যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ‘ধ্বংস’ হতে পারে ইউক্রেন, আশঙ্কা জেলেনস্কির
সকাল সকাল ডেস্ক কিয়েভ: রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে ‘ধ্বংসের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পর রবিবার এ বিষয়ে মুখ খোলেন জেলেনস্কি। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দেশে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তরফে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের এমন দাবি এই প্রথম। ফেদোরভকে গত মাসে আচমকা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাঁর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের অনেকেই একমত হননি। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাঁর কথায়, “যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তা হলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।” ইউক্রেনের বর্তমান আইন অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে একাধিক বাস্তব সমস্যাও রয়েছে। যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রয়েছেন। আবার বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি সম্মুখসমরে লড়াই করছেন। এর সঙ্গে রয়েছে ভোটার ও নির্বাচনকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এদিকে, ইউক্রেনে জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন এখনও মোটামুটি স্থিতিশীল। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় তাঁর প্রতি সমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। যদিও সমীক্ষাকারীদের মতে, দেশের রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চান অনেক ইউক্রেনীয়। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালীন এখনই ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। জেলেনস্কি অবশ্য আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলি যদি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তা হলে যুদ্ধের মধ্যেও ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তাঁর সামনে আসেনি। জেলেনস্কির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের জন্য ‘সুনামি’র মতো হয়ে উঠতে পারে এবং তা ইউক্রেনীয় সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেবে। তাঁর অগ্রাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ইউক্রেনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা। ফেদোরভ দীর্ঘদিন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তাঁকে জেলেনস্কির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যদিও ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি ফেদোরভ।
নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখতে আইন আনার প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়েলিংটন, ২৪ আগস্ট: ১৬ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে সংসদে বিল আনার ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। প্রস্তাবিত আইন না মানলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের বিশ্বব্যাপী আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ফ্রান্সের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফ্রান্স ২৪ এবং জিও টিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অল্পবয়সিরা ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তি এবং অনলাইনের নানা চাপের মুখে পড়ছে। এর প্রভাব তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, পড়াশোনা এবং পারিবারিক জীবনের উপর পড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে যে তাদের ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬ বছরের বেশি। বয়স যাচাইয়ের জন্য বর্তমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখের ছবি দেখে বয়স অনুমান করার প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং সরকারি পরিচয়পত্রের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছেন, এই বিল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর আইনি দায়িত্ব আরোপ করবে। তবে শিশু বা তাদের বাবা-মায়ের উপর কোনও ধরনের জরিমানা আরোপের প্রস্তাব নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। যদিও বিলটি সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের জোটসঙ্গী নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করা কঠিন বলে জানিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টিও আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার বিভিন্ন উপায় খুঁজে নিতে পারে। প্রধান বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটিকে সমর্থন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কীভাবে বয়স যাচাই করা হবে এবং কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। নিউজিল্যান্ডের এই উদ্যোগের আগে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন আনা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াই এই ধরনের আইন কার্যকর করা প্রথম দেশ। তবে সেখানে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। জুন মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গবেষকরা জানিয়েছিলেন, নিষেধাজ্ঞার পর কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমেছে—এমন প্রমাণ খুবই সীমিত। প্রধানমন্ত্রী লাক্সনও স্বীকার করেছেন, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সহজ হবে না। কিছু শিশু-কিশোর নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে। তবে তাঁর মতে, সেই আশঙ্কায় শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা না করাটা আরও বড় ভুল হবে।
রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নতুন সেনা মোতায়েনের প্রমাণ মেলেনি: দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী
সকাল সকাল ডেস্ক সিউল, ২৪ আগস্ট: রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কোনও তাৎক্ষণিক প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। তবে পিয়ংইয়ং ভবিষ্যতে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি-র সাংসদ ইউ ইয়ং-ওন সেনাবাহিনীর একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানান। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু নতুন সেনা মোতায়েনের কোনও প্রত্যক্ষ কার্যকলাপ এখনও পর্যন্ত নজরে আসেনি। এই মূল্যায়ন এমন সময় সামনে এল, যখন গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য রাশিয়া তার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার অতিরিক্ত উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া অভ্যন্তরীণভাবে সেনা পাঠানোর সম্ভাব্য প্রস্তুতি রাখলেও, মাটিতে এমন কোনও কার্যক্রম এখনও দেখা যায়নি যা তাৎক্ষণিক মোতায়েনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বোন এবং প্রভাবশালী নেত্রী কিম ইয়ো-জং গত সপ্তাহে জেলেনস্কির এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার জেরে পিয়ংইয়ংয়ের তরফে রুশ সেনাবাহিনীকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিআইএ-র হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ১৬ হাজারেরও বেশি সেনা পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে বহু সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ১ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি আর্টিলারি শেল বা কামানের গোলা সরবরাহ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বশেষ রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত, রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে উত্তর কোরিয়া প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও, আপাতত নতুন বড় আকারের সেনা মোতায়েনের কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি।
রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে ইউক্রেন: পুতিন
সকাল সকাল ডেস্ক রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। গতকাল শনিবার তাঁর এ মন্তব্য প্রকাশিত হয়। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার ও অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদাম। এসব খাত থেকে আসা অর্থ রাশিয়াকে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে। অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে চায় কিয়েভ। অবশ্য ইতিমধ্যে এসব হামলার জবাব দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ‘কিয়েভ আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এতে তারা নিজেরাই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। এখন তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে হামলার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে দাবি করেছেন পুতিন। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ঘাটতি রাশিয়া পূরণ করতে পারবে। পুতিন বলেন, ‘আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা এসব সমস্যা সমাধান করব। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি হবে না।’ এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিশ্ববাজারে শস্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করেছিল। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে করা এ চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা হয়। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে সরে আসে। পুতিন আবারও বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইউক্রেনীয় এলাকাগুলোকে মস্কোর ভূখণ্ড হিসেবে মেনে নিতে হবে। ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো ‘অবাস্তব’ ও ‘অদ্ভুত’ বলেও মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শান্তি আলোচনা হতে হবে।
ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের পাল্টা জবাব, মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসাচ্ছে কানাডা
সকাল সকাল ডেস্ক অটোয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা করল কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আমেরিকার স্টিল, ইলেকট্রনিকস, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি-সহ একাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক বসাবে অটোয়া। শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কানাডার নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দুই বাণিজ্যিক অংশীদারের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ-র ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মার্কিন নতুন শুল্কের আওতায় কানাডার ওয়াইন, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং হকির সরঞ্জাম-সহ একাধিক ক্ষেত্র পড়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। ‘হামলার শিকার হয়েছি’, বললেন কার্নি অটোয়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করতেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন যে পরিমাণ নতুন শুল্ক আরোপ করেছে, তার সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে তাঁর সরকার। দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন, কোনও দেশ আক্রান্ত হলে তাকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে কানাডাই মার্কিন পদক্ষেপের শিকার হয়েছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে মার্কিন বাজারের ওপর দেশটির নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। তারপরও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পথেই হাঁটছে অটোয়া। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কথাও বলেছেন কার্নি। কোন কোন মার্কিন পণ্যে শুল্ক? কানাডা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার যেসব পণ্যকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেগুলির ক্ষেত্রেও পাল্টা পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন কার্নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কোন মার্কিন পণ্যে কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে কেন ভেস্তে গেল চুক্তি? শুক্রবার পর্যন্ত কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। তবে কার্নির দাবি, মার্কিন প্রশাসন শেষ মুহূর্তে কয়েকটি নতুন শর্ত সামনে আনায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের কয়েকটি দাবি অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক এবং অন্যায্য ছিল। সেগুলি মেনে নিলে কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষমতাও সীমিত হতে পারত। কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের শর্ত মেনে কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে তাঁর সরকার রাজি নয়। গাড়ি শিল্প নিয়ে বড় মতবিরোধ দুই দেশের আলোচনায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাঝারি ও ভারী গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্কনীতি। হালকা গাড়ির জন্য প্রস্তাবিত সুবিধাজনক শুল্ক ব্যবস্থা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছিল কানাডা। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় ওয়াশিংটন। কার্নির দাবি, মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিলে কানাডায় তৈরি ফোর্ড এফ-৩৫০, এফ-৪৫০ ও এফ-৫৫০ এবং জেনারেল মোটরসের সিলভেরাডোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল সুবিধা থেকে বাদ পড়ত। এর ফলে কানাডার গাড়ি ও উৎপাদন শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রস্তাব কানাডার সংস্কৃতি, ভাষা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারত বলে দাবি করেছেন কার্নি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য সহায়তা প্যাকেজ মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এমন কানাডীয় শিল্পগুলির জন্য আগামী সপ্তাহে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন কার্নি। এই সহায়তা কয়েক বছর ধরে চালানো হতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন মার্কিন শুল্ক বিশেষ করে কানাডার নরম কাঠ, ওয়াইন এবং কিছু উৎপাদন শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়সন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, আপাতত কানাডার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে ওয়াশিংটনও পরবর্তী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কার্নির পাশে অন্টারিও মার্কিন শুল্কনীতির কড়া সমালোচক অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও কার্নির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবিত চুক্তিটি অন্টারিওর পাশাপাশি কানাডার গাড়ি, স্টিল এবং উৎপাদন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত। প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রেও মার্কিন শুল্ককে কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ওপর অন্যায্য আঘাত বলে অভিহিত করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের শুল্ক সংঘাত এখন আরও তীব্র হওয়ার পথে। কানাডার পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হলে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য বিরোধ কতটা গভীর হয়।
চীনে চাকরির বাজারে চাপ, তরুণদের বেকারত্ব বেড়ে ১৭.৯ শতাংশ
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং: চীনের চাকরির বাজারে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। জুলাই মাসে দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপুল সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক একই সময়ে কর্মসংস্থানের বাজারে প্রবেশ করায় চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বহু ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রির পরিবর্তে মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার জুনে ছিল ১৪.৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা এক ধাক্কায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১৭.৯ শতাংশ হয়েছে। এর আগে টানা তিন মাস তরুণদের বেকারত্বের হার কমেছিল। গত বছরের জুলাইয়ে এই হার ছিল ১৭.৮ শতাংশ। এরপর আগস্টে তা বেড়ে ১৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে বেকারত্বের হিসাব শুরু হওয়ার পর সেটিই ছিল সর্বোচ্চ হার। রেকর্ড সংখ্যক স্নাতক চাকরির বাজারে চীনের অর্থনৈতিক গতি শ্লথ হওয়ার পাশাপাশি নতুন স্নাতকদের বিপুল সংখ্যাও কর্মসংস্থানের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। চলতি গ্রীষ্মে আনুমানিক ১ কোটি ২৭ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক চাকরির বাজারে প্রবেশ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। কোনও কোনও সংস্থা কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ স্থগিত রেখেছে। ফলে সীমিত সংখ্যক পদের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। চাকরির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রির চাহিদা চাকরির বাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডও ক্রমশ বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন পদের ক্ষেত্রেও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করছেন, যেখানে আগে স্নাতক ডিগ্রিই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হত। এর ফলে শুধুমাত্র স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে চাকরি খুঁজতে নামা তরুণদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ২২ বছর বয়সী ক্লেয়ার ওয়াং জিলিন জিয়ানঝু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রোডাক্ট ডিজাইনে স্নাতক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে মাস্টার্স করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওয়াংয়ের বক্তব্য, দেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের শর্ত পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই মাস্টার্স ডিগ্রিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু চীনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা তরুণরাই নন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফেরা চাকরিপ্রার্থীরাও একই ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক থেকে ই-কমার্স ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করা ২৪ বছর বয়সী ভিকি ঝাওয়ের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তাঁর মতে, চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মানদণ্ড আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন পদের জন্যও চীনের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করছেন। উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরির দিকে ঝোঁক বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক তরুণ এখন আরও উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ মাস্টার্স বা অন্য উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে নিজেদের যোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে তাঁদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। চীনে সরকারি চাকরিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান হিসেবে দেখা হয়। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে তরুণদের একটি অংশ সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন স্নাতকদের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে নতুন স্নাতকদের জন্য আরও পদ তৈরি এবং তাঁদের নিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও জুলাইয়ের বেকারত্বের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এখনও চীনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে রেকর্ড সংখ্যক নতুন স্নাতক, অন্যদিকে নিয়োগে সংস্থাগুলির সতর্কতা এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষাগত যোগ্যতার চাহিদা—সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলেই শত্রু, প্রতিবেশী দেশগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনও প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রেজাইয়ের বক্তব্য, ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার মার্কিন প্রচেষ্টায় কোনও আঞ্চলিক দেশ সহযোগিতা করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিকে আমেরিকার অর্থনৈতিক অভিযানে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান। তা না হলে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারির মধ্যেই রেজাইয়ের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া দেশগুলিকেও গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও অন্য দেশগুলিকে ওয়াশিংটনের অবস্থানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির ওপর চাপ আরও বাড়ছে। তিন ধাপে পদক্ষেপের বার্তা রেজাই জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিয়ে ইরানের কৌশল তিনটি পর্যায়ে এগোবে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান। দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের আমেরিকার অর্থনৈতিক অভিযান থেকে দূরে থাকার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। এরপরও কোনও দেশ ওয়াশিংটনের পাশে থাকলে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হবে। তবে তৃতীয় পর্যায়ে ইরান ‘ব্যবস্থা নেবে’ বলে সতর্ক করেছেন রেজাই। তাঁর দাবি, তেহরান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে চায় না। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করা হলে পালটা পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে। অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ রেজাইয়ের অভিযোগ, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ানোই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দুর্বল হবে—ওয়াশিংটন এমন কৌশল নিয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই প্রসঙ্গে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করা গেলে তা কার্যত সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্যকেই সহজ করে দেবে। হরমুজের বিকল্প পথও কি নিশানায়? হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে রেজাইয়ের আরেকটি হুঁশিয়ারি। পারস্য উপসাগরের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণের জন্য হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামেও প্রভাব পড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। রেজাই সতর্ক করেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলি যদি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে পারস্য উপসাগরের বাইরে থাকা বিকল্প তেল পরিবহণ ব্যবস্থাও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের নিয়েও জল্পনা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তেহরানের অভিযোগ, অন্য রাষ্ট্রগুলির ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। এরই মধ্যে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশলকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের স্বার্থও সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এমন কোনও হামলার বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা এখনও নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ইরান ও আমেরিকার অর্থনৈতিক লড়াইও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে তৃতীয় দেশগুলিকে নিজেদের পক্ষে টানতে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা এবং তার পালটা হিসেবে তেহরানের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আয়ারল্যান্ডে ২০০ বছরের পুরনো দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ
সকাল সকাল ডেস্ক ডাবলিন: হাওয়াই থেকে লেক টাহো—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সম্পত্তির মালিক মার্ক জাকারবার্গ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আয়ারল্যান্ডের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি দুর্গ। মেটার প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ঐতিহাসিক স্ট্র্যানক্যালি দুর্গ ও সংলগ্ন প্রায় ৪৪০ একর জমি কিনেছেন বলে খবর। কয়েক সপ্তাহ আগে গোপনীয় চুক্তির মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে। ঠিক কত অর্থে জাকারবার্গ দুর্গটি কিনেছেন, তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ‘দ্য আইরিশ টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গথিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি দুর্গ এবং সংলগ্ন জমির মূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে। ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুটের এই দুর্গ দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের ইওগাল শহর থেকে গাড়িতে প্রায় ৩০ মিনিটের দূরত্বে। গত দুই দশক ধরে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির সংস্কারের কাজ হয়েছে। ১৮৩০-এর দশকে টোরি দলের সংসদ সদস্য জন কেইলির জন্য স্ট্র্যানক্যালি দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর নকশা করেছিলেন স্থপতি জেমস পেইন এবং জর্জ রিচার্ড পেইন। আয়ারল্যান্ডের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নকশার সঙ্গেও তাঁদের নাম জড়িত। জাকারবার্গ সম্পত্তিটি কিনেছেন মাইকেল ও জিয়ানকার্লা অ্যালেন বাকলির কাছ থেকে। প্রায় ২৫ বছর ধরে দুর্গটির মালিক ছিলেন তাঁরা। বিক্রেতা দম্পতি জানিয়েছেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার দুর্গ এবং সংলগ্ন জমিতে ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে এই সম্পত্তি কেনার অর্থ জাকারবার্গ পরিবার স্থায়ীভাবে আয়ারল্যান্ডে চলে যাচ্ছে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন এবং আয়ারল্যান্ড সফরের সময় দুর্গটি ব্যবহার করবেন। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সাল থেকে ডাবলিনে মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। দেশটিতে সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীও রয়েছেন। গত বছরই আয়ারল্যান্ডে একটি বড় সম্পত্তি কেনার বিষয়ে জাকারবার্গের আগ্রহের খবর সামনে এসেছিল। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি জাকারবার্গের যুক্তরাষ্ট্রেও একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে। হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে এক হাজার একরের বেশি জমির মালিক তিনি। সেখানে বড় বাড়ির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের খবরও অতীতে প্রকাশিত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া-নেভাডা সীমান্তের লেক টাহোতেও তাঁর একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়া মায়ামির অভিজাত ইন্ডিয়ান ক্রিক দ্বীপেও জাকারবার্গ ও চ্যান বিপুল অর্থে একটি বাড়ি কিনেছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ধনকুবেরদের একাধিক বাড়ি থাকার কারণে এলাকাটি ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামেও পরিচিত। এদিকে আয়ারল্যান্ডে নতুন সম্পত্তি কেনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মেটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একাধিক মার্কিন অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বৈশিষ্ট্য শিশু-কিশোরদের মধ্যে আসক্তিমূলক ব্যবহার বাড়াতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। মেটা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর বিপুল প্রচার ব্যর্থ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জয় আয়শা ওয়াহাবের
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যালিফোর্নিয়া: ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিপুল নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যেও ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আয়শা ওয়াহাব। প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের ছেড়ে দেওয়া আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যাচ্ছেন আয়শা। সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে সোয়ালওয়েলের মেয়াদের অবশিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করবেন আয়শা। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত ওই মেয়াদ চলবে। একই সঙ্গে প্রথম আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি। জয়ের পর আয়শা বলেন, যে এলাকা তাঁকে বড় করে তুলেছে, সেখানকার মানুষের অধিকারের জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চালানো প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে আয়শার দাবি, নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে এই এলাকার ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ফস্টার কেয়ার থেকে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত তাঁর যাত্রা যে কোনও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন আয়শা। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে সরব প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত আয়শা। গাজা যুদ্ধ নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভায় গাজার মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের এপ্রিলে এক নির্বাচনী বিতর্কে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত হত্যা’ বলে মনে করেন কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি সম্মতি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ ওই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে গাজায় ধ্বংসের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নজর ছিল ইসরায়েলপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলির ভূমিকার দিকে। প্রাথমিক নির্বাচনে আয়শা ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে হার্নান্দেজের ভোট ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। মূল লড়াই এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ব্যবধান কমতে থাকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকে হার্নান্দেজের সমর্থনে ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ প্রায় ২৫ লাখ ডলার ব্যয় করে। সংগঠনটি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি আইপ্যাকের অর্থায়ন পাওয়া ‘বোল্ড আমেরিকা’ও প্রায় ১৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ হার্নান্দেজের পক্ষে এই দুই সংগঠনের ব্যয়ই প্রায় ৪৪ লাখ ডলার। তার পরেও আয়শার জয় মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলির নির্বাচনী প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের পরিবর্তনের সময় এই ফল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখানেই আয়শা ও হার্নান্দেজের লড়াই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে ফের মুখোমুখি হওয়ার কথা তাঁদের। আয়শার জয়ের পর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার মধ্যেই আইনি ধাক্কা, বিপুল অর্থদণ্ডের মুখে প্রিন্স হ্যারি
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: স্ত্রী মেগান মার্কেল ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা সামনে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় আইনি ও আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়লেন প্রিন্স হ্যারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় হ্যারি-সহ সাত বাদীর দাবি খারিজ হওয়ার পর এবার বিপুল আইনি খরচ বহনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রিটেনের হাইকোর্ট আইনি ব্যয় সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাত বাদীকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে এএনএল-কে প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড দিতে হবে। প্রকাশনা সংস্থাটির দাবি, মামলাটি লড়তে তাদের সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাদীদের উপর আরও বড় আর্থিক দায় চাপতে পারে। হ্যারি ছাড়াও মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছেন গায়ক এলটন জন, তাঁর স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী লিজ হার্লি ও স্যাডি ফ্রস্ট, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের প্রাক্তন উপনেতা সাইমন হিউজেস এবং অধিকারকর্মী ব্যারনেস লরেন্স। গত ৭ জুলাই বিচারপতি নিকলিন ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ সংক্রান্ত বাদীদের দাবি খারিজ করে দিয়েছিলেন। এএনএল প্রথম থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। হ্যারি-সহ বাদীদের আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বাদীদের মামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গুরুতর অনিয়মের অভিযোগগুলির কোনওটি প্রমাণ করা সম্ভব না হলে তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। তা না করে অভিযোগগুলি বজায় রাখার পদ্ধতিকে তিনি ‘অত্যন্ত মাত্রায় অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। বাদীদের আইনি খরচের ঝুঁকির একটি অংশ বিমার আওতায় রয়েছে। মামলায় হারলে এএনএলের আইনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত বিমার মাধ্যমে মেটানোর ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু প্রকাশনা সংস্থাটি যেহেতু প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড ব্যয়ের দাবি করেছে, তাই বিমার সীমার বাইরেও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের দায় বাদীদের বহন করতে হতে পারে। তবে এএনএলের দাবি করা পুরো অর্থই যে শেষ পর্যন্ত দিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিচারপতি নিজেই ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি আইনি খরচের দাবিকে আপাতদৃষ্টিতে ‘অতিরিক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ওই খরচের উপর কোনও নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিতেও তিনি রাজি হননি। আদালত জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যয়ের বড় অংশ ‘ইনডেমনিটি বেসিসে’ নির্ধারণ করা হবে, যা এএনএলের পক্ষে তুলনামূলক সুবিধাজনক। রায়ের পর এএনএল এক বিবৃতিতে আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সংবাদপত্র এবং তার সাংবাদিক, সম্পাদক ও আধিকারিকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সাইমন হিউজেস জানিয়েছেন, রায়ে তিনি হতাশ। মূল রায় এবং আইনি ব্যয় সংক্রান্ত নির্দেশ—দু’টিই পর্যালোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই আইনি ধাক্কা এমন সময়ে এল, যখন হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটের স্কুলে ভর্তি নিয়েও খবর সামনে এসেছে। ফলে একদিকে ব্রিটেনে ফেরার পরিকল্পনা, অন্যদিকে বিপুল আইনি ব্যয়ের সম্ভাবনা—দুই মিলিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে ডিউক অব সাসেক্স।