বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে ধাক্কা, নেপথ্যে ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি?
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপের মধ্যেই এবার বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা পরিষেবায় সাময়িক প্রভাব পড়ার খবর সামনে এল। বিভিন্ন দেশে মার্কিন ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে বহু আবেদনকারীর নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পিছিয়ে যেতে পারে অথবা নতুন তারিখ দেওয়া হতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে কোনও আবেদনকারী আমেরিকায় গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেই বিষয়টি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও মার্কিন বিদেশ দফতরের বক্তব্যে অন্য একটি কারণ উঠে এসেছে। রয়টার্সকে এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। সেই কারণেই ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর জেরে আগে থেকে নির্ধারিত কিছু সাক্ষাৎকার পিছিয়ে দেওয়া অথবা নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা এখনও হয়নি। বরং প্রশিক্ষণের কারণে ভিসা সংক্রান্ত কাজের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন হচ্ছে বলেই মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে একই সময়ে ভিসা যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসায় আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বৈধ ভিসার আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা থেকে শুরু করে আমেরিকায় যাওয়ার পর সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে কি না, এমন একাধিক বিষয় যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিসা আবেদনের স্থান নিয়েও নিয়মে কড়াকড়ি করা হয়েছে। অনেক ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজের নাগরিকত্বের দেশ অথবা যে দেশে তিনি বৈধভাবে বসবাস করছেন, সেখান থেকেই সাক্ষাৎকারের আবেদন করতে বলা হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশ থেকে ভিসার আবেদন করলে প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। নতুন পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে আমেরিকায় পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের উপর। বিশেষ করে যাঁদের ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে, তাঁদের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের তরফে পাঠানো নির্দেশিকা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। এই সাময়িক পরিবর্তন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্থগিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সরকারি নির্দেশিকার উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হলে আগামী দিনে মার্কিন ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তার কতটা প্রভাব পড়ে, এখন নজর সেদিকেই।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আশঙ্কায় ধাক্কা শেয়ার বাজারে, সেনসেক্স-নিফটি পতনে লগ্নিকারীদের ক্ষতি ৮২ হাজার কোটি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় বুধবার ধাক্কা খেল দেশের শেয়ার বাজার। দিনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপে সমস্ত লাভ হারায় সেনসেক্স ও নিফটি। দিনের শেষে সেনসেক্স ০.২৪ শতাংশ এবং নিফটি ০.৫২ শতাংশ পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। বাজারের এই দুর্বলতায় একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ কমেছে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা। ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক কড়াকড়ি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে। দিনের শুরুতে চাঙ্গা ছিল সেনসেক্স বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ২৩৬.০১ পয়েন্ট বা ০.৩০ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৮৯২.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। বাজার খোলার পর প্রথম আধ ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকটি ৩৩০.৭৫ পয়েন্ট বা ০.৪৩ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৯৮৬.৮৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। তবে সেই ঊর্ধ্বগতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিক্রির চাপ বাড়তেই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে সেনসেক্স। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৫১৩.৯০ পয়েন্ট নেমে শেষ পর্যন্ত ১৮৩.১৫ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ পতনের সঙ্গে ৭৭,৪৭২.৯৪ পয়েন্টে বন্ধ হয় সূচক। ২৪,২০৭ পয়েন্টে বন্ধ নিফটি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৭.৪০ পয়েন্ট বা ০.০৩ শতাংশ বেড়ে ২৪,৩৪১.৯৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শুরু করেছিল। প্রথম দিকে কেনাকাটার জোরে সূচকটি ৪৪.০৫ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ উঠে ২৪,৩৭৮.৬০ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছয়। প্রথম আধ ঘণ্টার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাজারে বিক্রির চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ১৭০.৮৫ পয়েন্ট নেমে নিফটি শেষ পর্যন্ত ১২৬.৮০ পয়েন্ট বা ০.৫২ শতাংশ পতনের সঙ্গে ২৪,২০৭.৭৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। ব্যাঙ্ক ও ধাতু ক্ষেত্রে কেনাকাটা বাজারে সামগ্রিক পতন হলেও ধাতু এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক ক্ষেত্রের শেয়ারে কেনাকাটা দেখা গিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সূচকও লাভের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ ছিল। পাশাপাশি মোটরগাড়ি, মূলধনী পণ্য, ভোগ্যপণ্য, নিত্যব্যবহার্য পণ্য, তেল ও গ্যাস, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং আবাসন ক্ষেত্রের সূচকও পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। ছোট সংস্থার শেয়ারে উল্টো ছবি বৃহত্তর বাজারে এদিন মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছে। মাঝারি সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় নিফটির মিডক্যাপ সূচক ০.১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ছোট সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটার জোর বজায় ছিল। ফলে নিফটির স্মলক্যাপ সূচক ০.৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বন্ধ হয়েছে। লগ্নিকারীদের ক্ষতি প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা বাজারের পতনে একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি কমেছে। বুধবারের লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য কমে প্রায় ৪৯৩.৮২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার তা ছিল প্রায় ৪৯৪.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা কমেছে। বাড়ল ২,৩৭৫টি শেয়ার, কমল ১,৯৪৪টি বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৪,৫৪০টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২,৩৭৫টি শেয়ার লাভের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে এবং ১,৯৪৪টি শেয়ারের দাম কমেছে। ২২১টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩,১২৭টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৭৩৬টি শেয়ার লাভের সঙ্গে এবং ১,৩৯১টি শেয়ার লোকসানের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মধ্যে ১৩টির শেয়ার বেড়েছে এবং ১৭টির দাম কমেছে। নিফটির ৫০টি সংস্থার মধ্যে ১৪টির শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ৩৬টির শেয়ার নিম্নমুখী ছিল। লাভের শীর্ষে কোটাক মাহিন্দ্রা দিনের লেনদেনে কোটাক মাহিন্দ্রার শেয়ার ৩.৭৬ শতাংশ বেড়ে লাভের তালিকায় শীর্ষে ছিল। এছাড়া অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ১.৬২ শতাংশ, জেএসডব্লিউ স্টিল ১.৫৭ শতাংশ, আলট্রাটেক সিমেন্ট ১.৫৩ শতাংশ এবং এইচডিএফসি লাইফ ১.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের শেয়ার ২.৩১ শতাংশ কমেছে। পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন ২.১৪ শতাংশ, ইনফোসিস ২.১০ শতাংশ, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ১.৯৬ শতাংশ এবং নেসলে ১.৮৬ শতাংশ পতনের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
পাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, প্রাণ হারালো ১৪টি নবজাতক শিশু
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু হয়েছে ১৪টি নবজাতক শিশুর। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এর স্ত্রীরোগ বিভাগে আগুন লাগে, সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪টি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের এসিতে গোলযোগের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। হাসপাতালের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ওয়ার্ডে রাখা একটি এসির কম্প্রেসারে বিস্ফোরণ হয়। সেই থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে। বুধবার সকালে আচমকাই আগুন লেগে যায় ইসলামাবাদের ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর স্ত্রীরোগ বিভাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে লাগোয়া সদ্যোজাত ওয়ার্ডে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের সময়ে ওয়ার্ডে ১৬ সদ্যোজাতকে রাখা ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র এক জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৪ জন শিশুর দেহ সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে এসে পৌঁছয় দমকল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন আয়ত্তে আসে।
নেপালে বন্যার তাণ্ডব, চিন সীমান্তে ভেসে গেল ৫০০-র বেশি কন্টেনার
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: তিব্বতে বুধবার সকালে হিমবাহ ফেটে যাওয়ার জেরে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই বন্যায় নেপাল-চিন সীমান্তে নেপালে আসার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ৫০০-র বেশি কন্টেনার ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। নেপাল হিমালয় সীমান্তপার বাণিজ্য সংঘের মতে, রাসুয়ার টিমুরেতে অবস্থিত কাস্টমস দফতরের ইয়ার্ডে রাখা কয়েকশো কন্টেনার বন্যায় ভেসে গিয়েছে। সংঘের সচিব আঙদর্জে শেরপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইয়ার্ডে রাখা প্রায় ২০০টি কন্টেনার ভেসে গিয়েছে। একইভাবে চিনের দিকে পণ্য নিতে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০০টি কন্টেনারও বন্যার কবলে পড়েছে। শেরপা জানিয়েছেন, এর মধ্যে সম্ভবত মাত্র ১০ শতাংশ কন্টেনারই রক্ষা পেয়েছে। টিমুরেতে থাকা তাঁর ভাইয়েরা জানিয়েছেন, গোটা গ্রামই ভেসে গিয়েছে। কন্টেনারগুলিও সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। চিনের দিকে যাওয়ার রাস্তার এখন আর কোনও চিহ্ন নেই। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত একটি হেলিকপ্টার টিমুরেতে পৌঁছেছে এবং ৭-৮ জন আহতকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস দফতর অবস্থিত টিমুরে এলাকায় বন্যার জল এখন কিছুটা কমেছে এবং টেলিফোন পরিষেবাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সংঘের সভাপতি রামহরি কার্কিও জানিয়েছেন, শতাধিক কন্টেনার এবং বহু মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তাঁর মতে, আচমকা বন্যার কারণে ব্যাপকভাবে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আমেরিকা-কানাডা বাণিজ্য সংঘাত তুঙ্গে, বিদ্যুৎ ও খনিজ সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি অন্টারিওর
সকাল সকাল ডেস্ক অটোয়া: শুল্কযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও কানাডার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের উপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা করার পর পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। প্রয়োজন হলে আমেরিকায় বিদ্যুৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ সীমিত করা কিংবা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, ট্রাক, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার আগে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের উপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার কথা সামনে এসেছে। দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, কানাডার সামনে ‘সব পথই খোলা’। তাঁর দাবি, অন্টারিও থেকে আমেরিকার প্রায় ১৫ লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কানাডার উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফোর্ডের মন্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণে যান ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রিমিয়ারের হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে কানাডার নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আমেরিকাকে বাদ দিয়ে কানাডার পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ফোর্ডও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, অটোয়ার উচিত আমেরিকার বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে জ্বালানি তেল, পটাশ এবং কৌশলগত খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, কানাডার অন্যতম বড় জলবিদ্যুৎ উৎপাদক প্রদেশ কুইবেক আপাতত অন্টারিওর মতো কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে না। তবে আমেরিকার সঙ্গে বিরোধ আরও বাড়লে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে পাল্টা চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আমেরিকায় বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় বিদেশি সরবরাহকারী কানাডা। যদিও আমেরিকার মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় কানাডা থেকে আমদানির পরিমাণ খুবই কম। তবে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কানাডার সরবরাহ এই অঞ্চলগুলির গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ। বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন এমন হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়ছে। ফলে কানাডা থেকে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সীমান্তবর্তী কয়েকটি মার্কিন রাজ্যে তার প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি পড়তে পারে। এর আগেও শুল্কযুদ্ধের সময় বিদ্যুৎকে পাল্টা চাপ তৈরির হাতিয়ার করেছিলেন ফোর্ড। ২০২৫ সালের মার্চে তিনটি মার্কিন রাজ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানির উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি আরোপ করেছিলেন তিনি। পরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের লক্ষ্য কানাডার গাড়ি শিল্পকে দুর্বল করা। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় আমেরিকা এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল যা অটোয়ার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে আলোচনার টেবিল ছাড়তে বাধ্য হয় কানাডা। দুই প্রতিবেশী ও দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে শুল্ক নিয়ে এই সংঘাত এখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে ওয়াশিংটন ও অটোয়া শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে ফেরে, নাকি পাল্টাপাল্টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সংঘাত আরও তীব্র হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে খুনের হুমকির অভিযোগ, ১ কোটি ডলার পুরস্কারের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও পরবর্তীতে সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সম্প্রচার করা হয়। সেখানে ব্যারন সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কারের কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিতর্কিত ওই ভিডিওটির শিরোনামেই ব্যারনকে হত্যার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক দাবি করা হয়েছে ভিডিওটিতে। তবে ওই দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে ব্যারনের অনলাইন যোগাযোগ নিয়েও একাধিক দাবি করা হয়েছে। তাঁর গেমিং এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করার দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন হুমকির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিশানা করেও একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর যাতায়াত এবং বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হুমকিমূলক বক্তব্য রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়। সেখানে ব্যারনকে নিয়েও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক ভাবেই বেড়েছে। প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্য হিসেবে ব্যারন ও মেলানিয়া মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা পান। হোয়াইট হাউসের পাশাপাশি ট্রাম্প পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন বাসস্থান ও সম্পত্তিতেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানকে সাহায্যকারী দেশ ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—সব মিলিয়ে আমেরিকা-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ব্যারনকে নিয়ে সম্প্রচারিত ভিডিও এবং পুরস্কার ঘোষণার দাবি সম্পর্কে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী, তা স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
তেহরান সফরের আগে মুনিরকে ট্রাম্পের ফোন! ইরান নিয়ে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান?
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল পাকিস্তান। সোমবার তেহরানে পৌঁছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল বলে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ওই আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মুনিরকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কোনও ভূমিকা নিতে পারে কি না, তা নিয়েও দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয় বলে দাবি। যদিও হোয়াইট হাউসের তরফে এই ফোনালাপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে মুনিরের তেহরান সফরের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনও বার্তার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তেহরানে পৌঁছে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন মুনির। সেখানে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, জুন মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে ১৪ দফা সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার একাধিক শর্ত মানেনি ওয়াশিংটন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বেড়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাও ধাক্কা খেয়েছে। ইরানের দাবি, সমঝোতার শর্ত কার্যকর করতে প্রথমে আমেরিকাকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা, ইরানের সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান আগেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। মুনিরের বর্তমান সফরের অন্যতম লক্ষ্যও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে ফের কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করা বলে মনে করা হচ্ছে। মুনিরের সঙ্গে তেহরান সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও। ইরানের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আলোচনায় তেহরান জানিয়েছে যে তারা সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের পক্ষে। পাকিস্তানও আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। একদিকে ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থানে তেহরান। এই টানাপড়েনের মধ্যে ট্রাম্প-মুনির ফোনালাপের খবর এবং তার পরেই পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এখন পাকিস্তানের উদ্যোগ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলতে পারে কি না, সেদিকেই নজর।
‘আমার ছেলেকে খুনের চেষ্টা করেছিল ইরান!’ বিস্ফোরক দাবি নেতানিয়াহুর
সকাল সকাল ডেস্ক জেরুজালেম: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তাঁর দুই ছেলের মধ্যে কাকে নিশানা করা হয়েছিল, কখন এবং কীভাবে ওই হামলার চেষ্টা হয়েছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার ইজরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন নেতানিয়াহু। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সময় প্রসঙ্গটি ওঠে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে নিশানা করেছিল। তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।’ নেতানিয়াহুর এই দাবির পর ইজরায়েলি সাংবাদিক অমিত সেগাল জানান, কয়েক মাস আগেই বিষয়টি জানা গিয়েছিল। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন তা প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয়নি। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নিরাপত্তা নিয়েও সাক্ষাৎকারে আলোচনা হয়। আইজেনকটকে নিরাপত্তা দিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট রাজি হয়নি বলে যে খবর প্রকাশ্যে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু তাঁর পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা কোনও ‘বিলাসিতা’ নয়। যথাযথ নিরাপত্তা না থাকলে শত্রুপক্ষ হামলায় সফল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কোন ছেলেকে নিশানা করার দাবি? নেতানিয়াহুর দুই ছেলে—ইয়াইর এবং আভনার। তবে ইরান ঠিক কাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে তিনি দাবি করছেন, তা স্পষ্ট করেননি প্রধানমন্ত্রী। হামলার চেষ্টা কবে হয়েছিল, কী ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিংবা ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ কীভাবে সেই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছিল—এসব নিয়েও তিনি কোনও তথ্য দেননি। নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের গোড়া থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে শিন বেট রয়েছে বলেও খবর। বিদেশে ইয়াইরের নিরাপত্তার জন্য বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে ইজরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্কও হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ছোট ছেলে আভনার তুলনামূলকভাবে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকেন এবং ইজরায়েলেই বসবাস করেন। নেতানিয়াহুর একমাত্র মেয়ে নোয়া নেতানিয়াহু-রথ। তিনি নেতানিয়াহুর প্রথম স্ত্রী মিরিয়াম ওয়াইজম্যানের সন্তান। স্বামী ড্যানিয়েল রথ এবং সন্তানদের নিয়ে তিনি জেরুজালেমে বসবাস করেন। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই দাবি ইরানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেল ও অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর ছেলেকে হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ইরানের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে নেতানিয়াহুর দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নজর এখন পরবর্তী তথ্যপ্রকাশের দিকে।
সামান্য পতন সোনার বাজারে, কমল সোনা ও রুপোর দাম
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট: সোমবার লেনদেনের শুরুতেই দেশের সরাফা বাজারে সোনা ও রুপোর দামে সামান্য দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। দামের এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা থেকে ১,৬৩,২৩০ টাকার মধ্যে লেনদেন করছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৯,৪৯০ টাকা থেকে ১,৪৯,৬৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামেও সামান্য পতন হয়েছে। দিল্লির সরাফা বাজারে এদিন প্রতি কেজি রুপোর দাম ২,৫৯,৯০০ টাকা। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৬৪০ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৫৪০ টাকা। চেন্নাইয়ে এদিন ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৪৯০ টাকা। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৯,৫৪০ টাকায়। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৫৪০ টাকা। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলঙ্গানা ও ওড়িশার সরাফা বাজারেও সোমবার সোনার দামে সামান্য পতন হয়েছে। তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকায় লেনদেন করছে। একইভাবে এই তিন শহরে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা, ইরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ, ২৪ আগস্ট: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করতে আজ, সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রবিবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এই সফরের কথা জানিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আসিম মুনিরের এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের দু’টি সূত্রও সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সেনাপ্রধানের ইরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, আসিম মুনিরের বৈঠকে চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরানের উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া ইসলামাবাদের সমঝোতা উদ্যোগের আওতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভূমিকার মতো বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ঘিরে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার জবাবে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ইরানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ হতে পারে। ইরানকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও। ওই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার দাবি সামনে এসেছে। তেহরান সতর্ক করেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের তেহরান সফর শুধু পাকিস্তান-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা অঞ্চলে সংঘাত প্রশমন এবং নতুন করে আলোচনার পথ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।