না। আগামী ২৯ জুলাই ফের দেওঘর ও দুমকার তীর্থযাত্রী পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে মেলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ট্রাফিক পোস্ট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, মাতৃত্ব বিশ্রামগৃহ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনটি টেন্ট সিটিতে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে মিস্ট কুলিং ব্যবস্থা এবং ‘ইন্দ্র বর্ষা’ স্প্রে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওঘর ও বাসুকীনাথের মধ্যে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সমন্বিত মেলা কন্ট্রোল রুম, এআই ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্যাভিলিয়ন এবং কিউআর কোডভিত্তিক অভিযোগ ও মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভক্তরা সরাসরি প্রশাসনকে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিকাঠামো এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভক্তবান্ধব হবে।
বাচিক মঞ্জরী’র কবিতা ও শ্রুতি নাটকে মুখর ‘বর্ষা মঙ্গল’ অনুষ্ঠান
সকাল সকাল ডেস্ক চিত্রদীপ ভট্টাচার্য জামশেদপুর: শহরের অন্যতম বাচিক শিল্পীদের সংগঠন ‘বাচিক মঞ্জরী’-র উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হল বর্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বর্ষা মঙ্গল’। কবিতা আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক এবং বর্ষার আবহে সাজানো মনোজ্ঞ পরিবেশনায় দর্শকদের মন জয় করে নেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিশুদের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। এরপর স্বপ্না চ্যাটার্জি ও বিটপী দাশগুপ্ত পরিবেশন করেন ‘আষাঢ়’ কবিতা। সুস্মিতা গাঙ্গুলীর আবৃত্তি ‘বানভাসি’ মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করেন। অমিত রায় ও মুনমুন রায় পরিবেশন করেন একটি শ্রুতি নাটক, যা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মিঠু মণ্ডল আবৃত্তি করেন ‘আজ যেন খুব মেঘ করেছে’, পূরবী ঘোষ শোনান ‘বর্ষার দিনে’ এবং কেকা সরকার, সুমিতা ঘোষ তাঁদের আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। চন্দ্রা দেব, সরস্বতী দাস ও অনুমিত্রা রায় যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘বৃষ্টি নামল যখন’। শ্রাবণী মিত্র ও ইতি সেনগুপ্ত তাঁদের আবৃত্তি দিয়ে বর্ষার আবেগকে আরও গভীর করে তোলেন। অরূপ ঘোষ, সোনালী মিত্র ও দোলন ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘শ্রাবণের ধারার মতো’। মৌসুমী ঘোষ হাজরা আবৃত্তি করেন আঞ্চলিক কবিতা ‘আশা’। এরপর মিঠু মণ্ডল, রিংকু নন্দী, চম্পা ধর ও রুমা মুখার্জির পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে। মলয় আচার্য আবৃত্তি করেন ‘কোলাজ’ ও ‘বৃষ্টি যখন নামে’। শ্রাবণী চৌধুরী, চৈতালি পানি ও আন্না গাঙ্গুলী পরিবেশন করেন ‘নব বর্ষা’। কমলা মুখার্জী, দেবশ্রী সেনগুপ্ত, মনীষা ঘোষ, সোমা ব্যানার্জি ও রূপা লাহিড়ী যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘কবিতা কোলাজ’। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষক ও আবৃত্তিকার সব্যসাচী চন্দ্র তাঁর স্বকীয় ভঙ্গিতে কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেদন এবং বাংলা কবিতার আবেগময় পরিবেশনায় ‘বর্ষা মঙ্গল’ হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
কুমিরমুড়ি গ্রামের ছেলে থেকে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা, রবি রাজ মুর্মুর সাফল্যের গল্প
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৪ জুলাই: ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার জাদুগোড়ার কুমিরমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ মুর্মু আজ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক। ছোট্ট গ্রাম থেকে বড় স্বপ্ন দেখার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন। ২০০৮ সালে জ্যোতি ফেলোশিপ-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে রবির পথচলা শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ পান। পরে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ভিডিও প্রোডাকশনে বিশেষজ্ঞ হন। সেই সময় টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘সমুদায় কে সাথ (এসকেএস)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা সিনেমার মাধ্যমে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের গল্প বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে। এসকেএস-এর অধীনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য কমিউনিটি বিভাগে পুরস্কার পান রবি। এই স্বীকৃতি তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তিনি শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং এসকেএস-এর মেন্টর হিসেবেও কাজ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। টাটা স্টিল রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বর্তমানে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, এ ইন্টার্নশিপের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ নথিবদ্ধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, মানুষের গল্পই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে সামনে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রবি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তথ্যচিত্র, গবেষণাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, প্রচারচিত্র এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করেন। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, জিও হটস্টার এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-র বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও ট্রেলার এডিটর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৬ সালে তাঁর আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র ‘অঙ্গেন’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এই সম্মান শুধু রবির সাফল্যই নয়, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গল্প বলার ঐতিহ্যকেও জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেয়। রবির লক্ষ্য এখন আদিবাসী সমাজের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ঝাড়খণ্ডের মৌলিক গল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা। তাঁর সাফল্যের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
রামগড়ে গড়ে উঠবে পর্যটন সার্কিট, একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনে জেলাশাসক
রামগড়: ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রবিবার জেলাশাসক ঋতুরাজ জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
আদর্শ জনজাতি মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে উলিহাতুর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জোর
কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বৃজ নন্দন প্রসাদ শনিবার খুঁটি সফরে এসে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মস্থান উলিহাতুর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মো. জাভেদ হুসেনের উপস্থিতিতে সমাহরণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘উলিহাতু ট্রাইবাল ফ্রিডম ফাইটার মডেল ভিলেজ’ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয় সুস্থ মা এবং পুষ্টিসম্পন্ন শিশুর মাধ্যমে : অন্নপূর্ণা
কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী শনিবার ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই) সংলাপ অনুষ্ঠানে ‘সম্মিলিত দায়িত্ব’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি গর্ভধারণের শুরু থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত, অর্থাৎ জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের মাতৃপুষ্টি ও সঠিক পরিচর্যাকে জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, বৈদ্যনাথধাম-বাসুকীনাথে মোতায়েন হবে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে অনুষ্ঠিতব্য শ্রাবণী মেলা-২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তর সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মেলা চলবে ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিহার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘর পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁভারিয়া পথের নিরাপত্তার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান শাখার মহাপরিদর্শক নরেন্দ্র কুমার সিং জানান, মেলাকে শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে গোটা মেলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে ৩ আগস্ট, ১০ আগস্ট, ১৭ আগস্ট (নাগপঞ্চমী) এবং ২৪ আগস্ট—এই চারটি সোমবারে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২৯ জুলাই আষাঢ় পূর্ণিমার দিন দেওঘরের দুম্মায় ঝাড়খণ্ড প্রবেশদ্বারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শ্রাবণী মেলার সময় বিহারের সুলতানগঞ্জ থেকে উত্তরবাহিনী গঙ্গার পবিত্র জল কাঁধে নিয়ে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ভক্তরা বাবা বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে জলাভিষেক করেন। পরে বহু ভক্ত বাসুকীনাথধামেও পুজো দিতে যান। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার তিন লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসমের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত আসবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শেষ সোমবার, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে। মেলা উপলক্ষে কাঁভারিয়া পথে অতিরিক্ত পুলিশ টহল, সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট, সিসিটিভি নজরদারি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহণে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি গুজব রটনাকারী, ছিনতাইকারী, প্রতারক, নারী হয়রানিকারী এবং লাইনে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য পদপিষ্ট হওয়া, ভারী বৃষ্টি বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক, ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। শিশুদের জন্য খোঁজ-খবর কেন্দ্র, বিশ্রামশিবির, পানীয় জল, শৌচাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। শ্রাবণী মেলার নিরাপত্তায় দেওঘর ও বাসুকীনাথে ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে থাকবেন এটিএস, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ), ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার, সিআরপিএফ-এর মহিলা ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানি, এনডিআরএফ, বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকের বিশেষ শাখার সদস্যরা। ড্রোন ও অত্যাধুনিক সিসিটিভির মাধ্যমে মেলা এলাকা ও কাঁভারিয়া পথের সার্বক্ষণিক নজরদারিও চালানো হবে।
সিএসআর তহবিল পাইয়ে দেওয়ার নামে এনজিওর কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগে আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বিস্টুপুর সাইবার অপরাধ থানার পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে পুনর্নির্মিত পিস্কা ও মুরি রেলস্টেশনের সূচনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের পিস্কা রেলস্টেশনে অমৃত ভারত স্টেশন যোজনা-র অধীনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় ঝাড়খণ্ডের পিস্কা ও মুড়ি রেলস্টেশনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত কুখ্যাত মাওবাদী অজয় মাহতো গ্রেফতার
রাঁচি: গিরিডিহ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত কুখ্যাত মাওবাদী অজয় মাহতো ওরফে ‘টাইগার’-কে অস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর সক্রিয় সদস্য অজয় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।