যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ‘ধ্বংস’ হতে পারে ইউক্রেন, আশঙ্কা জেলেনস্কির

সকাল সকাল ডেস্ক

কিয়েভ: রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে ‘ধ্বংসের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পর রবিবার এ বিষয়ে মুখ খোলেন জেলেনস্কি। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দেশে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তরফে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের এমন দাবি এই প্রথম।

ফেদোরভকে গত মাসে আচমকা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাঁর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের অনেকেই একমত হননি।

এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাঁর কথায়, “যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তা হলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।”

ইউক্রেনের বর্তমান আইন অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে একাধিক বাস্তব সমস্যাও রয়েছে। যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রয়েছেন। আবার বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি সম্মুখসমরে লড়াই করছেন। এর সঙ্গে রয়েছে ভোটার ও নির্বাচনকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

এদিকে, ইউক্রেনে জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন এখনও মোটামুটি স্থিতিশীল। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় তাঁর প্রতি সমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। যদিও সমীক্ষাকারীদের মতে, দেশের রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চান অনেক ইউক্রেনীয়। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালীন এখনই ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

জেলেনস্কি অবশ্য আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলি যদি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তা হলে যুদ্ধের মধ্যেও ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তাঁর সামনে আসেনি।

জেলেনস্কির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের জন্য ‘সুনামি’র মতো হয়ে উঠতে পারে এবং তা ইউক্রেনীয় সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেবে। তাঁর অগ্রাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ইউক্রেনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

ফেদোরভ দীর্ঘদিন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তাঁকে জেলেনস্কির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যদিও ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি ফেদোরভ।

Read More News

সফল উৎক্ষেপণে আরও শক্তিশালী ভারতের প্রতিরক্ষা, ডিআরডিও-র অগ্নি-৪ পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন...

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরানোয় ক্ষমা চাইল মেটা, অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে দুঃখপ্রকাশ

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক থেকে সরিয়ে...

Read More