তীব্র দাবানলে পুড়ছে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ/প্যারিস/রোম: তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসের জেরে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিন দমকলকর্মী। ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকাল এখনও অর্ধেকও শেষ হয়নি। এর মধ্যেই দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ গত দুই দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইতালির সিসিলি দ্বীপে কয়েক দিন ধরেই একাধিক দাবানল জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ছয় হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছেন। ইতালি সরকার জানিয়েছে, আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের জেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বোর্দোর উপকূলবর্তী পাইন অরণ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার ১০ হাজারেরও বেশি পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জুলি লিওনার্দ জানান, বিকেলের দিকে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ফরাসি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে লে পর্জ এলাকায় প্রায় ২,৪০০ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রাণহানির খবর না মিললেও, মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বেশিরভাগ বাসিন্দাকে বাড়িতে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মাদ্রিদের উত্তরের গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরও একটি ভয়াবহ দাবানল এখনও জ্বলছে। সেখানে শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
গাজা নিয়ে বক্তব্যের জেরে স্ত্রী-সহ হত্যার হুমকি পেয়েছি: নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক: গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার জেরে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী একাধিকবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। মার্কিন সাময়িকী রোলিং স্টোন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “মৃত্যুর হুমকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা সহজ নয়। তবে যখন আপনি বিশ্বাসের জায়গা থেকে মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার কিছু পরিণতি মেনে নিতেই হয়।” তিনি জানান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য থাকাকালীনও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনা এবং গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের হুমকি বাড়তে শুরু করে। মামদানি বলেন, মেয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছিল এবং দায়িত্ব গ্রহণের পরও তা অব্যাহত রয়েছে। শুধু তিনিই নন, গাজা ইস্যুতে তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁর স্ত্রীও সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক পৃথক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে তাঁর বিচার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে হওয়া উচিত। তবে পরে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনও স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের জব্দ সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, তেহরানের তীব্র প্রতিবাদ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, অন্য একটি দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। জুলাইয়ের শুরু থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ অর্থসম্পদ থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও এই পদ্ধতিই সবচেয়ে ন্যায্য। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর মতে, যদি এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনও দেশের সম্পদই নিরাপদ থাকবে না এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। ইরানের জব্দ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয়। গত জুনে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, সেখানে এই ইস্যুটিও আলোচনায় ছিল। তবে পরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর প্রথমবার ইরানের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুমান অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যা চলতি বছরের ৭ মে-র পর এক দিনে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অতিরিক্ত মদ ও মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণে মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের, লন্ডনের হোটেলে উদ্ধার দেহ
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: অতিরিক্ত মদ্যপান এবং একাধিক মাদক সেবনের জেরে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি রাজপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটেনের একটি আদালতের তদন্তে উঠে এসেছে, অ্যালকোহল ও বিভিন্ন মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত রাজপুত্রের নাম প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সউদ। জানা গিয়েছে, লন্ডনের কেনসিংটনের একটি বিলাসবহুল ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষে গত ২৬ নভেম্বর সকালে বাথরুমের মেঝে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেল কর্মীরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে জরুরি পরিষেবায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রিটেনের দ্য সান এবং ডেইলি মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় হোটেলের বাইরে শেষবার ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল রাজপুত্রকে। সেই দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তদন্তে অন্য কারও জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করনার্স কোর্টে জমা দেওয়া টক্সিকোলজি রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর সময় তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ব্রিটেনে গাড়ি চালানোর আইনি সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়াও শরীরে গামা-হাইড্রোক্সিবিউটিরেট (জিএইচবি) নামে পরিচিত একটি পার্টি ড্রাগ, মারিজুয়ানা, জ্যানাক্স এবং একাধিক উদ্বেগনাশক ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সব পদার্থের সম্মিলিত প্রভাবে হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আদালতে জানানো হয়, প্রিন্স আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মদ ও প্রেসক্রিপশন ড্রাগে আসক্ত ছিলেন। আসক্তি কাটাতে তিনি ২০২৫ সালে ব্রিটেনের প্রাইওরি ক্লিনিক এবং পরে রেইনফোর্ড হল ক্লিনিকে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, চিকিৎসায় তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন এবং ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। সহকারী করনার জিন হার্কিন্স তদন্ত শেষে জানান, আত্মহত্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই ঘটনাকে ‘ডেথ বাই মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে রায় দিয়েছে। পরে সৌদি রাজপরিবার এক বিবৃতিতে রাজপুত্রের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এবং জানায়, রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
ভারত, পাকিস্তান-সহ ৬০ দেশের পণ্যে আমেরিকার অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, ভারতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে ভারত-সহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত-সহ ১৭টি দেশের উপর ১০ শতাংশ এবং আরও ৪৩টি দেশের উপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইৎজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যোগ করে মোট হার ১০ বা ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে কাজে লাগানো হয়। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্বব্যাপী অস্থায়ী ১০ শতাংশ ট্যারিফের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়েই নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশো বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখন ওয়াশিংটন তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও তিনি দাবি করেন। এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর বাণিজ্য নীতির অংশ। এর আগে ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক আমদানি শুল্ক’ সংক্রান্ত নির্দেশ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপরই ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। নতুন শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে একাধিক দেশ। নরওয়ের বিদেশমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেন, তাদের দেশের বিরুদ্ধে এই শুল্কের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে নরওয়েতে ইতিমধ্যেই কঠোর বিধি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এই শুল্ককে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে এবং তা প্রত্যাহারের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কানাডার মার্কিন বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঁ বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই বিষয় এবং অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে দুই দেশের নাগরিকরাই উপকৃত হন। অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মৌরা হিলি এক বিবৃতিতে বলেন, এই অতিরিক্ত শুল্কের ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলি অন্যায্য সুবিধা পেয়ে থাকে, যার ফলে মার্কিন সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন শুল্ক বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে বলে প্রশাসনের দাবি। যদিও সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়বে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের উপরও পড়বে।
টানা চতুর্থ দিন পতন শেয়ারবাজারে, একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির জেরে বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো পতনের মুখে বন্ধ হল দেশের শেয়ারবাজার। সারাদিন জুড়েই বিক্রির চাপ বজায় থাকায় সেনসেক্স ও নিফটি—দুই সূচকই নিম্নমুখী ছিল। দিনের শেষে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন প্রায় ২.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা কমে যায়। দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থানে খোলে বাজার। সেনসেক্স ২৩৯.৯৫ পয়েন্ট নেমে ৭৬,৫১৫.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। পরে কিছুটা কেনাকাটার জেরে সূচক ৭৬,৭২৬.৬৬ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়ে। এক সময় সেনসেক্স ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৬৩.৬৬ পয়েন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ পতনের সঙ্গে ৭৬,৩৯১.৩৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৯১.৪৫ পয়েন্ট কমে ২৩,৯০৪.৮০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। দিনের মধ্যে সূচক ২৩,৯৯০.৭৫ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও পরে টানা বিক্রির চাপে তা ২৩,৮০৭.২০ পয়েন্টে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত ১২৬.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৫৩ শতাংশ পতনের সঙ্গে ২৩,৮৬৯.৬০ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ হয়। এদিন রিয়েলটি, তেল ও গ্যাস, অবকাঠামো, শক্তি, ব্যাঙ্কিং, তথ্যপ্রযুক্তি, এফএমসিজি, স্বাস্থ্য, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। তবে অটোমোবাইল ও মিডিয়া খাতে কিছুটা কেনাকাটা হয়। নিফটি অটো সূচক ০.৭০ শতাংশ এবং মিডিয়া সূচক ০.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বৃহত্তর বাজারেও বিক্রির চাপ স্পষ্ট ছিল। নিফটি মিডক্যাপ সূচক ০.৯৯ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ১.০১ শতাংশ নিচে নেমে বন্ধ হয়। বাজারের এই পতনের ফলে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন আগের দিনের ৪৭৯.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৭৬.৮৮ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। লেনদেনের নিরিখে বিএসই-তে মোট ৪,৩৯১টি শেয়ারের মধ্যে ১,৬৩৭টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ২,৫৮৫টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। এনএসই-তে লেনদেন হওয়া ২,৯৭৩টি শেয়ারের মধ্যে ৯১০টি শেয়ার বেড়েছে, আর ২,০৬৩টি শেয়ার কমেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারের তালিকায় ছিল বাজাজ অটো (২.৫৯%), এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্স (২.৫৯%), মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা (১.৭১%), টিসিএস (১.৫৭%) এবং আইশার মোটরস (১.১৭%)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারের মধ্যে ছিল আদানি এন্টারপ্রাইজেস (৪.৩৭%), শ্রীরাম ফাইন্যান্স (৩.১২%), নেসলে ইন্ডিয়া (৩.০৬%), আদানি পোর্টস (২.২৫%) এবং বাজাজ ফাইন্যান্স (১.৯৩%)। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের লাগাতার বৃদ্ধি আগামী কয়েকদিনও ভারতীয় শেয়ারবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাকিস্তানে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম, ডিজেল ৩৭৫ রুপি লিটার; বাড়বে পরিবহণ ও নিত্যপণ্যের খরচের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে। সরকার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহণ ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬.৩৯ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৭.৮৩ পাকিস্তানি রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দামে এক লিটার পেট্রোলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২৭.১২ পাকিস্তানি রুপি। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৩৭৫.০৪ পাকিস্তানি রুপি। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ডিভিশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এদিকে, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন অল পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এপিপিপিওএ)। সংগঠনটি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিলেও, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন থেকে প্রতিদিন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হবে। এতদিন প্রতি সপ্তাহে একবার নতুন দাম ঘোষণা করা হতো। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওজিআরএ) প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অল পাকিস্তান ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দাম পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই সমস্যায় পড়বেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেট্রোলের দাম বাড়লে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের ব্যবহারকারীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও বিস্তৃত। কারণ ট্রাক, বাস, মালবাহী যান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং বড় জেনারেটরে মূলত ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে এক লিটার ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪১ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসায় দাম কমলেও, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে আবারও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপরই পাকিস্তানে জ্বালানির দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানে মার্কিন বিমান অভিযান অব্যাহত
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/রিয়াদ/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে ইরানে টানা ১২তম রাতেও বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’ নামে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ, সাধারণ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হুথিদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে দুই জাহাজেই আগুন লাগে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। গোষ্ঠীটির বক্তব্য, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। টানা ১২তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, টানা ১২তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে নৌ সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক কার্যকলাপেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ইরান হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা হলে তার জবাব সরাসরি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেওয়া হবে। ইরানের পাল্টা বার্তা ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন হুঁশিয়ারির পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং যারা এ ধরনের অভিযানে সহযোগিতা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দাবি করেছে, মার্কিন হুমকি কার্যকর হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। নতুন হামলার দাবি, নিহতের খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুশেহর, খুজেস্তান-সহ একাধিক এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহরের একটি সামরিক স্থাপনায় দু’দফা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া খুজেস্তানের আন্দিমেস্ক এলাকার উপকণ্ঠেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইরাক-ইরান সীমান্তের সালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পশ্চিম কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প দোহায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গোলাবারুদের ডিপো এবং স্থলবাহিনীর রসদ সংরক্ষণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৮৮ ডলারের উপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
পদত্যাগ করতে পারেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি? জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে, সরকারি ঘোষণা এখনও নেই
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ-সহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত বঙ্গভবন বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিতকরণ মেলেনি। সূত্রের দাবি, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম সামনে আসে, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ তাঁর কার্যকালের মধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বঙ্গভবন-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নিতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলেও ওই সূত্রের দাবি। তবে এই তথ্যেরও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং তাঁর সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তাঁকে সরানো হয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
বালোচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী হামলা, বাসে এলোপাথাড়ি গুলি; নিহত ৩, জারি অনির্দিষ্টকালের কার্ফু
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অশান্ত বালোচিস্তান প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাস্তাং জেলার খুড় কোচা এলাকায় করাচিগামী একটি যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালালে অন্তত তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। একই দিনে কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরপর এই দুই ঘটনার জেরে এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বুধবার রাত ৯টা থেকে খুড় কোচা এলাকায় কার্ফু কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্ফু ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার বাস কোয়েটা থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। খুড় কোচার গারো এলাকায় পৌঁছতেই পাহাড়ের ওপর থেকে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র হামলাকারীরা বাসটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মাস্তাং জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে একই দিনে খুড় কোচার অঞ্জরি এলাকায় কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়কের একটি সেতুর নিচে পোঁতা বিস্ফোরক ফাটানো হয়। বিস্ফোরণে সেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় সড়কের দু’প্রান্তে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিকল্প ব্যবস্থা করে ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজতে নিরাপত্তা বাহিনী পৃথক অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একই দিনে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একটি সেনা কনভয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় মাস্তাং ও সুরাব জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১০ জন জঙ্গিকে নিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গি ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বালোচিস্তানে জঙ্গি হামলা, নাশকতা ও অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে জিয়ারাত জেলার একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এরপর থেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন শাবান’ নামে বৃহৎ অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতা রুখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পাকিস্তান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।