মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও ভক্তির জোয়ারে ভাসল পুরী, আস্থার আবহে অনুষ্ঠিত হল শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রা
সকাল সকাল ডেস্ক ভুবনেশ্বর: প্রবল বর্ষণও থামাতে পারেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস। অটুট বিশ্বাস ও ভক্তিভাবকে সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পুরীর শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা। ওডিশা-সহ দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রথযাত্রায় অংশ নেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পুরী ও উপকূলীয় ওডিশার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে যায়। তবুও ভক্তদের ঢল থামেনি। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। ‘জয় জগন্নাথ’ এবং ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রথযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল নজরকাড়া। বৃষ্টিভেজা পথেই বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী ও শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে ওডিশি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা ভক্তদের মন জয় করে নেয়। প্রাচীন রীতি ও আচার মেনেই জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সকালে ভোগমণ্ডপে ধূপ নিবেদন দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর দেবদেবীদের রথে আরোহনের বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়। ‘পাহান্ডি বিজে’ অনুষ্ঠানে ঘণ্টা, কাহালি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির মধ্যে শোভাযাত্রা করে গর্ভগৃহ থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে রথে আনা হয়। ভগবান জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং দেবী সুভদ্রার দর্পদলন রথে দেবদেবীদের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব ঐতিহ্যবাহী ‘ছেরা পাহাঁড়া’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সাদা পোশাক পরে রূপোর পালকিতে এসে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সুগন্ধি জল ছিটিয়ে সম্পন্ন হয় এই আচার। এই অনুষ্ঠান সমাজে সমতা ও বিনয়ের বার্তা বহন করে বলে মনে করা হয়। সমস্ত আচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রথ টানা। প্রথমে বলভদ্রের তালধ্বজ, পরে সুভদ্রার দর্পদলন এবং সবশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথের নন্দীঘোষ রথ টানতে শুরু করেন ভক্তরা। তবে দীর্ঘ আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার তিনটি রথই নির্ধারিত গন্তব্য মৌসিমা মন্দিরে পৌঁছতে পারেনি। শুক্রবার সকালে আবার রথ টানা হবে বলে মন্দির প্রশাসন জানিয়েছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ছিল রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জল জমার সমস্যা মোকাবিলাতেও প্রশাসনের তরফে বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসব।
সোনার দামে বড় উল্লম্ফন, রুপোর দাম অপরিবর্তিত
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় স্বর্ণালঙ্কার বাজারে বৃহস্পতিবার সোনার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। চেন্নাই বাদে দেশের অধিকাংশ শহরে ১০ গ্রাম প্রতি সোনার দাম ৭২০ থেকে ৭৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চেন্নাইয়ে ১০ গ্রাম প্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৫৮০ টাকা থেকে ১,৪৩,৭৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম রয়েছে ১০ গ্রাম প্রতি ১,৩১,৬১০ টাকা থেকে ১,৩১,৮১০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম আগের মতোই ২,৩৪,৯০০ টাকায় স্থির রয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৭৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৭৬০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬১০ টাকায়। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৬০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৭৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৮১০ টাকায়। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬১০ টাকা। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুর ও লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৭৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৭৬০ টাকা। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরের বাজারেও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এই তিন শহরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবেই সোনার দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। তবে রুপোর বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
দিনভর ওঠানামার পর প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বন্ধ শেয়ার বাজার
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দিনভর ব্যাপক ওঠানামার পর প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ করল দেশের শেয়ার বাজার। লেনদেনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের টানাপোড়েনে সেনসেক্স ও নিফটির গতিপথ বারবার বদলেছে। দিনের শেষে সেনসেক্স সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হলেও নিফটি অল্প পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে। বম্বে শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক সেনসেক্স ২০২.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩৮৮.৪২ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। পরে কেনাবেচার চাপের কারণে সূচকটি সর্বোচ্চ ৭৭,৫৭৯.৬৯ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও একসময় নেমে আসে ৭৭,০৮৬.৪২ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত সেনসেক্স মাত্র ১.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,১৮৬.৮৭ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, জাতীয় শেয়ার বাজারের নিফটি ৬৩.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,১৪২.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। দিনের মধ্যে সূচকটি সর্বোচ্চ ২৪,১৮৬.৫০ পয়েন্টে পৌঁছায়। তবে বিক্রির চাপ বাড়ায় একসময় তা নেমে আসে ২৪,০৫০ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত নিফটি ৫.৭৫ পয়েন্ট কমে ২৪,০৭২.৭৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে। দিনভর লেনদেনে ভোগ্যপণ্য, গণমাধ্যম এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা যায়। এছাড়া মোটরগাড়ি, দ্রুত ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য, ওষুধ, মূলধনী পণ্য এবং তেল ও গ্যাস খাতও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, আবাসন খাতে দিনভর বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার শেয়ার সূচকও নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। বৃহত্তর বাজারেও চাপ ছিল। ফলে মধ্যম মূলধনী সংস্থার সূচক শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র মূলধনী সংস্থার সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। দিনের লেনদেনে বম্বে শেয়ার বাজারে মোট ৪,৪৪১টি শেয়ারের কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০১২টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২,২২৪টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ২০৫টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় শেয়ার বাজারে ২,৯৮০টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৩০৭টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ১,৬৭৩টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। দিনের শেষে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, বিপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, বজাজ ফিন্যান্স এবং মারুতি সুজুকির শেয়ারে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ইটার্নাল, এসবিআই লাইফ ইনস্যুরেন্স, ভারত ইলেকট্রনিক্স, শ্রীরাম ফিন্যান্স এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে।
কাতারের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নেপালের উপরাষ্ট্রপতির, প্রাক্তন আমিরের মৃত্যুতে জানালেন শোক
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু/দোহা: নেপালের উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দোহায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নেপালের উপরাষ্ট্রপতির দপ্তর জানিয়েছে, কাতার সফরের সময় দোহার লুসাইল প্রাসাদে দুই নেতার মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন কাতারি আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে নেপাল সরকার ও সে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাতেই উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব কাতার সফরে গিয়েছেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের রাজপরিবার এবং সে দেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই শোকের সময় তাঁদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন। এদিন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তাও আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে তুলে দেন উপরাষ্ট্রপতি যাদব। বৈঠকে নেপালের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পাশাপাশি কাতার সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতিফলন হিসেবেই এই সাক্ষাৎকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানে আটক মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি মুক্ত, তেহরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প; উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক প্রায় সাত মাস পর মুক্তি পেলেন ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও মানবিক পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দিয়েছে তেহরান। প্রায় সাত মাস আটক থাকার পর তাঁকে দেশ ছাড়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের ধন্যবাদবার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেনা কারারির মুক্তির খবর জানান। তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিক বর্তমানে নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন,“তিনি এখন ইরানের বাইরে নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। ইরানের এই সদিচ্ছাপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কৃতজ্ঞ।” প্রথমে তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত নারীর পরিচয় প্রকাশ না করলেও পরে তাঁর আইনজীবী পরিচয় নিশ্চিত করেন। কে এই ডেনা কারারি আইনজীবী জ্যারেড গেনসার জানান, ডেনা কারারি ইরানি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। তাঁর দাবি, ভিত্তিহীন গুপ্তচরবৃত্তি এবং শত্রুরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আটক করা হয়েছিল। আইনজীবীর বক্তব্য, এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ কখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে ডেনা কারারি নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন। কেন আটক করা হয়েছিল ডেনা কারারির আইনজীবীর দাবি, তিনি চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পরিচালনা করতেন। এই সংস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুদানে ইরানের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হতো। তাঁর অভিযোগ, এই সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেই ইরানি কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন ডেনা কারারি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইরানের নীরবতা ডেনা কারারির মুক্তির খবর সামনে এলেও ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তেহরান এখনও জানায়নি— ফলে তাঁর মুক্তির প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তেজনার মধ্যেই মানবিক পদক্ষেপ ডেনা কারারির মুক্তি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কূটনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বিদেশি নাগরিকদের মুক্তি অনেক সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাঁদের মতে, ডেনা কারারির মুক্তি ভবিষ্যতে সীমিত আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক বিরোধের মতো বড় ইস্যুগুলিতে দুই দেশের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর ডেনা কারারির মুক্তিকে ইতিবাচক মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। একদিকে একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি কূটনৈতিক নমনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ আগের মতোই অব্যাহত। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে, এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সংলাপের পথ তৈরি করে কি না, নাকি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রেক্ষাপট প্রভাব সরকারি বক্তব্য জনসাধারণের জন্য তথ্য
ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অ্যানা লিডকের, স্বাধীন তদন্তের দাবিতে সরব আন্তর্জাতিক মহল
সকাল সকাল ডেস্ক গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য জার্মান মানবাধিকারকর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, এখনও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য এবং জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আটকের পর একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশির নামে তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনও আদালত বা স্বাধীন তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কী অভিযোগ করেছেন অ্যানা লিডকে ২৫ বছর বয়সী অ্যানা লিডকে গত বছরের অক্টোবরে গাজাগামী একটি মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য হিসেবে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানটি আটক করে এবং পরে তাঁকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে প্রায় পাঁচ দিন হেফাজতে রাখে। তাঁর অভিযোগ, হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়। তৃতীয়বার তল্লাশির সময় নারী কারারক্ষীরা তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন। লিডকের আরও দাবি, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁদের হাসির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন এবং তাঁর আশঙ্কা, পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল বা ভিডিও ধারণও করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলোর কোনও স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি অ্যানা লিডকের বক্তব্য, তাঁকে এবং অন্য মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ থেকে বিরত রাখাই ছিল এই আচরণের উদ্দেশ্য। তিনি জানান, এই ঘটনার ফলে তিনি গভীর মানসিক আঘাত পেয়েছেন। তবুও নীরব না থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীরা মুখ না খুললে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। আরও অভিযোগের দাবি লিডকে জানিয়েছেন, একই নৌবহরের আরও কয়েকজন সদস্যও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনদের বিষয়টি জানান। পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। আইনি পদক্ষেপ শুরু অ্যানা লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কারাগারের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, বরং বন্দিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ অ্যানা লিডকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠছে। এখন বিদেশি মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতীতে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনও এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে অ্যানা লিডকের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল বিশেষজ্ঞদের মতে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন নজর থাকবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং স্বাধীন তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে। তদন্তের ফল প্রকাশের পরই এই বহুল আলোচিত ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ প্রেক্ষাপট প্রভাব সরকারি অবস্থান জনসাধারণের জন্য তথ্য
ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত ৩ পুলিশ, আহত ৩৪
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি জঙ্গি হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার লোয়ার দির জেলার হায়দার এলাকার লাদাম টপের কাছে একটি পুলিশ কনভয়ের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। প্রথমে কনভয় লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অন্তত ১৯ জন আহত হন। হামলার সময় দুষ্কৃতীরা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এদিকে, একই দিনে বান্নু জেলার মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুলি করে ধ্বংস করা হয়। এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি। বন্দুকযুদ্ধে চার হামলাকারী নিহত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে। বান্নু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ফুরকান বিলাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের প্রতিহত করা হয়। ঘটনার পর বান্নু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও বান্নুর ডোমেল পুলিশ স্টেশনে একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক পুলিশ সদস্য-সহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক হামলার পর ফের খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় বড় সিদ্ধান্ত, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে উইন্ডফল কর বাড়াল কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কর বৃদ্ধি, পেট্রোল রপ্তানিতে কর কমাল কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশীয় বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপর আরোপিত উইন্ডফল কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন করহার ১৬ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্কের আওতায় এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফার একটি অংশ রাজস্ব হিসেবে আদায় করা এবং দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত বজায় রাখা। ডিজেল রপ্তানিতে বড় কর বৃদ্ধি নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানির উপর উইন্ডফল কর প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৭ টাকা কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রাখতে রপ্তানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। বিমান জ্বালানির রপ্তানিতেও বাড়ল কর ডিজেলের পাশাপাশি বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপরও কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটারে ৭ টাকা ৫০ পয়সা কর থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ এবং সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে। ফলে অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেট্রোল রপ্তানিতে মিলল স্বস্তি অন্যদিকে পেট্রোল রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর প্রতি লিটারে ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ মে প্রথমবার পেট্রোল রপ্তানির উপর নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এবার সেই করের হার কমানো হয়েছে। দেশীয় বাজারে কী প্রভাব পড়বে? অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা পেট্রোল ও ডিজেলের উপর বর্তমানে যে কর কাঠামো রয়েছে, তাতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দামের উপর এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কেন বাড়ানো হল উইন্ডফল কর? উইন্ডফল কর এমন একটি কর, যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনও সংস্থা অতিরিক্ত বা অপ্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করলে আরোপ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়লে রিফাইনারি সংস্থাগুলি রপ্তানির মাধ্যমে বেশি লাভ করে। সেই অতিরিক্ত লাভের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে আনা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই করের মূল উদ্দেশ্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে কোনও জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণমূলক কর বজায় রাখছে কেন্দ্র। প্রতি পনেরো দিনে পর্যালোচনা করবে সরকার কেন্দ্রীয় সরকার মার্চ মাসে প্রথম ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানির উপর এই কর চালু করেছিল। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং রিফাইনারিগুলির মুনাফার পরিমাণ বিবেচনা করে প্রতি পনেরো দিন অন্তর করের হার পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পরিবর্তন এলে ভবিষ্যতেও কর কাঠামোয় সংশোধন আনা হতে পারে। পটভূমি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি রপ্তানির উপর উইন্ডফল করের হার পুনর্বিবেচনা করেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জনসাধারণের জন্য তথ্য দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের বর্তমান কর বা খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অবিলম্বে জ্বালানির দামে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ইরানে শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছে বিস্ফোরণের দাবি, হরমুজ ঘিরে নতুন সংঘাতে তীব্র উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক আহওয়াজের শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে হামলার অভিযোগ ইরানের। একই রাতে বন্দর শহরগুলিতে একাধিক বিস্ফোরণ, সামরিক স্থাপনাতেই হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহওয়াজ শহরে অবস্থিত শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। একই সময়ে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক-সহ দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। তবে হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার দাবি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন বাহিনীও এমন কোনও হামলার কথা স্বীকার করেনি। ইরানের অভিযোগ, বিস্ফোরণের জেরে হাসপাতালের পরিবেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় চিকিৎসাধীন শিশু ও অন্যান্য ক্যানসার রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক অবকাঠামো। আহওয়াজের হাসপাতালে আতঙ্ক, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুধবার গভীর রাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আহওয়াজের শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতাল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত। আতঙ্কের কারণে বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সংকটজনক অবস্থায় থাকা কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসার স্বার্থে ভেতরেই রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে কোনও শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ইরানের দাবি অনুযায়ী, একই রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক এবং আরও কয়েকটি উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এসব ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের সংখ্যা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। কী বলছে মার্কিন সেনাবাহিনী? মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন দফার অভিযানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক কমান্ড অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল বা অন্য কোনও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা মার্কিন বাহিনী উল্লেখ করেনি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের দাবি, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এই পাল্টা হুঁশিয়ারির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে— হাসপাতালকে লক্ষ্য করেই হামলা হয়েছিল কি? এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ইরানের দাবি, হাসপাতালের আশপাশে হামলার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। তবে হাসপাতালটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মার্কিন প্রশাসনও হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসায় বিভ্রান্তি থেকেই গেছে। পটভূমি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়ে উঠছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ইরানের অভিযোগ, হাসপাতালের আশপাশে বিস্ফোরণের ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার কথা তারা উল্লেখ করেনি। জনসাধারণের জন্য তথ্য হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যাও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নভাবে জানানো হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্কে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ, বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রাজিল-আমেরিকা সম্পর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা। কফি, ইস্পাত, কৃষিপণ্য-সহ একাধিক রপ্তানি খাতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য বাজার, ধাতু শিল্প এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি। সেই কারণেই আমদানি শুল্ক বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত? মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। রুবিওর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিকবার আলোচনার সুযোগ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য সমঝোতার পথে এগোয়নি। বরং রাজনৈতিক অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, লুলা সরকারের অর্থনৈতিক নীতি শুধু মার্কিন শিল্প ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর নয়, তা ব্রাজিলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের পক্ষেও অনুকূল নয়। কোন কোন পণ্যে পড়তে পারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব? যদিও এখনও পর্যন্ত শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ব্রাজিলের প্রধান রপ্তানি খাতগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন আমদানিকারকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও কমে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কৃষি ও শিল্পবাজারে নতুন মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কী প্রভাব পড়বে? অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক এবং ব্রাজিল অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে— এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজতে হতে পারে। ব্রাজিলের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে নয় এখনও পর্যন্ত ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা কিংবা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিল প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই এগোতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আওতায় বিদেশি আমদানির উপর কঠোর অবস্থান নিয়ে এসেছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল পাল্টা শুল্ক আরোপ, কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি অথবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইনি প্রক্রিয়ার পথেও হাঁটতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নতুন শুল্ক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; লাতিন আমেরিকার অর্থনীতি, বিশ্ব রপ্তানি বাজার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পটভূমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে অতীতেও একাধিক দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ব্রাজিল সরকার দীর্ঘদিন ধরে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি। জনসাধারণের জন্য তথ্য বর্তমানে শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিনিয়োগকারীরা।