সকাল সকাল ডেস্ক।
রাঁচি: এশিয়ার প্রাচীনতম ও অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ-২০২৬-এর তিনটি ট্রফি শনিবার রাঁচিতে পৌঁছেছে। দীপাটোলি মিলিটারি স্টেশনের কেরকেট্টা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ট্রফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে ডুরান্ড কাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডের পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী সুদিব্য কুমার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইবিজি-২৩-এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল সজ্জন সিং মান।
অনুষ্ঠানে ডুরান্ড কাপ, প্রেসিডেন্টস কাপ এবং শিমলা ট্রফি প্রদর্শন করা হয়। সেনাবাহিনীর আধিকারিক, ক্রীড়া দফতরের প্রতিনিধিরা, ফুটবলার, ক্রীড়াপ্রেমী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ট্রফিগুলিকে স্বাগত জানান। এ সময় ডুরান্ড কাপের গৌরবময় ইতিহাস এবং ভারতীয় ফুটবলে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানও তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথি সুদিব্য কুমার বলেন, ঝাড়খণ্ড ধারাবাহিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন করে চলেছে। ডুরান্ড কাপের মতো ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হওয়া রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্ট রাজ্যে ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন গতি দেবে এবং তরুণ ফুটবলাররা দেশের সেরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার ক্রীড়া উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তাঁর আশা, ডুরান্ড কাপের আয়োজন দেশের ক্রীড়া মানচিত্রে ঝাড়খণ্ডের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
মেজর জেনারেল সজ্জন সিং মান বলেন, ডুরান্ড কাপ শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতীক। তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতা দেশের প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তিনি রাঁচিবাসীর কাছে বড় সংখ্যায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার আবেদন জানান।
চলতি বছরে ডুরান্ড কাপের ১৩৫তম আসর দেশের ছয়টি শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাঁচিতে ২৬ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মোরহাবাদির বিরসা মুন্ডা ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলির পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সার্ভিসেস দলের অংশগ্রহণে এবারের প্রতিযোগিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
১৮৮৮ সালে শিমলার ঐতিহাসিক অ্যানাডেল ময়দানে ডুরান্ড কাপের যাত্রা শুরু হয়। এটি এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা। ১৯৪০ সালে মহামেডান স্পোর্টিং প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ডুরান্ড কাপের শিরোপা জয় করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসরে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালের পর থেকে ডুরান্ড কাপকে বহু-রাজ্য ও বহু-শহরভিত্তিক প্রতিযোগিতায় রূপ দেওয়া হয়েছে। রাঁচি ধারাবাহিকভাবে এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টের আয়োজক শহর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, যা ঝাড়খণ্ডকে দেশের অন্যতম ক্রীড়া রাজধানী হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ট্রফি প্রদর্শনীর মাধ্যমে রাঁচিতে ডুরান্ড কাপ-২০২৬-এর প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর ২৬ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচগুলির দিকে, যেখানে দেশের সেরা দলগুলি মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।
No Comment! Be the first one.