ধরনাদা নদীর উপর সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী, বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বহু গ্রাম

সকাল সকাল ডেস্ক।
খুঁটি : ঝাড়খণ্ডের খুঁটি জেলার কাররা প্রখণ্ডের কুদলুম পঞ্চায়েতের ধরনাদা নদীর উপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দিগাদোন, পাত্রা মুচিয়া-সহ কয়েক ডজন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতি বর্ষায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলেই নদীর জলস্তর বেড়ে যায় এবং এই গ্রামগুলির সঙ্গে মূল সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যাতায়াত, কৃষিকাজ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানিয়েও কার্যকর উদ্যোগ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
বর্ষা শুরু হলেই ধরনাদা নদী ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। প্রবল স্রোতের কারণে নদী পারাপার জীবনহানির ঝুঁকিতে পরিণত হয়। ফলে দিগাদোন, পাত্রা মুচিয়া-সহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ দিনের পর দিন মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যা দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়ারা। নদীর জল বেড়ে গেলে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, ফলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ব্যাহত হয়। অভিভাবকদের বক্তব্য, প্রবল স্রোতের মধ্যে সন্তানদের নদী পার করানো সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে অনেক স্কুলেই এই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে আসে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
স্বাস্থ্য পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে প্রখণ্ড, পঞ্চায়েত বা জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। অনেক সময় এই বিলম্ব গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বর্ষাকালে অ্যাম্বুল্যান্সও গ্রামে পৌঁছাতে পারে না। বাধ্য হয়ে রোগীদের খাটিয়া বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হয়।
গ্রামবাসীদের দাবি, ধরনাদা নদীর প্রবল স্রোত অতীতেও একাধিক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তিন-চার বছর আগে এক স্কুলপড়ুয়া নদী পার হওয়ার সময় স্রোতে ভেসে মারা যায়। এছাড়া মার্শাল হেরেঞ্জও নদী পারাপারের সময় নিখোঁজ হন। পরে তাঁর দেহ ধরনাদা নদীর চেক ড্যামের কাছে উদ্ধার করা হয়।
এইসব মর্মান্তিক ঘটনার পরও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বড় দুর্ঘটনা না ঘটলে তাঁদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
দিগাদোন গ্রামের প্রধান প্যারা মিন্জ জানান, ধরনাদা নদীর উপর সেতুর দাবি বহু বছরের পুরনো। প্রতি বছর বর্ষায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর মতে, সেতু নির্মিত হলে যাতায়াত সহজ হবে, শিশুদের পড়াশোনা, কৃষকদের জীবিকা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
পাত্রা মুচিয়া গ্রামের প্রধান জানান, সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবিতে বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সাংসদ কালীচরণ মুন্ডা, বিধায়ক রাম সূর্য মুন্ডা, জেলা প্রশাসন এবং তৎকালীন গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী নীলকণ্ঠ সিং মুন্ডার কাছেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছিল। আশ্বাস মিললেও এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
গ্রামের বাসিন্দা প্রভা বাখলা, অর্চনা মিন্জ এবং রূপুস আইন্দ বলেন, বছরের পর বছর সেতুর দাবি জানানো হলেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেননি। তাঁদের অভিযোগ, আজও মৌলিক পরিকাঠামোর অভাবে গ্রামীণ মানুষকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Read More News

শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, বৈদ্যনাথধাম-বাসুকীনাথে মোতায়েন হবে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে...

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে পুনর্নির্মিত পিস্কা ও মুরি রেলস্টেশনের সূচনা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের...

Read More