সকাল সকাল ডেস্ক।
কোডারমা : কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী শনিবার ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই) সংলাপ অনুষ্ঠানে ‘সম্মিলিত দায়িত্ব’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি গর্ভধারণের শুরু থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত, অর্থাৎ জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের মাতৃপুষ্টি ও সঠিক পরিচর্যাকে জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয় সুস্থ মা এবং পুষ্টিসম্পন্ন শিশুর মাধ্যমে। জীবনের প্রথম ১,০০০ দিন একটি শিশুর শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আজীবন সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই মাতৃ ও শিশুপুষ্টিকে শুধু সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সমগ্র সমাজের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরকাঠা বিধায়ক অমিত কুমার, জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক কানক কুমারী তির্কি, কোডারমার সিভিল সার্জন ডা. অনিল কুমার, জেলা শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিক ডা. রেখা রানি, উমেশ বর্মা-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক। এছাড়া গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা, নববিবাহিত নারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, অগ্রণী স্বাস্থ্যকর্মী, যুবক-যুবতী, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

‘সম্মিলিত দায়িত্ব’ অভিযানের মূল লক্ষ্য মাতৃপুষ্টি এবং জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা ও জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। এই অভিযানের মূল বার্তা— ‘মাতৃপুষ্টির বন্ধনে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’। এই বার্তার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে যে পরিবার, সমাজ, অগ্রণী স্বাস্থ্যকর্মী, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একযোগে প্রত্যেক গর্ভবতী নারী ও প্রতিটি শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগ করে নিলেই একটি সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে শুরু করে মাতৃগর্ভ থেকেই। জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনে করা বিনিয়োগ একজন মানুষের সারাজীবনের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সময়েই মস্তিষ্কের সর্বাধিক বিকাশ ঘটে, শরীরের শক্ত ভিত গড়ে ওঠে এবং শেখার ক্ষমতা বিকশিত হয়। তিনি বলেন, একজন সুস্থ ও পুষ্টিসম্পন্ন মা-ই সুস্থ, সক্ষম ও আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর।
No Comment! Be the first one.