সকাল সকাল ডেস্ক
নদিয়া: ঘুমন্ত মেয়ের একেবারে পাশে বিষধর সাপ দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন বাবা। সাপটিকে সরাতে গিয়ে হাতে ছোবল খেলেও দমে যাননি ৪৮ বছরের সঞ্জীব ওরাং। শেষ পর্যন্ত সাপটিকে প্লাস্টিকে ভরে সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল সঞ্জীবের মেয়ে। কিছুক্ষণ পরে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, খাটের উপর মেয়ের গা ঘেঁষে একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। মেয়েকে নিরাপদে সরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই সাপটি ধরতে এগিয়ে যান সঞ্জীব।
হাতে প্লাস্টিক জড়িয়ে সাপটিকে ধরার সময় সেটি তাঁর হাতে ছোবল দেয়। এরপরও তিনি সাপটিকে ছেড়ে দেননি। কোনওরকমে সেটিকে প্লাস্টিকের মধ্যে ভরে ফেলেন। তারপর সাপটি সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান।
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে সঞ্জীব চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
স্থানীয়দের দাবি, সঞ্জীবের স্ত্রী নেই এবং মেয়েই তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। মেয়েকে বিপদের মুখে দেখে তাই নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তিনি ঝুঁকি নেন।
তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। সাপ ঘরে ঢুকলে খালি হাতে ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
No Comment! Be the first one.