সরাফা বাজারে সোনা-রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি, রুপোর দাম কেজিতে বাড়ল ৫,২০০ টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশের সরাফা বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই সোনা ও রুপোর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেল। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট—উভয় ধরনের সোনার দামই বেড়েছে। একই সঙ্গে রুপোর দামও প্রতি কেজিতে ৫,২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৪৭০ থেকে ১,৪৩,৬২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,৫১০ থেকে ১,৩১,৬৬০ টাকার মধ্যে। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৬২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৬০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫১০ টাকায়। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫২০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৫১০ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে, জয়পুর ও লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৬২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায়। পাটনা ও ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এদিকে, রুপোর দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। প্রতি কেজিতে ৫,২০০ টাকা বেড়ে দিল্লির সরাফা বাজারে রুপোর দাম পৌঁছেছে ২,৩৫,১০০ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবেই দেশীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে ইরানকে ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
সকাল সকাল ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হলে ইরানকে তার জন্য ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে এ খবর জানা গেছে। গতকাল সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যতবারই ইরান কোনো মার্কিন সৈন্যকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের এ হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।’ ট্রাম্প জানান, এ নির্দেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন ও সামরিক বাহিনীর প্রত্যেক নেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন দক্ষিণ ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের দাবি, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন গত সপ্তাহান্তে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর মধ্যে দুজন জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এবং একজন উত্তর ইরাকে নিহত হন। গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি রূপরেখা চুক্তি সই হওয়া সত্ত্বেও দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে আলাদা আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন, তখন তাঁকে কোনোভাবে, কোনো অবস্থায় বা কোনো রূপেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যারা সম্প্রতি ৫২,০০০ নির্দোষ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন সৈন্য ও অন্যদের হত্যা করে আসছে।’ ট্রাম্পের মতে, ‘শুধু তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত, যাঁরা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই অভূতপূর্ব ঘূর্ণাবর্তের দিকে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি বহু বছর আগেই পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সমাধান করা উচিত ছিল।’ এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের আইনি বিভাগ নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। মেয়র মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা দ্য হেগে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত)। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছেন। আর আপনি দেখতে পাবেন, বিগত বছরগুলোতে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণেই অনেকে এ একই মত পোষণ করেন।’ সম্প্রতি নেতানিয়াহু তাঁর চলতি মাসের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করে তা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পুনর্নির্ধারণ করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত, স্বীকার করল পেন্টাগন
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সহকারী শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য ‘কোনো না কোনো মাত্রায় আঘাত’ পেয়েছেন। তবে তাঁদের বড় অংশই সামান্য মস্তিষ্কের আঘাত বা কনকাশনে ভুগেছেন। আহত সেনাদের ৯৬ শতাংশই ইতিমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে এ সেনারা কীভাবে আহত হয়েছেন, তা পেন্টাগন প্রকাশ করেনি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের জবাবে শন পার্নেল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘তাঁরা আবারও লড়াইয়ে ফিরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে যে পেন্টাগন ডজনখানেক মার্কিন সেনার আহত হওয়ার খবর জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে। এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পার্নেল গতকাল দিনের শুরুতে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘আহত সেনাদের সংখ্যা লুকিয়ে রাখার এ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগকে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের কিছু পক্ষপাতদুষ্ট লেখক মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তার নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করতে মরিয়া হয়ে এ মিথ্যাচার করছেন।’ পার্নেলের এ বক্তব্যের জবাবে নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল রোডস হা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদনের নির্ভুলতার ব্যাপারে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের বেশ কয়েকটি হামলা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।’ নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা সামরিক অভিযানের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, যা মার্কিন জনগণকে তাঁদের সরকার কীভাবে কাজ করছে, তা বুঝতে সাহায্য করে।’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার এ সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিনই পেন্টাগন জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুজন মার্কিন সেনা নিহতের খবর জানায়। ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭–তে। ১৯ জুলাই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে নিহত ওই দুই সেনার বিষয়ে কথা বলেন। নিহত সেনারা হলেন হাওয়াইয়ের ইভা বিচের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওই মহান ব্যক্তিরা, ওই মহান দেশপ্রেমিকেরা সেখানে লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’
দেশীয় সরাফা বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনা, বেড়েছে রুপোর দামও
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় সরাফা বাজারে রবিবার সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চেন্নাই ছাড়া দেশের অধিকাংশ শহরেই ১০ গ্রাম প্রতি ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৬৬০ থেকে ৭৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ে সোনার দাম বেড়েছে ৩৬০ থেকে ৩৯০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। একই সঙ্গে রুপোর দামও প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকার মধ্যে। দিল্লির বাজারে রুপোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তবে সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব বলছে, ওঠানামার মধ্যেও সোনা ও রুপো—দুই মূল্যবান ধাতুর দামই কমেছে। গত সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি সর্বোচ্চ ১,০৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত। রুপোর দামও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার বর্তমান দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা। একই দাম রয়েছে কলকাতার বাজারেও। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকা। লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কর্ণাটক, তেলঙ্গানা ও ওডিশার রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরেও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এই তিন শহরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা–সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন জটিল হয়ে পড়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যেকোনো সময় অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ব্যক্তিদের পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পাশাপাশি নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল এবং সময় সময় আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা বা মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে সরকারি হিসাবে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬–তে। নিহত সেনাদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। পরে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের নির্দেশনার পর গতকাল রাতে সেন্টকম নতুন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, মার্কিন সেনাসদস্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে আগের সাত রাতের তুলনায় এবার হামলার তীব্রতা বেশ কম ছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে আবার হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ‘শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন, যা তারা ভুলতে পারবে না। এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় মার্কিন হামলার মূল্য পুরো অঞ্চলকেই দিতে হবে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম দফার হামলায় ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন এবং লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি। নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’ আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন। মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’
মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, আরও ২৪ সেনা বন্দী
সকাল সকাল ডেস্ক পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এএফপিকে আজ রোববার সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাঁদের বহরে হামলা চালানো হয়। ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দী করা হয়েছে।’ স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি।
‘রক্তের বদলে রক্ত!’ সপরিবারে ট্রাম্পকে খুনের হুমকি ইরানের! তেহরানের বুকে ঝুলল ৭টি কফিনের বিলবোর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্ব রাজনীতিতে যেন এক চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি! কোনও রকম রাখঢাক না রেখেই এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং তাঁর পুরো পরিবারকে সরাসরি খুনের হুমকি দিল ইরান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ইরানের রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত প্যালেস্টাইন স্কোয়্যারে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বিশালাকার বিলবোর্ড। যেখানে দেখা যাচ্ছে— মার্কিন পতাকায় মোড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এবং তাঁদের পাঁচ সন্তানের নিথর দেহের কফিন। আর সেই ছবির পাশে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে, ‘Blood for Blood’ বা রক্তের বদলে রক্ত। শুধু এই একটি বিলবোর্ডই নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের আনাচে-কানাচে দেখা যাচ্ছে একাধিক উস্কানিমূলক গ্রাফিত্তি। যেমন এনঘেলাব স্কোয়্যারের একটি দেওয়ালে আঁকা হয়েছে কালো কফিনে শুয়ে থাকা ট্রাম্পের ছবি, যার পাশে লেখা রয়েছে ‘We Kill Trump’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)। অন্য কোথাও আবার রাইফেলের নিশানায় রাখা হয়েছে ট্রাম্পের মুখ, কিংবা কফিনের ওপর সেঁটে দেওয়া হয়েছে তাঁর ছবি। এমনকি একটি গ্রাফিত্তিতে ‘Who’s Next?’ (এর পর কে?) লিখে প্রয়াত মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের এই চরম আগ্রাসী রূপের নেপথ্যে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী অতীত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই ভয়াবহ হামলায় খামেনেইয়ের পাশাপাশি প্রাণ হারান তাঁর মেয়ে, জামাই, পুত্রবধূ এবং এক নাতনিও। এই ঘটনার পর থেকেই কার্যত প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে গোটা ইরান। বর্তমানে সে দেশের সমস্ত সরকারি অফিস থেকে শুরু করে বড় বড় বহুতলের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে খামেনেই ও তাঁর পরিবারের ছবি। আর এবার তার সঙ্গেই যোগ হলো ট্রাম্পকে সপরিবারে খতম করার এই প্রকাশ্য হুমকি। সম্প্রতি জুন মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সেখানে নতুন নেতৃত্ব উঠে এসেছে ঠিকই, কিন্তু তারাও এখন আর নেই। তবে এর মানে এই নয় যে আমি নিরাপদ। ইরানের হিটলিস্টে এখন সবার উপরে আমার নাম রয়েছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া সেই জল্পনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক সফরসূচির একটি ঘটনা। ন্যাটো বৈঠকে যোগ দিতে ট্রাম্প যে বিশেষ বিমানে চড়ে তুরস্কে গিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আসার সময় শেষ মুহূর্তে তিনি সেই ফ্লাইটটি আর ব্যবহার করেননি। কেন আকস্মিকভাবে এই উড়ান বদল করা হলো, সেই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে চরম নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই কি ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো?— তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা চলছে।
কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন লেবার নেতা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শুক্রবার লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (এনইসি) চেয়ারপার্সন শাবানা মাহমুদ বার্নহ্যামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলনেতা নির্বাচনে অন্য কোনও প্রার্থী মনোনীত না হওয়ায় বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, সোমবার কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজপ্রাসাদ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেদিনই তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। মাত্র দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে শাসনভার গ্রহণের পর একাধিক নীতিগত পরিবর্তন, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলের পর দলের অভ্যন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। টানা দুই দশক সংসদ সদস্য থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টরের মেয়র হন। সেখানকার উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থে সরব ভূমিকার কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান। সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। ৫৬ বছর বয়সি বার্নহ্যামের জন্ম লিভারপুলে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বার্নহ্যাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা ব্রিটিশ টেলিকমে প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। তিনি নিজেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও কল্যাণমূলক রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বার্নহ্যামের ভাবমূর্তি তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক খাতে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি, ১কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণার দাবি; উদ্বেগ বাড়ল নিরাপত্তা নিয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ/ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণার দাবি করেছে ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। সংগঠনটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের অর্থ থেকেই এই পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় অভিযোগ আনা হয় এবং অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিশোধের কথাও উল্লেখ করা হয়। গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের মতে অতীতের ঘটনাগুলির জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। একই সঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার উল্লেখ করেছে। এদিকে গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন অভিযানে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরই আইআরআই-এর এই প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। তবে সংগঠনটির দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এদিকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক ঘোষণার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানানো হয়নি।