রামগড়: ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রবিবার জেলাশাসক ঋতুরাজ জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় জেলাশাসক প্রতিটি স্থানের ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বর্তমান পরিকাঠামো, পর্যটকদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শন শুরু হয় দুলমি প্রখণ্ডের ডেলি পাইলা ধর্মীয় স্থান থেকে। সেখানে ভক্ত ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে মন্দিরে যাওয়ার সিঁড়ি নির্মাণ, প্রবেশদ্বার (তোরণ) তৈরি, বসার ব্যবস্থা, শৌচাগার এবং অন্যান্য প্রাথমিক সুবিধা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।
এরপর শহরের কিলা মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে পার্কিং ব্যবস্থা আরও উন্নত করা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শৌচাগার-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।
প্রাচীন কৈঠা শিবমন্দির পরিদর্শন করে তিনি মন্দিরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে তথ্য নেন। পাশাপাশি মন্দিরের সংরক্ষণ ও সংস্কার এবং ভক্ত ও পর্যটকদের সুবিধার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রামগড়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবাহী সমাধিক্ষেত্র, যা ‘চায়না কবরস্থান’ নামেও পরিচিত, সেটিও পরিদর্শন করেন জেলাশাসক। তিনি বলেন, জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির সংরক্ষণ এবং তাদের গুরুত্ব বৃহত্তর পরিসরে প্রচার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
রামগড় দুর্গ (গড়বাঁধ কিলা)-এর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি। এছাড়া গান্ধী ঘাট (মুক্তিধাম)-এ বন্ধ হয়ে থাকা প্রকল্প পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দেন।
মুররমকলা এলাকায় প্রস্তাবিত গ্লাস ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেন জেলাশাসক। তিনি এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে বলেন, নতুন পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন গোপন শাখার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রবীন্দ্র কুমার গুপ্তা, জেলা ক্রীড়া ও পর্যটন আধিকারিক সঞ্জিত কুমার-সহ জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের একাধিক আধিকারিক।
No Comment! Be the first one.