সকাল সকাল ডেস্ক
রাঁচি, ২৪ জুলাই: ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার জাদুগোড়ার কুমিরমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ মুর্মু আজ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক। ছোট্ট গ্রাম থেকে বড় স্বপ্ন দেখার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন।
২০০৮ সালে জ্যোতি ফেলোশিপ-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে রবির পথচলা শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ পান। পরে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ভিডিও প্রোডাকশনে বিশেষজ্ঞ হন। সেই সময় টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘সমুদায় কে সাথ (এসকেএস)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা সিনেমার মাধ্যমে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের গল্প বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে।
এসকেএস-এর অধীনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য কমিউনিটি বিভাগে পুরস্কার পান রবি। এই স্বীকৃতি তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তিনি শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং এসকেএস-এর মেন্টর হিসেবেও কাজ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
টাটা স্টিল রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বর্তমানে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, এ ইন্টার্নশিপের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ নথিবদ্ধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, মানুষের গল্পই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে সামনে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রবি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তথ্যচিত্র, গবেষণাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, প্রচারচিত্র এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করেন। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, জিও হটস্টার এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-র বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও ট্রেলার এডিটর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০২৬ সালে তাঁর আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র ‘অঙ্গেন’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এই সম্মান শুধু রবির সাফল্যই নয়, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গল্প বলার ঐতিহ্যকেও জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেয়।
রবির লক্ষ্য এখন আদিবাসী সমাজের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ঝাড়খণ্ডের মৌলিক গল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা। তাঁর সাফল্যের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
No Comment! Be the first one.