সকাল সকাল ডেস্ক
রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে অনুষ্ঠিতব্য শ্রাবণী মেলা-২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তর সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মেলা চলবে ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত।
পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিহার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘর পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁভারিয়া পথের নিরাপত্তার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযান শাখার মহাপরিদর্শক নরেন্দ্র কুমার সিং জানান, মেলাকে শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে গোটা মেলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশেষ করে ৩ আগস্ট, ১০ আগস্ট, ১৭ আগস্ট (নাগপঞ্চমী) এবং ২৪ আগস্ট—এই চারটি সোমবারে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২৯ জুলাই আষাঢ় পূর্ণিমার দিন দেওঘরের দুম্মায় ঝাড়খণ্ড প্রবেশদ্বারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
শ্রাবণী মেলার সময় বিহারের সুলতানগঞ্জ থেকে উত্তরবাহিনী গঙ্গার পবিত্র জল কাঁধে নিয়ে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ভক্তরা বাবা বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে জলাভিষেক করেন। পরে বহু ভক্ত বাসুকীনাথধামেও পুজো দিতে যান। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার তিন লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসমের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত আসবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শেষ সোমবার, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।
মেলা উপলক্ষে কাঁভারিয়া পথে অতিরিক্ত পুলিশ টহল, সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট, সিসিটিভি নজরদারি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহণে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি গুজব রটনাকারী, ছিনতাইকারী, প্রতারক, নারী হয়রানিকারী এবং লাইনে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্ভাব্য পদপিষ্ট হওয়া, ভারী বৃষ্টি বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক, ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। শিশুদের জন্য খোঁজ-খবর কেন্দ্র, বিশ্রামশিবির, পানীয় জল, শৌচাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে।
শ্রাবণী মেলার নিরাপত্তায় দেওঘর ও বাসুকীনাথে ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে থাকবেন এটিএস, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ), ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার, সিআরপিএফ-এর মহিলা ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানি, এনডিআরএফ, বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকের বিশেষ শাখার সদস্যরা। ড্রোন ও অত্যাধুনিক সিসিটিভির মাধ্যমে মেলা এলাকা ও কাঁভারিয়া পথের সার্বক্ষণিক নজরদারিও চালানো হবে।
No Comment! Be the first one.