সকাল সকাল ডেস্ক
রাঁচি, ২৫ জুলাই: জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়া। এতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৭২০টি নতুন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা, গর্ভবতী মহিলা, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৭২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৫০টি অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট (এএলএস), ২৭০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) এবং ৪০০টি পেশেন্ট ট্রান্সপোর্ট ভেহিকল (পিটিভি) থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিটিভি অ্যাম্বুলেন্সগুলি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (সিএইচসি) ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, এএলএস অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রাখা হবে।
ড. আনসারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ছোট আকারের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাকি ৬৯০টি অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত সেগুলি পরিষেবায় যুক্ত করা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝাড়খণ্ডের কোনও নাগরিক যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সময়মতো প্রত্যেকের কাছে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
No Comment! Be the first one.