সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে।
তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের বিরোধের মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশে আপাতত কোনও পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের ব্যবস্থা অনুযায়ী, মমতা শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীকে উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মমতা। তাঁর শিবিরের বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত তাদের দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে এগুলি মমতার রাজনৈতিক অভিযোগ; কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করা হয়েছে। এই আবহে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছনোয় রাজনৈতিক নজর এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
No Comment! Be the first one.