কৃষি, পশুপালন ও সমবায় দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ
সকাল সকাল ডেস্ক।
রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন শুক্রবার ঝাড়খণ্ড মন্ত্রালয়ে কৃষি, পশুপালন ও সমবায় দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী শিল্পী নেহা তির্কিও উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, রাজ্য সরকারের কৃষককল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি সার, বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি-সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বৈঠকে কৃষক ক্রেডিট কার্ড, পশুধন উন্নয়ন প্রকল্প, বীজ ও সার বিতরণ, কোল্ড স্টোরেজ, ল্যাম্পস-প্যাকস, সমবায় সমিতি, কৃষি বিপণন এবং জলসম্পদের পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে গ্রাম বা পঞ্চায়েতকে চিহ্নিত করে মডেল কৃষক পাঠশালা চালু করতে হবে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৫৭টি কৃষক পাঠশালা চালু রয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাঁচিতে যেমন রাজ্যস্তরের কৃষি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে, তেমনই আগামী দিনে প্রতিটি বিভাগীয় সদরেও কৃষি বাণিজ্য মেলার আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ডাল ও মিলেট (মোটা শস্য) চাষ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই এই ক্ষেত্রে ভালো ফল মিলেছে এবং ঝাড়খণ্ডে মিলেট উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কম বৃষ্টিপাত হয় এমন জেলাগুলিতে কৃষকদের ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
হেমন্ত সোরেন বলেন, কিষান সমৃদ্ধি যোজনা-র আওতায় সৌরশক্তিচালিত পাম্পসেট কৃষকদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করতে হবে, যাতে সেচের খরচ কমে এবং বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা হ্রাস পায়। তিনি পিএম কুসুম যোজনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জারেডা (JAREDA)-র সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
রাজ্যে কম বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কৃষি ও পশুপালন খাতে আগাম কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে পালামু বিভাগের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় ধানের পরিবর্তে কম জলপ্রয়োজনীয় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার কথা বলেন। পাশাপাশি জৈবচাষ, বাণিজ্যিক কৃষি এবং জল সংরক্ষণভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঝাড়খণ্ডের একটি বড় অংশের মানুষ কৃষি ও কৃষিনির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি রাজ্যে মাশরুম চাষের প্রসারে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, মাশরুম চাষিদের তালিকাভুক্ত করা এবং মহিলা কৃষকদের নিয়ে উৎপাদক গোষ্ঠী গঠন করে মাশরুম উৎপাদন ও স্পন তৈরির প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেন।
এছাড়া মৌমাছি পালনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৌচাষিদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক (এপ্রন বা পিপিই ধরনের কিট) সরবরাহের নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
No Comment! Be the first one.