দক্ষিণ লেবাননে আগুনে পুড়ছে বন ও কৃষিজমি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক বেইরুট। বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানের পর এবার দক্ষিণ লেবাননের বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা, দমকলকর্মী এবং পরিবেশবাদীদের দাবি, অগ্নিগোলক, ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদের কারণে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম এলাকার বাইরের একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্নিগোলক নিক্ষেপের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় তাঁদের কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলা হয়। নিরাপত্তার কারণে তাঁরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। ফাকিহের দাবি, সীমান্ত ও সংঘাতপ্রবণ এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি কোনও না কোনওভাবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে জলপাই বাগান ও কৃষিজমিতে বারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কাফরশুবা এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা সমীর হারদান। তাঁর দাবি, একটি বনাঞ্চলে ড্রোন থেকে গোলাবারুদ ফেলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীদের দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কয়েক দিনের মধ্যে ওই এলাকায় ফের আগুন লাগে। সংঘাতের কারণে আগুন নেভানোর কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। দমকলকর্মীদের কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে লেবাননের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অনুমতি নিতে হচ্ছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লেও সব জায়গায় দ্রুত পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এই অগ্নিকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ লেবাননের জীববৈচিত্র্যের ওপর। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন গ্রিন সাউদার্নার্সের প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেসের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বহু বছরের পুরোনো ওক ও পাইন বন রয়েছে। অঞ্চলটি পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াত ও বিশ্রামের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউনেস এই ঘটনাকে ‘পরিবেশগত হত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগুন, গোলাবারুদ ও রাসায়নিকের ব্যবহার দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করছে। এতে শুধু প্রকৃতি নয়, কৃষি ও বনসম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকাও বিপন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অতীতে দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা বনাঞ্চলকে নিজেদের অবস্থান ও সুড়ঙ্গ আড়াল করার জন্য ব্যবহার করে। তবে পরিবেশবিদদের বক্তব্য, সংঘাতের ফলে যে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপরই পড়ছে।
‘আমি মরলে আপনারাও মরবেন’, সাংবাদিকদের কেন বলেছিলেন ট্রাম্প?
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন। “আমি যদি মরি, আপনারাও মরবেন”—সাংবাদিকদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের নেপথ্যে ছিল তাঁর নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের বিমান বদল এবং গোপন যাত্রাপথ নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত তথ্য সামনে এনেছেন তাঁর সফরসঙ্গী রয়টার্সের সাংবাদিক গ্রাম স্ল্যাটারি। ঘটনাটি গত ৮ জুলাইয়ের। ন্যাটো সম্মেলন শেষে আঙ্কারা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি জানান, যে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্কে এসেছিলেন, সেটিতে তিনি ফিরবেন না। ট্রাম্পের দাবি ছিল, বিমানটি আগেই ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে সেখানে কর্মরত মার্কিন সামরিক সদস্যরা সেটি দেখতে পারেন। এই আকস্মিক পরিবর্তনেই সন্দেহ তৈরি হয় সাংবাদিকদের মধ্যে। তাঁদের মনে প্রশ্ন ওঠে, ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে কি কোনও গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? এমনকি ইরানের তরফে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার কোনও নির্দিষ্ট হুমকি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করে। স্ল্যাটারির দাবি, আঙ্কারা থেকে যাত্রার আগে পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। সাংবাদিকরা বিমানে ওঠার পর হোয়াইট হাউসের কর্মীরা তাঁদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে জানানো হয়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর নির্দেশেই এমনটা করা হচ্ছে। পরে জানা যায়, এর পিছনে ছিল একটি গোপন নিরাপত্তা অভিযান। ট্রাম্পকে একটি খাবার সরবরাহকারী গাড়ির মাধ্যমে গোপনে প্রথম বিমান থেকে নামিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে তোলা হয়েছিল। সেই ঘটনা সাংবাদিকদের নজর থেকে আড়াল করতেই বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন স্ল্যাটারি। তবে তখনও সাংবাদিকরা মনে করেছিলেন, ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গেই একই বিমানে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের মিলডেনহলে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। সেখানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে দেখতে পান এবং পরে তাঁকে অনুসরণ করে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানের দিকে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, মিলডেনহল যাওয়ার পথে ট্রাম্প আসলে সাংবাদিকদের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন না। পুরো অভিযানে তৃতীয় একটি সামরিক বিমানও ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের যাত্রাপথ গোপন রাখতে একাধিক স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি। ওয়াশিংটনে ফেরার সময় সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে বিমান পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করেন। তিনি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকরা কেন জানালার পর্দা নামিয়ে রেখেছিলেন—এই প্রশ্নের জবাবে নিজের বিরুদ্ধে ইরানের দীর্ঘদিনের কথিত হুমকির প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমি যদি মরি, আপনারাও মরবেন। তাই তো? হয়তো কোনও একদিন আপনারাও পেশা বদলাতে চাইবেন।” ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের সঙ্গে গোপনে বিমান পরিবর্তনের তথ্য সামনে আসায় গোটা ঘটনাটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার সামনে ঠিক কী ধরনের হুমকি ছিল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সুরাব জেলায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণ, ২০-র বেশি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী ও রাজনৈতিক সংগঠন বালুচ ন্যাশনাল মুভমেন্ট (বিএনএম) অভিযোগ করেছে, বালুচিস্তানের সুরাব জেলার গদর এলাকায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে ২০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটি এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় ১০ বছরের কম বয়সি শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালুচিস্তানে মানবাধিকার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনএমের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের উপর বোমাবর্ষণ এবং শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বালুচিস্তানে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিএনএম ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই পরিস্থিতিতে নীরব না থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র আরও বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস বা আইএসপিআর-এর একতরফা প্রচার ও বক্তব্যের উপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উচিত স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। অন্য একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালুচিস্তানের চাগাই জেলার মাহিয়ান কোর এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি বেসরকারি খনিজ সংস্থার খনিতে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ, হামলাকারীরা লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি দখল করার পাশাপাশি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী ও শ্রমিকদেরও সঙ্গে নিয়ে যায়। অপহৃত শ্রমিকদের মধ্যে গিলগিটের ওয়াজাহাত, ওয়াজিদ, শাহিদ ও সাবর এবং স্থানীয় শ্রমিক জিয়াউদ্দিন, শাহ সলিম, চাগাই ও সইদ মহম্মদ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চাগাই পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ডেরা বুগতি জেলার সুইয়ের গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরণের পর কোয়েটার কোলপুর, মাচ, মাস্তুং, কালাত, পিশিন ও জিয়ারত-সহ একাধিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গ্যাস পাইপলাইন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোতে দেখা যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে পাইপলাইনের ভালভ অ্যাসেম্বলিতে বিস্ফোরণটি ঘটে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
নেপালের রোলপা জেলায় ধস; মৃত ৩, নিখোঁজ ৯
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: নেপালের রোলপা জেলায় ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হয়েছে। ঘটনায় আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। দু’জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রোলপার থবাং গ্রামপালিকার বোতলবারা এলাকায় বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ আচমকা বাড়ির উপর ধস নামে। মাটি ও পাথরের নিচে কমলবাহাদুর পুনমগর-সহ ছয়টি বাড়ি চাপা পড়ে যায়। জেলা পুলিশ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় থবাং গ্রামপালিকার বাসিন্দা ৬০ বছরের কমলবাহাদুর পুনমগর, ১৮ বছরের শান্তি পুনমগর এবং ৭১ বছরের মনরখি পুনমগরের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২২ বছরের হিমাল পুনমগর এবং ২৫ বছরের সঞ্জয় ঘর্তিমগর। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের জুনকুমারী পুনমগর, ৯ বছরের অসীম পুনমগর, ৬ বছরের অশোক পুনমগর, ৭৫ বছরের ডলবাহাদুর পুনমগর, ৮০ বছরের অজম্বর পুনমগর, ৭৮ বছরের বলবাহাদুর পুনমগর, ৭২ বছরের লিলবাহাদুর পুনমগর, ৭১ বছরের মনি পুনমগর এবং ৬৭ বছরের হস্তকলা রোকামগর। জেলা পুলিশ দফতরের ডিএসপি পঞ্চকুমার বাখুর জানিয়েছেন, ধসের ঘটনায় মোট ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল: যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক দিন আগে ফের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া। বুধবার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সেটি জাপান সাগর অভিমুখে যায়। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা, সর্বোচ্চ উচ্চতা কিংবা কতটা দূরত্ব অতিক্রম করেছে, সে সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়েছে। টোকিওর তরফে এটিকে সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, সেটি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১১ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই বার্ষিক মহড়ার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ধরনের যৌথ মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব মহড়া আসলে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি। অতীতেও যৌথ মহড়ার আগে ও পরে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে কিম জং উনের দেশ। জাপানকে নিয়েও বাড়ছে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও সরব হয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন শান্তিবাদী নীতি অনুসরণ করা জাপান এখন দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। দেশের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সম্প্রতি জরুরি পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এরপরই উত্তর কোরিয়া জাপানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ করে, টোকিও ক্রমশ একটি ‘যুদ্ধরাষ্ট্রে’ পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে অভিযোগ এর মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক একটি হামলায় ১০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেনা সহায়তা পাচ্ছে। যদিও ওই নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ দেননি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়াকে সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও সামরিক সুবিধা পেতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সেনারা বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারাও অংশ নেবেন। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সম্ভাব্য মোকাবিলার বিষয়টিও এবারের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব পাবে। যৌথ মহড়ার ঠিক আগে উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৭ বছর পর ভেনেজুয়েলা-ইসরায়েল কনস্যুলার সেবা চালু
সকাল সকাল ডেস্ক ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েল একে অপরের দেশে আবার কনস্যুলার সেবা চালু করতে সম্মত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন থাকা ভেনেজুয়েলার ভূরাজনৈতিক অবস্থানে এটি এক নাটকীয় পরিবর্তন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ভেনেজুয়েলা ১৭ বছর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। তবে গত জানুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ভেনেজুয়েলা। বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, জুনে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ইসরায়েলের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করেছিল। এরপর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে কনস্যুলার সেবা আবারও চালু করার এ চুক্তি হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই সরকারই ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে। এ সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।’ ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এদিকে ইরান বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের চাপের মুখে থাকা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ইরান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কারাকাসে হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।
পাকিস্তানের উপকূলের কাছে জাহাজে মিসাইল হামলা, ওমান উপসাগরে বাড়ছে উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে এবার পাকিস্তানের উপকূলের অদূরে ওমান উপসাগরে একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজে মিসাইল আঘাত হানার খবর সামনে এসেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওমান উপসাগর পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত। এই জলপথ আরব সাগরকে হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত করেছে। পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ গওয়াদার বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে এমন ঘটনার খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপকূল থেকে প্রায় ৭১ নটিক্যাল মাইল দূরে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ভেলা নোভা’ হামলার মুখে পড়ে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থা ‘ভ্যানগার্ড’ এবং একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র পৃথকভাবে রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ ওমান উপসাগরে একটি কন্টেইনার জাহাজকে ঘিরে একটি ঘটনার খবর তাদের কাছে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির নাম, পতাকা, ঘটনার প্রকৃতি কিংবা কোনও সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে সতর্ক থাকতে এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সময় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সংঘাতের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথেও পড়েছে। ফলে ওমান উপসাগরে জাহাজে মিসাইল আঘাতের খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতির দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মিসাইল আঘাতের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা চলমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে সতর্ক থাকছেন পর্যবেক্ষকরা। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হতে পারে, এটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। তবে ঘটনাটি যে ওমান উপসাগর ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল আনলে আমেরিকাকে চিনের হুঁশিয়ারি
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: আমেরিকা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিল এগিয়ে নিয়ে গেলে চিন তার বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আমেরিকায় অবস্থিত চিনা দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেজিং। ওয়াশিংটনে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চাং মঙ্গলবার রিয়া নভোস্তিকে জানান, আমেরিকা যদি মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল আনে এবং সেই বিলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা রাখা হয়, তাহলে চিন নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মুখপাত্র বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে কোনও ভিত্তি নেই অথবা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই—এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে চিন। নিজেদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বৈধ অধিকার এবং স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার জন্য চিন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।” গত সপ্তাহে মার্কিন সেনেট প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের পেশ করা বিলটি ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদন করেছে। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এই খসড়া আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম ক্রেতার উপর প্রস্তাবিত শুল্ক ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিলে রাশিয়া থেকে আমেরিকায় আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্যের উপর শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। নথিতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, সেরব্যাঙ্ক, ভিটিবি এবং গ্যাজপ্রমব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর আমেরিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের অবসান হচ্ছেই না। কখনও আমেরিকা, কখনও আবার ইরান একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়েই যাচ্ছে। এবার হরমুজ প্রণালীর ওপর আমেরিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করেছেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সমালোচনা করে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেছেন, “আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ইরানকে বিশ্বাস করার মতো শেষ ব্যক্তিটি হলাম আমিই। তাঁরা আমার সঙ্গে ক্রমাগত মিথ্যা বলেছে।” একইসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, “হরমুজ প্রণালীর ওপর এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই; নিয়ন্ত্রণটা আমাদেরই। এর ওপর আমাদেরই কর্তৃত্ব। আর কোনও এক পর্যায়ে হয়তো তাঁরা এমন কিছু করে বসবে যার ফলে তাঁদের পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে আমরা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি।”
মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড, রায় সিরিয়ার আদালতের
সকাল সকাল ডেস্ক দামেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিল দামেস্কের একটি আদালত। একই মামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সূচনাপর্বে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে তৎকালীন আসাদ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধগুলি মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তবে বাশার বর্তমানে সিরিয়ায় নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের প্রবল অভিযানের মুখে তাঁর সরকারের পতন হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দারা থেকেই শুরু হয়েছিল বিদ্রোহের আগুন ২০১১ সালে আরব দুনিয়ার একাধিক দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আন্দোলনের ঢেউ সিরিয়াতেও পৌঁছয়। মার্চ মাসে দারা থেকে আসাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুত দেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠলে সরকারবিরোধীদের একাংশ অস্ত্র তুলে নেয়। শুরু হয় দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। একদিকে ছিল বাশার আল-আসাদের সরকারি বাহিনী, অন্যদিকে বিভিন্ন বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী। সময়ের সঙ্গে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে একাধিক আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তি। রাশিয়া ও ইরান সরাসরি আসাদ সরকারের পাশে দাঁড়ায়। লেবাননের ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও আসাদের পক্ষে লড়াইয়ে নামে। মিত্রদের সামরিক সহায়তায় এক সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির উপর ফের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন আসাদ। পাঁচ দশকের বেশি সময় সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসন সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসনের সূচনা হয়েছিল বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে। ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাফিজ। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন বাশার আল-আসাদ। ক্ষমতায় আসার প্রথম দিকে সংস্কারের বার্তা দিয়েছিলেন বাশার। তাঁর বাবার আমলে চালু হওয়া বেশ কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ, বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। দেশের বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে টিকেছিল সরকার গৃহযুদ্ধের প্রথম কয়েক বছরে একের পর এক অঞ্চল আসাদ সরকারের হাতছাড়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইরান ও হিজবুল্লাহর সহায়তায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ২০২০ সালের মধ্যে আলেপ্পো-সহ সিরিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বিস্তীর্ণ এলাকার উপর ফের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আসাদ সরকার। মনে করা হচ্ছিল, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর তাঁর সরকার আপাতত বড় বিপদ কাটিয়ে উঠেছে। যদিও দেশের বিভিন্ন অংশে সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আসাদের প্রধান মিত্রদের অগ্রাধিকারও বদলাতে শুরু করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মস্কোর সামরিক মনোযোগের বড় অংশ সেদিকে চলে যায়। অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত ইরান ও তার সহযোগী শক্তিগুলির উপর চাপ বাড়ায়। সেই পরিস্থিতিতে আসাদ সরকারের সামরিক ভিত্তিও দুর্বল হতে থাকে। এগারো দিনেই পাল্টে যায় সিরিয়ার ছবি ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় অভিযান শুরু করে বিদ্রোহীরা। সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হায়াত তাহরির আল-শাম। অভিযান শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা। সরকারি বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছেড়ে পিছিয়ে যেতে শুরু করে। রাশিয়া বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালালেও তাদের অগ্রগতি থামানো যায়নি। আলেপ্পো থেকে রাজধানী দামেস্কের দিকে বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা আটকাতে হিজবুল্লাহও যোদ্ধা পাঠায়। তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ৫ ডিসেম্বর হামা বিদ্রোহীদের দখলে চলে যায়। এরপর দ্রুত রাজধানীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে তারা। ৭ ডিসেম্বর হোমসেরও পতন ঘটে। পাশাপাশি দারা ও সুয়েইদার উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী। দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় আশ্রয় পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে গেলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন বাশার আল-আসাদ। ৭ ডিসেম্বর তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ সেনা ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাশিয়ার সাহায্য পাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু পরদিনই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৮ ডিসেম্বর ভোরে বিদ্রোহীরা দামেস্কে প্রবেশ করে। তার আগেই রাজধানী ছেড়ে চলে যান বাশার। প্রথমে তিনি সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় পৌঁছন। সেখানকার রুশ বিমানঘাঁটি থেকে তাঁকে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয়। দামেস্কের পতনের সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তী সময়ে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ক্ষমতাচ্যুতির প্রায় দু’বছরের মধ্যে এবার গৃহযুদ্ধের সূচনাপর্বে দারায় সংঘটিত অপরাধের মামলায় বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় সামনে এল। তবে তিনি রাশিয়ায় অবস্থান করায় এই রায় কার্যকর করার বিষয়টি এখন সিরিয়ার নতুন সরকারের সামনে বড় আইনি ও কূটনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।