সকাল সকাল ডেস্ক।
পূর্ব সিংভূম : কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগে আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বিস্টুপুর সাইবার অপরাধ থানার পুলিশ।
ধৃতের নাম অমন কুমার সিং ওরফে রঘু (২৯)। তিনি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সরাইকেলা-খরসাওয়ান জেলার আদিত্যপুরে বসবাস করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ভিভো সংস্থার একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সিটি পুলিশ সুপার ললিত কুমার মীণা জানান, রীনা পাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন সাইবার অপরাধ থানায় দু’জন নামজাদাসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ‘হোপ হেল্প ফর অল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিওকে সিএসআর তহবিল পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। বিশ্বাস অর্জনের পর সংস্থার নামে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে একটি চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খোলা হয়। পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার অজুহাতে সংস্থার চেকবই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় প্রতারকরা।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেই অভিযুক্তরা সংস্থার ই-মেল আইডি এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মোবাইলে নিয়ে নিয়েছিল। এরপর ২২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ অমন কুমার সিং সংস্থার পরিচালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে লখনউ নিয়ে যায় এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি নিজের দখলে নেয়। পরে অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে মিলে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ কোটি টাকা জমা ও উত্তোলন করে অপব্যবহার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তরা এনজিওর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিষেবার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই সুযোগেই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে সংস্থার বড় আর্থিক ক্ষতি করা হয়।
ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রতারণা চক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের লেনদেনের গতিপথও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
No Comment! Be the first one.